হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লম্বাহাতা ব্লাউজ নিয়ে কটূক্তি করেছে

সম্প্রতি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লম্বাহাতা ব্লাউজ নিয়ে কটূক্তি করেছে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা শ্যামল চক্রবর্তী তার বক্তব্যে বলেছে-“বর্তমানে বাংলার সম্রাজ্ঞী শ্রীমতি শেখ হাসিনা। বাংলার হিন্দু নাবলিকা মেয়েদের উঠিয়ে নেয়া হয় আর ওনার ব্লাউজ লম্বা হয়। ওনার হাতের ব্লাউজ লম্বা হলেও বাংলার হিন্দু নাবালিকাদের তুলে নেওয়া বন্ধ হবে না।” (সূত্র: http://goo.gl/WFCzUh)আসলে এ বক্তব্য দ্বারা শ্যামল চক্রবর্তী বুঝাতে চেয়েছে- শেখ হাসিনার লম্বাহাতা ব্লাউজ তাকে মুসলমানদের প্রতিনিধি হিসেবে প্রমাণ করে, আর প্রধানমন্ত্রী মুসলমানদের মত ব্লাউজ পরলে হিন্দুদের প্রতিনিধি কে হবে ?এখানে কথা হচ্ছে হিন্দুদের এতকিছু থাকতে শেখ হাসিনার লম্বাহাতা ব্লাউজের দিকে চোখ পড়লো কেন ?এর উত্তর হচ্ছে- লম্বাহাতা ব্লাউজ পরা ভারতীয় মুসলিম নারীদের অতি প্রাচীন ঐতিহ্য। যদিও শাড়ি ব্লাউজ আরবীয় মুসলমানদের কালচার নয়, তবে এ অঞ্চলের মুসলমানরা দোপাট্টার বিকল্প হিসেবে শাড়ি-ব্লাউজ-পেটিকোট পরিধান করতো। আর পর্দাশীনতা প্রকাশে লম্বা হাতা ব্লাউজের কোন বিকল্প ছিলো না। ব্রিটিশ প্রিয়ডে যে কোন মুসলিম নারীকেই তাই লম্বা হাতা ব্লাউজ পরতে দেখা যায়। আপনি যদি বেগম রোকেয়ার ছবিগুলো দেখেন, তবে সহজেই বুঝতে পারবেন, লম্বাহাতা ব্লাউজ পরিধান করা এ অঞ্চলের মুসলিম নারীদের অতি আদি কালচার।অপরদিকে আপনি যদি ভারতীয় হিন্দু নারীদের দিকে তাকান তবে কিন্তু পাবেন সম্পূর্ণ বিপরীত বিষয়। বিশেষ করে আজ থেকে কযেকশ’ বছর আগে ভারতের অনেক অঞ্চলের হিন্দু নারীরা বক্ষদেশ ঢাকতেই পারতো না। তারা নিচের অংশে লুঙ্গির মত পরতো, কিন্তু উপরের অংশকে খোলা রাখতে হতো। যদি কোন হিন্দু নারী বক্ষদেশ ঢাকতে চাইতো, তবে তাদেরকে জমিদারকে একটি ট্যাক্স দিতে হতো, যার নাম ব্রেস্টট্যাক্স। উল্লেখ্য, হিন্দুরা নারীরা মুসলিম নারীদের অনুসরণে বক্ষ ঢাকতেও চাইলে হিন্দুরা পুরুষরা বার বার তাদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে, এমনকি এ অধিকার পাওয়ার জন্য হিন্দু নারীরা দাঙ্গা পর্যন্ত করে ( এ সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে-http://goo.gl/4O82fM)বাংলার হিন্দু নারীদের মধ্যে ব্লাউজ পরিধান করার কালচার ছিলো না। এ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের বউদী সম্পর্কে একটি ঘটনা জানা যায়। রবীন্দ্রনাথের বড় ভাই সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী জ্ঞানদানন্দিনী দেবী ব্লাউজ ছাড়া ব্রিটিশদের একটি অনুষ্ঠানে যোগদান করতে যায়। কিন্তু শাড়ির নিচে নগ্ন বক্ষের কারণে তাকে ক্লাবে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। (http://goo.gl/6zARXG)তাহলে হিন্দু নারীরা ব্লাউজ পরিধান শিখলো কিভাবে ?এ সম্পর্কে লেখক গোলাম আহমদ মোতর্জা তার বজ্রকলম বইয়ে ১৯৯ পৃষ্ঠায় লিখেন-“১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল- লম্বা শাড়ী পরলেও বাঙ্গালী হিন্দু মহিলারা প্রায় উলঙ্গই থাকতো এবং এরূপ পোষাক প্রকাশ্যে জনসমক্ষে পরিধান করার জন্য মোটেই যথেষ্ট নয়। কেশব সেনের কন্যা সুচারু দেবী মুসলমানদের পোষাক লক্ষ্য করে আধুনিকভাবে পোশাক পরার প্রচলনের প্রতিষ্ঠাত্রী বলা যায়।”অর্থাৎ ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে,ব্লাউজ বিশেষ করে লম্বাহাতা পরিধান করাই ছিলো মুসলমানদের কালচার, অপরদিকে বক্ষ উন্মুক্ত কিংবা ব্লাউজ ছাড়া শাড়ি পরিধান করা ছিলো হিন্দুদের কালচার। যেহেতু শেখ হাসিনা লম্বাহাতা ব্লাউজ পরিধান করেছেন তাই তিনি মুসলিম সমাজের প্রতিনিধিত্ব করছেন, এ কারণেই হিন্দুদের এত এলার্জি। এখন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান নেতার ভাষ্য অনুসারে হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য শেখ হাসিনাকে শুধু ব্লাউজের হাতা কেটে ফেললেই হবে না, বরং হিন্দুদের নারীদের মত ব্লাউজ ছাড়া শুধু শাড়ি পরতে হবে, যেটা সভ্য সমাজের পক্ষে কখনই সম্ভব নয়। হিন্দুরা এই আধুনিক যুগে এসেও কিভাবে জনসম্মুখে পুরো জাতিকে সেই জংলী যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায় তা আমার বুঝে আসে না।সবাইকে লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

১ thought on “হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লম্বাহাতা ব্লাউজ নিয়ে কটূক্তি করেছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *