দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে চাঁদে দেখা বনাম বাংগালীর চেতনার মুক্তি

ধর্মের নামে মানুষকে বোকা বানিয়ে রাজনিতী করাটা বাংলাদেশে নতুন না। আর বাংগালীরাও বোকা হতে অভ্যস্থ। আর বাংগালীরা বোকা হবেই বা না কেন! বাংগালিরাতো সহজ-সরল নিরীহ জাতি। এরই সুযোগ নিচ্ছে মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো। আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাইদির চন্দ্রাভিযান নিয়ে দেশে কি তুমুল কান্ডটাই না ঘটে গেল। এর রেশ ধরে ধর্মপ্রান মুসলিম জনতা উত্তেজিত ও মারমূখী হয়ে কত মানুষের বাড়ীঘর পোড়াল, পুলিশ মারল, নিজেরা মরল, আর সব চাইতে বেশী ছোয়াবের
কাজ করল হিন্দুদের বাড়ী ঘর, মন্দির পুড়িয়ে দিয়ে। তাদের মারমুখি হওয়ার কারনটা সঙ্গত।


ধর্মের নামে মানুষকে বোকা বানিয়ে রাজনিতী করাটা বাংলাদেশে নতুন না। আর বাংগালীরাও বোকা হতে অভ্যস্থ। আর বাংগালীরা বোকা হবেই বা না কেন! বাংগালিরাতো সহজ-সরল নিরীহ জাতি। এরই সুযোগ নিচ্ছে মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো। আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাইদির চন্দ্রাভিযান নিয়ে দেশে কি তুমুল কান্ডটাই না ঘটে গেল। এর রেশ ধরে ধর্মপ্রান মুসলিম জনতা উত্তেজিত ও মারমূখী হয়ে কত মানুষের বাড়ীঘর পোড়াল, পুলিশ মারল, নিজেরা মরল, আর সব চাইতে বেশী ছোয়াবের
কাজ করল হিন্দুদের বাড়ী ঘর, মন্দির পুড়িয়ে দিয়ে। তাদের মারমুখি হওয়ার কারনটা সঙ্গত।

১৯৯৫ সালের কথা। এ সময়ের কোনো এক দুর্গা পূজার আগে ভারতের বিভিন্ন স্থানে গণেশ দুধ খেতে শুরু করলেন। (বিস্তারিত : http://en.wikipedia.org/wiki/Hindu_milk_miracle ধর্মপ্রাণ হিন্দুরা পাত্র পাত্র দুধ দেবতা মূর্তির ভোগ হিসাবে আনতে থাকলেন। এই নিয়ে মিডিয়া মাতামাতি একসময় চরমে পৌঁছালো। বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকাতেও সে খবর ছাপা হয়েছিল। সে সময় বিবিসি রেডিও গণেশ মূর্তির দুধ খাওয়া নিয়া বিশেষ একটা প্রতিবেদন প্রচার করেছিল। প্রতিবেদনের এক পর্যায়ে বিবিসি বাংলা সার্ভিসের সাংবাদিক পশ্চিমবঙ্গের তখনকার মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গে কথা বললেন। প্রতিবেদক জিজ্ঞেস করলেন, মি. বসু, গণেশ মূর্তির দুধ খাওয়া বিষয়ে আপনার অভিমত কী? মি. বসু এক লাইনে উত্তর দিলেন, ‘গণেশ দুধ খাচ্ছে তো আমি কী করবো?’ জ্যোতি বসু দুঁদে রাজনীতিক, তিনি জানতেন, গণেশ যখন দুধ খাচ্ছেন তখন তার করার কিছুই নেই। তিনি বলতে পারতেন, এটা কুসংস্কার। তাতে ধর্মপ্রাণ মানুষেরা ক্ষিপ্ত হতো। আবার তিনি যদি বলতেন খবরটি মিথ্যা তাহলে হয়তো সংবাদমাধ্যমগুলো ক্ষিপ্ত হতো। পাকা রাজনীতিক হিসাবে তিনি জানতেন, তখনি তার কিছু করার নেই।

চাঁদে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ছবি দেখা যাওয়ার ঘটনায় বারবার জ্যোতি বসুর কথা মনে পড়ছিল। বলতে ইচ্ছা করছিল, চাঁদে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ছবি দেখা যাচ্ছে তো আমরা কী করবো? কিন্তু, ১৯৯৫ সালে ভারতে যে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি ছিল তার সঙ্গে আমাদের পরিস্থিতির কোনো মিল নেই। ফলে, জ্যোতি বসুর মতো করে ঘটনাটিকে কেউ উপেক্ষা করতে চাইলে তা করতে পারেন। কিন্তু, তাতে ঘটনাটির রাজনৈতিক তাৎপর্য অধরাই থেকে যাবে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসি করলেও এর রাজনীতিটা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। চাঁদে সাঈদীর ছবি দেখতে পাওয়া যে অসম্ভব একটা ব্যাপার তা ‌’আমরা’ সবাই জানি এবং মানি। ফলে, বিষয়টা ছড়ানোর পর এ নিয়ে ফেসবুকে বেশ হাসাহাসির রোল পড়ে গেছে, চাঁদ ও সাঈদী নিয়ে অনেক ক্যারিক্যাচারও হয়েছে। বিষয়টা যে ফটোশপের কারসাজিমাত্র তা দেখিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন অনেকে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ফটোশপে এডিট করে চাঁদে সাঈদীর মুখ বসিয়ে প্রচার করেই কি মানুষকে ভাওতা দেওয়া হয়েছে? প্রত্যন্ত গ্রামে কীভাবে জনে জনে এডিটেড ছবি দেখানোব সম্ভব হলো? মোবাইল ফোনের মাধ্যমে? যতদূর জানতে পারছি, তাতে এডিটেড ছবি দেখানোর ঘটনা ঘটেনি, বরং কেউ কেউ দেখেছে বলেই খবর রটেছে আর তা বহু মানুষ বিশ্বাস করে রাস্তায় নেমে এসেছে। দেশব্যাপী বহু মানুষের কাছে যেভাবে দ্রুত খবরটি পৌঁছে গেছে তাতে অবাক না হয়ে পারা যায় না।

জামায়াত-শিবির যদি তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এটি করে থাকে তবে তাদের নেটওয়ার্ক ভীষণ শক্তিশালী। কাজটা যে জামায়াত ও শিবিরের কর্মীরা করেছে তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু, তাদের এই ভূয়া প্রচার মানুষ বিশ্বাস করবে কেন? ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর জন্য মানুষ রাস্তাতেই বা নামবে কেন? তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এ ধরনের ভূয়া খবরে উৎসাহিত হয়ে লোকে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে থানা আক্রমণ করে ফেলবে কেন? তবে কি সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ তাদের কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি? নাকি এ কথা শুধু জামায়াত-শিবিরের লোকেরাই বিশ্বাস করেছে এবং শুধু তারাই মাঠে নেমেছে। আমরা যখন
ফেসবুকে বসে প্রগতিশীলতা, অসাম্প্রদায়িকতার চর্চা করি তখনও এদেশে বহু মানুষ চাঁদে সাঈদীকে দেখা গেছে এমন খবরে আস্থা রাখেন। আর এই আস্থাটা সিরিয়াস। আমরা হেসে উড়িয়ে দিলে উড়ে যাচ্ছে না। তারা সিরিয়াসলি সেটা বিশ্বাস করে প্রাণ দিতে এগিয়ে আসছেন। ফলে কোথাও ফাঁক থেকেই যাচ্ছে। ফাঁকটা কোথায়?

ট্রাইবুনালের বিচারপতি রায়ের শুরুতে বলেছিলেন, আমরা জামায়াতের নায়েবে আমির বা মোফাসসিরে কোরআন আল্লামা সাঈদীর বিচার করছি না, বিচার করছি দেলু রাজাকারের। শুনে খুব অবাক হয়েছিলাম। আদালতকে একথা কেন বলতে হলো?

মোফাসসিরে কোরআন হিসেবে কি সাঈদীর ভূমিকা বিরাট? সেটাকে আমলে না নিলে ধর্মপ্রাণ মানুষেরা কি রাগ করবেন? সত্যিকার অর্থে সাঈদীর প্রভাব সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। পথে-ঘাটে মানুষের কথাবার্তায় যেটুকু বুঝেছি তাতে কেউ কেউ সাঈদীর রায় নিয়ে তার আইনজীবীর মতের সঙ্গে একমত। অথচ আমরা তো দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর নানা অপকর্মের সঙ্গে পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের কথা আদালতের রায়ে স্পষ্ট হলো কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পরে তার ভূমিকা তো চোখের সামনেই দেখা গেল। লেখক, বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে তার ওয়াজ সমাজে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল তাও তো আমরা কমবেশি জানি। এমন একটি লোকের মৃত্যুদণ্ডে অনেক মানুষ ব্যাথিত হচ্ছেন কেন? তবে কি আমরা সাঈদীর প্রতি আমাদের ঘৃণা সবার মধ্যে সঞ্চার করতে পারিনি? তথ্যের সমান বণ্টন ঘটেনি শহর ও গ্রামে? সম্পদের মতো তথ্যেরও সমান বণ্টন হয় না শহর ও গ্রাম ভেদে। কিন্তু যখন শাহবাগে একটা বিশাল গণজাগরণ ঘটে যায়, তার প্রভাব গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না কেন? গ্রাম বা মফস্বলের মানুষ কেন এ গণজারণের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বাস করে। এত জাগরণের পরও ধর্ম নেতাদের করায়ত্ত থাকে কেন তাদের চেতনা? ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠার পর রাজধানীর বাইরের মানুষ কীভাবে ফুঁসে উঠেছিল তা কি আমরা দেখেছি? সরকারের চেষ্টায় সে ক্ষোভ প্রশমিত হয়েছে
কিন্তু চাঁদের গুজব কীভাবে ঠেকানো সম্ভব? ফেসবুকে কেউ একজন মন্তব্য করেছিলেন, ফাঁসির রায় ঘোষণার আগেই সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেল। ফাঁসি দিলে কী হবে?

তার জনপ্রিয়তা যদি ব্যাপক হয় তবে বহু মানুষ তাকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা করবে। তার কবরকে মাজার বানিয়ে ফেলার চেষ্টা করবে। তবে লাভটা কী হবে? সাঈদীর মৃত্যু হলে তার চেতনা তো অনেকের মধ্যে থেকে যাবে। শাহবাগের আন্দোলনের শুরু থেকে একটা ব্যাপার লক্ষ্য করছি, এ আন্দোলন গ্রামে তেমন প্রভাব তৈরি করতে পারছে না। শাহবাগের খবরে ঠাসা পত্রিকাগুলো যখন গ্রামে পৌঁছাচ্ছে তখন লোকের প্রতিক্রিয়া কিন্তু মিশ্র। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর খবরের প্রতিক্রিয়াও শহরে একরকম গ্রামে একরকম। শহরের মানুষেরা যারা আধুনিক জীবনে অভ্যস্ত, ইতিহাস সম্পর্কে জানেন তারা শাহবাগের আন্দোলনে সমর্থন দিচ্ছেন। এদের মধ্যে ধর্মপ্রাণ মানুষও আছেন। তবে, শহরগুলোতে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত প্রগতিশীল তরুণের সংখ্যা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। ইন্টারনেটের বিস্তারের কারণে এ তরুণদের মধ্যে আলাপ-পরিচয়ও হয়েছে। এ তরুণরা যেটুকু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জীবনযাপনের স্বাধীনতা ভোগ করছেন তা কিছুতে বিঘ্নিত হতে দিতে চান না। এদের সবার আওয়ামী লীগ করার প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু এরা একুটু অনুমান করে আওয়ামী লীগ ভিন্ন অন্য কোনো দল ক্ষমতায় এলে মতপ্রকাশ ও জীবনযাপনের এই স্বাধীনতা অটুট থাকবে না। আরও নানা ব্যাপার এসে বাগড়া দেবেই। ফলে, যে ব্যাপারগুলো বাগড়া দেবে সে ব্যাপারগুলোকে ঠেকাবার স্লোগান কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবির স্লোগানের অন্তরালে ফল্গুধারার মতো বইছে। ফলে, যারা জীবনযাপন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করছেন তাদের সবার সমর্থন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ আন্দোলন পাচ্ছে। অন্যদিকে গ্রামের লোকেরা একে সন্দেহের চোখে দেখছে। সরকারের উদ্যোগে এটি ঘটছে এমন কথা তো রটেছেই। এমনকি এটি যে নাস্তিক ও মুরতাদদের আন্দোলন তাও গুরুত্ব পেয়েছে শহরের বাইরে অঞ্চলগুলোত।

অত্যন্ত সুললিত কন্ঠের অধিকারী সাইদি তার কোরান তেলাওয়াত ও ওয়াজ করার জন্য দেশে বিদেশে তুমুল জনপ্রিয়, তার ওয়াজ বহু মানুষ মোবাইল ফোনে শোনে এই আশায় যে তা শুনলে বেহেস্তের টিকেট কনফার্ম হয়, এমন কি তার মাধ্যমে ১৯৭১ সালে তো বটেই পরবর্তীতে অনেক অমুলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে বেহেস্তের টিকেট কনফার্ম করেছে।

তো এই হেন একজন অতি উচ্চ পরহেজগার এলেমদার বান্দাকে এই কথিত জালেম ও নাস্তিক আওয়ামী লীগ সরকার গরুর মত বেধে জেলে তো ঢুকিয়েছেই , তারপর ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার কথিত মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য লোক দেখানো বিচার করে তাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে রীতিমত একজন ধর্ষক বা পেশাদার খুনী যে ভাবে শাস্তি পায় অনেকটা সে কায়দায়। এরকম একজন পরহেজগার ও এলেমদার ইমানদার ইসলাম প্রচারকারীকে সরকার উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে চুড়ান্ত অপমান করা প্রকারান্তরে আমাদের মহানবী মোহাম্মদ ( সা:) এর শিক্ষা তথা ইসলামকে অপমান করার সামিল বলে ধর্মপ্রান মুসল্লিরা ধরে নিয়ে জিহাদি জোশে ঝাপিয়ে পড়ে। যাদের একমাত্র উদ্দেশ্য- সাইদির মত একজন বিশাল এলেমদার মানুষকে রক্ষা করা , একই সাথে ইসলামকেও রক্ষা করা। কিন্তু এত কিছুর পরেও অবশেষে, সারা দেশে নানা পদ ও মর্যাদার মোল্লা, মৌলভী, ইসলামি চিন্তাবিদ, ইসলামি দলের নেতারা বাধ্য হলো বিবৃতি দিতে যে – এটা একটা ভুয়া সংবাদ, এটা অসম্ভব ব্যপার, আর সর্বোপরি এটা একটা মারাত্মক শিরক। এটা কেমন কথা ? যেখানে শত শত প্রত্যক্ষ দর্শী সাক্ষ্য দিচ্ছে যে তার স্বচক্ষে সাইদিকে চাঁদের বুকে অনেকটা নীল আর্মস্ট্রং এর কায়দায় ঘুরে বেড়াতে দেখেছে, সেখানে এই সব মোল্লা মৌলভী বা নেতারা কে যে তারা এসব সাক্ষ্যকে পাত্তা না দিয়ে বিবৃতি দেয় এটা মিথ্যা , ভূয়া ও শিরক?

এখন আসল বিষয় হলো – এত প্রত্যক্ষ্য দর্শী সাক্ষী থাকা সত্ত্বেও যেখানে সাইদির মত বিরাট এলেমদার মানুষের চাঁদে ভ্রমন এই সব কাঠ মোল্লারা বিশ্বাস করতে পারছে না ,সবাই মিলে ঘোষণা দিয়ে তা বাতিল করে দিয়ে সেটাকে শিরক বলছে ও মহা বেদাতি কাজ বলছে , সেখানে আমাদের মহানবী (সা) ১৪০০ বছর আগে হঠাৎ করে একদিন ভোর বেলায় উঠে ঘোষনা দিলেন যে তিনি গত রাতে গাধার মত দেখতে একটা জন্তুর পিঠে চড়ে সাত আসমানের ওপর গিয়ে আল্লাহর সাথে মোলাকাত ও খোশগল্প করে এসেছেন যার একজন মাত্র সাক্ষীও ছিল না, অথচ তা আজকের যুগের এসব মোল্লারা সহ কোটি কোটি সাধারন মানুষ তো বটেই বহু উচ্চ শিক্ষিত মানুষ কিভাবে বিশ্বাস করে কোন রকম প্রশ্ন ছাড়াই ? আল্লাহ চাইলে কি না হতে পারে। তিনি মহানবীকে সাত আসমানের ওপর তার নিজের কাছে নিয়ে গেছিলেন, কারন তিনি ছিলেন মহানবী, তাই বলে সাইদির মত একজন এলেমদার মানুষকে তিনি সামান্য চাঁদে নিয়ে গেলে সেটা কিভাবে মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য হয়? তার পরেও যেখানে মহানবীর আল্লাহর কাছে যাওয়ার ঘটনার একজনও সাক্ষী ছিল না, সেখানে সাইদির আছে শত শত এমনকি হাজার হাজার সাক্ষী। তাহলে তা কেন বিশ্বাস করা যাবে না ? মহানবী ( সা ) সেই ১৪০০ বছর আগে দুনিয়াতে আগমন না করে যদি বর্তমান কালে এই বাংলাদেশে আগমন করতেন এবং এভাবে ঘোষণা দিতেন যে তিনি চাঁদ বা সাত আসমানে আল্লাহর সাথে দেখা করতে গেছিলেন , কি পরিস্থিতি হতো তার? কয়জন মানুষ বিশ্বাস করত ? মোল্লা মৌলভীরা কি ফতোয়া দিত ?

৩ thoughts on “দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে চাঁদে দেখা বনাম বাংগালীর চেতনার মুক্তি

  1. মুমিনের কাছে স্বাধীনতার
    মুমিনের কাছে স্বাধীনতার চেতনার চাইতে ইসলামের গুরুত্ব অনেক বেশী। বরং বলা যায়, ইসলামের কাছে স্বাধীনতার চেতনার কোনই মূল্য নেই। দেলোয়ার সাইদি রাজাকার হলেও , পরবর্তীতে মুমিনের মূল জিনিস ইসলাম প্রচার করে , প্রতিটি মুমিনের মনের মনিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছে। তাই সবাই এমন কি মুক্তিযোদ্ধারাও তার রাজাকারী জীবনের অপরাধকে ক্ষমা করে দিয়েছে। পরিশেষে , একজন মুক্তিযোদ্ধার কাছেও , ইসলাম হলো মুক্তিযুদ্ধের চাইতেও অনেক অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। তাই তো , একজন মুক্তিযোদ্ধাও সহজে যোগ দিতে পারে জামাতে ইসলামী দলে। আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নাই।

    1. একজন মুক্তিযোদ্ধার কাছেও ,

      একজন মুক্তিযোদ্ধার কাছেও , ইসলাম হলো মুক্তিযুদ্ধের চাইতেও অনেক অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। – See more at: http://www.istishon.com/node/16065#sthash.aCuQ3hVy.dpuf

      দারুন একটা পয়েন্ট তো। এইভাবে চিন্তা করিনাই। ব্যাপারটা কি এরকম – ধরেন আগে ত এত লেখালেখি হত না ধর্মের অসাড়তা নিয়ে; মুমিন রাও ততটা উগ্রবাদী ছিলনা এখনকার মতন, অনেকটা ‘তুমি তোমার মত থাকো, আমি আমার মত থাকি’ টাইপ আর কি, তাই না? মানে ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘আল্লাহ-হাফিয’ কালচার ত ৭৭ এর পর থেকেই আস্তে আস্তে প্রতিষ্ঠা পেল, আর এখন ত ‘চাপাতি কালতার’ এর যুগ। ত সেই হিসাব ধরলে, যারা মুক্তিযোদ্ধা তারা কি এখনও সেই ধারনা নিয়ে পড়ে আছেন? পরিবর্তন কি তারা চোখে দেখেন না? নাকি দেখলেও সেই কনসেপ্ট এ বিশ্বাসী “খুন করা ঠিক না কিন্তু ধরমানুভুতি তে আঘাত কইরা লিখাটা ঠিক হয়নাই” ?

      জানিনা ঠিক বুঝাইতে পারলাম কি না ? ধন্যবাদ।

  2. মুমিন রাও ততটা উগ্রবাদী ছিলনা

    মুমিন রাও ততটা উগ্রবাদী ছিলনা এখনকার মতন

    কথাটা ঠিক না। আসল ঘটনা হলো , আগে মুমিনরা ইসলাম তেমন একটা জানত না। বর্তমানে যে ভাবে ওয়াজ মাহফিল ছাড়াও যে বিপুল সংখ্যক ইসলামী টিভি চ্যানেল আছে , তার কল্যানে মানুষ অনেক বেশী ইসলাম সম্পর্কে জানে। তাছাড়া দেশে যে হারে কওমী মাদ্রাসা সহ মসজিদ গড়ে উঠেছে, তাতে প্রতিদিনই কোন না কোন সময় ইসলামের জিহাদ নিয়ে বয়ান শুনতে হয়। একই কথা প্রতিদিন যদি শোনা হয় তাহলে কি ঘটে , যখন সেটাই সবার অন্তরের অন্তস্থলের সুদৃঢ় বিশ্বাসের বিষয় ? অবশেষে তারা এটাও জানে জিহাদই হলো প্রকৃত ইসলাম কিন্তু এখনও সেটা সরাসরি প্রকাশ্যে বলার মত সাহস করে ওঠেনি , অনেকটা আন্তর্জাতিক নানা কারনে। তবে , ক্রমশ: তারা সেই সাহস সঞ্চয় করছে। তাই চারদিকে ইসলামের উগ্রতা ও অসহিষ্ণুতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর সেই কারনেই , তারা বলে বলে ব্লগার হত্যা ঠিক হয় নি , তয় ইসলাম নিয়ে কিছু লেখাও ঠিক না। এটা বলে তারা নিতান্ত ঠেকায় পড়েই , কিন্তু মনে মনে তারা ব্লগার হত্যায় দারুন খুশী হয়। এটাই সত্য , এটাই বাস্তব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *