মসজিদ তৈরির নামে রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজি

অনেক খোঁজাখুঁজি করতে করতে এক অচেনা শহরে একটি bkash এর দোকান বের করলাম।দোকানের পাশেই এক মসজিদ বানানোর টাকা তোলার জন্য বিকট শব্দের মাইকে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে।মাইকের বিকট শব্দে যাকে bkash-এ টাকা পাঠাবো তাকে ফোন দিয়ে কিছু বুঝাতে বার বার অসমর্থ হচ্ছিলাম তারপর কিছুটা দূরে গিয়ে তাকে আবারো ফোন দিয়ে আশ্বস্ত করলাম যে টাকা পাঠাচ্ছি।

মাইকে যে কথাগুলো শুনতে পাচ্ছিলাম-


অনেক খোঁজাখুঁজি করতে করতে এক অচেনা শহরে একটি bkash এর দোকান বের করলাম।দোকানের পাশেই এক মসজিদ বানানোর টাকা তোলার জন্য বিকট শব্দের মাইকে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে।মাইকের বিকট শব্দে যাকে bkash-এ টাকা পাঠাবো তাকে ফোন দিয়ে কিছু বুঝাতে বার বার অসমর্থ হচ্ছিলাম তারপর কিছুটা দূরে গিয়ে তাকে আবারো ফোন দিয়ে আশ্বস্ত করলাম যে টাকা পাঠাচ্ছি।

মাইকে যে কথাগুলো শুনতে পাচ্ছিলাম-

মসজিদ আল্লার ঘর।এই ঘর বানানোর জন্য টাকা দিয়া যান,’এই টাকা বিফলে যাবেনা ইনশাল্লাহ। হে আল্লা যারা তোমার ঘর বানানোর কাজে সহযোগিতা করছে তাদের তুমি বেহেশতে নসীব করো;একথা তুমি তোমার পবিত্র কোরানে দিয়েছো,না হয় তোমার পবিত্র কোরান মিথ্যা(!) হয়ে যাবে’।(আমি পুরা থ এই কথা শুনে)

কেউ যখন টাকা না দিয়ে পাশ কেটে গেলো তখন বলছে,’কেউ টাকা না দিয়ে যাবেন না যারা আল্লার এই পবিত্র ঘরের জন্য সাহায্য করবেন না তারা শয়তানের ধোকায় পড়লো তারা শয়তানেরই ভাই'(!)।(আবারো অবাক)

হঠাত কেউ ১০০ টাকা দিলো তখন বলছে,’হে আল্লা এই মাত্র তোমার এক বান্দা ১০০ টাকা দিলো।
‘”আল্লা তুমি ভাগ্যবান,
১০০ টাকা করলো দান”।

একটুপর এক মহিলাও ১০০ টাকা দিলো।তখন বলছে,’হে আল্লা এই মাত্র তোমার এক বান্দী ১০০ টাকা দিলো।
‘”আল্লা তুমি রহমান,
১০০ টাকা করলো দান”।

তারপর আরেকজন টাকা দিলো।তখন বলছে,’হে আল্লা এই মাত্র তোমার আরেক বান্দা টাকা দিলো,কত টাকা দিসে দেখিনাই।
‘”আল্লা তুমি মেহেরবান,
তোমায় টাকা করলো দান”।

এমন আরো অনেক কিছু সুরে-সুরে,ছন্দে-ছন্দে বলে যাচ্ছে সব গুলি মনে নাই।পথচারী,রিক্সা,বাস সহ অন্যান্য সব গুলো যানবাহন থামিয়ে থামিয়ে আল্লার নামে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। টাকা দেয়া যেনো বাধ্যতামূলক!

৯ thoughts on “মসজিদ তৈরির নামে রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজি

  1. মসজিদ, এতিমখানা বা মাদ্রাসার
    মসজিদ, এতিমখানা বা মাদ্রাসার নামে টাকা উঠানোকে ধর্মীয় ভিক্ষাবৃত্তি বা ধর্মীয় চাঁদাবাজি বলাকেই শ্রেয় মনে করি। এটা হুজুর নামক অশিক্ষিত ধর্মবাজদের পেশা। ১০০ টাকায় ৬০ থেকে ৮০ টাকা কমিশন দেওয়া হয় টাকা উঠানোকারীকে। এখানেও আছে আবার চুরি। ঠিক কতটাকা উঠানো হল এই হিসাব কারো কাছেই থাকে না। এরা একধরনের পরজীবি মানুষ। তাদের বাঁচিয়ে রাখি আমাদের মত মানুষরাই। মিথ্যা সোয়াব কামানোর আশায় আমরা ধর্মের কাছে প্রতারিত হই। এই ধরনের প্রতারণার শিকার হয় মডারেট ধার্মিকশ্রেনী ও একেবারে দিনমজুর টাইপের মানুষজন। অথচ আমরা যদি এসব জায়গায় দান করা বন্ধ করে দেই, এসব পরজীবিরা তাদের এই ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে আসতে বাধ্য হত।

    1. ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে
      ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাতায়াতকালে এদের খপ্পরে প্রায়ই পড়তে হয়।আনেক সময় যানজটের সৃষ্টি হয়।প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বাঁধা দিতে দেখিনা কখনও।সোয়াবের হাতে আইন কি বাঁধা?

      1. সোয়াবের হাতে শুধু আইন না,
        সোয়াবের হাতে শুধু আইন না, রাষ্ট্রের গদিও বাঁধা। এজন্যই আমাদের প্রধানমন্ত্রী গদি বাঁচাতে ১৪০০ বছর আগের মদিনা সনদের কাছে রাষ্ট্রকে বর্গা দিতে চান।

  2. এরা ধর্মের প্রধান শত্রু।
    এরা ধর্মের প্রধান শত্রু। পবিত্র ইসলামের নামে ভিক্ষাবৃত্তি করছে।
    আপনাকে ধন্যবাদ।

  3. @সাইয়িদ রফিকুল হক: ধর্মই
    @সাইয়িদ রফিকুল হক: ধর্মই তাদের ব্যবসা করার পথ তৈরি করে দিয়েছে। আপনাকেও ধন্যবাদ।

  4. @সাইয়িদ রফিকুল হক: ধর্মই
    @সাইয়িদ রফিকুল হক: ধর্মই তাদের ব্যবসা করার পথ তৈরি করে দিয়েছে। আপনাকেও ধন্যবাদ।

  5. অনেক সময় গায়ে হাত দিয়ে টাকা
    অনেক সময় গায়ে হাত দিয়ে টাকা চায়।মাইকে এমন ভাবে ইংগিত দিয়ে কথা বলে তখন টাকা না দিয়ে পারা যায় না।
    মসজিদ আল্যার ঘর।আল্যা নিজেই বানিয়ে নিলে পারে।মানুষের কাছে হাত পাতা কেন?

  6. চাঁদাবাজি না থাকলে ধর্মগুলো
    চাঁদাবাজি না থাকলে ধর্মগুলো এতদিন টিকতো না। মসজিদ, মন্দির, গীর্জা বা ধর্মের নামের চাঁদাবাজি ধর্ম সৃষ্টার পর থেকে চলে আসছে। যতদিন ধর্ম থাকবে এই চাঁদাবাজি চলবে। মানুষের মনে যথন ধর্মের উপর থেকে আস্থা উঠে যাবে তখন চাঁদা দেবে না। আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেলে ধর্মজীবির সংখ্যা কমে যাবে। ধর্মজীবি না থাকলে ধর্মের প্রচার ও প্রসার স্তিমিত হয়ে যাবে। একসময় ধর্ম বিলীন হয়ে যাবে।

  7. প্রায়ই হুজুরদেরকে বলতে শুনি
    প্রায়ই হুজুরদেরকে বলতে শুনি বান্দা এবং বান্দী। বান্দার বিপরীত শব্দ কি বান্দী? আমার জানা নেই। কেউ জানলে বলবেন।

Leave a Reply to ইকারাস Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *