অধিকার , মর্যাদায় নারী পুরুষ সমানে সমান ; রাষ্ট্রযন্ত্রের রাষ্ট্রীয় ভন্ডামি ।

আতংকিত হয়ে পরছি দিনকে দিন । না নিজেকে নিয়ে নয় , রাষ্ট্রযন্ত্র নিয়ে । রাষ্ট্রযন্ত্র যেভাবে গলা চেঁচিয়ে ঘোষনা করছে নারী অধিকার নিশ্চিত করে যাচ্ছে তাতে আতংকিত হচ্ছি এই ভেবে যে , রাষ্ট্রে যদি সত্যিই নারীদের অধিকার নিশ্চিত হয়ে থাকে তবে নারী নিপীড়নকে কি করে রাষ্ট্রের পুলিশ দুষ্টুমি আখ্যা দিয়ে বৈধতার সার্টিফিকেট দিচ্ছে ?


আতংকিত হয়ে পরছি দিনকে দিন । না নিজেকে নিয়ে নয় , রাষ্ট্রযন্ত্র নিয়ে । রাষ্ট্রযন্ত্র যেভাবে গলা চেঁচিয়ে ঘোষনা করছে নারী অধিকার নিশ্চিত করে যাচ্ছে তাতে আতংকিত হচ্ছি এই ভেবে যে , রাষ্ট্রে যদি সত্যিই নারীদের অধিকার নিশ্চিত হয়ে থাকে তবে নারী নিপীড়নকে কি করে রাষ্ট্রের পুলিশ দুষ্টুমি আখ্যা দিয়ে বৈধতার সার্টিফিকেট দিচ্ছে ?

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস । এই নারী দিবস পালনের পিছনে রয়েছে নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস । ১৮৫৮ সালে মজুরির বৈষম্য দূর করা , কর্ম ঘন্টা নির্দিষ্ট করা , কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায় । প্রতিবাদী নারী শ্রমিকদের দমনপীড়ন চালায় রাষ্ট্রের সরকারী বাহিনী । এরপর ১৯০৮ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্কের সোস্যাল ডেমোক্র্যাট নামক নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত হয় এক নারী সমাবেশ । সমাবেশে জার্মানির সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয় । সেই থেকে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস রূপে পালিত হয়ে আসছে ।

বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে বাঙলাদেশেও আয়োজিত হয়ে আসছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস । তার ধারাবাহিকতায় এ বছরও আয়োজিত হতে যাচ্ছে নারী দিবস । এবছর নারী দিবসে প্রতিপাদ্য বিষয় ‘অধিকার , মর্যাদায় নারী-পুরুষ সমানে সমান’ । প্রতিপাদ্য বিষয় সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য । কিন্তু সে সাধুবাদ বাস্তবিক ভাবে পাওয়ার যোগ্য নয় । কেননা নারী পুরুষ সমানে সমান কথাটি বাঙলাদেশে অনেকটাই অবাঞ্ছিত ।

রাষ্ট্রযন্ত্রের হর্তাকর্তা বিশেষ করে নারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুলি কপচিয়ে থাকেন যে , তার আওয়ামী সরকার নারী বান্ধব সরকার । তার সরকার ক্ষমতায় থাকলে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা পায় । আচ্ছা , গত বছরের পহেলা বৈশাখের কথা মনে আছে আপনাদের ? কি ঘটনা ঘটেছিল সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ? বিবেকবান সকলের মনে থাকবার কথা । আচ্ছা , যারা সেই পহেলা বৈশাখে নারী নিপীড়নের সাথে জড়িত ছিল তাদের কি আইনের আওতায় আনা হয়েছে নাকি পুলিশের মহা পরিদর্শকের দেয়া দুষ্টুমি তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে দুষ্টুদের আরও দুষ্টুমি করবার সুযোগ দেয়া হয়েছে ?

গোটা কয়েক নারী প্রধানমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রী বা আইনজীবি বা ডাক্তার কিংবা ইত্যাদি ইত্যাদি হলেই রাষ্ট্রযন্ত্র গোটা নারীদের অধিকার নিশ্চিত করে ফেলে না । একজন নারী যদিও তার যোগ্যতা দিয়ে ধর্মের বাঁধ ভেঙে নিজ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে নিরন্তন লড়াই করে যায় তার জন্যেও আমরা রাষ্ট্রযন্ত্রকে বাহবা দিতে পারি না । কেননা রাষ্ট্রযন্ত্র ধর্মের ধুতি দিয়ে মুখ লুকিয়ে রাখে । ধর্মের কের্তন করে রাষ্ট্রযন্ত্রও নারীকে করে তুলে টকটকে লালা ঝরা তেতুল । কিংবা কখনও নারীকে করে তুলে পুরুষের বিছানা আরামদায়ক করার সামগ্রীতে ।

বাঙলাদেশে নারীর অধিকার কবে প্রতিষ্ঠিত হবে তা জানি না কিন্তু এটা জানি রাষ্ট্রযন্ত্র অধিকার প্রতিষ্ঠা করবা পরিবেশ না করে দিলেও পুরুষতন্ত্রের প্রতিনিধি হয়ে নারীকে করে তুলতে পারে পুরুষের যৌন ক্ষুধা মিটাবার ভোগ্যপণ্য । গত বছর যখন পহেলা বৈশাখে নারী নিপীড়ন হয়েছিল এবং রাষ্ট্রযন্ত্র নির্লজ্জ ভাবে নিপীড়কদের পক্ষ নিয়ে নারী নিপীড়নকে দুষ্টুমি আখ্যা দিয়েছিল তখন ফেসবুকে একটা পোষ্ট করেছিলাম । পোষ্টটি ছিল এরকম , ‘বাঙলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নারী , সংসদের স্পীকার নারী , বিরোধী নেত্রী নারী তবুও আজ নারীরা লাঞ্ছিত-অত্যাচারিত । এরা কি নারী নাকি নারী রূপে পুরুষতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার প্রতিনিধি’ ? আজকেও সেই একই কথা বলব , বাঙলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রের বড়বড় হর্তাকর্তা নারী তবুও আজ নারীরা লাঞ্ছিত , ধর্মের ঢেঁকুর তোলা কাঁঠমোল্লাদের তেতুল । এত কিছুর পরেও যখন হর্তাকর্তারা নিপীড়কদের পক্ষে সাঁফাই খাইছেন তখন চোখ বন্ধ করেই বলা যেতে পারে নারী রূপ নিয়ে এরা নারীকেই করে তুলছে পুরুষের ভোগ্যপণ্যে ।

ফেসবুকে মাত্র দুটি পাবলিক আইডিতে আমাদের পুরুষদের করা মন্তব্য দেখলেই বুঝা যায় রাষ্ট্রযন্ত্র নারীকে কতটা মর্যাদা দিয়ে । গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী “শাম্মী হক” এবং “লাকি আক্তারের” প্রোফাইল পোষ্টে করা মন্তব্য দেখলেই বলে দেয়া যায় গোটা দেশে নারীদের কতটা মর্যাদা । একটি বিকারগ্রস্থ জাতি কখনও নারীকে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে পারে না যতক্ষন না ঐ জাতির রাষ্ট্রযন্ত্র নারীকে প্রাপ্য মর্যাদা দেয় । যেখানে রাষ্ট্রযন্ত্র নারীকে পুরুষের দাসত্ব মেনে নিতে বাধ্য করছে , ধর্মের শিকল পায়ে পরিয়ে করে তুলছে পুরুষের ভোগ্যপণ্য সেখানে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন আর সে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়
‘অধিকার মর্যাদার নারী-পুরুষ সমানে সমান’কে ভন্ডামি ব্যতিত অন্য কিছু বলতে পারছি না ।

১ thought on “অধিকার , মর্যাদায় নারী পুরুষ সমানে সমান ; রাষ্ট্রযন্ত্রের রাষ্ট্রীয় ভন্ডামি ।

  1. নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত
    নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। আরও হবে। একদিনে সবকিছু হয় না।
    আর ফেসবুকের কমেন্ট দেখে দেশের নারীর উন্নয়ন বোঝা যাবে না। কতকগুলো লম্পট আছে, যারা নারীদের সম্মান করতে জানে না। ধিক্ এদের ধিক্। আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারীউন্নয়নেই কাজ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *