ডোনাল্ড ট্রাম্প কি মিথ্যা কথা বলছেন ?

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন – ইসলাম আমেরিকা তথা পশ্চিমা দেশ ও জাতিকে ঘৃণা করে। মারাত্মক রকম ঘৃনা করে। বলা বাহুল্য, ট্রাম্প বিরোধী ও মুসলমানরা এ জন্যে তার তীব্র সমালোচনা করেছে , তাকে বলেছে রেসিস্ট ও ইসলাম বিদ্বেষী। কিন্তু প্রশ্ন হলো – ডোলান্ড ট্রাম্প কি মিথ্যা কথা বলেছেন ?

কোরান বলেছে:


সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন – ইসলাম আমেরিকা তথা পশ্চিমা দেশ ও জাতিকে ঘৃণা করে। মারাত্মক রকম ঘৃনা করে। বলা বাহুল্য, ট্রাম্প বিরোধী ও মুসলমানরা এ জন্যে তার তীব্র সমালোচনা করেছে , তাকে বলেছে রেসিস্ট ও ইসলাম বিদ্বেষী। কিন্তু প্রশ্ন হলো – ডোলান্ড ট্রাম্প কি মিথ্যা কথা বলেছেন ?

কোরান বলেছে:

সুরা বাকারা – ২: ২২১: আর তোমরা মুশরেক নারীদেরকে বিয়ে করোনা, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। অবশ্য মুসলমান ক্রীতদাসী মুশরেক নারী অপেক্ষা উত্তম, যদিও তাদেরকে তোমাদের কাছে ভালো লাগে। এবং তোমরা (নারীরা) কোন মুশরেকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত সে ঈমান না আনে। একজন মুসলমান ক্রীতদাসও একজন মুশরেকের তুলনায় অনেক ভাল, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও। তারা দোযখের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ নিজের হুকুমের মাধ্যমে আহ্বান করেন জান্নাত ও ক্ষমার দিকে। আর তিনি মানুষকে নিজের নির্দেশ বাতলে দেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

তার মানে একজন মুসলমান ক্রীতদাস হলো একজন অমুসলিমের চাইতে অনেক উত্তম।

সুরা আনফাল -৮:৫৫: সমস্ত জীবের মাঝে আল্লাহর নিকট তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা অস্বীকারকারী হয়েছে অতঃপর আর ঈমান আনেনি।

অমুসলিমরা হলো নিকৃষ্ট প্রানীর সমান।

সুরা বাইনিয়া- ৯৮: ৬: আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম।

অমুসিলমরা হলো সৃষ্টির অধম তথা নিকৃষ্ট প্রানীর মত।

সুরা আল আরাফ- ৭: ১৭৬: অবশ্য আমি ইচ্ছা করলে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিতাম সে সকল নিদর্শনসমূহের দৌলতে। কিন্তু সে যে অধঃপতিত এবং নিজের রিপুর অনুগামী হয়ে রইল। সুতরাং তার অবস্থা হল কুকুরের মত; যদি তাকে তাড়া কর তবুও হাঁপাবে আর যদি ছেড়ে দাও তবুও হাঁপাবে। এ হল সেসব লোকের উদাহরণ; যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার নিদর্শনসমূহকে। অতএব, আপনি বিবৃত করুন এসব কাহিনী, যাতে তারা চিন্তা করে।

অমুসলিমরা হলো কুত্তার মত।

সুরা আল মায়েদা – ৫:৬০: বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি, তাদের মধ্যে কার মন্দ প্রতিফল রয়েছে আল্লাহর কাছে? যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন এবং যারা শয়তানের আরাধনা করেছে, তারাই মর্যাদার দিক দিয়ে নিকৃষ্টতর এবং সত্যপথ থেকেও অনেক দূরে।

সুরা আরাফ-৭: ১৬৬: তারপর যখন তারা এগিয়ে যেতে লাগল সে কর্মে যা থেকে তাদের বারণ করা হয়েছিল, তখন আমি নির্দেশ দিলাম যে, তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫৪ :: হাদিস ৫২৪:
মূসা ইব্ন ইসমাঈল (র)…………….আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেন, বনী ইসরাঈলদের একদল লোক নিখুজ হয়ে গিয়েছিল। কেউ জানে না তাদের কি হলো আর আমি তাদেরকে ইদুর বলেই মনে করি। কেননা তাদের সামনে যখন উটের দুধ রাখা হয়, তারা তা পান করে না, আর তাদের সামনে ছাগলের দুধ রাখা হয় তারা তা পান করে (আবূ হুরায়রা (রা) বলেন) আমি এ হাদীসটি কা‘বের নিকট বললাম, তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন? আপনি কি এটা নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছেন?আমি বললাম, হ্যাঁ। তারপর তিনি কয়েকবার আমাকে একথাটি জিজ্ঞাসা করলেন। তখন আমি বললাম, আমি কি তাওরাত কিতাব পড়েছি?

বর্তমানে দুনিয়াতে যেসব বানর ও শুকর আছে , তারা হলো অমুসলিমদের বংশধর।

সুরা আর রূম-৩০: ৪৫: যারা বিশ্বাস করেছে ও সৎকর্ম করেছে যাতে, আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে প্রতিদান দেন। নিশ্চয় তিনি কাফেরদের ভালবাসেন না।

সুরা আল ইমরান-৩:৩২:বলুন, আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য প্রকাশ কর। বস্তুতঃ যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে আল্লাহ কাফেরদিগকে ভালবাসেন না।

আল্লাহ অমুসলিমদেরকে ভালবাসে না।

সুতরাং জানা গেল , অমুসলিম হলো নিকৃষ্ট প্রানী , কুকুর, শুকর, ইদুর ইত্যাদির মন নিকৃষ্ট প্রানীর মত। তারা সৃষ্ট সকল বস্তুর মধ্যে অধম। আর তাই আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসে না। যদিও তারা যে অমুসলিম , সেটা কিন্তু আবার আল্লাহরই ইচ্ছা। কারন আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করে। আর কে মুসলিম বা কে অমুসলিম হবে , সেটা আল্লাহ সৃষ্টির আগেই সব নির্ধারন করে লাওহে মাহফুজে রক্ষন করে রেখেছে। আল্লাহই ইচ্ছা করে তাদেরকে অমুসলিম বানিয়ে তাদের হৃদয়ে সীল মেরে দিয়েছে যে কারনে তারা কোনদিনই ইসলাম কবুল করবে না , যেমন –

সুরা আল বাকারা -২: ৬-৭: নিশ্চিতই যারা কাফের হয়েছে তাদেরকে আপনি ভয় প্রদর্শন করুন আর নাই করুন তাতে কিছুই আসে যায় না, তারা ঈমান আনবে না। আল্লাহ তাদের অন্তকরণ এবং তাদের কানসমূহ বন্ধ করে দিয়েছেন, আর তাদের চোখসমূহ পর্দায় ঢেকে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।

তারপর আল্লাহ বলছে , এইসব অমুসলিমদেরকে কখনই বন্ধু হিসাবে গ্রহন করা যাবে না , যেমন :

সুরা নিসা -৪: ১৪৪: হে ঈমানদারগণ! তোমরা কাফেরদেরকে বন্ধু বানিও না মুসলমানদের বাদ দিয়ে। তোমরা কি এমনটি করে নিজের উপর আল্লাহর প্রকাশ্য দলীল কায়েম করে দেবে?

সুরা আল মায়েদা -৫: ৫১: হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।

সুতরাং জানা গেল , অমুসলিমরা হলো সৃষ্টির সব চাইতে নিকৃষ্ট জীব আর আল্লাহ তাদেরকে পছন্দ তো করেই না বরং মারাত্মক ঘৃণা করে , কারন অত:পর আল্লাহ বলছে :

সুরা তাওবা -৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সুরা তাওবা -৯:২৯:তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

সুরা তাওবা -৯: ১২৩:হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক আর জেনে রাখ, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।

যেহেতু আল্লাহ অমুসলিমদেরকে প্রচন্ড রকম ঘৃণা করে , তাই তাদের বেচে থাকার কোনই অধিকার নেই , আর সেই কারনেই আল্লাহ বলেছে তাদেরকে প্রথমে ইসলাম গ্রহন করার আমন্ত্রন জানাতে , তারা প্রত্যাখ্যান করলেই যেখানে তাদেরকে পাওয়া যাবে , সেখানেই তাদেরকে হত্যা করতে হবে। আর তাদের বিরুদ্ধে চিরকালীন যুদ্ধ জারী হয়ে থাকল যতক্ষন পর্যন্ত না তারা ইসলাম কবুল করে। কিভাবে অমুসলিমদের সাথে আচরন করতে হবে , সেটাও সুন্দরভাবে বলা আছে কোরানে –

সুরা তাওবা -৯:৭৩: হে নবী, কাফের ও মুনাফিকদের উপর দৃঢ়তার সাথে কঠিন আঘাত হান

কিভাবে অমুসলিমদেরকে আঘাত করতে হবে , সেটাও বলা হয়েছে , যেমন

সুরা আনফাল-৮:১২: যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্থির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।

দুনিয়ার সহিহ মুসলমান যেমন আই এস , বোকো হারাম , আল শাবাব , তালেবান , আল কায়েদা, জে এম বি , নুসরা ফ্রন্ট ইত্যাদিরা কোরানের উক্ত বিধানগুলোই অক্ষরে অক্ষরে পালন করে আসছে। তারা অমুসলিমদেরকে যেখানেই পাচ্ছে , সেখানেই মেরে কেটে সাফ করে দিচ্ছে , তাদের নারীদেরকে বন্দী করে নিয়ে ধর্ষন করছে, তাদের মালামাল গণিমতের মাল হিসাবে লুট পাট করছে। অর্থাৎ, প্রকৃত মুমিনেরা কোরান ও হাদিসের দেখান পথেই অমুসিলমদেরকে মনের গভীর থেকেই প্রচন্ড ঘৃণা করে ও করে আসছে। সেই ঘৃনার বহি:প্রকাশ হিসাবেই , পশ্চিমা অমুসলিম অধ্যুষিত দেশ সমূহে , খাটি মুমিনেরা আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে , অমুসলিম হত্যা করছে . তাদের সমাজে সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে , যাতে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে অস্থিরতা তৈরী হয় , এবং তাদের অর্থনৈতিক উন্নতির ভিত ধ্বংস হয়ে যায় এবং অবশেষে ইসলামের পতাকাতলে আসে , অথবা তারা ধ্বংস হয়ে যায়।

এমতাবস্থায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প কি মিথ্যা কথা বলছে ? যদি না বলে থাকে , তাহলে সে কিভাবে রেসিস্ট বা ইসলাম বিদ্বেষী ? সত্য কথা বললেই কি রেসিস্ট বা ইসলাম বিদ্বেষী হয়ে যায় “?

৫ thoughts on “ডোনাল্ড ট্রাম্প কি মিথ্যা কথা বলছেন ?

  1. ধর্মকে ঘৃণা করার মত এতবেশি
    ধর্মকে ঘৃণা করার মত এতবেশি মানবতা বিদ্বেষী উপাদান আছে যে ধর্মগ্রন্থগুলোই ধর্মের বারোটা বাজানোর জন্য যথেষ্ঠ। ধর্মের বারোটা বাজানোর জন্য তৃতীয় কোন ব্যক্তির প্রয়োজন নাই। একদল উজবুক, বোকা আর আহম্মকের দল অন্ধভাবে ধর্ম বিশ্বাস করে বলেই তা সত্য হয়ে যায় না।

  2. সরাসরি কোরআনের আয়াত ছাড়া নিজ
    সরাসরি কোরআনের আয়াত ছাড়া নিজ থেকে অন্য কিছু লিখলে ছাগুর দল হামলে পরত।মুসলমানদের জন্য কোরআনই আসল জবাব।

  3. ডোনাল্ড কোন মিথ্যা
    ডোনাল্ড কোন মিথ্যা বলেনি।আমেরিকার টুইন টাওয়ারে হাম্লাতে হাজারো মুসল্মান খুশি ছিল।আমেরিকা থেকে ইসলাম কে বিতাড়িত করুক,ইস্লামের কবল থেকে তার দেশকে রক্ষা করুক।অন্যান্য দেশও যেন ডোনাল্ডের থেকে শিক্ষা নিয়ে তাদের দেশকে ইসলাম মুক্ত করতে পারে।

  4. এত বেশি ভ্রান্তিতে ভরপর
    এত বেশি ভ্রান্তিতে ভরপর কোরান, কোরানের বানী দিয়েই কোরানকে কাবু করা যাবে। মুসলমানিত্বের শর্তই হচ্ছে অন্যের বিরুদ্ধে ঘৃনার চাষ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *