যে কারনে আমরা রামপাল, রূপপুর ও কুইক রেন্টালের বিরোধীতা করছি।

আমরা কি দেশের উন্নয়ন চাই না? এখানে ‘আমরা’ বলতে আমি বুঝিয়েছি, আমরা যারা দেশের সম্পদ রক্ষার জন্য আন্দোলন করি, যারা দেশের খনিজ সম্পদের শত ভাগ জনগনের মালিকানা দাবী করে এবং দেশের সম্পদের সঠিক ব্যবহার কিভাবে করতে হয় তার যুক্তিযুক্ত দিকনির্দেশনা দেয়। বিরোধীতা করে সকল অসম চুক্তির বিরুদ্ধে, বিরোধীতা করে যখন দেখা যায় গুটিকয়েক মুনাফাখোর লুটেরা গোষ্ঠীর স্বার্থে কোন কাজ হচ্ছে। বিরোধীতা করে যখন দেখা যায় ১ টাকা লাভের জন্য ১০০ টাকার ক্ষতি হচ্ছে।


আমরা কি দেশের উন্নয়ন চাই না? এখানে ‘আমরা’ বলতে আমি বুঝিয়েছি, আমরা যারা দেশের সম্পদ রক্ষার জন্য আন্দোলন করি, যারা দেশের খনিজ সম্পদের শত ভাগ জনগনের মালিকানা দাবী করে এবং দেশের সম্পদের সঠিক ব্যবহার কিভাবে করতে হয় তার যুক্তিযুক্ত দিকনির্দেশনা দেয়। বিরোধীতা করে সকল অসম চুক্তির বিরুদ্ধে, বিরোধীতা করে যখন দেখা যায় গুটিকয়েক মুনাফাখোর লুটেরা গোষ্ঠীর স্বার্থে কোন কাজ হচ্ছে। বিরোধীতা করে যখন দেখা যায় ১ টাকা লাভের জন্য ১০০ টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

আমরা বিরোধীতা করি এমন অনেক কিছুর মধ্যে ৫ টা প্রকল্প নিয়ে সংক্ষেপে কিছু তথ্য দিচ্ছি এখানে। এছাড়াও আরও কিছু এখানে আলোচনায় তুলে ধরি নি, যেমন ট্রানজিট, টিপাইমুখে বাঁধ ইত্যাদি।

ফুলবাড়ীর কয়লাঃ

১৯৯৪ সালে প্রথম এই প্রকল্প বিষয়ে অস্ট্রেলীয় কোম্পানি বিএইচপির সাথে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি হয়। এর পরে ১৯৯৮ সালে বিএইচপি এই প্রকল্প হস্তান্তর করে খনি বিষয়ে সম্পুর্ন অনভিজ্ঞ ১ বছর বয়সী কোম্পানি এশিয়া এনার্জির হাতে। এশিয়া এনার্জি সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে যখন স্থানীয় আধিবাসীদের উচ্ছেদের জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ শুরু করে তখন সাধারণ মানুষ জানতে পারে । তখন ২০০৫ সাল।
২৬ আগস্ট ২০০৬-
দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ীতে বহুজাতিক কোম্পানির বিরুদ্ধে হাতে লাঠি, ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে নেমেছিল। প্রতিবাদী জনতার উপর গুলি করা হয় শহীদ হয়েছেন তিন জন। তরিকুল, আমিন এবং সালেকিন । আহত হয়েছেন অনেকেই। শহীদের রক্তে ভেজা মাটি এখনও জনগনেরই আছে।

বিরোধীতার কারণঃ
১ – উন্মুক্ত খনন পদ্ধতি যেটি স্পষ্টই বাংলাদেশের সবচেয়ে উর্বর এলাকার সমস্ত আবাদি জমি নষ্ট করবে, ৬ থানাসহ উত্তরবঙ্গের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নামিয়ে মরুকরণ সৃষ্টি করবে, ভূগর্ভ থেকে উত্তোলিত দূষিত পানি প্রকৃতিতে নিক্ষেপের মাধম্যে সারা দেশের পানি প্রবাহকে বিষাক্ত করবে এবং সর্বোপরি এতে খনি এলাকা ও খনি এলাকার বাইরে লক্ষ লক্ষ মানুষকে উচ্ছেদ হবেন।
২ – মালিকানা প্রশ্ন; যাতে পুরো কয়লাখনির মালিকানা পেতে যাচ্ছিল এশিয়া এনার্জি। বাংলাদেশের ভাগে ছিল মাত্র ৬ ভাগ রয়ালিটি, যার মধ্যে আবার কয়লা বিদেশে রফতানির জন্য অবকাঠামো নির্মাণের খরচও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
৩ – দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রয়োজন না মিটিয়ে কয়লা সম্পদ বিদেশে রফতানি। যে রফতানির আয় বাংলাদেশের নয়, মালিকানা চুক্তি অনুযায়ী সেটা পেত এশিয়া এনার্জি।

তাই সেদিন সেখানে তিন না উচ্চারিত হয়েছিল, উন্মুক্ত না – বিদেশী না – রফতানি না ।

কয়লা ব্যবহারে বাংলাদেশের যা করণীয়ঃ
তিন পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা যায়,
১, ভূ-উপরিভাগের সমস্ত মাটি খুড়ে এলাকা বিরান করে।
২, গর্ত খুঁড়ে সুড়ঙ্গ বানিয়ে নিচ থেকে কয়লার খণ্ডগুলো কেটে উপরে নিয়ে আসা।
৩, গ্যাসিফিকেশন – অর্থাৎ মাটি খুঁড়ে কয়লা না তুলে নিচে কয়লাকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধম্যে তৈল/গ্যাস রূপান্তর করে তা পাম্প করে বা চাপ সৃষ্টি করে চাপ দিয়ে উপরে এনে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা।
বাংলাদেশের জন্য বিশেষজ্ঞরা ৩ নাম্বার পদ্ধতিটি বেচে নিয়েছেন। কারন ইতিমধ্যেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করে চীন, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া বেশ সফল হয়েছেন।

এশিয়া এনার্জির সাথে এই চুক্তির আমরা বিরোধীতা করি, আমরা বিরোধীতা করি অসম চুক্তি ৯৪ ভাগ বনাম ৬ ভাগের। এখন কেউ যদি বলে আমরা দেশের উন্নয়ন বিরোধী। তাহলে বলব জী হ্যাঁ, আমরা উন্নয়ন বিরোধী।

সমুদ্রবক্ষের গ্যাসব্লকঃ
‘মডেল পিএসসি ২০০৮’ – এর অধীনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সমুদ্রবক্ষের গ্যাসক্ষেত্রকে ২৮ টি ব্লকে বিভক্ত করে টেন্ডার আহবান করা হয়। সমুদ্রের ৮ টি ব্লক কনোকো ফিলিপস নামক কোম্পানিকে এবং ১টি আইরিশ টাল্লোকে ইজারা দেবার সিদ্ধান্ত হাতে নিয়েছিল। তাদের বৈধতার সঙ্কট, ৮ টি ব্লকের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্রসীমা আপত্তি (তখন সুমদ্রসীমা নির্ধারন করা হয়নি) এসব কারনে শেষ পর্যন্ত আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে সমুদ্রবক্ষের ১০ ও ১১ নং ব্লক কনোকো ফিলিপস ও ৫ নং ব্লক টাল্লোকে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

চুক্তিঃ
-পেট্রোবাংলা স্থানীয় চাহিদা মেটাতে পরিবহন ব্যবস্থা চালু করতে পারলে তার অংশের গ্যাস রাখার অধিকার পাবে, তবে তা কোনোমতেই মোট বাজারজাতকরণ উপযোগী গ্যাসের ২০ ভাগের বেশি হবে না। ……. পেট্রোবাংলা অনুরোধ করলে ১১তম বছরের শুরু থেকে ২০ ভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ ভাগ পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
– অন্তত ৮০ ভাগ গ্যাস রফতানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
– দেশের চাহিদা কিংবা জ্বালানি নিরাপত্তা নয়, অগ্রাধিকার হলো কোম্পানির মুনাফা।
এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট আমাদেরকে কোম্পানি দেয় সুযোগ, আর তাদের হাতে থাকে অধিকার! সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করে কি মুখ বুজে থাকবে সচেতন মানুষ?

বিশেষজ্ঞরা গ্যাস সংকটের কারন ও সমাধানের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন, তাদের মতে…… আমাদের দেশের গ্যাস এর পরিমান সরকারি হিসাবে রিজার্ভ ৭.৩ টিসিএফ, বর্তমানে প্রতিদিন ঘাটতি আছে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে শতকরা ১০ ভাগ হারে। জ্বালানি চাহিদা পুরণ হয় শতকরা ৭০ ভাগ গ্যাস থেকে, শতকরা ২৫ আমদানিকৃত তেল থেকে, শতকরা ৫ ভাগ কয়লা এবং জলবিদ্যুৎ থেকে (প্রকাশ ২০১০) ।
সরকারের মধ্যকার জাতীয় স্বার্থবিরোধী একটা অংশের অপতৎপরতার ফলে বাপেক্সকে (BAPEX – Bangladesh Petroleum Exploration & Production Company Limited) শক্তিশালী করা যাচ্ছে না। তাই গ্যাস ও পাওয়া যাচ্ছে না প্রত্যাশা মত। জাতীয় কমিটি বার বার একটি কথা বলে যাচ্ছে যে, প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে বাপেক্সকে শক্তিশালী করা হলে, চলমান কুপগুলো ওয়ার্কওভার এবং উন্নয়নের মাধম্যে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বর্তমান সংকট কাটিয়ে গ্যাস উদ্বৃত্ব করা সম্ভব।

দেশের গ্যাস সম্পদ যখন আমরা শুনি বিদেশে রফতানি হবে এবং কোন চুক্তি হবে ৮০ ভাগ বনাম ২০ ভাগ তখন আমরা এমন উন্নয়নের বিরোধিতা করি। জী, আমরা উন্নয়ন বিরোধী।

কুইক রেন্টাল, লুটপাটের অন্য নামঃ
বিদ্যুতের সীমাহীন ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। প্রস্তাবিত রেন্টাল , কুইক রেন্টাল ও আইপিপি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মোট ৩৩ টি। রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট ১৩টি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা (আইপিপি) ৬টি। ২০১১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১৪ টি প্রতিষ্ঠান তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি মত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারেনি। এদের সাথে যদি চুক্তি হয় দৈনিক ৫০ মেগাওয়াট করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবে, কিন্তু এরা তা সরবরাহ করতে না পারলেও চুক্তির উপর ভিত্তি করে ৫০ মেগাওয়াটের টাকা তুলে নেয়!

উদাহরণ হিসেবে এখানে একটি খবর উল্লেখ করা যেতে পারে …...
“২০১৪-১৫ অর্থবছরে ডিসেম্বরের প্রায় পুরো সময়ই সামিট মেঘনাঘাট কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। ওই সময় মাত্র ১ লাখ ৮০ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় কেন্দ্রটিতে। তবে চুক্তির শর্তের কারণে বসিয়ে রেখেও বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয় পিডিবিকে। ফলে ওই মাসে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম পড়ে ৬৭৭ টাকা ৮০ পয়সা। এছাড়া অর্থবছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চার মাসে কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ কেনায় ইউনিটপ্রতি খরচ হয় যথাক্রমে ৩০ টাকা ৬৫ পয়সা, ৩২ টাকা ৩৮ পয়সা, ৩৪ টাকা ৭০ পয়সা ও ৪১ টাকা ২০ পয়সা। তবে অর্থবছরের পরের ছয় মাস (জানুয়ারি-জুন) কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ কেনায় ব্যয় কিছুটা কম হয়।”

“ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশ এনার্জি থেকে গত অর্থবছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামে বিদ্যুৎ কেনে পিডিবি। সিদ্ধিরগঞ্জের ডিজেলচালিত ভাড়াভিত্তিক ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রটি থেকে ওই সময় বিদ্যুৎ কেনা হয় ১৮ কোটি ৩৭ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা। ইউনিটপ্রতি দাম পড়ে ২৫ টাকা ৮৯ পয়সা। এ কেন্দ্রও ডিসেম্বরের বড় একটা সময় বন্ধ ছিল। ওই মাসে মাত্র ২৭ লাখ ২০ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এতে ডিসেম্বরে কেন্দ্রটির ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম পড়ে ১০০ টাকার বেশি।”
এখন কথা হচ্ছে আমরা তো এতো টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ কিনি না , তাহলে এই টাকা কোম্পানিকে দিচ্ছে কে? দিচ্ছে সরকার, ভর্তুকি দিচ্ছে, দিনশেষে আপনার আর আমার পকেট থেকেই এই ভর্তুকির টাকা লুটেরাদের পকেটে যাচ্ছে। হ্যাঁ আমরা এমন বিদ্যুতের বিরোধীতা করি।

প্রস্তাবনাঃ

(জাতীয় কমটির সুপারিশ)
* পুরনো অদক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদনগুলোকে নবায়ন করে ২০০০ মেগাওয়াট।
* কো-জেনারাশনের মাধ্যমে ৫০০ মেগাওয়াট।
* নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধম্যে ১০০০ মেগাওয়াট।
* লোড ব্যবস্থাপনা ও সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধম্যে নুন্যতম ১০০০ মেগাওয়াট সাশ্রয়।
## ৪৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ১ বছরের মত সময় লাগবে। ৩০০০-৪০০০ কোটি টাকা লাগবে। যা লুটের উদ্দেশ্যে দেওয়া রেন্টাল খাতের বার্ষিক ভুর্তিকির ৫ ভাগের ও কম।

বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ – রুপপুর প্রকল্পঃ
২০১৩ সালে ১৫ জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার রাশিয়ার সাথে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে চুক্তি করে। চুক্তি অনুসারে রাশিয়ার রাষ্টয়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান ‘রোসাটোম’ বাংলাদেশের পাবনা জেলার রূপপুর উপজেলায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি ঋণ সহায়তাও আসবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে। প্রাথমিকভাবে রাশিয়ার কাছ থেকে ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ পাওয়া গেছে, যা ব্যয় করা হবে গবেষণা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য। এ ছাড়া পরে আরও ঋণ সহায়তা দেয়ার কথা রয়েছে। তবে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা বহু পুরনো। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার প্রথম এ পরিকল্পনা করে এবং এ লক্ষে পাবনার ঈশ্বরদীতে ২৬০ একর জমি অধিগ্রহন করে। পরে নানা কারনে প্রকল্পের কাজ আর আগায়নি।

প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত বিবরনঃ জমি লাগবে ২৬০ একর, পারমানবিল চুল্লি – রাশিয়ার তৈরি ৩য় প্রজন্মের ‘ভিভিইআর ১০০০ চুল্লি’, রিয়াক্টরের সংখ্যা ২টি, উৎপাদন ক্ষমতা ২০০০ মেগাওয়াট । যাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা)।

বিরোধীতার কারণঃ
# পারমাণবিক বর্জ কোথায় ফেলা হবে তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে । অথচ দেশের প্রান-প্রকৃতি-পরিবেশের কথা ভেবে এ বিষয়টি সবার আগে সুরাহা হওয়া দরকার। কেন্দ্র থেকে বর্জ্য হিসেবে নির্গত স্ট্রনসিয়াম ৯০ ও সিজিয়াম ১৩৭ মারাত্মক তেজস্ক্রিয় এবং এগুলোর যথাযথ নিষ্কাশন না করা হলে তা দেশের সর্বনাশ ডেকে আনবে।
# ফারাক্কা বাঁধের কারনে ইতিমধ্যেই শুকিয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর তীরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শীতলীকরণের জন্য পর্যাপ্ত পানির প্রাপ্যতা ও পদ্মা নদী থেকে পানি প্রত্যাহারের প্রভাব।
# বাংলাদেশের মতো একটি ইতিমধ্যেই বৈদেশিক ঋণ এবং তার সাথে যুক্ত শর্তের জালে আবদ্ধ দেশের জন্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপুল আর্থিক দায়।
# বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপুর্ন ও প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা একটি দেশে আমদানি করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করার ঝুঁকি।

এছাড়াও এই প্রকল্প বিরোধীতার কারণ হচ্ছে, এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিপর্যয়ের সম্ভাবনা থেকেই যায়।
প্রাসঙ্গিক দুটি উদাহরণ –
এক-
১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিলে ইউক্রেনের চেরনোবিলে অবস্থিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিস্ফোরণ ও পরবর্তী অগ্নিকান্ডে বিপুল পরিমাণে তেজস্ক্রিয় পদার্থ বাতাসে মিশে পশ্চিম সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ইউরোপের বিরাট অংশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বৃহত্তর বিপর্যয় ঠেকাতে প্রায় ১৮ বিলিয়ন সোভিয়েত রুবল ব্যয় হয়। তখনকার সোভিয়েত সরকারের আনুষ্ঠানিক হিসাব অনুসারে মোট ৩১ জন ব্যাক্তি নিহত হয়েছিলেন এবং ক্যান্সার ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মতো তেজস্ক্রিয়তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে আক্রান্ত ব্যাক্তি এখনো সনাক্ত হচ্ছেন। ২০০৮ সালে জাতিসংঘের একটি রিপোর্টে মোট ৬৪ জনের মৃত্যুর কথা বলেছেন। এই বিস্ফোরণের কারণে দীর্ঘমেয়াদী মৃত ব্যাক্তির সংখ্যা ৪০০০ পর্যন্ত পোঁছতে পারে। এছাড়াও ৫০ জন উদ্ধারকর্মী রেডিয়েশান সিনড্রোম এর কারনে মারা যায়। এতে সবচেয়ে বেশি তেজস্ক্রিয় দূষণের শিকার হওয়া এলাকার বসবাসকারী ২ লাখ ৭০ হাজার ব্যাক্তি।
দুই-
আরেকটি বিপর্যয় ঘটে ২০১১ সালের ১১ মার্চ তারিখে ভূমিকম্প স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প ও এর ফলে সৃষ্ট সুনামির (সামুদ্রিক জ্বলোচ্ছ্বাস) কারণে জাপানের ফুকুশিমায় অবস্থিত দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটিতে শীতলীকরণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ফলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। এ দুর্ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও তেজস্ক্রিয়তার আক্রমন থেকে জনগণকে রক্ষা করতে জাপান সরকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশেপাশে ২০ কিলোমিটার এলাকা থেকে সকল নাগরিককে সরিয়ে নেয় এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ঐ সময় বন্ধ করে দেয়, ২০১৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ছিল।

সুন্দরবনের পাশে তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পঃ
২০১০ সালের জানুয়ারিতে রাষ্ট্রীয় এক সফরে ভারতে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিলেন। ওই প্রস্তাবনার ভিত্তিতেই ২০১২ সালে বাংলাদেশের অধীন সুন্দরবনের নিকটবর্তী রামপালের দুটি ৬৬০ ইউনিট মিলে মোট ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)’র সঙ্গে ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি)’র চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সর্বশেষ গত ২০ এপ্রিল ২০১৩ ঢাকায় ভারতের সঙ্গে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানের টেন্ডার আহ্বান করা হয়- ১২ এপ্রিল ২০১৫।

-এই প্রকল্পে আমরা দুই ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখেছি।

১ – অর্থনৈতিক ক্ষতি ।
২ – পরিবেশগত ক্ষতি ।


অর্থনৈতিক ক্ষতিঃ

# রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২০১ কোটি ডলার। এর ৭০ শতাংশ ব্যাংক ঋণ নেয়া হবে,(৭০ ভাগ ঋণের সুদ টানা এবং ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব বাংলাদেশের)। ১৫ শতাংশ অর্থ দেবে পিডিবি এবং বাকি ১৫ শতাংশ দেবে ভারতের এনটিপিসি। ওই প্রকল্পের জন্য পুরো জমি, অবকাঠামোগত বিভিন্ন কিছু, সব সরবরাহ করবে বাংলাদেশ। অথচ শেষ বিচারে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মালিকানা চলে যাবে ভারতের হাতে! মাত্র ১৫ শতাংশ বিনিয়োগ করে তারা হয়ে যাবে হর্তাকর্তা! তাছাড়া এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনতে হবে পিডিবিকে! আর যে নীট লাভ হবে, তার অর্ধেক নিয়ে নেবে ভারত অর্থাৎ লাভ ফিফটি ফিফটি! চুক্তি অনুযায়ী কয়লা আমদানির দায়িত্ব বাংলাদেশের এবং ক্ষয়ক্ষতির দায় বহন করতে হবে বাংলাদেশেরই!!

# আমাদের দেশীয় কোম্পানি ওরিয়ন গ্রুপের সঙ্গে গত ২০ ডিসেম্বর ২০১১ পিডিবির যে ক্রয় চুক্তি হয়েছে,সে অনুযায়ী,কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৫২২ মেগাওয়াটের একটি হবে মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায়। এছাড়া খুলনার লবনচরা ও চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ২৮৩ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে। সেখানে বলা আছে মাওয়া থেকে কিনবে ৪ টাকা প্রতি ইউনিট। আর লবনচরা ও আনোয়ারার কেন্দ্র থেকে কিনবে ৩ টাকা ৮০ পয়সা করে। কিন্তু রামপালের কেন্দ্র থেকে কিনতে হবে ৮ টাকা ৮৫ পয়সা করে!! এছাড়াও দেখা গেছে রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াটের জন্য প্রয়োজন ৫৫৫ একর জমি। এর সঙ্গে এমজিআর ও কুলিং টাওয়ারের জায়গা হিসাব করলে জমি প্রয়োজন সর্বোচ্চ ৭০০ একর। অথচ ১৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে!(এর বেশির ভাগই কৃষি জমি)।

এই প্রকল্পের উপর আমরা জোর দিচ্ছি পরিবেশগত ক্ষতির ওপর, কারন আমাদের সুন্দরবন একটিই, কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের আরো বিকল্প আছে। আমরা দাবি করেছি এই একই প্রকল্প অন্য কোন জায়গায় করা হোক। যেখানে এমন একটি দেশের ‘ফুসফুস’ এর মত কিছু ধ্বংস হবে না।

পরিবেশগত ক্ষতিঃ
# ভারতে না,বাংলাদেশে হা – এনটিপিসি তার নিজ দেশ ভারতের মধ্যপ্রদেশে ১৩২০ মেগাওয়াটের একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল (NTPC’s coal-based project in MP turned down অর্থাৎ “মধ্যপ্রদেশে এনটিপিসি’র কয়লা ভিত্তিক প্রকল্প বাতিল ” দ্য হিন্দু, ৮ অক্টোবর ২০১০)। কৃষি ও পরিবেশগত সমস্যা হবে, সে কারণেই ভারত সরকার এনটিপিসির প্রস্তাব বাতিল করে দেয়। ২০০৭ সালে রাজীব গান্ধী ন্যশনাল পার্ক থেকে ২০ কিমি দূরে ১০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার পরিকল্পনা করে, কিন্তু জনগনের বিরোধিতার কারনে ২০০৮ সালে এই প্রকল্প বাতিল করতে বাধ্য হয় ভারত সরকার। ঐ বনাঞ্চলটি ছিল সুন্দরবন বাংলাদেশ অংশের ১০ ভাগের ১ ভাগ।

# বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ কার্বন নিঃসরণ। একটি ৫০০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বার্ষিক ৩৭ লক্ষ টন কার্বন নির্গত হয় যা ১৬ কোটি গাছ কেটে ফেলার সমান। সুতরাং আমাদের বুঝতে কষ্ট হয় না আমরা কি করতে যাচ্ছি বাংলাদেশের একমাত্র এবং বিশ্বের বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ন বন সুন্দরবনের পাশেই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে।

# জোয়ার ভাটা খেলার বৈশিষ্ট্যযুক্ত ছোট-বড় বহু শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট নদী-খাল দিয়ে বিভক্ত দ্বীপমণ্ডলীর সমষ্টি এই বন। মোট এলাকা ৬০০০ বর্গ কিলোমিটার। যার মধ্যে ম্যানগ্রোভ এলাকা ৩৯৫৬ বর্গ কিলোমিটার। নদী খালে নিমজ্জিত ১৮০০ বর্গ কিলোমিটার । এই জোয়ার প্লাবিত বনাঞ্চল প্রাকৃতিক সম্পদ বিশেষ করে প্রাণী ও উদ্ভিদ সম্পদে ও বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। এই বনে আছে ৬৬ প্রজাতির উদ্ভিদ, ২০০ প্রজাতির মৎস্য, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী জন্তু, ২৩৪ প্রজাতির পাখি, ৫১ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৮ প্রজাতির উভচর প্রানী এবং অসংখ্য অমেরুদণ্ডী জীব। এছাড়াও জীবিকার জন্য সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল প্রায় কয়েক লাখ মানুষ। বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন সুন্দরবনের পাশে এমন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র করার ফলে এসব প্রজাতির জীবন জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।
এর প্রমান হিসাবে দেয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফায়েত্তি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৩০ হাজার টন সালফার ডাই অক্সাইড নির্গত হতো তার ফলাফল হলো যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হাইওয়ে ২১ এর ৪৮ কিমি এলাকা জুড়ে গাছ ধ্বংস হয়েছে।

# রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪২ টন বিষাক্ত সালফার ডাই-অক্সাইড (বছরে ৫১ হাজার ৮৩০ টন) এবং ৮৫ টন বিষাক্ত নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (বছরে ৩১ হাজার ২৫ টন) নির্গত হবে। এই বিশাল পরিমাণ বিষাক্ত গ্যাস বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব তখনকার চেয়ে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেবে। ফলে ভয়ানক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে সুন্দরবনের প্রাণ ও পরিবেশ। ইআইএ রিপোর্টে এই জায়গাটাতে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে! নিয়মানুযায়ী সুন্দরবনের জন্য ‘পরিবেশগত স্পর্শকাতর’ মানদণ্ড উল্লেখ করার কথা। অথচ ইআইএ রিপোর্টে সুন্দরবনের জন্য ‘আবাসিক ও গ্রাম’ এলাকার মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে! সুন্দরবন কবে থেকে ‘আবাসিক ও গ্রাম এলাকা’ হলো?
এই বিষয়ে আরেকটু বিস্তারিত জানতে – http://istishon.blog/node/5090

শেষ কথাঃ
আমরা সব সময় একটি বিষয় লক্ষ করি, যে কোন বড় চুক্তি হলে তা করা হয় গোপনে , জনগণকে রাখা হয় অন্ধকারে। সংসদে এই নিয়ে আলোচনা হয় না। লোক দেখানো পরিবেশ সমীক্ষা করে। ভালোভাবে গণ শুনানি হয় না। কিন্তু সবাইতো সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকে না, কেউ কেউ নিজের প্রয়োজনে, নিজেদের অস্তিত্বের প্রয়োজনে এসব গণবিরোধি চুক্তি মানুষকে জানানোর ব্যবস্থা করে। আরেকটি বিষয় জাতীয় কমিটি বার বার বলে যে, আমাদের দেশীয় কোম্পানি বাপেক্সকে শক্তিশালী করা হোক, কিন্তু কে শুনে কার কথা দিনে দিনে বাপেক্সকে আরও পরনির্ভরশীলতা করে তোলা হচ্ছে। দেখা গেছে বহুজাতিক কোম্পানি থেকে বাপেক্সের দক্ষতা মূলত বেশিই ছিল । এখানে একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে, বিদেশী কোম্পানি টাল্লোর হয়ে বাঙ্গোরায় ওয়ার্ক ওভার কূপটি খনন করতে পেট্রোবাংলা সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বাপেক্স নেয় ৭ কোটি টাকা এই কাজে তাদের খরচ হয় ৫৩ লাখ টাকা। বাপেক্সের লাভ হয়েছে ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। কিন্তু এই লাভ কোন লাভই না। কারণ টাল্লো তার কস্ট রিকভারিতে এই টাকাটা পেট্রোবাংলার কাছ থেকে তুলে নিয়েছে। কিন্তু যদি আমাদের হাতে থাকতো সবকিছু এই বিপুল মুনাফা বহুজাতীকের হাতে যেত না।

উপরে উল্লিখিত চুক্তিগুলো যে দেশ বিরোধী, দেশের জনগনের স্বার্থে না তা বুঝতে কি খুব শিক্ষিত হওয়া লাগে? মাস্টার্স পিএইচডি লাগে? না এসব কিছু লাগে না , যে বুঝতে পারে যে তার গাছের আম সে নিজে পাড়তে পারে না (তাকে পাড়তে দেয় না) বলে অন্য একজনকে নিয়ে এসেছে পেড়ে দিতে, পাড়ার পর সে নিয়ে গেলো ৯৪ টা কিংবা ৮০ টা কিংবা ৮৫ টা আর বাকি গুলো গাছের মালিক বলে সে নেবে। এই হিসাব বুঝলেই যথেষ্ট।

আমরা এমন সকল চুক্তির বিরোধীতা করে যাবো। সরকারের কিংবা ভাড়াটে বিজ্ঞানী – সুশীল বুদ্ধিজীবীদের কথায় কান না দিয়ে।
কারণ সবাই স্রোতে গা ভাসায় না। অল্প কয়জন থাকে যারা স্রোতের বিপরীতে দাঁড়ায় বুক টান করে।

যারা ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ীতে তাদের বুকে লিখেছিল “জীবন দেবো, ফুলবাড়ী দেবো না” তাদের সাথে কি সবাই বেইমানী করতে পারে? তরিকুল, আমিন ও সালেকিনের রক্তের সাথে কি সবাই বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে?

তথ্যসূত্র-
১ – বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক বিকল্প আছে, সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নাই (বুকলেট) – তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।
২ – বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, সমাধান কি অসম্ভব? – বি. ডি. রহমতউল্লাহ্‌
৩ – প্রশ্ন ও উত্তর – তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।
৪ – জ্বালানি সম্পদ ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব – গনসংহতি আন্দোলন।
৫ – পারমাণবিক বিদ্যুৎ সমস্যা, রূপপুর প্রকল্প ও বাংলাদেশ – বাংলাদেশ অধ্যয়ন কেন্দ্র।
৬ – http://www.bonikbarta.com/2016-02-29/news/details/67865.html
৭ – http://bangla.bdnews24.com/economy/article1077748.bdnews

১২ thoughts on “যে কারনে আমরা রামপাল, রূপপুর ও কুইক রেন্টালের বিরোধীতা করছি।

  1. আপনার পোস্টের ছবিগুলো ঠিক করে
    আপনার পোস্টের ছবিগুলো ঠিক করে দিলে ভাল হয়। ছবিগুলোর সোর্সলিংক ভেঙে গেছে মনে হচ্ছে।

  2. এখানে সব তথ্যসুত্র তো নিজেদের
    এখানে সব তথ্যসুত্র তো নিজেদের বাড়ি থেকেই নেয়া হয়েছে , রামপাল এর বিরোধী আমিও , কিন্ত এই আগুনে আলুপোড়া খাবার কমিউনিস্ট প্ল্যান কে সাপোর্ট করার কোন মানে দেখিনা , আগে নিজেদের তথ্যসুত্র ক্লিয়ার করেন । সমাজতান্ত্রিক দের ব্যাপারে একটা বদনাম আছে যে এরা কথা বললেই মিথ্যা বলে , সে কারণে এইসব তথ্য সাপোর্ট করার মানে দেখিনা ।

  3. লেখাগুলি লজিক্যাল এটা যেমন
    লেখাগুলি লজিক্যাল এটা যেমন সত্য আবার দেশের উন্নয়নের জন্য অনেক বেশি বিদ্যুতের প্রয়োজন ।কুইক রেন্টল এ দূরণীতি ছিল কিন্তু এটাই বাড়িতে বাড়িতে মোটামুটি সারবক্ষনিক বিদ্যুত্ সরবরাহ করছে এটা বড় সত্য ।পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রর বিকল্প নেই তবে তা যথাসম্ভব নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ।

  4. http://tinypic.com এই ফ্রি
    http://tinypic.com এই ফ্রি হোস্টিং সাইটে ছবিগুলো অাপলোড করে শুধু ডাইরেক্ট লিংকটা কপি করে নেবেন। কপিকৃত লিংকটা ইমেজের উপর ক্লিক করার পর যে বক্স অাসবে সেখানে পেস্ট করে দিতে হবে।

  5. http://tinypic.com এই ফ্রি
    http://tinypic.com এই ফ্রি হোস্টিং সাইটে ছবিগুলো অাপলোড করে শুধু ডাইরেক্ট লিংকটা কপি করে নেবেন। কপিকৃত লিংকটা ইজের উপর ক্লিক করার পর যে বক্স অাসবে সেখানে পেস্ট করে দিতে হবে।

    এখন html লিংকগুলো সাপোর্ট করে না।

  6. One important part is missed
    One important part is missed from this article that is the huge amount of coal required for this power plant will be unloaded at very close to Sundorban Which is the most threatening issue. Gov. telling that it is far enough from Sundorban. Actually it following the conservation rule(more than 12 km) but the unloading spot is very close to Sundarban. This will harm Sundarban extremely. ( source- EIA Report)

  7. হ্যালো,
    হ্যালো,
    আপনি কোন উদ্দেশ্যে আপনার ব্যবসা বা আর্থিক সংস্থানের জন্য একটি জরুরি ঋণ দরকার না? আমরা প্রত্যয়িত হয় ঋণ ঋণদাতা লাইসেন্স 2% সাশ্রয়ী সুদ হারে বাণিজ্যিক উদ্যোগের, ব্যবসা এবং ব্যক্তি আন্তর্জাতিক ঋণ প্রস্তাব স্থায়ী. এটি একটি ঋণ স্বল্প বা দীর্ঘ মেয়াদী হতে পারে, এবং এমনকি যদি আপনি খারাপ ক্রেডিট ইতিহাস যে যত তাড়াতাড়ি আপনার ঋণ প্রক্রিয়া হিসেবে আমরা আপনার অনুরোধ গ্রহণ আছে. আমরা একটি স্বাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান আছে, আজকে আমাদেরকে ইমেইল সাথে যোগাযোগ করুন; oceanlenders05@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *