এবারের পহেলা বৈশাখে কি হতে যাচ্ছে?

পহেলা বৈশাখকে অনৈসলামিক আখ্যা দিয়ে এই সংস্কৃতি পালনকারীদের নাস্তিক-মুরতাদ ঘোষণা করে বিষেদাগার চলছে অনেক বছর ধরে। এই উদযাপনে নাচ-গান, চারুকলার শিক্ষার্থীদের শিল্পকর্ম, আর মঙ্গল-প্রদীপ জ্বালানোর মতো “হিন্দুয়ানী” বিষয় অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠাই তাদের মাথাব্যথার কারণ।

গত কয়েক বছরে হুমকি-ধামকি দিয়ে উগ্রবাদী ইসলামী জাগরণের চেষ্টায় লিপ্ত হেফাজতীরা বাড়তি শক্তি সঞ্চয় করে অনলাইন-অফলাইনে (পিস টিভি, মসজিদ, ওয়াজ মাহফিলে) সারাবছর প্রচারণা চালাচ্ছে।


পহেলা বৈশাখকে অনৈসলামিক আখ্যা দিয়ে এই সংস্কৃতি পালনকারীদের নাস্তিক-মুরতাদ ঘোষণা করে বিষেদাগার চলছে অনেক বছর ধরে। এই উদযাপনে নাচ-গান, চারুকলার শিক্ষার্থীদের শিল্পকর্ম, আর মঙ্গল-প্রদীপ জ্বালানোর মতো “হিন্দুয়ানী” বিষয় অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠাই তাদের মাথাব্যথার কারণ।

গত কয়েক বছরে হুমকি-ধামকি দিয়ে উগ্রবাদী ইসলামী জাগরণের চেষ্টায় লিপ্ত হেফাজতীরা বাড়তি শক্তি সঞ্চয় করে অনলাইন-অফলাইনে (পিস টিভি, মসজিদ, ওয়াজ মাহফিলে) সারাবছর প্রচারণা চালাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বা হুজি সরাসরি আঘাত করেছে। ২০০১ সালে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মূল অনুষ্ঠান-স্থলে (রমনা বটমূলে) বোমা হামলা করে তারা। এই ঘটনায় ১০জন নিহত এবং ২৫-৩০জন আহত হন। সেই মামলায় আট জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হলেও অপপ্রচার থেমে নেই।

পহেলা বৈশাখ উৎসব উদযাপনও থেমে যায়নি।

বাংলাদেশে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করার সংগ্রামের সেনাপতি চরমোনাই পীর, মুফতি আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফরা এখনো প্রকাশ্যে হুংকার দিয়ে যাচ্ছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য কট্টরপন্থী বক্তব্যের মাধ্যমে নাশকতা উস্কে দিয়ে এদেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপন বন্ধ করা এবং মুসলিমদের এই উৎসবে যোগদান করা থেকে বিরত রাখা। লিংক-

গত বছরের ১৪ই এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মৎস ভবন এলাকায় প্রায় দুই ডজন নারী ও মেয়ে-শিশু যৌন হয়রানির শিকার হন। দায়ী ব্যক্তিদের অনেকেই সরকারি দলের কর্মী ও স্থানীয় নিয়মিত ছিনতাইকারী হলেও সেখানে শিবির, হিজবুত তাহরীর ও হেফাজত সমর্থকদের কয়েকটি গ্রুপ ছিল, যাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল উৎসবের ভিড় সম্পর্কে জনমনে আতংক সৃষ্টি করা। তাছাড়া যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করে মজা লস-এর ফেসবুক পেইজ থেকে ফ্যানদের আহবান জানানো হয়েছিল সবাই যেন এ বছর টিএসসি বয়কট করে। তারা কতটুকু সফল সেটা এবছর বুঝা যাবে।

সম্প্রতি সরকার পহেলা বৈশাখে একটি উৎসব ভাতা ঘোষণা করায় এই দিনটি আবার উগ্রপন্থী মুসলিমদের কুনজরে পড়লো। অন্যদিকে মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা সম্প্রতি অনেক বেড়েছে। তাছাড়া সরকারবিরোধীদের অনলাইন কর্মকাণ্ড (সাম্প্রদায়িক উস্কানি) দেখে মনে হচ্ছে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তারা এই উৎসবকে টার্গেট করে কিছু করতে চাইবে।

তাই এ বছর মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ বা মঙ্গল শোভাযাত্রায় বড় ধরণের হামলা হতে পারে।

যেহেতু ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নাশকতায় উস্কানীদাতাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিছু বলছে না এবং যেহেতু পুলিশ-গোয়েন্দা বাহিনীতে পিস টিভি-হেফাজতী-জঙ্গিদের অনেক সমর্থক আছে, সুতরাং এবারের পহেলা বৈশাখে গত বছরের চেয়ে বেশি কিছু যে হতে পারে তা মোটামুটি নিশ্চিত করে বলা যায়।

৮ thoughts on “এবারের পহেলা বৈশাখে কি হতে যাচ্ছে?

  1. এর মতন বদমাইশকে কেউ গ্রেফতার
    এর মতন বদমাইশকে কেউ গ্রেফতার করার সাহস পাবে না। এর মুখের ভাষা দেখলে বোঝা যায় কতো বড় বদমাইশ।

  2. এরা সরকারের আস্কারা পেয়ে
    এরা সরকারের আস্কারা পেয়ে দিনকে দিন প্রতিক্রিয়াশীলতার বিষ ছড়িয়ে দিচ্ছে সমাজে।

  3. হেফাজতীশয়তান ও আব্দুর
    হেফাজতীশয়তান ও আব্দুর রাজ্জাকের মতো হারামজাদারা নিপাত যাক।
    আপনাকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

  4. হাদিসে নবী বার বার বলেছেন :
    হাদিসে নবী বার বার বলেছেন : ছবি আঁকা ও দেখা এবং মুর্তি বানান ও দেখা – এসব হলো কঠিন গুনাহ, যার কোন মাফ নেই। হাশরের ময়দানে , এসব গুনাহকারীকে উক্ত ছবি বা মূর্তির মধ্যে প্রান দিতে বলবে আল্লাহ , আর তারা সেটা পারবে না। যতক্ষন পর্যন্ত সেটা না পারবে , ততক্ষন পর্যন্ত তাদেরকে দোজখের আগুনে পুড়তে হবে।

    এখন পয়লা বৈশাখে কি করা হয় ? এসব ছবি ও মূর্তি নিয়ে লাফালাফি করা হয়। নাচ গান বাজনা নিয়ে মেতে থাকে যা ইসলামে কঠিনভাবেই হারাম। বস্তুত: পয়লা বৈশাখ হলো একটা হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি। এমতাবস্থায়, সহিহ ও খাটি মুমিনরা কিভাবে পয়লা বৈশাখ পালন করতে পারে ? যারা এটা করবে , তারা মুনাফিক বা মুশরিকে পরিনত হয়ে যাবে।

    মজাও নেব , আমোদ ফূর্তি করব- আবার মুখে ইসলাম ইসলাম করব , সেটা তো হয় না।

    1. খুবই কৌশল করে মুসলিম
      খুবই কৌশল করে মুসলিম সন্তানদের মধ্যে ছবি আঁকা ও মুর্তি পুজার ভুত ঢোকানো হচ্ছে যাতে আবার তারা জাহেলিয়াতের যুগে ফিরে যায়।

      1. বাংলা ভাষার সৃষ্টির ইতিহাসটা
        বাংলা ভাষার সৃষ্টির ইতিহাসটা পড়া দরকার সবার । পড়তে গিয়ে যদি জানা যায় বাঙালী বা বাংলা ভাষা বলতে হিন্দু বোঝায় তবে তা সবাই ত্যাগ করতে পারবে ?

  5. বিষয়টা বেশ উদ্বেগজনক। গতবারের
    বিষয়টা বেশ উদ্বেগজনক। গতবারের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক তা কখনোই চাইব না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *