বেচারা রামপাল যখন দাবা’র বিপন্ন ব’ড়ে।

বিপন্ন না করে উন্নয়ন কবে কোথায় হয়েছে শুনি? একটা দেশে যখন সম্পদ তৈরি হয় তখন শক্তির মতো আসলে সম্পদের রূপান্তর-ই হয়। বাংলাদেশ এখন ‘পাওয়ার হাংরি’ স্টেজে ঢুকে গেছে। প্রচলিত উন্নয়ন ধারনায় উন্নতি কি ১৭ কোটি বাঙালি চায় না? সবাই খেয়ে পরে বাঁচতে চায়, একটা বাড়ি চায়, সেখানে টিভি, ফ্রিজ চায়। এখনো তিন ভাগের এক ভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুত নাই। তাদেরকে আপনি কেন বঞ্চিত করবেন? আপনি যে বিদ্যুতটুকুন দিয়ে ইন্টারনেট চালালেন সেটা কয়লা, গ্যাস না তেল যাই হোক জীবাস্ম জ্বালানি দিয়েই তো হয়েছে। কতগুলো কয়লার পরমানু পোড়ানোর অধিকার আছে আপনার বা আমার সেই হিসেব কি কেউ করি? হাসিনা করে। যদিও তাঁর হিসাব আলাদা। দশটা বাড়িতে বিদ্যুত দিতে পারলে ৪/৫ টা ভোট তাঁর ঝুঁড়িতে আসবে। উন্নয়নের জন্য তাঁর সাহসী কিন্তু বিতর্কিত পদক্ষেপগুলো একসময় ঢাকা পড়ে যাবে, এটা ঐতিহাসিকভাবে প্রমানিত, তিনি জানেন।

আসুন, বুকে হাত দিয়ে সত্যি স্বীকার করে নিই। বলি: আমরা আসলে সমস্যার গভীরে কেউ যাচ্ছি না। আমাদের বিদ্যুতও দরকার, পরিবেশও দরকার। সেই সাথে সরকার এবং মেঝ ভাইদের মাথায় খানিকটা ভালো ঘিলুও দরকার।

সমধানটা সহজ নয়। কই বসাবেন রামপালের ঐ বিদ্যুতকেন্দ্রটি? জায়গা সিলেক্ট করেন, তারপর দুটো প্রস্তাবের পক্ষে বিপক্ষে যুক্তির তুলোধুনা করে ফিজিবিলিটি সিলেক্ট করেন। তাইলে যদি সমস্যার কোন সমাধান হয়। প্রস্তাব নিয়ে মানুষের সামনে যান। দেখেন বদলে যাবে।

রামপালের ইসমাইল মাঝিকে এখনো মোবাইলে চার্জ দিতে হাটে আসতে হয় তিন মাইল বেড়ি বাঁধ ধরে বিকেলে হেঁটে হেঁটে। ৫ টাকা করে দিতে হয় প্রতিবার। কারণ তাঁর ঘরে বিদ্যুত নেই। এদিকে ঘরে নতুন বৌ। মোবাইলে টাকা বা চার্জ নিয়ে এখুনি হাওকাও করাটা ইজ্জতের ব্যাপার। কয়টা কয়লার পরমানু তাঁর ভাগে পড়ে সেই হিসেব তাঁরে বুঝান তো দেখি কোন বাপের ব্যাটা আপনি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *