একদিনের আদিবাসী হয়ে দেখবেন কি ?

আপনি অআদিবাসী। একদিনের আদিবাসী হয়ে দেখবেন কি ? দুপুরটা পেড়িয়ে দেখবেন কি ? অথবা রাত অবধি আদিবাসী হয়ে যান ? সকালটা কিন্তু ভালো যাবে আপনার। বন্ধু যাবে বেঁড়ে। সাহায্যের এতগুলি হাতের মধ্যে কারটা ধরবেন কারটা ছাড়বেন এই নিয়ে একটা লটারি করারও প্রয়োজন হতে পারে ! সকাল পেড়োবে। তারপর দুপুর আসবে।তখন হয়তো বাইরে বেড়োবেন… আপনি বাইরে যখনই পা রাখবেন তখনই অনেকগুলি মাছির ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ পাবেন। ডানা গুলো কখনও “চাইনিজ” শব্ধে আওয়াজ করবে কখনও প্রত্যেক শব্দের শেষে চিং অয়াং নামক আওয়াজ পাবেন। আশা করি এতে অবাক হবেন না। মশা মাছিদের আওয়াজে মানুষ অভ্যস্ত ! এরপর সন্ধ্যা আসবে ঘনিয়ে। আলো আধারের খেলায় নিজের অস্তিত্ব আছে কিনা এই নিয়ে দোটানায় পরে যাবেন। তারপর রাত। নীশিরাত। বিভীষিকাময় রাত। সারা রাত ভগবানের নাম জপে ঘুম হারাম হয়ে যাবে। কারন আপনার ঘরে হানা দিয়ে পারে হিংস্র জীব জন্ত। না হয় নিজেই রাতে আগুনে পুড়ে ছাই হবার ভয়ে !

কিছুদিন আগে একজন গারো ছেলের চোখ চিলে কামড়ে নিয়ে গেছে ! চিল বলেছি কারন অনেকের কাছে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয় ! কেনোইবা বিশ্বাস হতে হবে ? শুনেছি ক্ষমতাবানদের আশীর্বাদ ! যাই হউক। অনেক মানুষের অনেক ক্ষমতা থাকে । কারোর চোখ উপড়ে ফেলার ক্ষমতা। কারোর দেখেও না দেখার ভান করার ক্ষমতা। কারোর আবার অপরাধের লিস্ট থেকে অপরাধ মুছে ফেলার ক্ষমতা। এইসব ক্ষমতার শক্তি দেখতে হলে আপনাকে একদিনের জন্য আদিবাসী হওয়া চায়ই ! দেখবেন নাকি একদিনের আদিবাসী হয়ে ?

আচ্ছা নাই হলেন আদিবাসী। সেই ছেলেটার একটা চোখ হবার জন্য মিডিয়া গোত্ররা আগ্রহ দেখালোনা। তবে হ্যা, কিছুদিন আগের ঘটনা। একজন আদিবাসী মেয়েকে ধর্ষন চেষ্টা করা হয়েছিলো সেদিন মধ্য রাত্রেও মিডিয়ার টকঝাল সাংবাদিকদের উপস্থিতি ছিলো। কারন ইদানিং আদিবাসী মেয়েরা ধর্ষিত হলেই খবরের কাগজ হিট খাচ্ছে ! আদিবাসীরাও মিডিয়াকে বন্ধু মেনেছে। কিন্তু সেই মধ্য রাতে মেয়েটির মুখের সামনে চার পাঁচটা ক্যামেরার চোখ দেখে ক্ষেপে গিয়েছিলাম। দেখলাম কিছু মিডিয়াতে প্রকাশ হলো সেই মেয়েটির ঢেকে রাখা মুখের ছবি ! সাথে পাশে থাকা মেয়েদেরও ! ভিডিও দেখে কেউ মজা লুটেছে। কেউ করুনায় চুক চুক করেছে। কেউ কেউ হয়তো রিওয়াইন্ড, স্লো করে কাপড়ে ঢাকা মেয়েটির মুখ দেখার চেষ্টা করেছে ! কিন্তু মিডিয়া কেনো ভিক্তিমের ছবি প্রকাশ করলো এই নিয়ে কারোর মাথা ব্যাথা হলোনা ! এই হলো আদিবাসীদের বিভীষিকাময় একেকটা দিন। একেকটা স্থির সময়। যে সময় পাল্টায়না। কেউ পালটে দেবার কথা বলেনা। শুধু একটা দিন যদি আদিবাসী হয়ে দেখেন আমি হলফ করে বলতে পারি ঐ একটা দিনই আপনি মুখোশের আড়ালটা দেখতে পেতেন। আপনার হয়তো ঘৃণা জন্মাতো কিছু রক্তচোষাদের দেখে।

আদিবাসী/পাহাড়ী বাঙ্গালীদের সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য কিছু নোংরা রাজনীতিগুলোই দায়ী। এইসব রাজনীতির নেপথ্যে যারা তাঁদের কদর সমাজে সব চেয়ে বেশী। সংখ্যালঘুদের ধর্ষন, নির্যাতন, সমস্যাগুলোর সুবিচার নিশ্চিত হবার আগেই দিনকে দিন নতুন সমস্যায় তাঁরা দিন যাপন করে। যাদের আজ কালকের শেষ সম্বল শুধুই মিডিয়া। যে দেশটা মাতৃভাষার জন্য জীবন দিয়েছিলো সেই দেশের মানুষরা আদিবাসীদের মাতৃভাষা শুনেও কটাক্ষ করে ! পাহাড়ী ভাষার টানে বাংলা বলা ছেলেটি/মেয়েটি সব জায়গা থেকে তিরস্কারে লাল হয়ে ফেরে ! কেউ আবার শকুনদের ঠোকরে চোখের আলো হারায়। অথবা গোটা পাহাড়ী জনপদটাই এখন যেনো ধর্ষিতার আচলে প্যাঁচানো ! কি অদ্ভুত এই আদিবাসীদের বেঁচে থাকা তাইনা ? একদিনের আদিবাসী হয়ে দেখবেন কি ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *