চুশীলদের দ্বৈত নীতি…..

আঁধার কেটে যাচ্ছে ক্রমশ। একটু একটু করে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে মাত্র। রাস্তায় বাড়ছে মানুষের সংখ্যা। রাতভর জেগে থাকা কুকুরগুলোও অলস হাই তুলছে। ঠিক তখনই গলির ভেতর থেকে মুখ গুঁজে বেরিয়েছেন কয়েকজন। কেউ যুবতী, কেউ মাঝবয়েসী। তবে গার্মেন্টসকর্মী নয় কেউই। কাজের সন্ধানেও বেরুয়নি তারা। রাতভর নিজেকে বিক্রি করে এখন ঘরে ফেরার পালা। এভাবেই চলছে রাতের পর রাত। আঁধারেই তাদের জীবন, তাদের রাতগুলো কখনোই ভোর হয় না।


আঁধার কেটে যাচ্ছে ক্রমশ। একটু একটু করে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে মাত্র। রাস্তায় বাড়ছে মানুষের সংখ্যা। রাতভর জেগে থাকা কুকুরগুলোও অলস হাই তুলছে। ঠিক তখনই গলির ভেতর থেকে মুখ গুঁজে বেরিয়েছেন কয়েকজন। কেউ যুবতী, কেউ মাঝবয়েসী। তবে গার্মেন্টসকর্মী নয় কেউই। কাজের সন্ধানেও বেরুয়নি তারা। রাতভর নিজেকে বিক্রি করে এখন ঘরে ফেরার পালা। এভাবেই চলছে রাতের পর রাত। আঁধারেই তাদের জীবন, তাদের রাতগুলো কখনোই ভোর হয় না।

আমার মত হয়ত অনেকেই তাদের বলতে ভুল করেনা, তারা পতিতা বা বেশ্যা। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, আমাদের বিবেক নামের অশরীরি মনুষ্যত্বে কি কখনো নাড়া দিয়েছে, কেন তাদের এই জীবনদশা ? কার গড়া তার এই আধারের জীবনদশা ??

যেসব মেয়েরা সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে দেহ বিক্রি করে সমাজ তাঁদের বলে পতিতা। অপরদিকে, যেসব মেয়েরা হাজার টাকার বিনিময়ে লুকিয়ে দেহ বিক্রি করে সমাজ তাদের বলে সোসাইটি বা মডার্ন গার্ল। যারা আর একটু বেশী দামে দেহ বিক্রি করে সমাজ তাদের বলে পার্টি গার্ল। আর সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে তথাকথিত শিক্ষিত চামড়া ঢেকে হেংগআউটের নামে নাইটক্লাব বা ডান্সবারে ফুর্তির নামে যখন দেহর লেনাদেনা চলে বা যখন কোন পার্কের কোনায় বয়ফ্রেন্ডের কোলে বসে আড্ডা দেয়, মাঝে মাঝে চলে চামড়ার তুমুল সংঘর্ষণ আবার মাঝে মাঝে সেই বয়ফ্রেন্ডের সাথে লিটনের ফ্ল্যাটে যায়, আর রিক্সায় হুড তুলে দিয়ে ****, আবার বলে আমরা শুধুই ফ্রেন্ড !

আর সমাজ তখন তাঁদের বলে আধুনিক মেয়ে ! তাদের নিয়ে কথিত(!) দৈনিক পত্রিকায় লেখা হয় “দেশে নারীরা সমান অধিকার পাচ্ছে”। হাজার-হাজার মেয়েরা বছরে বছরে জিপিএ ৫ পাচ্ছে, আবার পরিমলের সাথে শুটিং(!)। যারা আরও বেশী দামে দেহ বিক্রি করে সমাজ তাদের বলে মডেল বা অভিনেত্রী (সব মডেল বা অভিনেত্রীকে বলছি না)। সমাজের অনেকের চোখে এরা আবার ড্রিমগার্ল! তাদের আবার ভিডিও বের হয়। কিন্তু তারপরও তারা সমাজে সকলের নিকট সম্মানপ্রাপ্ত। অথচ যারা শুধুমাত্র পেটের দায়ে দেহ ব্যবসা করে বা জোরপূর্বক তাদের করানো হয়, তাদের বেশ্যা বলে আখ্যায়িত হয়।

কিন্তু কেন ???

তাঁদের এত টাকা-পয়সা বা রূপের বা শিক্ষিত নামের শিক্ষার সনদ নেই বলে ? থুতু মারি চুশীলদের এই দ্বৈত নীতিকে। যারা পেটের দায়ে এই ঘৃণ্য কাজটি করে তাঁদেরকে আমি পতিতা বলিনা, আমি পতিতা বলি তাদেরকে যারা অর্থ বা কাজের লোভে পর পুরুষের সামনে বিবস্ত্র হতে দ্বিতীয়বার ভাবেনা।

৩ thoughts on “চুশীলদের দ্বৈত নীতি…..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *