অভিবাসীর আত্মকথা। ১

অভিবাসী।বর্তমান সময়ের আন্তর্জাতিক একটা ইস্যু।এক জরিপে দেখা যায় পৃথিবীর চার শতাংশ মানুষ অভিবাসী।মানুষ অনুন্নত,যুদ্ধ বিধ্বস্ত,সামাজিক সমস্যায় কবলিত বিভিন্ন দেশ উন্নত দেশে পারি জমাচ্ছে।অভিবাসীর চাপটা বেশি পরছে ইউরোপীয় দেশগুলাতে।
রবারের তৈরী গ্যাস দিয়ে ফুলানো ছোট্ট বোটে করে জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে তুরস্ক থেকে গ্রীস এবং লিবিয়া হয়ে ইতালীতে প্রবেশ করছে ভূমধ্যসাগর পারি দিয়ে।
বিভিন্ন দেশের বিশাল সংখ্যাক অভিবাসীর মাঝে বাংলাদেশী অভিবাসীর সংখ্যাও অনেক।বাংলাদেশ থেকে যারা আসেন তারা অন্যান্য দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের থেকে বেশী টাকা খরচ করে আসেন।

অভিবাসী।বর্তমান সময়ের আন্তর্জাতিক একটা ইস্যু।এক জরিপে দেখা যায় পৃথিবীর চার শতাংশ মানুষ অভিবাসী।মানুষ অনুন্নত,যুদ্ধ বিধ্বস্ত,সামাজিক সমস্যায় কবলিত বিভিন্ন দেশ উন্নত দেশে পারি জমাচ্ছে।অভিবাসীর চাপটা বেশি পরছে ইউরোপীয় দেশগুলাতে।
রবারের তৈরী গ্যাস দিয়ে ফুলানো ছোট্ট বোটে করে জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে তুরস্ক থেকে গ্রীস এবং লিবিয়া হয়ে ইতালীতে প্রবেশ করছে ভূমধ্যসাগর পারি দিয়ে।
বিভিন্ন দেশের বিশাল সংখ্যাক অভিবাসীর মাঝে বাংলাদেশী অভিবাসীর সংখ্যাও অনেক।বাংলাদেশ থেকে যারা আসেন তারা অন্যান্য দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের থেকে বেশী টাকা খরচ করে আসেন।
বাংলাদেশের দালাল শ্রেণী কিভাবে কাজ করে এখানে এবং বাংলাদেশী অভিবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শুনা এবং দেখা থেকে কিছু লেখার অনুভব করছি।এ বিষয়ে অনেক অভিবাসীর সাথে কথা বলেছি।তাদের অভিজ্ঞতা শুনেছি।
একটা পোস্টে পুরো বিষয়টা লেখার সম্ভব না এবং আমার হাতে সেই সময়ই নেই।
তাই ঠিক করেছি সিরিজ আকারে লিখব যতদিন সময় লাগুক।আপনার উৎসাহ দিলে চালিয়ে যাব।

আমি ফরহাদ।আহমেদ ফরহাদ।বাংলাদেশের এক মফস্বল জেলা শহরে জন্ম। পড়াশুনা যতটুকু করেছি সেটা সমাজে বলার মত না।বাংলাদেশে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটধারী উচ্চ শিক্ষিত লোকেরা কোন কাজ পাচ্ছেন না সেখানে আমি কিছুই না।ব্যবসা করব সেই উপায়ও নেই।পরিবারের কাছে ব্যবসার জন্য টাকা চাইলে বলে “তুই ব্যবসা করেছিস? ব্যবসা বুঝিস?লস খেয়ে শুধু শুধু টাকা নষ্ট করবি।”
বয়স হয়েছে।কতদিন আর বাবার হোটেলে খেতে ইচ্ছে করে?পাড়া-প্রতিবেশী,আত্মীয়-স্বজনের কথা শুনতে আর কত ভালো লাগে?
এলাকার স্বচ্ছল ফ্যামিলি,সমাজের লোকে চেনে আমাদের।না পারছি ছোট কোন কাজ বা ব্যবসা করতে,না পারছি ফ্যামিলির সাপোর্ট নিয়ে কোন ব্যবসা শুরু করতে।
কথায় আছে না?যার দেশে নেই কোন কুল তার জন্য বিদেশ।মাথায় আসল বিদেশ চলে যাই।ভালো আয় হবে সেই সাথে সুন্দর এবং সংশয়হীন নিরাপদ জীবন পাব।
ফ্যামিলির কাছে বললাম আমার ইচ্ছার কথা।প্রথমে একটু অনিচ্ছা দেখালেও পরে রাজী হয়।
প্রশ্ন আসে,কোথায় যাওয়া যায়?দুবাই,সিঙ্গাপুর,কোরিয়া,সৌদি,কুয়েত,কাতার এসবে না যেয়ে একটু বেশী টাকা খরচ করে ইউরোপীয় কোন দেশেই যাওয়াটায় ভালো।ইনকাম ভালো হবে,অন্যান্য দেশ থেকে নিরাপদ,নাগরিকত্ব পাবার সুযোগ আছে।
ইউরোপে জব ভিসা পেতে ইতালী সবচেয়ে ভালো এবং সহজ।সে জন্য পরিচিত দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হল পারিবারিক ভাবেই।দ্রুত পাসপোর্ট বানালাম। দালাল বলল এক বছরের ভিতর ভিসার ব্যবস্থা করবে।টোটাল বার লাখ দিতে হবে। এডভান্স ৫লাখ বাকী সাত লাখ ভিসা প্রস্তুত হবার পর।
আমি বাবা,চাচা,মামা,ভাইয়ার মুখ দেখে অবাক হলাম।ব্যবসার জন্য তিন লাখ টাকা চেয়েছিলাম আমাকে দেয়নি।বিদেশে নাম মুখে নিয়েছি ১২ লাখ টাকা দিয়ে দিতে এক পায়ে রাজী।
তখন বুঝলাম বাঙালী ব্যবসা করার জন্য টাকা দিবে না কিন্তু বিদেশ যাবার জন্য যতই লাগুক দিতে রাজী আছে।
ছয়মাস যাবার পর দালাল দাবী করে আরও দুইলক্ষ টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে।রেট বেড়ে গিয়েছে।আমার ফ্যামিলি রাজী হয়।
আমি সবাইকে বলে বেড়াই ইতালী যাচ্ছি।সবায় খুশি।
এক বছরের উপর হয়ে যাবার পর দালাল বলে আরেকটু টাইম লাগবে।টোটাল টাকা দেবার পর দুই বছর দালালের পিছনে ঘুরতে হয়।
আমি নিজে এবং আমার ফ্যামিলি অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত হয়ে যাই।
দালালকে জবাব দিয়ে বলটাকা এবং পাসপোর্ট ফেরত নিয়ে আসি।যদিও এগুলা ফেরত আনতে বহুত ঝামেলা পোহাতে হয়েছে।
বাসা থেকে বলে দেয় দেশে কিছু করতে মনযোগ দেবার জন্য।
আমি আগেই সবাইকে বলে বেড়িয়েছি বিদেশ যাব বিদেশ যাব বলে।নিজেও অনেক কিছু স্বপ্ন দেখেছি।এখন যদি যেতে না পারি তাহলে সেটা বিশাল লজ্জা এবং স্বপ্ন ভঙ্গের কারণ হবে।
চারদিকে খোজ নেই কিভাবে ইউরোপ যাওয়া যাবে।একজনের কাছে শুনি তুরস্ক হয়ে গ্রীস বা লিবিয়া হয়ে ইতালী যাওয়া যায়।অবৈধ হলেও অভিবাসী হিসেবে সহজেই পেপার মিলে যায়। একটা ভালো স্টোরি দাড় করাতে পারলেই হল।
সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করে কাজ শুরু করি।কারা তুরস্ক বা লিবিয়ার ভিসা ব্যবস্থা করে সেই খোজ নেই।
(চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *