দীর্ঘ ১৬বছর পর সুইডেনে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে উত্তেজনা ও হট্টগোলে সুইডিশ পুলিশের প্রসংশনীয় ভূমিকা

পরবাসে বাঙ্গালীদের সুনাম রক্ষা করার তাগিদে আশু পদক্ষেপ নেবার প্রয়োজন, প্রবাসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নামধারী দলগুলোতে রেষারেষি কোন্দল এখন এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে তা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যাচ্ছে | মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে বিনীত নিবেদন, আমাদের দেশের সুনাম রক্ষার্থে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন | বি এন পির নাম ভাগিয়ে তারেক জিয়া হচ্ছে একটি উৎকৃষ্ট উদহারণ, লন্ডনে বসে বি এন পি নামক প্রবাসে কোন শাখা দল না থাকলেও এই লোকটি প্রবাসে বি এন পির হর্তাকর্তা সেজে দিনের পর দিন সংবিধান বিরোধী বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে ব্যস্ত, এ ক্ষেত্রে প্রবাসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামধারী কিছু লোকজনের আচরণও সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে |
গত ১৩ই মার্চ ২০১৬ সুইডেনের শহরতলীতে এক সভা স্থলে সুইডেন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ঘিরে এক উত্তেজনা মূলক ঘটনার সূত্রপাত ঘটে, ইউরোপিয়ান আওয়ামীলীগের দুইজন নেতৃস্থানীয় কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ের সারে তিন ঘণ্টা পর সভা স্থলে উপস্থিত হন, দুঃখ প্রকাশ তো দুরের কথা অনেকটা রাজকীয় ভঙ্গিতেই সভায় ২০০ থেকে ৩০০ স্থানীয় বাঙালিদের মতামতের তোয়াক্কা না করে, স্থানীয়দের বক্তব্য দেবার সুযোগ না দিয়েই বলতে গেলে স্বৈর শাসক ভঙ্গিতে উক্ত কর্মকর্তারা নিজেদের পছন্দের নাম ঘোষণা করতেই শুরু হয় উত্তেজনা যা নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত সুইডেনের পুলিশী হস্তক্ষেপের প্রয়োজন পরে | বিষয়টি প্রবাসী বাঙ্গালীদের জন্যে নিদারুণ অপমান ও লজ্জাজনক | ইউরোপীয় নেতা কর্মীরা কি ইচ্ছে করেই এতগুলো মানুষকে সারে তিনঘণ্টা অপেক্ষায় রেখে দেরী করে আসেন? হতেও পারে, কারণ অনেকের মতে বর্তমান ১৬ বছরের ধরে ক্ষমতায় থাকা সভাপতি নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে ইউরোপিয়ান কমিটির আশ্রয় নিয়ে নির্বাচন বিহীন একটি মনগড়া বা তদবিরের কমিটি প্রকাশ করার উদ্দেশ্যেই এই কৌশল অবলম্বন করেন, ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিগত দিনের ঘটে যাওয়া দুষ্কর্মগুলোর সমাধানে না এনে বরং তার বক্তব্যে অন্তত দুইবার একজন মন্ত্রীর নাম উল্ল্যাখ করেন এবং ঐ মন্ত্রীর যে সুইডেন আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে ২ বার ফোনে তার মাথা ব্যথা প্রকাশ করেছেন, সেটাও ব্যক্ত করেন, এখানে প্রশ্ন আসতে পারে, সম্মেলন হবে সুইডেনে আওয়ামী লীগের ও সুইডেনের আওয়ামী লীগের সদস্যরাই তাদের সভাপতি নির্বাচিত করবে তাতে সেই মন্ত্রীর মাথা ব্যথা বিষয়টা অনেকের মনেই প্রশ্নবোধক হয়ে আছে | নির্বাচন হচ্ছে সুইডেনে মাথা ব্যথা ঢাকাতে, অবাক করার বিষয় বটে! অনুষ্ঠান পরিচালনা কারী ও সভাপতি সম্মেলন বিষয়ে বিগত দিনের কর্ম কাণ্ডের বিবরণ না দিয়ে উপস্থিত অতিথিদের স্বাধীনতার গল্প শুনিয়ে ৫৭ মিনিট পার করেন, তাতে সময়ের স্বল্পতা প্রকট হয়ে ওঠে, ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের নেতারা কৌশলে তড়িঘড়ি করে সুইডেনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা মাত্রই একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় আর ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের নেতারা একটি বদ্ধ ঘরে আশ্রয় নেন, দীর্ঘ সময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে হালের পাহারাদারের ভূমিকা ছিল খুবই প্রশংসনীয় | পরবর্তীতে সুইডেন আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় সুইডিশ পুলিশের ভূমিকাও বিশেষ ভাবেই প্রশংসনীয় | সুইডিশ পুলিশ খুব সম্মানের সাথেই ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের বিশিষ্ট সম্মানিত দুই নেতাকে পাহারা দিয়ে ট্যাক্সিতে হোটেল অভিমুখে পাঠিয়ে দেন | প্রবাসে যে কোনও দেশেই আওয়ামী লীগের মাঝে বিভাজন থাকলেই ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের ভ্রমণের খরচ অনেকাংশেই কমে আসে বলতে গেলে ফ্রি raid, হোটেল, বিমান ভাড়া, ঘোরাফেরা আর উপঢৌকন সব কিছুই তো চামচারাই বহন করবে আর নেতারা বিভিন্ন দেশ ঘুরে ঘুরে মুক্তিযুদ্ধের ভাষণ শুনিয়ে একটি কমিটি প্রবাসীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে আসেন, এ ক্ষেত্রে সেই কমিটির হর্তা কর্তাদের সামাজিক গ্রহণ যোগ্যতা থাক আর নাই বা থাক | যাকে বলে, চামচাদের ভীরে ইউরোপিয়ান নেতাদের দিন কাটে আদরে আর আহল্লাদে |
নির্বাচনের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন করেলে হয়তো এই সমস্যার সৃষ্টি হবার সুযোগ থাকতো না, সচরাচর যেদেশে সংগঠন তৈরি হয় সেই দেশের সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই একটি নির্বাচন হওয়া উচিত, অন্য দেশের রাজনৈতিক দলের গঠন্তন্ত্র সুইডেনের সাংবিধানিক নিয়ম বা সাংগঠনিক অনেক নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক, বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র মেনে সুইডেনে সংগঠন তৈরি বা নির্বাচন করতে গেলে বিষয়টা নিয়মের মাঝে পরবে না তাই সুইডেনের নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন হওয়া বাঞ্চনীয় | এইসব আওয়ামী লীগ নামধারী লোকরা যারা অতি অল্পশিক্ষিত বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যাদের কোনই ভূমিকা নাই তারাই বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে অতি উত্সাহী হয়ে সময়ে অসময়ে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিচ্ছে | অসহায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা এখন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করার উপায় খুঁজে বেড়াচ্ছে |
জীবন বাজি রেখে প্রবাসে আওয়ামী লীগের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে লড়াই এখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্যে একটি অশুভ বার্তা | বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ কেন, যে কোন রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রেই প্রবাসে কোন শাখা থাকার কথা না, তারপরও চলছে এই প্রতিযোগিতা , সভ্য দেশে বসবাস করেও প্রবাসী বাঙ্গালীদের এই অসভ্য আচরণ প্রবাসে বাংলাদেশ সুনাম দিনের পর দিন নষ্ট হতে চলেছে | হাতাহাতি, মারামারি এমনকি বিষয়গুলো পুলিশি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে জন্ম দিচ্ছে অনেক অপ্রত্যাশিত ঘটনার. এর মাঝেই জন্ম নিয়ে চলেছে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা, ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত হতে চলেছে ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয়রাও | কেউই হলপ করে বলতে পারবে না যে প্রবাসে রাজনৈতিক দল গঠনে, পদ বা স্থান দখলে দুর্নীতি হয় না বা হতে পারে না, এ ক্ষেত্রে অনেক টাকার লেনদেন চলতেও পারে, বাংলাদেশের রাজনীতি বা প্রশাসনে দলই প্রভাব বিস্তারেও দুর্নীতি ঘটে আর তাই প্রবাসী রাজনৈতিক দলের কর্মী হয়ে এই সব কর্মীরা যে দুর্নীতির আশ্রয় নিবে না নেয়া না তার নিশ্চয়তা কোথায় ?
রাজনৈতিক দলের প্রধানরা এইসব প্রবাসী নামধারী কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পরলেই দেশের অভ্যন্তরে অন্যান্য নেতা, প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মচারী, মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সংসদ সদস্যরা অতি সহজেই মানি লন্ড্রিইং , ওভার ইনভয়েস ,আন্ডার ইনভয়েস বা হুন্ডি জাতিও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পরে, খুব সহজেই দেশের টাকা প্রবাসে পাচার হয়ে যাবার সমূহ সম্ভাবনা থাকে, সরকারী সফরে আসলেই অসৎ মানুষরাই হয়ে ওঠে তাদের সঙ্গী সাথী সুবিধা ভোগ কারীরা তো সুযোগের অপেক্ষাতেই বসে থাকবেই | এ ভাবেই বাংলাদেশের দুর্নীতি আজ প্রবাসেও ছড়িয়ে যাচ্ছে |
প্রবাসে একটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের সমর্থক গোষ্ঠী থাকবে এটাই স্বাভাবিক তবে শাখা সংগঠন নয় | বাংলাদেশের মান সম্মান ক্ষুণ্ণ হোক এটা প্রবাসীরা কেউই আশা করে না |
পরিশেষে প্রবাসে সকল প্রবাসী বাংলাদেশীরা একটি সুস্থ পরিবেশে বাংলাদেশের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হবে কামনা করে, জয় বাংলা , জয় হক বাংলার মেহনতি মানুষের |
==কিন্তু==

২ thoughts on “দীর্ঘ ১৬বছর পর সুইডেনে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে উত্তেজনা ও হট্টগোলে সুইডিশ পুলিশের প্রসংশনীয় ভূমিকা

  1. এরা আওয়ামীলীগার নয়। এরা
    এরা আওয়ামীলীগার নয়। এরা আওয়ামীলীগ-নামধারী ধান্দাবাজ। অর্থ, পদবী আর ক্ষমতার আশায় এরা রাজনীতি করে। এদের কাছে দেশপ্রেম বড় নয়। এইজাতীয় পশুদের আওয়ামীলীগ থেকে এখনই বের করে দেওয়া উচিত।
    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *