দ্যা স্টোনিং অফ সোরাইয়া এমঃ একটি সিনেমা এবং ইরানে নারীর অবস্থান


একদিন ইরানিয়ান গ্রাম কুপায়েহের ভেতর দিয়ে যাবার সময় ফ্রেঞ্চ সাংবাদিক ফ্রিদাউন সেহেবজামের গাড়ি রাস্তায় হঠাত নষ্ট হয়ে যায়। গাড়ি ঠিক করাবার জন্য সে গ্রামের ভেতর প্রবেশ করে। মেকানিকের কাছে গাড়ি দিয়ে সে বিশ্রাম নেবার জন্য ঢোকে একটি ক্যাফেতে। খুব গোপনে এক নারী তাকে একটি হাড়সহ একটি বাড়ির ম্যাপ ছুঁড়ে দেয় দেয়ালের ওপাশ থেকে। সেই হাড়টি একজন মানুষের, একজন নারীর। সেই নারীর যার নাম জাহরা তার উদ্দেশ্য ছিলো বিদেশি সাংবাদিকের দৃষ্টি আকর্ষন করে তাকে তার বাসায় নিয়ে গিয়ে এক মর্মান্তিক সত্য ঘটনা সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেবার।

ঘটনাটি ঘটে গিয়েছে সাংবাদিক গ্রামে প্রবেশ করবার আগের দিন। সাংবাদিক ফ্রিদাউন জাহরার বাড়িতে যাবার পর শোনে মাত্র একদিন আগে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা। জাহরার ভাগ্নি সোরাইয়া মানুচেহরির স্বামী আলী ও গ্রামের মোল্লা মিলে সোরাইয়াকে মিথ্যে ব্যাভিচারের দায়ে দোষী করে পাথর নিক্ষেপ করে মেরে ফেলে আগের দিন। গ্রামের মাস্তান সোরাইয়ার স্বামী আলী ১৪ বছরের একটি মেয়েকে বিয়ে করতে ইচ্ছে পোষণ করে আর সোরাইয়াকে তালাক দিতে চায়। সোরাইয়ার একমাত্র দোষ ছিলো সে আলীকে ডিভোর্স দিতে রাজী হয়নি তার সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। বরং সে নিজে স্বাবলম্বী হবার জন্য সালিশের সবার অনুরোধে এক বিপত্নীকের বাড়িতে কাজ করা শুরু করে। আর এটাকেই তার স্বামী সুযোগ হিসেবে কাজে লাগায়। সে গ্রামের মেয়রের কাছে নালিশ করে যে তার স্ত্রী ঐ বিপত্নীকের সাথে ব্যাভিচারে লিপ্ত এবং একি সাথে সেই বিপত্নীককে মৃত্যুর হুমকি দিয়ে মিথ্যে বলতে বাধ্য করে। ফলে ধর্মীয় আইনানুযায়ী সোরাইয়াকে পাথর নিক্ষেপ করে মেরে ফেলার আদেশ দেয় গ্রামের মেয়র।

বিদেশী সাংবাদিক ফ্রিদাউন ঘটনাটি রেকর্ড করে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেরিয়ে আসে সেই গ্রাম থেকে। পরবর্তীতে সারা বিশ্বে সে ছড়িয়ে দেয় এ খবর।

ইরানিয়ান গ্রাম কুপায়েহের সত্যি ঘটনার ওপর নির্ভর করে নির্মিত সিনেমা ‘The Stoning of Soraya M.’ এর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা এটি। শুধুমাত্র ধর্মের নামে সারা পৃথিবীতে কত কত সোরাইয়া খুন হয়, হয় নির্যাতনের স্বীকার- আমাদের অগোচরে রয়ে যায়! ইরানে নারীর অবস্থান কোথায় তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে এ সিনেমায়। আর এ কারনে সিনেমাটি ব্যান করা হয়েছে ইরানে।

যারা সিনেমাটি এখনো দেখেননি তারা দেখতে পারেন। মনুষ্যত্ব থাকলে আপনার চোখে পানি আসতে বাধ্য। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মোঝান মারনো- তাকে একটা স্যালুট এত সুন্দর অভিনয়ের জন্য।

‘When a man accuses his wife,she must prove her innocence. that is the law. on the other hand, if a wife accuses her husband, she must prove his guilt.’ — The Stoning of Soraya M.

২ thoughts on “দ্যা স্টোনিং অফ সোরাইয়া এমঃ একটি সিনেমা এবং ইরানে নারীর অবস্থান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *