টি-টোয়েন্টি কাপে ভারতের কাছে পাকিস্তান হেরে যাওয়ায় মনের দুঃখে রাতে ভাত খায়নি একজন শ্রদ্ধেয় ইমামসাহেব!

টি-টোয়েন্টি কাপে ভারতের কাছে পাকিস্তান হেরে যাওয়ায় মনের দুঃখে রাতে ভাত খায়নি একজন শ্রদ্ধেয় ইমামসাহেব!
সাইয়িদ রফিকুল হক

বাংলাদেশে এখন ক্রিকেট খেলার জমজমাট আসর। বর্তমানে চলছে টি-টোয়েন্টি এশিয়া-কাপ। আর এতে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ-সহ ভারত, শ্রীলংকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। এরই মধ্যে এটি ক্রিকেটযুদ্ধে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানী-সাপোর্টাররা পাকিস্তানের জন্য যেকোনো সময় জীবন দিয়ে দিতে রাজী। একমাত্র পাকিস্তানই এদের সর্বসুখের মূল উৎস। তাই, পাকিস্তানের জন্য এদের মন সবসময় কাঁদে।


টি-টোয়েন্টি কাপে ভারতের কাছে পাকিস্তান হেরে যাওয়ায় মনের দুঃখে রাতে ভাত খায়নি একজন শ্রদ্ধেয় ইমামসাহেব!
সাইয়িদ রফিকুল হক

বাংলাদেশে এখন ক্রিকেট খেলার জমজমাট আসর। বর্তমানে চলছে টি-টোয়েন্টি এশিয়া-কাপ। আর এতে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ-সহ ভারত, শ্রীলংকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। এরই মধ্যে এটি ক্রিকেটযুদ্ধে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানী-সাপোর্টাররা পাকিস্তানের জন্য যেকোনো সময় জীবন দিয়ে দিতে রাজী। একমাত্র পাকিস্তানই এদের সর্বসুখের মূল উৎস। তাই, পাকিস্তানের জন্য এদের মন সবসময় কাঁদে।

কয়েকদিন আগে (২৬-এ ফেব্রুআরি, শনিবার) এশিয়া-কাপের জমজমাট ম্যাচ হয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। আর এই ম্যাচে তেমন একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পেরে ভারতের কাছে শোচনীয়ভাবে হেরে গেছে পাকিস্তান। আর এতে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের পাকিস্তানীবংশধররা। তারা এখনও ভয়ানকভাবে বেসামাল! এই মাচে হারের জন্য তারা ভারতকে দায়ী করছে। ভারত নাকি ষড়যন্ত্র করে পাকিস্তানকে পরাজিত করেছে। খেলা হয়েছে মাঠে, বাংলাদেশের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে। ভারত কীভাবে এখানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে? আমরা জানি, পাকিস্তানী-সাপোর্টারদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু তাই বলে এতোটা? আর সঙ্গে-সঙ্গে বাংলাদেশের পাকিস্তানপ্রেমিকরা দায়ী করছে বাংলাদেশকেও। তারা বলছে: পাকিস্তানকে নাকি আমাদের দেশে ঠিকভাবে আদর-যত্ন করা হচ্ছে না। এদেশে তাদের পাকিভাইদের খাতির-যত্ন নাকি কমে গেছে! তাই, তারা শোচনীয়ভাবে ভারতের কাছে হেরে গেছে!

আমাদের শ্যামলী এলাকার এক মৌলভীসাহেব (মাওলানা আনোয়ার হোসেন পেশোয়ারী) শনিবার সন্ধ্যার আগে থেকে, মানে মাগরিবের নামাজের আগে থেকে পাকিস্তানের খেলা দেখার জন্য ভীষণবিরাট প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। পারলে সে খেলার জন্য নামাজ বাদ দেয় আরকি! পাকিস্তানের খেলা বলে কথা। পাক-মুলুকের সবই যদিও নাপাক! তবুও আমাদের দেশের আবোলতাবোলদের কাছে পাকিস্তানের সবকিছুই জায়েজ। আর পাকিস্তানের খেলা দেখতে গিয়ে নামাজ তরক করলেও কোনো গুনাহ হবে না—এই হচ্ছে বাংলাদেশের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা পাকিস্তানপন্থীদের ঈমানআকিদাহ। পাকিস্তানের খেলা দেখাও নাকি ছওয়াবের কাজ! খেলার আগে এক ইমামসাহেব সবার সামনে তা-ই বলে বসলো। এই নিয়ে লোকজনের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হলে লোকটি তখন ভোল পাল্টে বললো, “না, মানে, পাকিস্তান মুসলমানের দেশ। সে দেশের খেলা দেখাও জায়েজ!”

খেলা শুরু হওয়ার পর থেকে ইমামসাহেব কয়েকজন মুসল্লী নিয়ে একটা বাসায় বসে খেলা দেখছে। আর দেখতে-দেখতে উত্তেজনায় একেবারে ফেটে পড়েছে।
পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করছে। এতে ইমামসাহেবের আনন্দ আরও বেশি! কারণ, শুরু থেকে সে পাকজওয়ানদের খেলা দেখার বিরাট সৌভাগ্য অর্জন করেছে! এই সৌভাগ্য কয়জনের হয়? পারলে এই ইমামসাহেব পাকিস্তানের খেলা দেখার জন্য আজকের মাগরিব-এশার নামাজ কামাই করতো। কিন্তু মুসল্লীদের ভয়ে সে এই কাজটি করতে পারলো না। কয়েকটি চার-ছক্কা দেখে তার মনে ভীষণ আনন্দ! ইমামসাহেব খুশিতে কয়েকবার হাততালি দিয়ে ফেললো। অথচ, এই ইমামসাহেব গত জুম্মায় মসজিদের মিম্বরে বসে বলেছিলো: “মুসলমানদের হাততালি দেওয়া সম্পূর্ণ না-জায়েজ! আর যারা আলেম-উলামাদের কথা অমান্য করে এই না-জায়েজ হাততালি দিবে তারা ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে!” আর সেই ইমামসাহেব এখন জেনেশুনে ক্রমাগত হাততালি দিচ্ছে। একজন মুসল্লী ইমামসাহেবের কাণ্ড দেখে বললো, “হুজুর, আপনি হাততালি দিচ্ছেন যে!”
ইমামসাহেব মুসল্লীর কথাটার মানে বুঝতে পেরে সদ্যোফোটা-গোলাপ-ফুলের হাসি উপহার দিয়ে বললো: “আরে ভাই, পাকিস্তানের খেলা! এখানে শুধু হাততালি কেন সবই জায়েজ!”
ইমামসাহেবের এই কথা শুনে ওই মুসল্লী রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

একসময় খেলায় ভারতের কাছে পাঁচ উইকেটে পরাজিত হয় পাকিস্তান। এমনকি ভারত ১৭ বল বাকী থাকতেই জয় করায়ত্ত করে নেয়!
ইমামসাহেব মন খারাপ করে মসজিদের হুজরায় ফিরে যায়। আর তার খাদেমকে ডেকে সোজা বলে দেয়, “আজ রাতে আর ভাত খাবো না।”
ভারতের কাছে পাকিস্তান শহীদ হয়ে গেছে! এখানে খাবার খেলে তার ঈমানের দুর্বলতাপ্রকাশ পাবে! তাই, ইমামসাহেব এই শুভবুদ্ধির আশ্রয়গ্রহণ করেছে।
আজ বাংলাদেশে এইরকম ঈমানদার ইমামসাহেবই তো দরকার!

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।

৪ thoughts on “টি-টোয়েন্টি কাপে ভারতের কাছে পাকিস্তান হেরে যাওয়ায় মনের দুঃখে রাতে ভাত খায়নি একজন শ্রদ্ধেয় ইমামসাহেব!

  1. এইসব কুলাঙ্গারকে পকিস্তানে
    এইসব কুলাঙ্গারকে পকিস্তানে পাঠাতে হবে… তাছাড়া আর কোন উপায় নেই… :টাইমশ্যাষ:

    1. ঠিকই বলেছেন ভাই। এই
      ঠিকই বলেছেন ভাই। এই পাপিষ্ঠদের জন্য দেশটা আগাতে পারছে না।
      আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

  2. একসময় খেলায় ভারতের কাছে পাঁচ
    একসময় খেলায় ভারতের কাছে পাঁচ উইকেটে পরাজিত হয় পাকিস্তান। এমনকি ভারত ১৭ বল বাকী থাকতেই জয় করায়ত্ত করে নেয়! ইমামসাহেব মন খারাপ করে মসজিদের হুজরায় ফিরে যায়। আর তার খাদেমকে ডেকে সোজা বলে দেয়, “আজ রাতে আর ভাত খাবো না।” ভারতের কাছে পাকিস্তান শহীদ হয়ে গেছে! এখানে খাবার খেলে তার ঈমানের দুর্বলতাপ্রকাশ পাবে! তাই, ইমামসাহেব এই শুভবুদ্ধির আশ্রয়গ্রহণ করেছে। আজ বাংলাদেশে এইরকম ঈমানদার ইমামসাহেবই তো দরকার!

    হা হা বড়ই দুঃখ জনক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *