চাপাতির সংস্কৃতি বনাম তারেক মাসুদ (রানওয়ে)

দেশে চাপাতি দ্বারা কোপাকুপিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে আমাদের অঞ্চলে।
এর কারন কি ?আমাদের অজ্ঞতা নাকি ধর্মান্ধতা? নাকি আবার ধর্মহীনতা?
বুঝতে হলে চলেন একটু ফ্ল্যাশ ব্যাকে যাই।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় টাকে ধরি, এখন যারা যুদ্ধাপরাধের দায়ে দায়ী-দোষী বলে সাব্যস্ত আদতেই কি তারা দোষী?
মুক্তিযুদ্ধর সময় যাদের আমরা রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধী বলে জানি আসলে তারা কি করেছিল?
পাকিস্তান ভাগ হয়ে যাক এটা তারা চায়নি বলেই ধর্মের ভাই জাত ভাইদের সাথে একাত্নতা প্রকাশ করে সেক্যুলার, সংস্কৃতি মনা, বুদ্ধিজীবী হত্যায় কখনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছিলেন । সাহায্য করেছেন সাধ্যমত।

দেশে চাপাতি দ্বারা কোপাকুপিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে আমাদের অঞ্চলে।
এর কারন কি ?আমাদের অজ্ঞতা নাকি ধর্মান্ধতা? নাকি আবার ধর্মহীনতা?
বুঝতে হলে চলেন একটু ফ্ল্যাশ ব্যাকে যাই।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় টাকে ধরি, এখন যারা যুদ্ধাপরাধের দায়ে দায়ী-দোষী বলে সাব্যস্ত আদতেই কি তারা দোষী?
মুক্তিযুদ্ধর সময় যাদের আমরা রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধী বলে জানি আসলে তারা কি করেছিল?
পাকিস্তান ভাগ হয়ে যাক এটা তারা চায়নি বলেই ধর্মের ভাই জাত ভাইদের সাথে একাত্নতা প্রকাশ করে সেক্যুলার, সংস্কৃতি মনা, বুদ্ধিজীবী হত্যায় কখনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছিলেন । সাহায্য করেছেন সাধ্যমত।
পূর্ব পাকিস্তান আর পশ্চিম পাকিস্তান মুছলিম দেশ। এ দেশের মানুষ বেশিরভাগই মুছলিম। কোন সাচ্চা মুছলিম কি চাইবে ভাইয়ের কাছ থেকে দূরে থাকতে? কখনই চাইবে না। হাজার লাত্থি খেলেও দিনশেষে সে ভাইয়ের কাছে গিয়েই বলবে ভাই আপনার লাত্থিতে আমার পাছায় এমন ব্যাথা লাগছে যে আর বসতেই পারছি না। এ হচ্ছে জাতী ভাইয়ের কাছে এক আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ। এসব শুনে অন্য জাত ভাই -ধর্মের ভাই যদি সামনের দিকে লাত্থি মেরে দাঁড়ানোটাই অসম্ভব করে দেয়, তবুও সে বুঝবে যে আর কেউ তো মারে নাই, মারলে আমার জাত ভাইয়েরাই মেরেছে।
সুতরাং যারা সে সময় এসব না মেনে মুক্তি যুদ্ধ করেছে তারা অবশ্যই ধর্ম অবমাননা করেছেন। এমনও করেছেন অনেকে, এক মুছলিম হয়ে তিনি এক নতুন বাংলাদেশের কথা ভাবতেন। এমন যারা ভেবেছেন, তারা নিশ্চয়ই ধর্ম থেকে সরে গেছেন। আর যারা করেছেন- তারা তো তারাই!
বস্তুত এটা ছিল বর্তমান রাজাকারদের জন্য জিহাদ।।

এইতো সেদিনের ঘটনা ।।
সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা হলো। যারা করেছে তারা কারা? জামায়তে মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জে এম বি) । তারা হামলা গুলো কোথায় করেছিলো মনে আছে তো আমাদের?
হ্যাঁ আদালত, সিনেমা হল এসব যায়গাতে হামলা হয়েছিল। কেন জে এম বি এমন সব যায়গায় হামলা চালালো?
উত্তরঃ ইছলাম ও তার শরিয়াহ প্রতিষ্ঠা করন নিশ্চিত করা। সিনেমা হল হচ্ছে বেলেল্লাপনার যায়গা। এখানে সব বেশরিয়তি , বেদাতি সিনেমা দেখানো হয়ে থাকে।
আদালতে কেন হামলা চালানো হলো?
উত্তর খুজেন নিজের কাছে । আমাদের দেশের কোন বিচার ইছলামী মতে করা হয়?
কোন বিচার কি কোরান হাদিস মেনে করা হয়? এমন কোন বিচারই সম্ভবত নেই।
গনতন্ত্র বলে এক ধরনের তাগুদি আইনের আওতায় চলে দেশের বিচার ব্যাবস্থা। এটা ইছলামী আঈনের সাথে সাংঘর্ষিক। এমন কি যদি যদি কোন আইন ইছলামি আইনের সাথে মিলেও যায় তবুও সেটা গ্রহনযোগ্য হবে না ততক্ষন, যতক্ষন না উক্ত আইন কে শরিয়া সম্মত যে; এটা হাদিস, কোরান কিংবা ইছলামী রেফারেন্সের মাধ্যমে প্রমাণ করতে না পারছেন।
সেখানে বোমা হামলা চালানো এক ঈমানী দায়িত্ব। হামলায় যারা মারা গিয়েছিলেন তাদের স্থান হবে জাহান্নাম, এটাই একজন মুছলিম মনে প্রানে বিশ্বাস করে থাকেন। যদি এই হামলা চালাতে গিয়ে কেউ আত্মাহুতিও দেয় তাতেও সমস্যা নেই। কেননা এটা হচ্ছে জিহাদ। আর জিহাদের কেউ মারা গেলে ইছলামী শহীদি মর্যাদা পাবেন। পরকালের জন্য তার জন্য বরাদ্দ আছে ৭২ হুর সহ আরও সব আয়োজন যা এই দুনিয়ায় নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছিলো।

প্রয়াত পরিচালক তারেক মাসুদের মুভি রানওয়ে দেখেছেন অনেকেই নিশ্চয়ই। কম্পিউটার চালনা শিক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে সে অন্য এক মুছলিমের মাধ্যমে জানতে পারে ইন্টারনেটেই আছে আল্যা নবির গুনগানে ভরপুর অনেক কিছু। ছেলেটির আনন্দ আর ধরে না এসব দেখে দেখে। ছেলে মাদ্রাসা পড়ুয়া। কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে পরিচিত মুছলিম বন্ধুটির সাথে তালিমে গিয়ে জানতে পারে ইছলামী আঈন কানুন , নিয়ম নীতি আফগান যুদ্ধ ফেরত শিক্ষাগুরুর কাছ থেকে। মুভিতে সে শিক্ষক কাম প্রশিক্ষকের বক্তব্য শুনেছেন নিশ্চয়ই। কিভাবে জিহাদি প্রশিক্ষন দেয়া হয় দিনে সেটাও দেখানো হয়েছে।আবার সন্ধ্যায় কোরান থেকে আয়াত এনে বুঝানো হয়েছে জিহাদই হচ্ছে একমাত্র কাজ মুছলিমদের।
সুরা মায়েদায় আল্লা স্পষ্ট করে কি বলেছেন সেটা বলা হয়েছে এখানে সই আফগান ফেরত জঙ্গি। তাদের আসল প্রভাব কোথায় সেটাও দেখানো হয়েছে। হ্যাঁ, আমি বলতে চাইছি ঢাকা মানে বাংলাদেশ নয়। বাংলাদেশ কে বুঝতে, জানতে হলে গ্রাম কে বুঝতে হবে জানতে হবে। মুভিতে দেখানো হয়েছে কিশোর একজন মসজিদের ইমামের কাছে গিয়ে আল্যার পথে চলতে চাইবার জন্য পাথেয় সন্ধান করছে। তিনি কিশোরকে সঠিক পথটাই দেখিয়ে দেন। যার নাম জিহাদ।
অনেক হাদিস আছে যেখানে সবার আগে নবি মোহাম্মদ ইছলাম ধর্মে জিহাদ কে সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়েছেন। এমনকি যারা মুছলিম হয়েও জিহাদে অংশ নেননি তাদের ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দেবার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিশোর ছেলেটির একজন প্রেমিকা থাকে গার্মেন্টস কন্যা। বেশ কিছুদিন এমন ভাবে তালিম নেবার পরে সে যখন জানতে পারে ইছলামী আইন কানুন, তখন সে ঐ বেপর্দা মেয়ের সাথে কথা বলতেই অস্বীকৃতি জানায়। মেয়েটা হয়তো মনঃকষ্ট পায়। তাতে কি আসে যায়? ধর্মের বাইরে তো আর কথা চলতে পারেনা! ঘরে টেলিভিশন দেখতে দেয়না । এ’যে মুছলিমদের প্রকাশ্য শত্রু! গান বাজনা সম্পুর্ন বেদাতি কাজ। এই দেশে গরিব রিকশাওয়ালার পক্ষ নিয়ে ন্যায় নিতির কথা বললে কি করে আঘাত পেতে হয় নির্যাতন সহ্য করতে সেটাও যে পূর্বেই দেখিয়ে ফেলেছেন।
কিন্তু এই নির্যাতকও যে একজন মুছলিম এটা পরিচালক পরিষ্কার করেন নি।
সুতরাং একজন মুছলিমের একমাত্র আদর্শ কোরান ছাড়া তার আর কোন গতি থাকবে থাকতে পারেনা এটাই স্বাভাবিক।

ছেলেটির বাবা বিদেশে গেলেন কিন্তু এক প্রকার নিরুদ্দেশ। বেশ কিছু দিন হলো লাপাত্তা।
তখন আরবে মুছলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এই জিহাদ চলমান। মা ঋন নিয়ে গাভি কিনে সে দুধ বিক্রি করছেন ঋনের কিস্তি পরিশোধ করছেন যেটা ইছলামী আইন বিরোধী। কারন এখানে সুদ বলে ব্যাপার আছে।

শেষের দিকে ছবিটাকে ঘুরিয়ে ফেলা হয়েছিলো ।
জানিনা পরিচালক এমনটা কেন করেছিলেন। ছবিটিতে দেখানো হয়েছিল পরিবার মা বাবা এরাই আপনজন । আদতে কিন্তু এটা ভুল , “কারন আল্লার চেয়ে প্রিয় , নবির চেয়ে বড় আপন আর কেউ একজন মুছলিমের হতে পারেনা”। কাজেই ছেলেটির সে রাতে ডেরা থেকে পালিয়ে আসাটা ছিলো ইছলামি ভাষায় নাফারমানি। সে তৎক্ষণাৎ গাফেল হয়ে গিয়েছে। এই অপরাধে তার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া ছিল ছুন্নতী কাজ। পরিচালক এদিকে গেলেন না। হয়তো তারও মনে হয়েছিলো চাপাতির কোপ । আঘাত হানো পেছন থেকে গর্দানের দিকে। আয়াতটি স্মরনে ছিলো হয়তো। এদিকে টার্ন নিলেই ভালো হতো বলেই আমার মনে হয়। ছেলে জিহাদে অংশ গ্রহণ করছে । দেশে ইছলামি খেলাফতি আঈন তথা শরিয়াহ কায়েমের জন্য জীবন দিলো। মাঝপথে রেখে গেল তার বোন , বৃদ্ধ দাদা আর অসহায় মা কে। এসব আল্লা দেখবেন , সে ইছলামী শহীদি মর্যাদা পেত। দেশের মানুষ বুঝতে চোখের সামনে দেখতে পেত ইছলামি জিহাদ কারে কয়!
তবে এতদিনে বেচে থাকতে তিনি পারতেন না একথা চোখ বন্ধ করেই বলে দেয়া যায়। কারন এ ছবিটিতে চরম ধর্ম অবমাননা করা হয়েছে । এমনকি এই পরিচালককেও ৫৭ ধারায় গ্রফতার দেখানো যেতে পারে। চাপাতিওয়ালাদের দুর্ভাগ্য ওনাকে কোপাতে পারেন নি। আর তারেক মাসুদ দুর্ঘটনায় মরে গিয়েও সৌভাগ্যবান । দেশে এখন কোপাকুপির সংস্কৃতি চলছে, আসলে এটাই হবার কথা ছিলো। এটা চলমান প্রক্রিয়া। সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে নবি মোহাম্মদ এই গোড়া পত্তন করে গেছেন ।
এখন পর্যন্ত যতজন নাস্তিককে কোপানো হয়েছে সবাইকেই কোরান -সুন্নাহ মেনে হত্যা করা হয়েছে আল্লা ও মোহাম্মদের আদেশে।

আপনার স্রস্টা ও তার বার্তা বাহক আপনাকে যা আদেশ করেছেন সেগুলো আপনি তো করলেনই না উলটো নানা ধানাই পানাই কথাবার্তা বলছেন। আপনি নিস্বন্দেহে পথভ্রষ্ট, কাফের , অবিশ্বাসীর বন্ধু।
নবি মোহাম্মদ মুছলিমদের স্বপ্নে বিমোহিত করে দিয়ে গেছেন পরকালের।
যদি বলা হয় ইছলামের সাথে এই জঙ্গিবাদের কোন সম্পর্ক নেই, তবে বলতেই হবে মোহাম্মদের সাথেও ইছলামের কোন সম্পর্ক নেই।

এখানে যেসব হাদিস-কোরানের উদ্ধৃতি গুলো আমি উল্লেখ করেছি সেগুলোর কোনটিই কোথায় আছে আমি বলে দেইনি।
আমি জানি আমাদের মুছলিমরা ইছলাম সম্পর্কে দারুন জ্ঞ্যান রাখেন সুতরাং আগে তারা এসে বলুক যে পায় নাই। আর তাতেই নাস্তিক বন্ধুগন একটু হাসাহাসির সুযোগ পাবেন।
দয়াকরে কোন মুছলিম বলবেন না যে এই গুলা কোরানে আছে।
প্লিজ লাগে।

নারী হইলো আদি বস্তু সৃষ্টি যারে দিয়া
ভেদাভেদ করে যারা তারাই করে বিয়া
মাইয়া হইলো প্রেমের ভান্ড মাইয়া হইলো মা
মাইয়া না হইলে ভবে আমরা আইতাম না
সৃষ্টি করতে দুই জন লাগে নারী এবং নর
গো প্রেম রাখিও অন্তরের ভেতর

৭ thoughts on “চাপাতির সংস্কৃতি বনাম তারেক মাসুদ (রানওয়ে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *