৭৬ বছর বয়সে আবুল কাসেম ফজলুল হকের শুভবুদ্ধির উদয়

৩১শে অক্টোবর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙলা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক আবুল কাসেম ফজলুল হকের পুত্র দীপনকে মৌলবাদীরা নিশংসভাবে হত্যা করেছে। পুত্রের জবাই করা লাশ দেখে আবুল কাসেম ফজলুল হকের উপলব্ধি হয়েছে সবার মধ্যে যেন শুভবুদ্ধির উদয় হোক! এই উপলব্ধি কী পুত্রের লাশ দেখার কারণেই হয়েছে! লেখার কারণে লেখক ব্লগার হত্যা, লেখা প্রকাশ করার কারণে প্রকাশককে হত্যা একমাত্র অশিক্ষিত বর্বর হিংস্র ধর্মান্ধ সমাজেই সম্ভব।


৩১শে অক্টোবর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙলা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক আবুল কাসেম ফজলুল হকের পুত্র দীপনকে মৌলবাদীরা নিশংসভাবে হত্যা করেছে। পুত্রের জবাই করা লাশ দেখে আবুল কাসেম ফজলুল হকের উপলব্ধি হয়েছে সবার মধ্যে যেন শুভবুদ্ধির উদয় হোক! এই উপলব্ধি কী পুত্রের লাশ দেখার কারণেই হয়েছে! লেখার কারণে লেখক ব্লগার হত্যা, লেখা প্রকাশ করার কারণে প্রকাশককে হত্যা একমাত্র অশিক্ষিত বর্বর হিংস্র ধর্মান্ধ সমাজেই সম্ভব।

সম্ভবত, আবুল কাসেম ফজলুল হকের এই উপলব্ধিবোধ শুধুমাত্র নিজ পুত্রকে লাশে পরিণত হতে দেখেছেন বলেই হয়েছে। ৩১শে অক্টোবরের পূর্বে, ৪ জন লেখক ব্লগারকে ইসলামিক মৌলবাদীরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার সময় তিনি একটুও সাড়াশব্দটুকু করেন নি। এটা তার দোষ নয়; বাঙলাদেশের সাহিত্যিক শিক্ষক সুশীল সমাজ রাজনীতিক সাধারণ মানুষও ততোক্ষণ চুপ থাকে, যতক্ষণ না পর্যন্ত তার নিজ গলায় ছুরি চালানো হয়।

১১ বছর আগে, ২০০৪ সালে যখন সাহিত্যিক অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদকে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে আক্রমণ চালানো হয়েছিল তখনও আবুল কাসেম ফজলুল হকের মধ্যে এই উপলব্ধি জাগ্রত হয় নি। ২০০৪ সালে, হুমায়ুন আজাদের স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির শোক সভায় তিনি উপস্থিত সকলকেই হতবাক করিয়ে দেন। শোক সভায় তিনি এমন কিছু বলেছিলেন যা খুবই আপত্তিকর, প্রতিটি বাক্যই আক্রমণাত্মক হিংসাত্মক ছিল।

তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে হুমায়ুনকন্যা স্মিতা আজাদ প্রতিবাদ করেন এবং বলেন, লেখার কারণে হত্যা বৈধ ঘোষণা করাও যে সম্ভব এটা এই শোক সভায় উপস্থিত না থাকলে জানা হত না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকই যখন (আব্বুর)হুমায়ুন আজাদের উপর আক্রমণ বৈধ ঘোষণা করে তাহলে ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের সাথে তাদের পার্থক্য থাকে না। স্মিতা আজাদের বক্তব্যের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক দুঃখ লজ্জা প্রকাশ করে বলেন, এই দুই ছোট বাচ্চার (স্মিতা ও আমি) সামনে এই ধরণের কথা বলা উচিত হয় নি। এই পরিবারটির সাথে টানা ৭ মাস যা ঘটেছে তা দেশের জন্যই লজ্জাজনক, অপমানজনক।

সাহিত্যিক অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদের(৫৭) মৃত্যুর সময় আবুল কাসেম ফজলুল হকের বয়স ছিল ৬৫ বছর এবং আমার বয়স ছিল ১৩ বছর। ৬৫ বছরের জীবনে তখনও আবুল কাসেম ফজলুল হকের শুভবুদ্ধির উদয় হোক এই উপলব্ধি জাগ্রত হয় নি। পুত্র প্রকাশক দীপনকে হত্যা করার পর বর্তমানে ৭৬ বছর বয়সী আবুল কাসেম ফজলুল হক উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন যে, সবার মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হোক। আবুল কাসেম ফজলুল হক হুমায়ুন আজাদের হত্যা প্রচেষ্টা বৈধ করতে পারে কিন্তু আমি দীপনের হত্যা বৈধ করতে পারি না। ১৩ বছরে আমার মধ্যে যে উপলব্ধি জাগ্রত হয়েছিল সেটা প্রিয় আবুল কাসেম ফজলুল হকের ৭৬ বছরে এসে হয়েছে।

৬ নভেম্বর ২০১৫

১ thought on “৭৬ বছর বয়সে আবুল কাসেম ফজলুল হকের শুভবুদ্ধির উদয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *