ইয়াজিদি ধর্মগ্রন্থ- মিশেফা রেশ, ‘কালো গ্রন্থ’- শেষ পর্ব

[চতুর্থ পর্বের পর…]


[চতুর্থ পর্বের পর…]

সাতজন ঈশ্বরের একজন তৈরি করেন জয়ঝান্ডা এবং সেগুলো জ্ঞানী শোলোমোনকে প্রদান করেন। তার মৃত্যুর পর আমাদের রাজারা সেগুলো গ্রহন করেন। এবং যখন আমাদের ঈশ্বর, অমার্জিত ইয়াজিদ জন্মগ্রহণ করেন, পবিত্র নিষ্ঠার সাথে তিনি জয়ঝান্ডাগুলো গ্রহন করেন এবং আমাদের অংশের নিকট সম্প্রদান করেন। উপরুন্তু, তিনি কুর্দি ভাষায় দুইটি গান বিন্যস্ত করেন যা জয়ঝান্ডা প্রদান অনুষ্ঠানে গাওয়া হয়; যেগুলো অতি প্রাচীন এবং সুগ্রহনযোগ্য। গানের মর্মার্থ হচ্ছে এই রকম- ঈর্ষান্বিত ঈশ্বরের প্রতি হালেলুইয়া।

যখন তারা এগুলো গাইবে, তারা জয়ঝান্ডার আগে যাবে খঞ্জনী এবং বাঁশি সহ। জয়ঝান্ডাগুলো আমাদের আমিরদের সাথে থাকবে, যারা বসে আছেন ইয়াজিদের সিংহাসনে। যখন এগুলো দেয়া হবে, কাওয়ালরা জড়ো হবে আমিরের সাথে, এবং মহান প্রধান, শেখের সাথে; যিনি শেখ নাসির-আদ-দিনের প্রতিনিধি; তিনিই নিসরোখ, প্রাচীন আশিরিয়ার দেবতা। তারা জয়ঝান্ডাগুলো পরিদর্শন করবে। তারপর তারা জয়ঝান্ডা প্রদান করবে, এটির নির্দিষ্টস্থানের একজন কাওয়ালের তত্ত্বাবধানে। একজন হালাতানিয়া’তে, একটি আলেপ্পোতে, একটি রাশিয়াতে এবং একটি সিনজারে। জয়ঝান্ডাগুলো চারজন কাওয়ালকে দেয়া হবে চুক্তির ভিত্তিতে। তাদের পাঠানোর পূর্বে, তাদের নিয়ে যাওয়া হবে শেখ আদির কবরে, যেখানে তাদের গ্রহণ করা হবে গান এবং নাচের দ্বারা। এরপর প্রত্যেক চুক্তিভুক্ত, শেখ আদির কবর থেকে নিয়ে নিবে ধূলার বোঝা। তারা এগুলো ছোটো বলের মতো করবে, প্রত্যেকটি বাদামের আকারে এবং এগুলো বহন করবে জয়ঝান্ডার পাশাপাশি; তাদের জন্য দেয়া হবে আশীর্বাদস্বরূপ। যখন সে কোনো শহরে পৌঁছাবে, সে তার পূর্বে একজন ক্রন্দনকারীকে পাঠাবে যেনো কাওয়াল এবং তার জয়ঝান্ডা শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে গ্রহণ করতে লোকজনকে প্রস্তুত করতে পারে। প্রত্যেকে উত্তম জামা পরিধান করে বাহিরে আসবে, বহন করবে ধূপ। মহিলারা চিৎকার করবে একসাথে গাইবে আনন্দপূর্ণ গান। কাওয়াল লোকজনের দ্বারা আপ্যায়িত হবে, সেখানে সে থামবে। বাকীরা তাকে প্রদান করবে রৌপ্যনির্মিত উপহার, প্রত্যেকে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী।

এই চারটি জয়ঝান্ডা ছাড়াও, আরও তিনটি আছে, সব মিলিয়ে সাত। ওই তিনটি পবিত্র স্থানে রাখা আছে সুস্থতার উদ্দেশ্যে। যাই হোক, তাদের মধ্যে দুইটি আছে শেখ আদির সাথে, এবং তৃতীয়টি আছে বাহাজানিয়ে গ্রামে, যা কিনা মসুল থেকে চার ঘণ্টার দূরত্বে। প্রতি চার মাস পরপর ওই কাওয়ালরা ভ্রমণ করবে। তাদের মধ্যে একজন অবশ্যই ভ্রমণ করবে আমিরের প্রদেশ। তারা ভ্রমণ করবে নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে, প্রত্যেক বছর আলাদা। প্রতিবার বেরিয়ে যাওয়ার আগে, ভ্রমণকারী অবশ্যই নিজেকে পরিষ্কার করে নিবে সুম্মাক দ্বারা তৈরি অম্লজল দ্বারা এবং নিজেকে লেপে নিবে তৈল দ্বারা। সে অবশ্যই কক্ষে থাকা প্রতিটি প্রতিমার সামনে বাতিদান করবে। এটাই হচ্ছে জয়ঝান্ডা অধিকারে থাকার বিষয়ে আইন।

আমাদের নতুন বছরের প্রথম দিনকে বলা হবে- সারস্লিয়ে অর্থাৎ বছরের শুরু। এটা আসবে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের বুধবারে। এই দিনে প্রত্যেক পরিবারে অবশ্যই থাকবে মাংস। ধনবানরা অবশ্যই হত্যা করবে ভেড়া অথবা ষাঁড়; গরীবেরা অবশ্যই হত্যা করবে মুরগী অথবে অন্য কিছু। ওইগুলো রান্না হবে রাতে, সকালটি বুধবার, নববর্ষের দিন। দিবসের বিরতির পর এই খাবার হবে আশীর্বাদপূর্ণ। বছরের প্রথম দিনে কবরগুলোতে ভিক্ষে দিতে হবে, যেখানে মৃতদের আত্মারা শুয়ে আছে।

এখন মেয়েরা, বড় এবং ছোট, ফুলের মাঠে একত্রিত হবে লাল রঙের প্রত্যেক জাতের ফুল সংগ্রহ করার জন্য। তারা এগুলো গুচ্ছাকারে তৈরি করবে এবং তারপর তিনদিন রেখে দিবে। তারা সেগুলো দরজায় ঝুলিয়ে রাখবে, ঘরের জীবিত লোকেদের ঈশ্বরে আনুগত্যের প্রতীক স্বরূপ। সকালবেলা সমস্ত দরজা লালপদ্ম দ্বারা সুসজ্জিত করা হবে। কিন্তু মহিলারা গরীব এবং দুস্থলোকেদের খাওয়াবে, যারা অতিক্রম করবে এবং যাদের খাবার নেই। কিন্তু কাওয়ালদের জন্য; তারা শেখের কবরের চারপাশে ঘুরবে, খঞ্জনী বাজাবে এবং কুর্দি ভাষায় গান গাইবে। এই রকম করার জন্য তারা অর্থগ্রহণে স্বত্ববান হবে। পূর্বোল্লিখিত সারস্লিয়ের দিনে আনন্দের কোনো বাদ্য বাজানো যাবে না। কারন ঈশ্বর তার সিংহাসনে বসে থাকেন এবং বৎসরের জন্য নিয়তি নির্ধারণ করেন। এবং সমস্ত জ্ঞানীদের নির্দেশ দেন তার নিকট আসার জন্য। এবং যখন তিনি তাদেরকে বলেন, তিনি সঙ্গীত এবং প্রার্থনার সাথে পৃথিবীতে আসতে চান; তারা জেগে উঠেন এবং তার উপর আনন্দ করেন এবং প্রত্যেকে এই উল্লাসের দিনে ভিড় করেন। তখন ঈশ্বর তার নিজস্ব সীল দিয়ে মতাদের মোহর এঁটে দেন। এবং মহান ঈশ্বর এই মোহরাঙ্কিত সিদ্ধান্ত, যে ঈশ্বর নিচে আসেন তার কাছে দেন। উপরন্তু, তিনি; তার নিজস্ব ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করার ক্ষমতা তাকে প্রদান করেন। অভুক্ত থাকা এবং প্রার্থনা করার চেয়ে ভাল কাজ করা এবং উদার দানশীলতাকে ঈশ্বর পছন্দ করেন। অভুক্ত থাকার চেয়ে উত্তম যেকোনো প্রতিমার আরাধনা করা; যেমন- সাজাদ-আদ-দিন অথবা শেখ শামস-আদ-দিনের। কিছু সাধারণ লোক চল্লিশ দিনের অভুক্তির শেষে একজন চাককে ভোজনোৎসবে আমন্ত্রন করে, সেটা গ্রীষ্মেই হোক বা শীতে। যদি সে চাক বলে, এই আতিথেয়তা ছিল জয়ঝান্ডার প্রতি ভিক্ষেস্বরূপ, সে তার অভুক্তি থেকে নিষ্কৃতি পাবে না। যখন এটা অতিবাহিত হবে, তখন বাৎসরিক খাজনাসংগ্রাহকরা তাকে খুঁজে পাবে এবং সে তার খাজনা পুরোপুরি পরিশোধ করে নি; তারা তাকে অসুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আঘাত করবে এবং কখনো মৃত্যু পর্যন্ত। জনগণ চাকদের অর্থ প্রদান করবে রোমান সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য, এবং এটাই এই অংশকে বৎসরের মানুষের ক্রোধ থেকে বাঁচাবে।

প্রত্যেক শুক্রবার প্রতিমার সামনে নৈবেদ্য হিসেবে উপহারের ডালা দিতে হবে। এই সময়, একজন সেবক কোনো চাকের বাড়ির ছাদ থেকে জনগণকে উচ্চস্বরে ডাকবে। বলবে, এটা দৈববাণী ঘোষণাকারীর পক্ষ থেকে ভোজনোৎসবের ডাক। সবাই ভক্তি এবং সম্মানের সাথে শুনবে, এবং এটা শোনার পর, প্রত্যেকে ভূমিতে এবং পাথরে চুম্বন করবে; যেটা সে করবে স্নেহ সহ।

এটা আমাদের আইন যে কোনো কাওয়াল তার চেহারায় ক্ষুর স্পর্শ করাবে না। বিবাহের ব্যাপারে আমাদের আইন এই যে, বিবাহের সময় একটি পাউরুটি নেয়া হবে কোনো চাকের বাড়ি থেকে এবং এটি বর এবং কনের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হবে; প্রত্যেকে অর্ধেক খাবে। যাই হোক, আশীর্বাদের রুটির পরিবর্তে তারা শেখ আদির কবরের ধূলাও খেতে পারবে। এপ্রিল মাসে বিবাহ নিষিদ্ধ, কারন এটি বছরের প্রথম মাস। যাই হোক, এই বিধান, কাওয়ালদের জন্য প্রযোজ্য নয়, তারা এই মাসে বিবাহ করতে পারবে। সাধারণ লোকেরা অনুমতি পাবেনা কোনো চাকের কন্যাকে বিবাহ করার জন্য। প্রত্যেকে তার নিজস্ব বর্ণ থেকে স্ত্রী বাছাই করবে। কিন্তু আমাদের আমির স্ত্রী বাছাই করতে পারবেন, যাকে তার পছন্দ হবে তাকে। একজন সাধারণ লোক বিবাহ করতে পারবে, দশ থেকে আশি বছর বয়স পর্যন্ত; সে একজন মহিলার পর আরেকজন মহিলাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে, এক বছরকাল ব্যবধানের পর। বরের বাড়ি যাত্রার প্রাক্কালে যতোগুলো প্রতিমাপূর্ণ মন্দির অতিক্রম করতে হয়, কনে তার সবগুলোই পরিদর্শন করবে; এমনকি সে যদি কোনো খ্রিস্টিয়ান গির্জাও অতিক্রম করে, সে অবশ্যই একই রকম পরিদর্শন করবে। বরের বাড়িতে পৌঁছানোর পর, বর অবশ্যই তাকে ছোটো কোনো পাথর দিয়ে আঘাত করবে, সে অবশ্যই তার কর্তৃত্বের অধীনে, এটা বোঝানোর জন্য। উপরন্তু, একটি পাউরুটি তার মাথার উপর ভাঙা হবে যেনো সে অবশ্যই গরীব এবং অভাবগ্রস্থদের ভালোবাসে। কোনো ইয়াজিদি রাতে তার স্ত্রীর সাথে ঘুমাতে পারবেনা, যার পরদিন বুধবার এবং যার পরদিন শুক্রবার। যে এই প্রত্যাদেশের সাথে সংঘাতপূর্ণ কোনো কাজ করবে, সেই ধর্মদ্রোহী। যদি কোনো ব্যক্তি চুরি করে নিয়ে যায়, তার প্রতিবেশীর স্ত্রী, অথবা তার সাবেক স্ত্রী, অথবা তার সাবেক স্ত্রীর বোন বা মা; সে পণ দিতে বাধিত হবে না। কারন সে তার হাতের লুণ্ঠিত বস্তু। কন্যারা পিতার সম্পদের উত্তরাধিকার হতে পারবে না। একজন যুবতী মেয়েকে বিক্রয় করা যেতে পারে, যেমন এক একর ভূমি বিক্রয় করা যায়। যদি সে বিবাহিত হতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে, তখন সে অবশ্যই তার নিজেকে মুক্ত করবে; তার এবং তার হাতের শ্রম থেকে উপার্জিত অর্থ, তার পিতাকে পরিশোধ করার মাধ্যমে।

সমাপ্ত।।

মিশেফা রেশ এর পাদটীকা

মালিক তাউস ইয়াজিদিদের সরবোচ্চ ঈশ্বরের নাম মালিক তাউস। ইয়াজিদিরা তার আরাধনা করে ময়ূররূপে। তার আরেক নাম আযাযেল। ইহুদী, খ্রিস্টিয়ান এবং মুসলিম লোককথা অনুযায়ী ঈশ্বরের নির্দেশ অমান্যকারী দেবদূত বা ফেরেশতার নাম আজাজিল। সে আদমকে পাপ করতে প্ররোচিত করে বিধায় ঈশ্বর তাকে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করেন। তারপর সে শয়তানের সাক্ষাৎ প্রকাশ হিসেবে মানবজাতিকে স্থায়ীভাবে পথভ্রষ্ট করার দ্বায়িত্ব নেয়। নামের মিল থাকায় ইহুদী, খ্রিস্টিয়ান এবং মুসলিমরা ইয়াজিদিদের শয়তানের উপাসক মনে করে। গবেষকদের মতে, আযাযেল শব্দের উৎপত্তি আরবি ‘আযিয’ এবং হিব্রু ‘এল’ শব্দের সমন্বয়ে। আযিয শব্দের অর্থ ‘ক্ষমতা ও গৌরব’ এবং এল শব্দের অর্থ ‘প্রভু’। অর্থাৎ প্রভুর ক্ষমতা ও গৌরব। তবে ইয়াজিদিরা সাধারণত ঈশ্বরকে আযাযেল বা মালিক তাউস কোনো নামেই ডাকতে চায় না। তারা ঈশ্বরের উপর কোনো গুণ ও আরোপ করতে চায় না। ঈশ্বরকে তারা মালিক বা প্রভু ডাকে।

শেখ আদি বিন মুসাফির ইয়াজিদি ধর্মের প্রবক্তা। জন্ম ৪৬৭ হিজরি সন মোতাবেক ১০৭২ যিশুসনে বর্তমান লেবাননের বেক্কা উপত্যকায়। মৃত্যু ৫৫৭ হিজরি সন মোতাবেক ১১৬২ যিশুসনে। জীবনের অধিকাংশ সময় বাগদাদে অতিবাহিত করেন। সূফিবাদে একনিষ্ঠ এই সাধক হাসান আল বসরি, আব্দুল কাদের জিলানি, মনসুর আল হাল্লাজ, ইমাম আল গাজ্জালি প্রমুখ সূফি দ্বারা প্রভাবিত হন এবং জীবনের শেষ সময়ে কুর্দিস্তানের লালিশ পর্বতে বাস করতে থাকেন এবং এখানেই মৃত্যুবরণ করেন। এখনও তার কবর সেখানে আছে এবং ইয়াজিদিদের মতে শেখ আদির কবর পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র জায়গা, শেখ আদির কবরের মাটি পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র মাটি। ইয়াজিদিরা তাকে মালিক তাউসের পুনর্জন্ম বলে মনে করে।

লালিশ পর্বত ইরাকের কুর্দিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত পর্বতশ্রেণী। ইয়াজিদিদের মূল আবাসস্থল এই পর্বতশ্রেণীর আশপাশ জুড়েই। ইয়াজিদিদের নিকট এই পাহাড় পবিত্র। এর অপর নাম কালো পাহাড়।

শেথ কোরআন অনুযায়ী আদমের অন্যতম পুত্র হযরত শীষ।

নোয়াহ কোরআন অনুযায়ী হযরত নুহ।

এনোখ বাইবেল অনুযায়ী হনোক, কোরআন অনুযায়ী হযরত ইদ্রিস।

নিসরোখ প্রাচীন আশিরিয়ার কৃষি দেবতা।

কামুশ প্রাচীন মিশরীয় ফারাও। তিনি সপ্তদশ রাজবংশের শেষ ফারাও। তার রাজত্বকাল ১৫৫৫ থেকে ১৫৫০ যিশুপূর্বসন।

শাপুর, প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রাচীন ইরানের দুইজন সাসানিয় সম্রাট। প্রথমজন আরদাশির পুত্র শাপুর, রাজত্বকাল ২৪০ থেকে ২৭০ যিশুসন। দ্বিতীয়জন আদুর নার্সেহ পুত্র শাপুর, রাজত্বকাল ৩০৯ থেকে ৩৭০ যিশুসন।

আরতামিস প্রাচীন গ্রীক দেবী আরতেমিস। তিনি কুমারীত্ব, শিশুজন্ম, বন্যতা, বন্যপ্রাণী এবং শিকারের দেবী।

আহাব প্রাচীন ইসরায়েল রাজ্যের সপ্তম রাজা। রাজত্বকাল ৮৮৫ থেকে ৮৫০ যিশুপূর্বসন।

বেলজেবাব ইহুদী ঐতিহ্য অনুযায়ী শয়তানের অপর নাম। ক্যাথলিক খ্রিস্টিয়ান ঐতিহ্য অনুযায়ী নরকের সাত যুবরাজের একজন। ইয়াজিদিদের নিকট পির বাব বলে পরিচিত।

এগ্রিকুলাস গ্নেউস জুলিয়াস এগ্রিকুলাস, রোমান সেনাপতি। জন্ম- ৪০ যিশুসন, মৃত্যু- ৯৩ যিশুসন।

কনস্ট্যান্টিপোল ঐতিহ্যবাহী শহর। বর্তমানে ইস্তানবুল নামে তুরস্কের বৃহত্তম শহর। প্রাচীন পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য এবং অটোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী। শহর হিসেবে গোড়াপত্তন হয় ৩৩০ যিশুসনে।

বাখত নাসের ব্যবিলনের ক্যালডিয় সম্রাট, নেবুখাদ নেজার। রাজত্বকাল ৬০৫ থেকে ৫৬২ যিশুপূর্বসন।

আহুর পারসিক ধর্মের সরবোচ্চ ঈশ্বর আহুর মাজদা। প্রাক-ইসলাম যুগে প্রাচীন ইরানের রাজধর্ম ছিলো পারসিক ধর্ম।

নওমি ইয়াজিদি ধর্মমতে নোয়াহ (নুহ) এর চতুর্থ সন্তান, হাম, শাম, যাফেথ এর পাশাপাশি। গবেষকদের মতে শাম বা যাফেথ এর অন্য নাম। ইয়াজিদিরা তাকে ডাকে মালিক মিরন অর্থাৎ মির দের রাজা।

হাম নোয়াহের অবাধ্য পুত্র।

মসুল বর্তমান ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর।

আইন সিফনি ইয়াযিদি অধুষ্যিত জেলা। বর্তমানে ইরাকের কুর্দিস্তানের দহুক প্রদেশের অন্তর্গত।

সিনজার পর্বত সিনজার জেলায় অবস্থিত পর্বত। ইয়াজিদিদের নিকট পবিত্র।

পারাসাং প্রাচীন ইরানীয় দুরুত্ব পরিমাপের একক। বর্তমানে ফারসি ভাষায় এর অপভ্রংশ ফারসাখ। ১ পারাসাং = ১০ কি. মি. প্রায়।

জুদি পর্বত তুর্কী কুর্দিস্তানের শিরনাক প্রদেশে অবস্থিত পর্বতশ্রেণী। নোয়াহের জাহাজ এই পর্বতে এসে থেমেছিলো বলে, বাইবেল এবং কোরআনের বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়। ইয়াজিদিদের দ্বিতীয় জলযানটিও এই পর্বতে এসে থেমেছিলো বলে ইয়াজিদি জনশ্রুতি আছে।

সিনজার ইরাকের নিনেভে প্রদেশে অবস্থিত ইয়াজিদি অধুষ্যিত জেলা।

আলেপ্পো বর্তমান সিরিয়ার সবচেয়ে জনবহুল শহর। আলেপ্পো প্রদেশের রাজধানী।

সুম্মাক আরবি শব্দ। আক্ষরিক অর্থ- লাল। তবে ৩৫ টি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদকে একত্রে সুম্মাক বলা হয়। তেল, সুগন্ধী, ঔষধ এবং রঙ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। মূলত মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় উৎপাদিত হয়।

বাহাজানিয়ে গ্রাম বর্তমানে বাহজানি শহর। ইরাকের নিনেভে প্রদেশে অবস্থিত।

হালাতানিয়ে বর্তমানে হালাতিয়া নামে তুরস্কের দিয়ারবাকির প্রদেশে অবস্থিত শহর।

সারস্লিয়ে অর্থাৎ বছরের প্রথম দিন।

ইয়াজিদ ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়া। উমাইয়া রাজবংশের দ্বিতীয় খলিফা। রাজত্বকাল ৬৮০ থেকে ৬৮৩ যিশুসন।

মুয়াবিয়া মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান। উমাইয়া রাজবংশের প্রথম খলিফা। রাজত্বকাল ৬৬১ থেকে ৬৮০ যিশুসন।

ইশমাইলিয় ইব্রাহিম পুত্র ইশমাইল এর বংশধর।

শাহিদ বিন জের ইয়াজিদি লোককথা অনুযায়ী আদমের অন্যতম সন্তান। কুর্দি ‘জের’ শব্দের অর্থ পাত্র। অর্থাৎ আদমের যে সন্তানকে পাত্রে পাওয়া গিয়েছিলো। ইয়াজিদিদের মতে আদম পুত্র শাহিদ বিন জের থেকে ইয়াজিদি বংশের সূত্রপাত।

কাওয়াল ইয়াজিদি বর্ণ

চাক ইয়াজিদি বর্ণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *