সুইডেন আওয়ামী লীগে একাল ও সেকাল

আগামী ১৩ মার্চ ২০১৬ সুইডেন ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতেই আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও নির্বাচন নিয়ে বেশ উত্তেজনা ও কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা নিয়ে সুইডেনে আওয়ামী প্রেমী প্রবাসীদের মাঝে অনেক প্রশ্ন উদয় হয়েছে বা উদয় হওয়াই বেশ স্বাভাবিক | নির্বাচনী হওয়া শুরু হলে একটা নির্বাচনী উত্তেজনা বিরাজ করে, তাই আমরা সবাই আশা করি সেই উত্তেজনা যেন কারো উপর ব্যক্তিগত আক্রোশের পর্যায়ে চলে না যায়, যদি তাই হয়ে তবে নিয়মের চাইতে অনিয়মের পাল্লাই ভারী হতে থাকে, বিভাজনের রাজনীতি সুস্থ একটি পরিবেশকে গ্রাস করে বসে |

আগামী ১৩ মার্চ ২০১৬ সুইডেন ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতেই আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও নির্বাচন নিয়ে বেশ উত্তেজনা ও কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা নিয়ে সুইডেনে আওয়ামী প্রেমী প্রবাসীদের মাঝে অনেক প্রশ্ন উদয় হয়েছে বা উদয় হওয়াই বেশ স্বাভাবিক | নির্বাচনী হওয়া শুরু হলে একটা নির্বাচনী উত্তেজনা বিরাজ করে, তাই আমরা সবাই আশা করি সেই উত্তেজনা যেন কারো উপর ব্যক্তিগত আক্রোশের পর্যায়ে চলে না যায়, যদি তাই হয়ে তবে নিয়মের চাইতে অনিয়মের পাল্লাই ভারী হতে থাকে, বিভাজনের রাজনীতি সুস্থ একটি পরিবেশকে গ্রাস করে বসে |
প্রসঙ্গত একটা বিষয় উল্ল্যাখ না করলেই নয় যা হচ্ছে যে কোন ঘটনার প্রতিকার বা বিচারের দাবি আমরা জানাতেই পারি তবে কাউকে দল থকে বহিষ্কারের ক্ষমতাটা আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র মোতাবেক শুধু মাত্র দলের প্রধানের হাতেই অর্পিত, এ ক্ষেত্রে দল থেকে কাউকে অপসারণের দাবি জানানোটা কতটা যুক্তি সঙ্গত তা ভেবে দেখার বিষয় | বৃহৎ একটি সমর্থক গোষ্ঠী একত্রে কাজ করতে গেলে মতের অমিল হওয়াই স্বাভাবিক আর অমিলকে জয় করে দলের ভাবমূর্তিকে সমুন্নত রাখা আমাদের সকলেরই দায়িত্ব |
এ ক্ষেত্রে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেবার প্রয়োজন নাই কারণ এতে কাদা ছোড়াছুড়ি পরিমাণ বেড়েই যাবে তাই ব্যক্তিগত ভাবে বিরত থাকার পক্ষেই অবস্থান নিলাম |
৯০ দশকের পর সম্ভবত ১৯০৭ সালেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠন তন্ত্রে প্রবাসে রাজনৈতিক শাখা বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়, কিন্তু তাই বলে প্রবাসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মাঝে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা ও সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মাঝে কিছু কিছু কর্মীর চেষ্টার ত্রুটি ছিল না, নিঃস্বার্থ ভাবে প্রবাসে যারাই ৯০ পরবর্তীতে সময়ে দলের দুর্দিনে সমর্থক হিসাবে দলের স্বার্থে সুইডেনে আওয়ামী লীগের জন্যে কাজ করে গেছেন তাদের বিষয়টি উল্ল্যাখ না করলে নিজের মাঝে অপরাধ বোধ কাজ করে | আজ তাই সেই ৯০ পরবর্তী সময়ে সুইডেনের সেই সব কর্মীদের কথা লিখতে বসেছি |
স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার ও বি এন পি’র শাসন আমল থেকেই আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মাঝে এক নিদারুণ হতাশা এসে ভিড় জমায়, এমত অবস্থায় সুইডেন আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মাঝে চেতনা জাগ্রত রাখতে ও এই হতাশা উত্তরণে আওয়ামী লীগের ছায়া সংগঠন জয় বাংলা সংগঠনের অবদান কোনও ভাবেই উপেক্ষা করা যায় না | ১৯৯৬ সাল থেকেই এই সংগঠনটি যারা শক্ত হাতে পরিচালনা করে আওয়ামী সমর্থকদের মাঝে অনুপ্রেরণা জাগিয়ে রেখেছেন, তাদের অবদান যদি আমরা এত সহজেই ভুলে যাই তবে সেটা হবে এক ধরনের অকৃতজ্ঞতা | জয় বাংলা সংগঠনটি আমাদের মাঝে আওয়ামী চেতনা যদি উজ্জীবিত করে না রাখত তবে বি এন পি ও জামাতের বিষাক্ত ছোবলে আজ আমরা হারিয়ে যেতাম | যে সব কর্মীরা ৯০ পরবর্তী সময়ে সুইডেনে ক্ষমতা ও লোভ লালসার ঊর্ধ্বে থেকে আমাদের আওয়ামী চেতনাকে জাগ্রত রেখেছে তাদের প্রতি তাই আজ আমি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি | সুইডেনে এই জয় বাংলা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনটি সাবলীল ভাবে এগিয়ে গিয়েছিল | আমি ব্যক্তিগত ভাবেই ৯০ পরবর্তী সময়ে সুইডেনে আওয়ামী সমর্থকদের পক্ষ থেকে জয় বাংলা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে অভিনন্দন জানাই, সেই সাথে সেই সব নিঃস্বার্থ ও নিবেদিত প্রাণগুলো তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি | সুইডেন আওয়ামী প্রেমীদের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে রাত দিন উপেক্ষা করে তারা বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড যেমন বাৎসরিক বনভোজন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন সচল রাখে | আজ এই সব কর্মীদের নিঃস্বার্থ অবদান ছিল বলেই আমরা আজ আমার একটি সুন্দর সুইডেন আওয়ামী লীগ, সম্মেলন ও নির্বাচনের স্বপ্ন দেখার আশা পোষণ করছি |
সময়ের সাথে সাথে আওয়ামী সমর্থকদের মাঝে যে শক্তি উদ্দীপনা জাগ্রত হয়েছে তার পেছনে এইসব কর্মীদের অবদান কি অতি সহজে ভুলে থাকা যায় ?
আমি বলছিনা যে সম্মেলন ও নির্বাচন নিয়ে আমাদের মাঝে মতের অনৈক্য ঘটবে না, পদের অধিকার অর্জনে সকল সদ্যসদ্যের মাঝে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় টান টান উত্তেজনা থাকবেই, এটাই স্বাভাবিক, তাই বলে এই উত্তেজনা যদি ব্যক্তিগত আক্রোশ বা অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দেয় সেটা হবে সুইডেন আওয়ামী প্রেমীদের জন্যে একটি দুঃখজনক অধ্যায় |
আমার যারাই আজও সুইডেনে প্রবাসী বাঙালী, যারাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থক সম্প্রদায় সর্বদাই একটি অগ্রজ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি |
সবার জন্যে শুভকামনা, জয় বাংলা, জয় হোক বাংলার মেহনতি মানুষের |
মাহবুব আরিফ (কিন্তু)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *