বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হবে আযান,নামায,এবং উচ্ছেদ হবে মসজিদ ,কেন্দ্রীয় মসজিদ হবে জাদুঘর

সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ‘ইসলাম’ তুলে দেওয়া এবং
বাংলাদেশের ভবিষ্যত পরিণতি
গত কয়েকদিন যাবত খবর আসছে, বাংলাদেশের
সংবিধান থেকে নাকি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তুলে দেওয়া
হতে পারে। এ কারণে ২৮ বছর আগে সুপ্রীম
কোর্টে দায়েরকৃত একটি আবেদন পুনরায়
তোলা হয়েছে এবং আগামী ২৭ মার্চ শুনানীর
মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা আসতে পারে
বলে অনেকে মনে করছেন।
অনেকেই হয়ত এখন বুঝতে পারছেন না, সংবিধান
থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তুলে দেওয়া হলে কি
পরিণতি ঘটতে পারে বাংলাদেশের। এ বিষয়টি বুঝতে
হলে আপনাকে তুরষ্কের ইতিহাস সম্পর্কে জানা
প্রয়োজন। তুরষ্কে আগে ইসলামী খিলাফত
ব্যবস্থা। তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর সেটা তুলে

সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ‘ইসলাম’ তুলে দেওয়া এবং
বাংলাদেশের ভবিষ্যত পরিণতি
গত কয়েকদিন যাবত খবর আসছে, বাংলাদেশের
সংবিধান থেকে নাকি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তুলে দেওয়া
হতে পারে। এ কারণে ২৮ বছর আগে সুপ্রীম
কোর্টে দায়েরকৃত একটি আবেদন পুনরায়
তোলা হয়েছে এবং আগামী ২৭ মার্চ শুনানীর
মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা আসতে পারে
বলে অনেকে মনে করছেন।
অনেকেই হয়ত এখন বুঝতে পারছেন না, সংবিধান
থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তুলে দেওয়া হলে কি
পরিণতি ঘটতে পারে বাংলাদেশের। এ বিষয়টি বুঝতে
হলে আপনাকে তুরষ্কের ইতিহাস সম্পর্কে জানা
প্রয়োজন। তুরষ্কে আগে ইসলামী খিলাফত
ব্যবস্থা। তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর সেটা তুলে
দেওয়া হয়। সে সময় কামাল আতাতুর্ক তুর্কী
প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে, এবং ইসলামের বদলে
একটি সেক্যুলার সিস্টেম চালু করে। কামাল আতাতুর্ক
১৯২৮ সালের ১০ এপ্রিল তুর্কী সংবিধান হতে ধর্ম
সংক্রান্ত সব কথাই বাদ দিয়ে দেয়। ফলে ইসলাম
আর তুরস্কের রাষ্ট্রধর্ম থাকে না। প্রতিষ্ঠা হয়
ধর্ম নিরপেক্ষ তুরষ্কের।
তুর্কী সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ‘ইসলাম’ তুলে
দেয়ার পর কি কি ঘটেছিলো আসুন দেখি-
১) শিশুদের ইসলামী শিক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়।
২) ধর্ম মন্ত্রণালয়, মাদরাসা-মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া
হয় এবং হজ্জ-ওমরা যাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়।
৩) বড় বড় মসজিদগুলোতে নামায বন্ধ করে দিয়ে
সেগুলোকে জাদুঘর হিসেবে উন্মুক্ত করে
দেওয়া হয়। তুরস্কের সর্ববৃহৎ মসজিদ ‘আয়া
ছুফিয়া’কে রূপান্তরিত করেছিলেন সরকারি জাদুঘরে।
৪) নারীদের জন্য হিজাব পরিধান বন্ধ করে দেওয়া
হয়। সরকারি নির্দেশে তুর্কী পুলিশ রাস্তায় বের
হওয়া মুসলিম মহিলাদের ওড়না কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে
ফেলত।
৫) আরবী অক্ষরের ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়।
আরবীতে কুরআন পড়া, নামাজ পড়া ও আজান
দেওয়া নিষিদ্ধ হয়।
৬) তুর্কী ভাষা আরবী হরফে না লিখে ল্যাটিন
হরফে লিখতে হতো।
৭) সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে রবিবারকে নির্ধারণ করা
হয়।
৮) তুরস্কবাসীকে ভিন্ন ধরণের পোষাক পরতে
বাধ্য করা হয়।
৮) মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদকে বর্জনীয়
ঘোষনা করা হয়।
৯) তুরস্কের অধীন আজারবাইজানকে রাশিয়ার
কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
১০) বক্তৃতা এবং বিবৃতিতে নিয়মিত ইসলাম ও ইসলামী
পরিভাষাসমূহ নিয়ে মিথ্যাচার ও কুৎসা রটনা করে
সেগুলো বর্জনের প্রতি সবাইকে আদেশ-
নিষেধ করা হয়।
১১) সরকারী লোকদের জামাতে নামায পড়া নিষিদ্ধ
হয়।
১২) ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী সালাম দেওয়াও নিষিদ্ধ
করা হয় । এর পরিবর্তে সুপ্রভাত (Good Morning)
বিদায় (Good Bye) ও হ্যান্ডশেক রেওয়াজ প্রবর্তিত
হয়।
১৩) ইমাম-মুফতীদের পাগড়ি ও জুব্বা পরা নিষিদ্ধ করা
হয়।
১৪) হিজরী সন উঠিয়ে দিয়ে ইংরেজী সন চালু
করা হয়
১৬) আরবী ভাষায় নাম রাখা নিষিদ্ধ হয়। এর বদলে
তুর্কী ভাষায় বাধ্যতামূলক নাম রাখতে হয়।
১৭) আলেমদের প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙ্গে দেয়া
হয় এবং আলেমদেরকে প্রজতন্ত্রে শত্রু
হিসিবে চিহ্নিত করা হয়। কোন আলেম তার
বিরুদ্ধাচরণ করলে তাকে সাথে হত্যা করা হয়। এছাড়া
ওয়াকফ সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে আলেমদের
অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করা হয়।
এখানে লক্ষণীয় যে, এ ঘটনাগুলো হচ্ছে আজ
থেকে প্রায় ৯০ বছর আগে এবং তা করা
হয়েছিলো উছমানিয় খেলাফত বন্ধ করার পর।
বলাবাহুল্য সে সময় মানুষের মধ্যে জোর
ইসলামী চেতনা দৃঢ় থাকার পরও এতটা এগ্রেসিভ
হতে পেরেছিলো কামাল আতার্তুক। কিন্তু এখন
তো বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় চেতনা
অনেকটাই দুর্বল। তার উপর কামাল আতার্তুক সে
সময় যা যা করেছে তার অনেকগুলোই ইতিমধ্যে
বাংলাদেশে জারি করা হয়েছে বা চেষ্টা চলছে।
তবে শুধু সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম দেখে
পুরোপুরি আইনত জারি করা যাচ্ছে না। কিন্তু সংবিধান
থেকে রাষ্ট্র ইসলাম তুলে দেওয়ার সাথে সাথে
কামাল আতাতুর্ক কেন, তার থেকে বহুগুন
কঠিনভাবে বাংলাদেশ থেকে নির্মূল করা হবে
ইসলাম ধর্মকে, এটা বলা যায় নিশ্চিত।
আমার মনে হয়, এ ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষের
সতর্ক হওয়া জরুরী । কারণ আর মাত্র ২০ দিন পরেই
সুপ্রীম কোর্টে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘ইসলাম ধর্ম’
তুলে দেওয়া সংক্রান্ত চূড়ান্ত শুনানী। আর একবার
যদি আইন জারি হয়ে যায়, তবে তা পরিবর্তন করা সহজ
নয়।
সত্যিই আজ বাংলাদেশের আকাশের ঘনকালো
মেঘের ঘনঘটা, মনে হচ্ছে বালাদেশের
মুসলমানদের জন্য শিঘ্রই বড় কোন দুর্যোগ
আসছে, দেখা যাক কি হয়।

৭ thoughts on “বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হবে আযান,নামায,এবং উচ্ছেদ হবে মসজিদ ,কেন্দ্রীয় মসজিদ হবে জাদুঘর

  1. আপনারা নিজেরাই তো বলেন ধর্ম
    আপনারা নিজেরাই তো বলেন ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাই যদি হয় রাষ্ট্রের আবার ধর্ম আছে নাকি ?

    1. ভাষা ও তো মানুষের ব্যক্তিগত
      ভাষা ও তো মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার।রাষ্ট্রের আবার ভাষা এলো কি করে? রাষ্ট্র কি আগে ভোবা আছিল?

  2. বাংলাদেশে যখন রাষ্ট্র ধর্ম
    বাংলাদেশে যখন রাষ্ট্র ধর্ম ছিলো না তখন কি মানুষ ধর্ম পালন করে নি? রাষ্ট্র কখনোই কোন একটি ধর্মকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না

  3. আপনার অ্যানালজি অনুযায়ী
    আপনার অ্যানালজি অনুযায়ী মানেটা দাঁড়ায় যখন কোন দেশের রাষ্ট্রধর্ম থাকে সেই দেশে রাষ্ট্র ধর্ম বাদে অন্য ধর্মের অনুসারীদের ধর্ম পালন করতে দেয়া হয়না। কিন্তু বাস্তবটা কি এরকম? যদিও আপনাদের মতন মানুষেরা বহুদিন ধরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কোপাকুপি করে আসছেন, এখনো করতেসেন, কিন্তু রাষ্টীয় পর্যায়ে এরকম কোন আইন কি আছে যে এই দেশে মুছলমান ছাড়া আর কোন ধর্ম সম্প্রদায়ের উপাসনালয় রাখা যাবেনা? আপনারা গত ত্রিশ বছর কুপায়েও এইটা প্রতিষ্ঠা করতে পারসেন? যদি সেরকম না হয় তাহলে রাষ্ট্র থেকে ইছলাম পৃথক করলে মসজিদ জাদুঘর হয়ে যাবে আর ছাইদীবাবাকে চাঁদে দেখা যায় এই দুইটা প্রোপাগান্ডারর মধ্যে আসলে খুব বেশী পার্থক্য নাই। এগুলা বাঁশের কেল্লা বা রেডিও মুন্নার পাবলিকে খাইতে পারে, এইখানে খুব বেশী কল্কে পাবেনা।

    আর আপনি মুছলমান হলেও ব্যাক্তিগতভাবে অসৎ এজকজন মানুষ। ধর্ম থেকে রাষ্ট্র পৃথক করলে কি হয় আর না করলে কি হয় সেটাই যদি আপনার জানানোর উদ্দেশ্য হত তাহলে এরকম সবগুলা রাষ্ট্র আপনার হিসাবে আসতো। পৃথিবীতে ধর্মভিত্তিক যতগুলা রাষ্ট্র আছে, (ফাকিস্তান, চৌদি তো আছেই, এমনকি ইসরাইল সহ) তারা প্রত্যেকেই তাদের নাগরিকদের উপর চরমতম অত্যাচার চালায়। সেগুলা কিছুই আপনার লেখায় নাই। ছেকুলার দেশে মানুষ ধর্ম পালন করতে পারে কিনা, সেটাও আপনার লেখায় নাই। এইরকম অসততা দিয়ে চোর বাটপারের মন জয় করা যেতে পারে, দুনিয়াবী অনেক উদ্দেশ্য হাসিল হতে পারে, কিন্তু আল্লার কতটুকু নৈকট্য পাওয়া যাবে সেই ব্যাপারে সন্দেহ আছে।

  4. লেখক কিন্তু খুব একটা খারাপ কন
    লেখক কিন্তু খুব একটা খারাপ কন নাই কথাডা। নিজে নাস্তিক হইলেও প্রব্লেমডা বুঝবার পারছি। ধরেন রাষ্ট্রধর্ম হিসাবে ইসলাম রে বাদ দিয়া দিল। তারপর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হইতে ত একটু সময় লাগব, তাই না? তা ধরেন, আরও কয়েক বছর লাগল সেইটার প্রতিক্রিয়া হইতে। তা একবার যখন আরম্ভ হইব, তখন ত অন্য ধর্মের আবাল গুলা ‘মার মার কাট কাট’ কইরা ঝাপাইয়া পরব, নাকি? (ধর্মীও আবাল গুলা ত সব ধর্মেই সমান, নাকি? আর এদের ১ নাম্বার শত্রু হইল নাস্তিক, ২ নাম্বার শত্রু হইল অন্য ধর্মাবলম্বী, ঠিক কইলাম?)

    জটিল ভাষায় কইতে পারুম না, তয় সোজা বাংলায় যা বুঝি, তা হইলঃ

    ‘মার মার কাট কাট’ আরম্ভ এর কারন হইব কয়েকটা ইস্যু,
    ১। হিন্দুদের ঘরবাড়ি ভাংছিল মুসলমান (যখন রাষ্ট্রধর্ম আছিল এসলাম)
    ২। খ্রীস্টান গো অত্যাচার করছিল মুসলমান। খ্রীস্টান পুরুত রে মাইরা ফেলছিল মুসলমান (যখন রাষ্ট্রধর্ম সিল এসলাম)
    ৩। আরও যত সংখ্যালঘু দের উপর অত্যাচার করছিল মুসলমান (যখন রাষ্ট্রধর্ম সিল এসলাম)

    অতএব এইবার প্রতিশোধের পালা। এইটাই হইল চিন্তার বিষয়! লেখক মনে হয় এই ব্যাপার টাও ইঙ্গিত করছেন কিছুটা যা বুঝতে পারলাম । ভুল কইলে ধরাইয়া দিয়েন ।

    তয় নাস্তিক যারা আছি, তাগো জন্যও আছে আরেক বিপদ। ধরেন, নাম ত বদলাইতে পারুম না, জন্মসুত্রে পাওয়া নাম হইতে পারে ‘মুহাম্মদ’, ‘আহাম্মদ’, ‘লাদেন’, ‘ওমর খৈয়াম’, ‘রহিম করিম সলিম’ (মোরা বানাই বাংলা ফিলিম) … ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি । তো যাই হোক, কোপানোর আগে (in the worst case situation) তো আর জিগাইব না যে আমি নাস্তিক নাকি ‘মচলমান’। যদি তালিকা ধইরা ধইরা খতম করার প্লান করে, তাইলে ত সেইখানে নামটাই উঠবো, আর নাম যদি ‘মচলমান’, তাইলেই ত ধরা । পুরাই শ্যাশ । ( কোপানি পার্টি ত আর জিগাইব না whether I was born to the family of Muslim. নামে মুসলিম, অতএব ‘মচলমান’। নিজের বিবেকবুদ্ধি প্রয়োগ কইরা যে পরে ধর্ম ত্যাগ করছি, হেইডা তারা consider করব না ।)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *