আল্লার মহানুভবতা(!) ক্ষমতা? নাকি নির্দয়তার প্রকাশ

প্রতিদিনের মত আজকে যথারীতি দুপুরে হোটেলে খেতে গেলাম। আলু ভর্তা, বেগুন ভর্তা, ধনে পাতা ভর্তা , ডিম ভর্তা আর কালো ভুনা নিয়ে খেতে বসেছি, এমন সময় কাউন্টারের দিকে আমার চোখ যায়। একজন বৃদ্ধাকে দেখি, বাতিল বোতল সংগ্রহের জন্য এসেছেন। চেহারার রঙ ভালো তবে রোদে পুড়ে গেছে। শরীরের হাড় চাইলে সব গোনা যায়। হাতে একটা পলিথিন তার ভেতরে কিছু বোতল রাখা। এসব দৃশ্য দেখছি সাথের কলিগ আমার দিকে তাকিয়ে আছে , তার খাওয়া প্রায় শেষ হয়ে গেছে। আমি মনযোগ দিয়ে কি দেখছি সেটা বুঝার চেষ্টা করছে। হোটেলের বয় কে ডেকে বৃদ্ধাকে পাশে বসাতে বললাম। বসার পরে জিজ্ঞাস করলাম। ভাত খেয়েছেন ? জবাবে বললেন ‘না’। সকালে পরোটা খেয়েছেন একটা আর চা খেয়েছেন শুধু এও জানালেন- ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায়। কথা বলতে গেলেই খেয়াল করেছি ওনার গলা থেকে মাথা অব্দি কাপে। আমার কলিগের খাওয়া শেষ , সে বিল মিটিয়ে চলে যায় ।বৃদ্ধাকে জিজ্ঞেস করলাম কি তরকারি খাবেন ? বললেন আমার যা ইচ্ছে তাই দিয়েই হবে। আমার গলা দিয়ে আর ভাত নামে না। ক্যান যেন খেতেই ইচ্ছে হলো না আর। ওনার খাওয়া দেখলাম। বিল মিটিয়ে আবার চলে গেলাম। সন্ধ্যায় বাসায় আসার সময় এক্টা রিকশা নিলাম। বাসায় আসার অর্ধেক পথ রিকশা ভাড়া নিলাম ৪০ টাকায়। রিকশায় উঠলেই একটা গান গাই গুন গুন করে-

“আমি যে রিকশাওয়ালা , দিন কি এমন যাবে বলি কি হে মাধবী তুমি আর আসবে কবে………”।

গাই গাইতেছিলাম। চোখ গেল নিচে, দেখি রিকশাওয়ালার ডান পা টায় একটা ছাপা প্রিন্টের কাপড় পেচানো পায়ের গোড়ালি বরাবর। রিকশাটা চলছিলো ধীর গতিতে স্বাভাবিকের থেকে। জিজ্ঞাসা করলাম চাচা আপনার পায়ে কি কোন সমস্যা? এটকু জিজ্ঞাসিতেই ভদ্রলোক বলা শুরু করলেন।
বেশ কিছুদিন আগে কিছু একটা তে পায়ে খোচা খেয়েছেন। প্রথমে ঘা এর মত হয়েছিলো ছোট, আমলে নেন নাই। গরিব মাইন্সের এসব আমলে নিলে অবশ্য চলেও না। কিন্তু এই ঘা টাই ধীরে ধীরে এখন এমন অবস্থা হইছে যে, বেশ বড়সড় একটা ক্ষত হয়েছে যা প্রায় ৫ ইঞ্চি র মত হবে। রিকশা থেকে নেমে দেখতে চাইলাম। উনি কাপড় টা খুলে দেখালেন, ভেতর টা একেবারে সাদা হয়ে আছে। চুইয়ে চুইয়ে পানির মত কিছু একটা পড়ছে। ঢাকা মেডিকেল গিয়েছিলেন ভদ্রলোক, ১৩ হাজার টাকার শুধু ঔষুধই দিয়েছে। এরপরে হবে অপারেশন। কেটে ফেলে দিয়ে শরীরের অন্য অংশ থেকে চামড়া এনে এখানে লাগাতে হবে। এটা মেডিক্যেল থেকে জানানো হয়েছে তাঁকে। ১০০ টাকার একটা নোট দিয়া আমি নেমে গেলাম । কথা বেরুচ্ছে না গলা দিয়ে আমার। শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য থাকলে বোধহয় অন্যের অসুস্থ্যতাও অনুভব করা যায় এসব হাবিজাবি ভাবতে লাগলাম। বাসায় এসে লিখতে বসলাম। ও হ্যা! ঐ বৃদ্ধা দেখতে অনেকটাই আমার দাদীর মত ছিলেন। 🙂

এখন কমন কিছু প্রশ্নঃ

আল্যা “সর্বশক্তিমান”, হলে আজকে এদের কেন এমন হাল ?
• যদি বলা হয় এসব পরীক্ষা। একে দেখিয়ে অন্যকে বুঝানো, তাহলে “দয়ালু” নামের সার্থকতা কই থাকে ?

ব্যক্তিগত ভাবে মনেহয় স্রেফ এই বোধ টুকুই যথেষ্ট স্রষ্টার আসাড়তা প্রমানের জন্য।

১১ thoughts on “আল্লার মহানুভবতা(!) ক্ষমতা? নাকি নির্দয়তার প্রকাশ

  1. আরেকটু স্পষ্টভাবে প্রশ্নটা
    আরেকটু স্পষ্টভাবে প্রশ্নটা করা যাক। আমরা বাস্তবে আল্লাপাককে দেখতে পাচ্ছি তিনি চরম নির্দয়। মানুষ এমনকি অল্প বয়স্ক শিশুরাও না খেয়ে মারা যাচ্ছে কিন্তু আল্লার কোন খবর নাই। আগুনে পুরে মারা যাচ্ছে তেনার কোন খবর নাই। তার পরিকল্পনায় যে জাহান্নাম রয়েছে সেটার ভয়াবহতার কথা নাই বা বললাম।

    তাহলে এরকম নির্দয় এক সত্তাকে দয়ালু মনে করব কেন? তাকে কেন বিশ্বাস করব মৃত্যুর পর তিনি দয়া করবেন? বাস্তবে যা দেখছি তা থেকেই তো সিদ্ধান্ত নেব।

  2. যাদের দুঃখ কষ্ট দেখে আপনার
    যাদের দুঃখ কষ্ট দেখে আপনার মনে কমন দুটি প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে , সেই বৃদ্ধা ও রিক্সাওয়ালাকে কি প্রশ্ন দুটি জিজ্ঞাসা করেছিলেন? ওরাই তো আপনার প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারত। নয় কী?

    বাংলাদেশে এমন কাহিনী লাখে লাখে পাবেন। এরাই নাস্তিকতা প্রসারের জন্য উর্বর ভূমি। ব্লগে সময় নষ্ট না করে এদের মাঝে নাস্তিকতা প্রচার করুন , আশা করা যায় আপনি ব্লগের চেয়ে বেশি সফল হবেন। :ভেংচি:

    1. অবশ্যই সম্ভব হতো। তবে সবাইই
      অবশ্যই সম্ভব হতো। তবে সবাইই “বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত” যারা ভেবেই বসে আছে কোরান যথেষ্ট!

  3. ইহা আল্লাহর তরফ হইতে একটা
    ইহা আল্লাহর তরফ হইতে একটা পরীক্ষা মাত্র। যাতে এদেরকে দেখে বাকীরা ইমান মজবুত করতে পারে। আল্লাহ যাদের ওপর এইসব পরীক্ষা করছে , তারা মরার পর পরই বেহেস্তে চলে যাবে। সুতরাং সমস্যা তো কিছু নেই। এমন কি যারা এই ধরনের সীমাহীন কষ্ট পাচ্ছে , যদি তাদেরকে জিজ্ঞাস করা হয়, তাহলেও তারা একই উত্তর দেবে – এটা আল্লাহর ইচ্ছা , আর আল্লাহ তাদেরকে পরীক্ষা করছে। কারন জন্ম থেকে জ্ঞান হওয়া অবধি এ মন্ত্রটাই তাদের কানে ও মস্তিস্কে ভালমত ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। এই দুনিয়ায় তারা কষ্ট পাচ্ছে , কিন্তু মরার পর তো বেহেস্তে গিয়ে অবাধ আনন্দ ফুর্তি করবে। নাস্তিক কাফের মুরতাদ যারা বেহেস্তে যেতে পারবে না বলে নিশ্চিত হয়ে গেছে , একমাত্র তারাই এইসব নিয়ে আলতু ফালতু কথা বলে।

  4. যে অনাহারী কে খাবার দিতে পারে
    যে অনাহারী কে খাবার দিতে পারে না জীবিত থাকাকালীন, সে নাকি মৃত্যুর পরে মনে যা খাইতে চাইবেন তাই দিবে!!রুপকথায় আমার বিশ্বাস নাই।

  5. অতএব বাবাজী , বিশ্বাষ না করে

    অতএব বাবাজী , বিশ্বাষ না করে যাবা কোথায়?
    জাহান্নামে?

    জাহান্নামে কি না বলতে পারি না , কারন একমাত্র আল্লাহই জানেন কে জাহান্নামে যাবে আর কে জান্নাতে। তবে কোন ঘোর নাস্তিক জান্নাতে গেলে বা ঘোর আস্তিক জাহান্নামে গেলেও আমি আশ্চর্য হব না। কেউই নিরাপদ নয়। আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন এবং তিনি কোন বাধ্য বাধকতায় আবদ্ধ ও নন। সুবিচার , ন্যায় পরায়নতা , দয়া মায়া ইত্যাদি ধারনা মানুষের জন্য আল্লাহর সৃষ্টি, যে কোন সময় মুহুর্তের মধ্যেই এই ধারনা তিনি ১৮০ ডিগ্রি উল্টে দিতে পারেন। তখন অবিচারকেই আমাদের কাছে সুবিচার মনে হবে , ন্যায় পরায়নতাকে অন্যায় মনে হবে ইত্যাদি। তিনি কারো কাছে জবাবদিহী করেন না। যা ইচ্ছা তাই করেন।

  6. ঈশ্বরের অসারতা প্রমান করতে
    ঈশ্বরের অসারতা প্রমান করতে চাচ্ছেন ? সুক্ষ্য হিসাবে তো ঈশ্বরের অস্তিত্বে আগে বিশ্বাস প্রমানীত হয় । লোল ।

  7. ঈশ্বরের অসারতা প্রমান করতে
    ঈশ্বরের অসারতা প্রমান করতে চাচ্ছেন ? সুক্ষ্য হিসাবে তো ঈশ্বরের অস্তিত্বে আগে বিশ্বাস প্রমানীত হয় । লোল ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *