টমেটো যুদ্ধ এবং স্পেনের ‘লা টমাটিনা ফিয়েস্তা’

স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ভ্যালেন্সিয়া শহর। আর তারই অদূরে ছোট্ট শহর বুঁয়্যোল। প্রতিবছর আগস্টের শেষ বুধবার হাজারো মানুষের গন্তব্যস্থান হয়ে ওঠে গ্রামটি। চলে সম্মুখযুদ্ধ! তবে বন্দুক দিয়ে নয়, টমেটো দিয়ে। টমেটো লড়াইয়ের এই উৎসবের নাম লা টমাটিনা ফিয়েস্তা বা টমেটো ফেস্টিভাল।


স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ভ্যালেন্সিয়া শহর। আর তারই অদূরে ছোট্ট শহর বুঁয়্যোল। প্রতিবছর আগস্টের শেষ বুধবার হাজারো মানুষের গন্তব্যস্থান হয়ে ওঠে গ্রামটি। চলে সম্মুখযুদ্ধ! তবে বন্দুক দিয়ে নয়, টমেটো দিয়ে। টমেটো লড়াইয়ের এই উৎসবের নাম লা টমাটিনা ফিয়েস্তা বা টমেটো ফেস্টিভাল।

এ উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা পরস্পরকে পাকা টমেটো ছুড়ে মারে। টমেটোর লাল রসে ভিজে একাকার হয়ে যায় অংশগ্রহণকারীরা। স্পেনের বুঁয়্যোল শহরের রাস্তা সেদিন টনকে টন টমেটোতে ভরে ওঠে। টসটসে পাকা টমেটোর রসে সবাই মাখামাখি না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে উৎসব ।

১৯৪৪ সালে ভ্যালেন্সিয়া থেকে ৩৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামটিতে শুরু হয়েছিল ‘লা টমাটিনা’ উৎসব। অবাক করার বিষয়, এ উৎসব স্থানীয় কোনো ঐতিহ্য নয়। নিছক মজার ছলে গ্রামের দুটি শিশু টমেটো ছোড়াছুড়ির মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করে।

১৯৫০ সালে এ উৎসব বন্ধ করে দেওয়া হলেও, ১৯৫৭ সালে আবারও শুরু হয়। ২০০২ সালে পর্যটকদের বিপুল উৎসাহ ও যোগদানের কারণে স্পেন সরকার একে ‘আন্তর্জাতিক পর্যটন উৎসব’-এর মর্যাদা দেয়।

কবে কখন একবার এক ক্যাফেতে দুই বন্ধুর মধ্যে খাবের নিয়ে হাতাহাতি হয়, যা কিনা পুরো ক্যাফেতে, তারপর মহল্লায় আর সবশেষে পুরো শহরেই ছড়িয়ে পড়ে।

সেই ১৯৪৫ সাল থেকে এই শহর প্রতি বছর অগাস্টের শেষ বুধবার টমেটো উৎসব পালন করে আসছে। প্রতি বছর প্রায় ১৫০টনেরও বেশি টমেটো দিয়ে এদিন শহরের রাস্তা নদী বানিয়ে ফেলে স্থানীয় লোকজনসহ পর্যটকরা।

উৎসব সকালে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলে। উৎসবের শুরুতে বিশাল এক টুকরা মাংস রাখা হয় একটা পিচ্ছিল খাম্বার উপরে। শর্ত থাকে খাম্বা বেয়ে সেটিকে নামিয়ে আনতে হবে। এটা আনার সময় নাচ-গান আর হোস পাইপ দিয়ে পানিতে ভেজা চলতে থাকা। মাংসটি নামানো হলে শুরু হয় টমেটোর যুদ্ধ।

ততক্ষনে ট্রাকে ভরে টমেটো আনা শুরু হয়ে গেছে। অংশগ্রহণকারীরা খামার থেকে টমেটো নিয়ে আসেন।এক্সট্রেমাডুরা থেকে এসব টমেটো আনা হয়, এগুলো খেতে অত ভালো নয়, দামে সস্তা।

টমেটোগুরো ট্রাকের উপর থেকে ছুঁড়ে ফেলা হয় রাস্তায়। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই পুরু এলাকাটাই টমেটোর নদী হয়ে যায়। টমেটো দলাই-মলাই করে শুরু হয় একে অপরের গায়ে মহোৎসাহে টমেটো ছোড়া।

হোসপাইপ থেকে জলের কামান দেগে একে অপরকে টমেটো-স্নান করিয়ে দেন। বিশাল এক হুলস্থুল আনন্দ। একে অপরের গায়ে ছুঁড়ে থেতলে দেয় পাকা টমেটো। এখানে কেউ কারো দলে নেই, প্রত্যেকেই আলাদা আলাদাভাবে পূর্ণাঙ্গ দল।

অধিকাংশ অংশগ্রহণকারীরা টমেটো ছুঁড়তে নামেন খালি গায়ে। তবে নিরাপত্তার জন্য কেউ কেউ চোখে গগলস এবং হাতে গ্লাভস পরে নেন। এভাবে তুমুল আনন্দ আর উত্তেজনার মধ্য দিয়ে টমেটো যুদ্ধ চলে ঘন্টাব্যাপী।

যে কেউ যে কারো গায়ে টমেটো ছুড়ে মারতে পারে। উৎসবের পর টমেটো জুস পরিষ্কারের কাজটাও উৎসবে অংশগ্রহনকারীরাই করে থাকেন। শুরু হয় আরেক উৎসব। মহোৎসাহে গ্যালন গ্যালন পানি ঢেলে রাস্তা পরিস্কার করে নিজেরা ঝাপিয়ে পড়েন বুঁয়্যোল নদীতে।সেখানেও দাপাদাপি আর হৈ হুল্লোরের কমতি থাকেনা।

মূল উৎসব শুরুর এক সপ্তাহ আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়। উৎসব উপলক্ষে বুঁয়্যোল শহরের নানা স্থানে বসে গানের আসর; কুচকাওয়াজ, নাচানাচি এবং আতশবাজিও চলে সপ্তাহজুড়ে। টমেটো যুদ্ধের পর রাতে বসে রান্নাবান্নার প্রতিযোগিতা।

স্থানীয়দের মতে, এক সময় বুঁয়্যোল শহরে মানুষের তেমন আসা-যাওয়া ছিল না। শহরের লোকসংখ্যাও ছিল কম। এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে টমেটো উৎপাদন হলেও উপযুক্ত ব্যবহারের অভাবে তা নষ্ট হয়ে যেত। ফলে কিছু লোক বুদ্ধি করে শহরের সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব সেইন্ট লুইস বার্ট্রান্ট এবং মা মেরিকে উৎসর্গ করে টমেটো ছোড়া উৎসবের সূচনা করে।

এ উৎসব দেখতে প্রতি বছর এই শহরে আসে প্রতি বছর প্রায় পঞ্চাশ হাজার পর্যটক আসে। দীর্ঘ ষাট বছর ধরে একই স্থানে পালিত হওয়া এই উৎসবে গত বছরও হাজির হয়েছিল প্রায় ৪০ হাজার পর্যটক। আর প্রায় একশ’ টনের মতো টমেটোর রস ছিটিয়ে সবাই মেতে উঠেছিল আনন্দ উৎসবে।

শুধু স্পেনেই নয়, চিলির কুইলন শহরেও টমেটো যুদ্ধ উৎসবের আয়োজন করা হয়।স্পেনের লা টমাটিনো উৎসব থেকে অনুপ্রাণীত হয়ে চিলিতেও দারুণ সমারোহে এ উৎসব উদযাপন করা হয়।

গতবছর টমেটো ছুড়ে দেয়ার এ যুদ্ধে অংশ নেয় কমপক্ষে সাত হাজার মানুষ। যুদ্ধে ব্যবহার করা হয় ৪০ টনেরও বেশি টমেটো। ওইদিন সব তরুণ-তরুণী শহরের রাস্তায় এসে হাজির হয়।

চারপাশে ছড়ানো-ছিটানো থাকে কয়েক টন পাকা টমেটো এবং বালতি বালতি তার রস। সবাই উপস্থিত হলে শুরু হয় ছোড়াছুড়ি। যে যেভাবে পারে, মজা করে থাকে।

চিলিতে প্রথম উৎসবের আয়োজন করেন মিগুয়েল পেড্রেরস ও তার কয়েকজন বন্ধু। তবে গতবছর থেকে এ উৎসব আয়োজনের সমস্ত দায়িত্ব প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছেন তারা।

৩৫ thoughts on “টমেটো যুদ্ধ এবং স্পেনের ‘লা টমাটিনা ফিয়েস্তা’

  1. এই উৎসবটার জন্য অপেক্ষায়
    এই উৎসবটার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। জিন্দেগী না মিলে দুবারা সিনেমায় দেখে খুব মজা পাইছিলাম। 😀

    তবে মধ্যবিত্ত মানসিকতার ফল কিনা জানিনা, আমার কাছে এটাকে খাদ্যের বিশাল অপচয় মনে হয়। :আমারকুনোদোষনাই:

  2. আরে মিয়া মানুষ একটু খানি
    আরে মিয়া মানুষ একটু খানি আনন্দ পাওয়ার জন্য কি না করে। তয় ওরা যে পরিমান খাদ্য অপচয় করতেছে তার বহুগুন বেশি টাকা উঠাই নিচ্ছে পর্যটন শিল্প থেকে। সাথে মাস্তি ফ্রি। সবই খেলা :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি:

    1. আরে মিয়া মানুষ একটু খানি

      আরে মিয়া মানুষ একটু খানি আনন্দ পাওয়ার জন্য কি না করে।

      কমরেড একি শুনাইলেন? :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন:

  3. কবে যে এইরাম করি খেলতে পারুম
    কবে যে এইরাম করি খেলতে পারুম :দিবাস্বপ্ন: :দিবাস্বপ্ন: :দিবাস্বপ্ন: :দিবাস্বপ্ন: :দিবাস্বপ্ন: :দিবাস্বপ্ন:

    1. চাদা তোলা লাগবে না সবাইরে যার
      চাদা তোলা লাগবে না সবাইরে যার যার এলাকার বাজারের পচা টমেটো কালেকশন করে আনতে কইলেই হবে 😀

      1. আতিক ভাই, পচা টমেটো ফরমুলা
        আতিক ভাই, পচা টমেটো ফরমুলা ধরলে দামের উপর তেমন প্রভাব পরবো না আবার পিনিকও হইবো ভালা। কি কন :ভেংচি: :ভেংচি: :ভেংচি:

  4. খুল্লুম মার্কা ছবি কম হওয়াতে
    খুল্লুম মার্কা ছবি কম হওয়াতে লুল পাঠক কম খুশী হবে। এবারের সিরিজ ফ্লপ যাবে বোনডি। সবাই তথ্যের সাথে একটু চুলকানী খুঁজে। আমি না হয় বুড়া হয়ে গেছি। ব্লগের পাঠকতো সব বুড়া হয় নাই। তারা ক্ষেপবে এবার।

    1. জানা মতে, মল্লিকা শেরাওয়াত
      জানা মতে, মল্লিকা শেরাওয়াত কিংবা সালি লিওন কেঊই উৎসবে যায়নি। আমি কি করতাম :ভাবতেছি: :ভাবতেছি: :ভাবতেছি: তয় দেখি বডি শডি ওয়ালা পাপিয়া পান্ডের একখান ফটুশপড ছবি দেয়া যায় কি না

  5. ছিঃঃঃঃঃঃ বমি আসি যাইতেছে…।
    ছিঃঃঃঃঃঃ বমি আসি যাইতেছে…। :দেখুমনা: :দেখুমনা: :দেখুমনা: :টাল: :টাল: :টাল: ৩ ৪ ১১ নাম্বার এই তিনটা ছাড়া।

    1. স্প্যানিসদের কাজ স্প্যানিরা
      স্প্যানিসদের কাজ স্প্যানিরা করেছে টমেটো ছুড়েছে গায়
      তাই বলে ভর্তা খাবেন না এটা কি শোভা পায়

  6. মানি না,মানব না।ছবির প্রকৃত
    মানি না,মানব না।ছবির প্রকৃত সৌন্দর্য টমেটো তে ঢাকা পরে যাওয়াতে আমার মত লুল পাঠকেরা হতাশ।

          1. আপনাদের অবস্থা দেইখা মনে
            আপনাদের অবস্থা দেইখা মনে হইতাছে সবগুলো উৎসব নিয়া একবারেই লিখতে হইবো :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি:

          2. না গো বইন সব এক্কেবারে
            না গো বইন সব এক্কেবারে লেকতাইন কেরে।জানতে মুঞ্চায়ছিন তো তাই জিগাইছিলাম।

  7. আতিক ভাইয়ের সাথে কিছুটা একমত
    আতিক ভাইয়ের সাথে কিছুটা একমত , একটু অপচয় মনে হয় , তবে বুঁয়্যোল শহর কিন্তু ঠিক ই পর্যটক ধরে আন্তেছে , তাদের লাভ ই হচ্ছে !
    ইশ স্কুলে কতো বম্বাস্টিং খেলছি , টেনিস বল দিয়া বন্ধুদের গায়ে সেই মেলামেলি ! বেপক মজা হইত , টমেটো ছোড়াছুড়ি নিশ্চয়ই আরও মজা
    ভাগ্যে থাকলে একবার যাবো 😀

    1. চরম কথা মনে করাইয়া দিছেন।
      চরম কথা মনে করাইয়া দিছেন। বোমবাস্টিং হইলো বস খেলা। পুরাই চিনা মস্তকে হুল হুল

      1. পুরা অস্থির খেলা ! স্কুল
        পুরা অস্থির খেলা ! স্কুল ছুটি হইলেই বল বাইর কইরা দে মাইর । ধুমাধুম
        :নৃত্য: :নৃত্য:

  8. অভিনব উৎসব বলাই যায়!
    আমাদের

    অভিনব উৎসব বলাই যায়!
    আমাদের দেশে যখন টমেটোর দাম খুব কম থাকবে তখন এমন কোন উৎসব হলে মজাটা ভালই নেয়া যেত!

    চমৎকার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *