পাকিস্তান একটি শয়তানরাষ্ট্র। ইসলাম, মানুষ আর মানবতার স্বার্থে এটি ধ্বংস করা প্রয়োজন (দ্বিতীয় পর্ব)।

পাকিস্তান একটি শয়তানরাষ্ট্র। ইসলাম, মানুষ আর মানবতার স্বার্থে এটি ধ্বংস করা প্রয়োজন (দ্বিতীয় পর্ব)।
সাইয়িদ রফিকুল হক

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

পাকিস্তান একটি শয়তানরাষ্ট্র। ইসলাম, মানুষ আর মানবতার স্বার্থে এটি ধ্বংস করা প্রয়োজন (দ্বিতীয় পর্ব)।
সাইয়িদ রফিকুল হক

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
বিশ্বশয়তানের সমস্ত শয়তানীর অন্যতম প্রধান অংশীদার এই পাকিস্তান। জন্মলগ্ন থেকে ধোঁকাবাজির রাজনীতি শুরু করে এরা অদ্যাবধি তা বজায় রেখেছে। পাকিস্তানের এইজাতীয় শয়তানী, চক্রান্ত আর ষড়যন্ত্র বিশ্বে ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই পাকিস্তানের শয়তানী ও ষড়যন্ত্রের কারণে ১৯৪৭ সালে আমরা অনন্যোপায় হয়ে ‘পাকিস্তান’ নামক একটি শয়তানরাষ্ট্রে যোগদান করতে বাধ্য হয়েছিলাম। আর এই শয়তানীর মূলে ছিল বিশ্বশয়তান ও বিশ্বকুচক্রী জিন্না। আর তার মতো ধূর্তশয়তান ও পাপিষ্ঠ ভারতীয় উপমহাদেশে খুব কমই জন্মেছে।

পাকিস্তান নামক একটি শয়তানরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা জিন্নার তিনটি বড় ভুল, পাপ ও শয়তানী হলো:
১. ভারতবর্ষে ‘দ্বিজাতি-তত্ত্ব’ নামে একটি জারজতত্ত্বের প্রচার।
২. ব্রিটিশদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে ১৯৪৭ সালে বাংলাদেশকে পৃথিবীর অন্যতম শয়তানরাষ্ট্র পাকিস্তানে যোগ দিতে বাধ্য করা।
৩. ১৯৪৮ সালে বাংলাভাষাকে বাতিল করে তদস্থলে বিজাতীয় উর্দুকে ‘রাষ্ট্রভাষা’ করার শয়তানী ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত।

মূলত ভারতীয় উপমহাদেশে জিন্না কোনো রাজনৈতিক নেতা ছিল না। সে ছিল ব্রিটিশদের দালাল ও ভারতীয় উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক-অপশক্তি-উত্থানের মূল-হোতা। আর সে ভারতবর্ষের অসাম্প্রদায়িক হিন্দু-মুসলমানদের জীবনে শুধুই একজন খলনায়ক। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে তার মতো ‘ভিলেন’ খুঁজে পাওয়া কঠিন। শুধু স্বার্থগত কারণে আর বাংলার শস্যভাণ্ডারকে করায়ত্ত করার জন্য ভাষা-চেহারা-সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রবল ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগদানে বাধ্য করে। ইংরেজদের পা-চাটা-গোলাম জিন্না কখনও রাজনীতিবিদ হতে পারে না।

বর্তমানে পাকিস্তানের সামরিকজান্তাগণ একইভাবে আমেরিকার পদলেহন করতে-করতে ‘ধরাকে সরা জ্ঞান’ করছে। জন্মলগ্ন থেকে ব্রিটিশরা ছিল পাকিস্তানের প্রভু। আর এখনও ব্রিটিশদের অবাধ্য সন্তান আমেরিকা পাকিস্তানের চিরস্থায়ী প্রভু। পাকিস্তানী-জেনারেলরা সবসময় মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ও সরকারি-কর্মকর্তাদের বেশি ভক্তিশ্রদ্ধা করে থাকে। এটা তাদের বংশানুক্রমে চলে আসছে। এরা এর থেকে আর বেরিয়ে আসতে পারবে না। ইসলামের মূলস্তম্ভ পাঁচটি। যথা: কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ ও জাকাত। আর পাকিস্তানের মূলস্তম্ভ হলো ছয়টি। যথা: আমেরিকা, ইংল্যান্ড, চীন, পাকিস্তান, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আর পাঞ্জাবি-জেনারেলগণ। এরা নিজেদের শক্তির আধার মনে করে। তাছাড়া, বর্তমানে এরা চুরি করে পারমাণবিক বোমা বানানোর নামে নিজেদের একটা-কিছু ভাবছে। পাকিস্তানের এই সামরিকজান্তাশ্রেণীটি সবসময় আমাদের বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লেগে আছে। সাম্প্রতিককালে এদের শয়তানী-অপতৎপরতা আরও বেড়ে গেছে।

অধুনা শয়তানরাষ্ট্র পাকিস্তানের ‘বাংলাদেশবিরোধী’ কতিপয় শয়তানীর নমুনা ও দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হলো:
প্রথমত; পাকিস্তান শয়তানীপ্রচেষ্টার দ্বারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নাশকতাসৃষ্টি ও গোলোযোগস্থাপনের নানান রকমের শয়তানী করছে। এরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাবিরোধী শয়তানীপ্রতিবিপ্লব ঘটাতে চায়। এরা দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশের ১/১১-এর শয়তান-কুশীলব, তাদের সমর্থক ও কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা-নামধারী শয়তানগোষ্ঠীর সঙ্গে সবসময় সুসম্পর্ক রাখছে। এই শয়তানদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক-নামধারী জাতীয় শয়তান মতিউর রহমান; ডেইলি স্টারের সম্পাদক-নামধারী জাতীয় খবিসশয়তান মাহফুজ আনাম; ইংল্যান্ডের সাংবাদিক-নামধারী, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতাকারী, শয়তানের জারজপুত্র ডেভিড বার্গম্যানের শ্বশুর ড. গিরগিটি কামাল হোসেন; তদীয় কুলাঙ্গার কন্যা ব্যারিস্টার সারা হোসেন ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে বাংলাদেশের সুশীলশ্রেণীনামধারী সুশীলরাজাকারশ্রেণী।
বাংলাদেশবিরোধী এই শয়তানশ্রেণীর সঙ্গে যোগাযোগের কারণেই বাংলাদেশে পাকিস্তানী হাইকমিশনের প্রথম-শ্রেণীর কর্মকর্তা ‘ফারিনা আরশাদ’কে বহিষ্কার করা হয়। আসলে, এই মহিলা ছিল একটা প্রথম-শ্রেণীর দেহপসারিণী-জাতীয় কর্মকর্তা। পাকিস্তানের স্বার্থে সে বাংলাদেশের যে-কারও সঙ্গে শারীরিকসম্পর্কস্থাপন করে হলেও পাকিস্তানের স্বার্থে কাজ করতো।
এই ফারিনা-দেহপসারিণীকে বহিষ্কার করার কারণে পাকিস্তান প্রতিশোধমূলক-পাল্টাব্যবস্থা হিসাবে পাকিস্তানে বাংলাদেশের নিরপরাধ কূটনৈতিক মৌসুমী রহমানকে বহিষ্কার করেছে। এতেই প্রমাণিত হয় পাকিস্তান একটি শয়তানরাষ্ট্র। পৃথিবীতে এরা কোনো আইনকানুন মানে না। এরা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের কাছে পরাজিত হয়েছে ও মাফ চেয়েছে। কিন্তু পরাজয়ের লজ্জা ও গ্লানি তারা এখনও ভুলতে পারেনি। তাই, ওরা সবসময় বাংলাদেশবিরোধী-রাজাকারগোষ্ঠীকে মদদ দিয়ে বাংলাদেশের ভিতরে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শপরিপন্থী সরকার-কায়েমের নামে অরাজকতাসৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। আর এজন্য ওরা শত-শত কোটি টাকা ব্যয় করছে। বাংলাদেশের পাকিস্তানপন্থীকুকুরদের তারা সবসময় লালনপালন করছে। এরা যেন তাদের ঔরসজাত সন্তান! এদের দিয়েই তারা বাংলাদেশে ‘জিয়াউর রহমানে’র মতো ‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও পাকিস্তানপন্থী’ সরকার-কায়েম করতে চাচ্ছে। তারা ২০০৮ সালের ২৯-এ ডিসেম্বরের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরদিন থেকে তাদের এই শয়তানীপ্রক্রিয়া আজও অব্যাহত রেখেছে।

দ্বিতীয়ত; পাকিস্তান আধুনিক-নরপশুদের আস্তানা। আর এটি কোনো মানুষশাসিত রাষ্ট্র নয়। এরা কোনোপ্রকার কূটনৈতিক শিষ্টাচার জানে না, মানে না। বর্তমানে তারা তাদের সুদূরপ্রসারী শয়তানীর অংশ হিসাবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ও বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের সুসম্পর্কবিনষ্ট করার জন্য যারপরনাই চেষ্টা করছে। আর পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের কারণেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে মাঝে-মাঝে ছোট-বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। আর সবখানে শয়তানী ও নাশকতাবিস্তারে অপতৎপরতা চালাচ্ছে পাকিস্তানের জারজ-গোয়েন্দাসংস্থা: আইএসআই। আর সবসময় বাংলাদেশবিরোধী শয়তানী-কাজে নিয়োজিত রয়েছে পাকিস্তানীহানাদার-সেনাবাহিনী।

তৃতীয়ত; পাকিস্তানীরা ‘ভারতীয় রুপী’র জালনোট ভারতের বাজারে, ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তে ছেড়ে তার দোষ বাংলাদেশের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু পারেনি। ওরা বারবার ধরা পড়ে গেছে। এখনও তারা ভারতীয় মুদ্রার জালনোট বাংলাদেশের বাজারে, সীমান্তে ও ভারতের বাজারে ছেড়ে তার দায়ভার বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে ভারত-বাংলাদেশের সুসম্পর্কবিনষ্টের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
পৃথিবীর সর্বকালের অন্যতম কুখ্যাত-শয়তান ও সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জারের মতো সবসময় তাদের মাথায় বাংলাদেশবিরোধী ভূত চেপে বসে আছে। আর এই শয়তানী করতে-করতেই পাকিস্তান একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। তাদের বর্তমান আগ্রাসন: মানুষ আর মানবতার বিরুদ্ধে। আর এদের মতো হিংস্র ও স্বার্থপর জাতি পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

চতুর্থত; পাকিস্তানের জারজ-গোয়েন্দাসংস্থা: আইএসআই-এর অধীনে পাকিস্তানের বাছাইকৃত ১০০০ সুন্দরী রয়েছে। এরা বাংলাদেশ-ভারতের বিশিষ্ট-সুশীল-সমাজের লোকজনের সঙ্গে অবাধে মেলামেশা ও যৌনাচারের মাধ্যমে পাকিস্তানের পক্ষে দুই দেশের গোপনতথ্য-সংগ্রহ করছে। অতিসম্প্রতি এই পাকিস্তানীসুন্দরীদের ফাঁদে পা-দিয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কয়েকজন ঊর্ধ্বতন-কর্মকর্তা গ্রেফতার হয়েছে। আর তাদের বিরুদ্ধে ভারতে এখন তদন্ত ও বিচার চলছে। আর আমাদের বাংলাদেশেও কিছুসংখ্যক পাকিস্তানীসুন্দরীর আনাগোনা রয়েছে।
করাচী, লাহোর, ইসলামাবাদ, পেশোয়ার, পাঞ্জাব, সিন্ধু, বেলুচিস্তান ইত্যাদি অঞ্চলের নামকরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বাছাইকৃত ১০০০ ছাত্রীকে নিয়ে পাকিস্তান এই ‘সুন্দরী-ফাঁদ-সেল’ গঠন করেছে। আর এইসব মেয়েরা শুধু বাংলাদেশ ও ভারতের শত্রুশ্রেণীর লোকজনের সঙ্গে অবাধে ও গোপনে মেলামেশার মাধ্যমে তাদের স্বার্থ হাসিল করবে।
পাকিস্তানীসুন্দরীরা এভাবে রাষ্ট্রীয় মদদে ‘ব্যভিচারে ও অবাধ-যৌনসংসর্গে’ লিপ্ত হচ্ছে। আর এতে মুসলমানিত্ব অপমানিত হয় না? এতে ইসলামের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় না? আর এক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কী? আসলে, পাকিস্তানে ইসলামের কিছুই নাই। ওদের আছে শুধু ইসলামের নাম-ভাঙ্গিয়ে শয়তানী। আর এই শয়তানী দিয়েই পাকিস্তানীরা বাংলাদেশ ও ভারতকে ঘায়েল করার জন্য মাঠে নেমেছে। এদের মতো শয়তানের হাতে আজ পবিত্র ইসলামের গৌরব ও ঐতিহ্য ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। এদের প্রতিহত করা এখন এই সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

পঞ্চমত; পাকিস্তান সবসময় ভারত ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নাশকতাসৃষ্টির উদ্দেশ্যে সবরকমের অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরকদ্রব্য, গ্রেনেড ইত্যাদি সরবরাহ করছে। আর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অরাজকতাসৃষ্টি তাদের বহুদিনের স্বপ্ন।
২০০৪ সালের ২১-এ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ‘বিএনপি-জামায়াত’ নামক ‘চারদলীয় জোটসরকারে’র সময়ে ‘চারদলীয় জোটে’র মদদে বাংলাদেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়েছিলো। আর এই হামলায় যে ‘আর্জেস-গ্রেনেড’ পাওয়া গিয়েছিলো তা ‘পাকিস্তানে’ তৈরি। স্মরণকালের ভয়াবহ সেই গ্রেনেড-হামলার কথা আশা করি আমরা কেউই ভুলে যাইনি।
(চলবে)

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।

২ thoughts on “পাকিস্তান একটি শয়তানরাষ্ট্র। ইসলাম, মানুষ আর মানবতার স্বার্থে এটি ধ্বংস করা প্রয়োজন (দ্বিতীয় পর্ব)।

  1. পাকিস্তানসহ ধর্মভিত্তিক
    পাকিস্তানসহ ধর্মভিত্তিক সবগুলো রাষ্ট্রই শয়তান রাষ্ট্র। ভারত, সৌদিআরব বা ইসরাইল পাকিস্তানের চেয়ে কম শয়তান নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *