হিন্দু-ধর্মের কিছু বুজরুকি ও নারীর সম্মান

হিন্দুধর্মে নারীদেরকে তুচ্ছজ্ঞান ও ব্রাম্মনদেরকে শাসক এবং সর্বক্ষমতার অধিকারী করা হয়েছে প্রতিক্ষেত্রে । তবুও এক সাধুবাবার(প্রকৃত সাধু বলে কিছু নেই , সবই ভন্ড ) অনুরোধে এতক্ষন ধরে ‘শ্রীমতি সুমিতা বসু ন্যায়তীর্থ’র লেখা “‪#‎যজ্ঞাবল্ক্যসংহিতা‬” ‪#‎ব্যাবহার_অধ্যায়‬ বইখানাতে একটু চোখ রাখলাম । এটা হিন্দুদের লিখিত আইন বলা যেতে পারে । এখান থেকে যেসব আইন অসঙ্গতিপূর্ণ ও অপরাধ বলে আমার মনে হয়েছে , সেসব কিছুটা উল্লেখ করছি । নিজের ভাষা ও নিজের অভিমত সহ উল্লেখ করেছি , যাতে একটু সহজবোধ্য হয় ।


হিন্দুধর্মে নারীদেরকে তুচ্ছজ্ঞান ও ব্রাম্মনদেরকে শাসক এবং সর্বক্ষমতার অধিকারী করা হয়েছে প্রতিক্ষেত্রে । তবুও এক সাধুবাবার(প্রকৃত সাধু বলে কিছু নেই , সবই ভন্ড ) অনুরোধে এতক্ষন ধরে ‘শ্রীমতি সুমিতা বসু ন্যায়তীর্থ’র লেখা “‪#‎যজ্ঞাবল্ক্যসংহিতা‬” ‪#‎ব্যাবহার_অধ্যায়‬ বইখানাতে একটু চোখ রাখলাম । এটা হিন্দুদের লিখিত আইন বলা যেতে পারে । এখান থেকে যেসব আইন অসঙ্গতিপূর্ণ ও অপরাধ বলে আমার মনে হয়েছে , সেসব কিছুটা উল্লেখ করছি । নিজের ভাষা ও নিজের অভিমত সহ উল্লেখ করেছি , যাতে একটু সহজবোধ্য হয় ।

১.এখানেও স্ত্রীলোক কোন প্রকার সাক্ষী দিতে পারবে না ও তাদের সাক্ষ্য গ্রহনযোগ্য নয় । (পৃষ্ঠা-১১৭, সাক্ষিপ্রকরণম৭০,৭১)
অর্থাৎ নারীদের কতটুকু মূল্যায়ন করা হচ্ছে তার কিছুটা পরিষ্কার হওয়া গেল এই স্লোকে ।

২. যেখানে সত্য সাক্ষদান করলে ব্রাম্মনাদি চার বর্ণের মানুষকে বধের সম্ভাববনা থাকবে সেখানে সাক্ষী মিথ্যা কথাই বলবে । সেই মিথ্যাকথনের পাপ আস্ফালনের জন্য সরস্বতী উদ্দেশে চারুপাক করে ব্রাম্মনদের দ্বারা ঘজ্ঞ সম্পাদন করতে হবে । (পৃষ্ঠা ১৩০, শ্লোক-৮৩)
অর্থাৎ এখানে স্পষ্ট ইঙ্গিত আছে যে বাম্মনদের হত্য করা পাপ নয়, কিন্তু তাদেরকে সত্য সাক্ষ্য দিয়ে সত্যটা বলে দেয়া যাবে না । সেটা ঘোরতর পাপ ।
৩. তৃতীয় লিঙ্গ, হরমোফ্রোডাইট বা ক্লিব লিঙ্গ; অন্ধ, দূররোগ্যযুক্ত পুত্ররা কোন সম্পত্তি পাবে না । মেয়েরাও কোন সম্পত্তি পাবে না , তবে তাদেরকে বিবাহ পর্যন্ত ভরণপোষণ করতে হবে । আর যারা ব্যাভিচারিনী ও প্রতিকূল আচরনযুক্তা(মানে নাস্তিক কিংবা অবিশ্বাসী) তাদেরকে নির্বাসন দেয়া হবে । (পৃষ্ঠা২৩৭, শ্লোক-১৪০,১৪১,১৪২)

৪.এটা সবচাইতে মজার আইন ও বিশেষ অপরাধ বলে আমার মনে হয়ছে ।
“কন্যা বাকদত্তা হবার পর প্রতিশ্রুত পাত্র ভিন্ন অন্য পাত্রে কন্যা দান করলে ঐ কন্যাপহর্ত্তা দন্ডনীয় হবে । পূর্ববরকে(বিয়ের আগেই বর) সুদসহ তার সব ব্যায়িত অর্থ দিতে হবে । বাগ্দত্তা কন্যা বিবাহের পূর্বেই মৃতা হলে বরপক্ষ ও কন্যা পক্ষ উভয়ের ব্যায় শোধ করে বাকি অর্থ বর গ্রহন করবে । (পৃষ্ঠা ২৪৩, শ্লোক-১৪৬ )

৫. এই আইনকে বলা যেতে পারে জুতো মেরে সুঁচ দান ।
“দ্বিতীয়বার বিবাহের সময় স্বামী যে স্ত্রীকে স্ত্রীধন দেয়া হয়নি সেই পূর্বপত্নীকে দ্বিতীয় বিবাহে যত ধন ব্যায়িত হবে তার সমান ধন দেবে । (পৃষ্ঠা২৪৫, শ্লোক-১৪৮)
এই আইনটা পড়ে আমি স্পষ্ট না যে, এতে স্ত্রীদেরকে খুশি করার নিয়ম করা হয়েছে ? নাকি দ্বিতীয় বিবাহের উস্কানি দেয়া হয়েছে !

৬. ব্যাভিচারিণী দুষ্টা নারী পুরুষহত্যাকারী, স্বগর্ভপাতকারিণী , অগর্ভিনী(বন্ধা, সন্তানহীনা)-এই নারীদেরকে গলায় পাথর বেঁধে জলে নিক্ষেপ করতে হবে । (পৃষ্ঠা ৩২৬, শ্লোক-২৭৮)

৭. এবং যথারীতি স্ত্রীলোক কোন সম্পত্তি পাবে না, যদি না কেউ তাকে স্নেহবশত দান করে । (স্ত্রীধন, পৃষ্ঠা-৫৪ )

৬ thoughts on “হিন্দু-ধর্মের কিছু বুজরুকি ও নারীর সম্মান

  1. পৃথিবীর সকল ধর্মে রয়েছে
    পৃথিবীর সকল ধর্মে রয়েছে বুজরকি, কোন ধর্মেই নারীকে সম্মান দেওয়া হয় নাই। ধর্মে পুরুষতান্ত্রিকতাকে প্রমোট করা হয়। নারীকে পুরুষের দাশ হিসাবে পরিগণিত করা হয়।

  2. নারীকে সম্মান দিলে পুরুষের
    নারীকে সম্মান দিলে পুরুষের কর্তৃত্ব কমে যাবে। এই ভয়ের কারনে ধর্ম তৈরিকারীরা নারীকে ভোগপন্য হিসাবে মুল্যায়ন করে। এটা শুধু হিন্দু ধর্মে না, পৃথিবীর সকল ধর্মে নারীকে পুরুষের দাসী হিসাব মুল্যায়ন করে। তবে প্রাচীন ধর্ম হিসাবে হিন্দুধর্মে নারীকে সবচেয়ে বেশি অচ্ছ্যুৎ জীব হিসাবে মুল্যায়ন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *