দৃষ্টিভঙ্গিতে নারী

বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টির চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
কথাটা মেনে নিতে কষ্ট হয়। কেননা ইতিহাস তা সমর্থন করে না। ইতিহাস পুরুষেরই জয়গান গেয়েছে। পুরুষের বীরত্বই স্থান পেয়েছে ইতিহাসে। নারী থেকেছে পুরুষের প্রেরণাদায়ীনি হয়ে, সম্মুখ সমরে কিংবা পুরুষের সহযাত্রী হিসেবে নয়। তাইতো কবি বলেছেন-
কোনদিন একা হয়নি’ক পুরুষের তরবারি
প্রেরণা যুগিয়েছে শক্তি যুগিয়েছে বিজয় লক্ষ্মী নারী
নারী পেছন থেকে আড়ালে থেকে প্রেরণা যুগিয়েছে। নারীকে সামনে আনা হয়নি। নারী বিপ্লবী হয়ে ওঠেনি, ওঠেনি সৈনিক হয়ে, কিংবা মানব মুক্তির অগ্রদূত হয়ে। নারী শুধু প্রেরণাদায়িনী।

বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টির চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
কথাটা মেনে নিতে কষ্ট হয়। কেননা ইতিহাস তা সমর্থন করে না। ইতিহাস পুরুষেরই জয়গান গেয়েছে। পুরুষের বীরত্বই স্থান পেয়েছে ইতিহাসে। নারী থেকেছে পুরুষের প্রেরণাদায়ীনি হয়ে, সম্মুখ সমরে কিংবা পুরুষের সহযাত্রী হিসেবে নয়। তাইতো কবি বলেছেন-
কোনদিন একা হয়নি’ক পুরুষের তরবারি
প্রেরণা যুগিয়েছে শক্তি যুগিয়েছে বিজয় লক্ষ্মী নারী
নারী পেছন থেকে আড়ালে থেকে প্রেরণা যুগিয়েছে। নারীকে সামনে আনা হয়নি। নারী বিপ্লবী হয়ে ওঠেনি, ওঠেনি সৈনিক হয়ে, কিংবা মানব মুক্তির অগ্রদূত হয়ে। নারী শুধু প্রেরণাদায়িনী।
তবু সাধুবাদ কাজী নজরুল ইসলামকে। তিনি অন্তত নারীকে ছোট করে দেখেননি। যেমন দেখেছেন বাংলা সাহিত্যের মোড়ল প্রেম (কাম) ও প্রকৃতির কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি নারীকে কবিতায় দেখেছেন দেবী রূপে আর গৃহে মানবী রূপে। যেমন মানসী কবিতায় কবি বলেছেন-
শুধু বিধাতার সৃষ্টি নহ তুমি নারী
পুরুষ গড়েছে তোরে সৌন্দর্য সঞ্চারি
আপন অন্তর হতে। বসি কবিগণ
সোনার উপমাসূত্রে বুনিছে বসন।
………………………………
………………………………
পড়েছে তোমার ‘পরে প্রদীপ্ত বাসনা
অর্ধেক মানবী তুমি অর্ধেক কল্পনা।
কবি নারীকে অপূর্ণাঙ্গ মনে করেছেন এ কবিতায়। নারীর সৌন্দর্যের জন্য নারী পুরুষের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ পুরুষ নারীকে যেভাবে চায় সেইভাবে তাকে সাজিয়ে নিতে পারবে। এখানে নারীকে পুরুষের ভোগ্য বস্তু হিসেবেই দেখানো হয়েছে। নারী যে আলাদা একটি সত্তা সেটি দেখানো হয়নি। রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা যায় না। তিনি নারী শিক্ষার ঘোর বিরোধী ছিলেন। তিনি চাননি নারী শিক্ষিত হোক। তিনি চেয়েছিলেন নারী ততটুকু শিক্ষিত হোক যতটুক শিক্ষিত হলে নারী তার কবিতা পড়বে। রবীন্দ্রনাথ তার কবিতা পাঠের জন্য কিছু শিক্ষিত অকর্মণ্য নারী চেয়েছিলেন। ( পড়ুন “রবীন্দ্রনাথের চোখে নারী”)
হুমায়ুন আজাদ স্যার তাঁর “রবীন্দ্রনাথের চোখে নারী” প্রবন্ধে বলেছেন, “ রবীন্দ্রনাথ নারীকে দেখতে পছন্দ করতেন স্বপ্নে ও ঘরে, নারী হয় স্বপ্নে থাকবে নইলে থাকবে ঘরে; বাস্তবে অন্য কোথাও থাকবে না”।
বাংলা সাহিত্যের “চিপায় পড়া” কবি ( যুগ সন্ধিক্ষণের কবি) ইশ্বর গুপ্ত “বাঙ্গালীর মেয়ে” কবিতায় লিখেছেন-
(এরা) এ বি পড়ে বিবি সেজে
বিলিতি বোল কবেই কবে!
(এরা) পর্দা তুলে ঘোমটা খুলে,
সেজে গুজে সভায় যাবে।
বাংলা সাহিত্যে নারীদের অসম্মান করার নজির অনেক আছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, তাঁরা কেউই নারীর মুক্তির কথা বলেননি। নারীকে উপদেশ দিয়েছেন কিভাবে পতিভক্ত স্ত্রী হওয়া যায়। কিভাবে ত্যাগ স্বীকার করে সংসার, সমাজ, ঘর টিকিয়ে রাখা যায়। তাঁদের লেখনীতে নারীর সত্তাকে তুচ্ছ করে পুরুষতন্ত্রের জয়গান গাওয়া হয়েছে। প্রভু থেকেছেন পুরুষ।

এটা গেল সাহিত্যের কথা। এবার বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে আসা যাক। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় নারী যে পুরুষের ভোগ্য বস্তু সেটি আরও বেশি প্রমানিত। বিজ্ঞাপনগুলোতে নারীদের পন্য করা হচ্ছে। নারীদের সুন্দর হতে বলা হচ্ছে। সুন্দর না হলে সে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না। নারীর চাকরি পাওয়ার জন্য তাঁর সৌন্দর্য একটা বড় নির্ধারক। সুন্দর হওয়ার জন্য প্রসাধনীর অভাব নেই।
সুন্দর হওয়ার নামে নারীকে শুকনা, স্লিম, কোমল, নরম এবং দুর্বল হতে বলা হচ্ছে। যাতে পুরুষ সহজেই ভোগ করতে পারে। নারী দুর্বল হলে তাকে সহজেই শাসন করা যায়। সেজন্য পুরুষতন্ত্র পেশিবহুল নারী চায় না, কোমল স্লিম ভঙ্গুর নারী চায়।
নারীর সৌন্দর্যের সংজ্ঞাতেও পরিবর্তন এসেছে। এখন সুন্দর নারী বলতে, যথা মাংস যথা স্থানে; ৩৬- ২৪-৩৬। আগে উপন্যাস কিংবা কবিতায় নারীর মুখ চোখ নাক চুল ইত্যাদির বর্ণনা করা হত। এখন নারীর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের বর্ণনা করা হয়। এত কিছুর মানে হচ্ছে নারীকে এখনো পুরুষের ভোগ্য বস্তু হিসেবে দেখা।

সৌন্দর্য চর্চা ছাড়াও নারীর অনেক কিছুই করার আছে। সুন্দর হয়ে রিসেপশনে বসার চেয়ে অন্য যেকোনো পেশা নারীর জন্য সম্মানজনক।
নারীর পথে পথে এখন পাথর ছড়ানো। তাকে এগিয়ে যেতে ডিঙিয়ে যেতে হবে পাহাড়সম বন্ধুর পথ। সেপথ নিশ্চয় সহজ নয়। কেননা পুরুষতন্ত্র বারবার সে পথকে পুঁজি করে রাখছে। নারীকে এগিয়ে যেতে হবে নারীর আপন প্রচেষ্টায়।
যাইহোক, আজকের এই নারী দিবসে কামনা করি- নারী বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এগিয়ে চলুক।

২ thoughts on “দৃষ্টিভঙ্গিতে নারী

  1. তবুও দৃষ্টিভঙ্গির অনেক
    তবুও দৃষ্টিভঙ্গির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আশা করা যায়, এভাবে চলতে থাকলে একদিন এর অবসান হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *