ইসলাম ধর্মে নারীদের এতো অসম্মান,তারই প্রমাণ পবিত্র কোরআনে।

আল্লাহ কি নারীদের এতো অসম্মান করেন?ইসলাম ধর্মের নারীদের এতো হীন চোখে দেখা হয়।তাদেরকে কেন এতো শস্যক্ষেত্র হিসেবে দেখা হবে।যে পুরুষরা যা ইচ্ছা তাই করবে।যখন পুরুষের ইচ্ছা জাগবে তখন সেই নারীকে যৌনকাজ সহ বিভিন্ন কাজে লিপ্ত করাবে।কি অপরাধ আছে ইসলাম ধর্মে নারীদের? পবিত্র কোরআন সুরাতে আছে——-সূরা বাকারা:আয়াত 223- তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের শস্যক্ষেত্র ।তোমাদের যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যাবহার কর।আর নিজেকে আগামী দিনের জন্য ব্যবস্থা কর এবং আল্লাকে ভয় করতে থাক। তাহলে আল্লারও কি নারীদের প্রতি লালসা,মোহ,লোভ রয়েছে।তার এতোই শক্তি যে তার আদেশ পালন করতে এবং তাকে ভয় করতে হবে।কি আছে ব্যাবহার করার মতো সেই নারীদের?যে তাদেরকে পাশবিক নির্যাতনের মতো পুরুষদের দ্বারা ব্যাবহৃত হবে।তাকে যৌনদাসীর মত করা হবে।নারীরা দুর্বল বলে কি শক্তিশালী পুরুষরা যাই ইচ্ছা তাই করবে।আজীবন তারা আল্লার নির্দেশে পুরুষদের ব্যবহৃত সামগ্রীর মত পড়ে থাকবে।নারীদের কেন তাদের দৃষ্টি নত রাখতে হবে?যদি পুরুষরা ভালো হয়।তাদেরকে কেন নিজের যৌনাঙ্গকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে?যদি আল্লাহ তার অনুসরগণদের এমন শিক্ষা না দিতেন।তাদের শরীরে কি আছে?যে তারা প্রকাশ করতে পারবে না এবং তাদের সৌন্দর্য্য প্রদর্দশন করতে পারবে না। সূরা নুর:আয়াত 31—- ইমামগণ নারীদেরকে বলুন,তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাজত করে।তারা যা সাধারণত:প্রকাশমান ,তাছাড়া তাদের সৌন্দর্য্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তার যেন তাদের স্বামী,পিতা,শ্বশুর,পুত্র,স্বামীর পুত্র ভ্রাতা ,ভগ্নিপুত্র ,স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী ,যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ,তাদের ব্যতীত কারো কাছে সৌন্দর্য্য প্রকাশ না করে।তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্ব্যা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণ না করে।মুমিনগণ তোমরা আল্লাহকে তওবা কর যাতে তোমরা সফলকাম হও।তাহলে আল্লাহ কি শুধু নারীদের দৃষ্টি রাখার জন্য নবী,রাসূল,ইমামগণদের বলেছেন। এর থেকে পরিষ্কাল বুঝা যায় যে মুমিণগণ,রাসুল ও তার অনুসরগারী পুরুষগণ নারীকে প্রকাশ্য দর্শন পেলে যৌন তৃচ্ঞা প্রবলভাবে জেগে উঠবে।তাদের গৌপনণাঙ্গও প্রয়োজন নেই তারা নারীর কিছু দৃশ্য দেখলেও নেত্র দিয়ে ধর্ষণ করবে এবং ওই নারীর সাথে কাল্পনিক যৌনমিলনও করবে। এখন প্রশ্ন জাগে–অন্য জাতির নারীদের কি করবে ইসলাম ধর্ম?

৩ thoughts on “ইসলাম ধর্মে নারীদের এতো অসম্মান,তারই প্রমাণ পবিত্র কোরআনে।

  1. কিসে সম্মান আর কিসে অসম্মান ,
    কিসে সম্মান আর কিসে অসম্মান , তাই বুঝে আসে না। শস‌্যক্ষেত্র কি অসম্মানের কিছু? যে যা , তাকে তাই বল্লে কেন অসম্মান হবে? আপনার কাছে যদি অসম্মান মনে হয় , তাহলে নারীর বদলে পুরুষকে শস্যক্ষেত্র বানানোর আন্দোলন করুন। এখন থেকে নারীর গর্ভে না হয়ে পুরুষের গর্ভে বাচ্চা বড় হবে। দেখেন বিবর্তনের মাধ্যমে করতে পারেন কি না? করতে পারলে আমরা কোরানকে বর্জন করব কথা দিলাম।

    নিচের আয়াতগুলো কি আপনার চোখে পড়ে না ?

    ৩:১৯৫ অতঃপর তাদের পালনকর্তা তাদের দোয়া (এই বলে) কবুল করে নিলেন যে, আমি তোমাদের কোন পরিশ্রমকারীর পরিশ্রমই বিনষ্ট করি না, তা সে পুরুষ হোক কিংবা স্ত্রীলোক। তোমরা পরস্পর সমান।

    ৩৩:৩৫ নিশ্চয় মুসলমান পুরুষ, মুসলমান নারী, ঈমানদার পুরুষ, ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ, অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ, সত্যবাদী নারী, ধৈর্য্যশীল পুরুষ, ধৈর্য্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ, বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ, দানশীল নারী, রোযা পালণকারী পুরুষ, রোযা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী পুরুষ, , যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী নারী, আল্লাহর অধিক যিকরকারী পুরুষ ও যিকরকারী নারী-তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরষ্কার।

    ২৪:২৬ দুশ্চরিত্রা নারীকূল দুশ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং দুশ্চরিত্র পুরুষকুল দুশ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যে। সচ্চরিত্রা নারীকুল সচ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং সচ্চরিত্র পুরুষকুল সচ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যে। তাদের সম্পর্কে লোকে যা বলে, তার সাথে তারা সম্পর্কহীন। তাদের জন্যে আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।

    ২:২২৮ আর পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার রয়েছে, তেমনি ভাবে স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের উপর নিয়ম অনুযায়ী।

  2. ইসলাম ধর্মে নারীদের এতো
    ইসলাম ধর্মে নারীদের এতো অসম্মান,তারই প্রমাণ পবিত্র কোরআনে। –

    হ্যা ঠিক তাই–

    “যে ব্যক্তি ভাল কাজ করবে, হোক সে পুরুষ কিংবা নারী, এবং সে ঈমানদার হবে, এরূপ লোক জান্নাতে দাখিল হবে, আর তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না।” (আন-নিসা ৪:১২৪)

    “হে মানব-জাতি! তোমরা ভয় কর তোমাদের রবকে, যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের এক আত্মা থেকে এবং যিনি সৃষ্টি করেছেন তার থেকে তার জোড়া, আর ছড়িয়ে দিয়েছেন তাদের দু’জন থেকে অনেক নর ও নারী।” (আন-নিসা ৪:১)
    “আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্যে থেকে সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি লাভ কর এবং সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও দয়া।” (আর-রূম ৩০:২১)

    “আমি বিনষ্ট করি না তোমাদের কোন পরিশ্রমকারীর কর্ম, তা সে হোক পুরুষ কিংবা নারী। তোমরা একে অন্যের সমান।” (আল-ইমরান ৩:১৯৫)

    “বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসী নারী একে অপরের বন্ধু। তারা ভাল কাজের নির্দেশ দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে, তারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আনুগত্য করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের। এদেরই উপর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করবেন।” (আত-তওবা ৯:৭১)

    “তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।” (আল-বাকারা ২:১৮৭)

    “হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে এবং তোমাদেরকে পরিণত করেছি বিভিন্ন জাতিতে ও বিভিন্ন গোত্রে, যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পার। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধিক মোত্তাকী।” (আল-হুজরাত ৪৯:১৩)

    “যে ভাল কাজ করে এবং বিশ্বাসী, হোক সে পুরুষ কিংবা নারী, আমি তাকে অবশ্যই দান করব এক পবিত্র শান্তিময় জীবন এবং তারা যা করত তার জন্য তাদেরকে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করব।” (আন-নাহল ১৬:৯৭)

    “যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করে সে কেবল তদনুরূপ প্রতিফল পাবে। আর যে ব্যক্তি ভাল কাজ করে সে পুরুষই হোক কিংবা নারীই হোক, সে যদি বিশ্বাসী হয় তবে এরূপ লোকেরাই জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেথায় তাদেরকে দেয়া হবে বেহিসাব রিযিক।” (আল-গাফির ৪০:৪০)

    “নিশ্চয় মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনয়ী পুরুষ ও বিনয়ী নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, রোজাদার পুরুষ ও রোজাদার নারী, স্বীয় লজ্জাস্থান হেফাযতকারী পুরুষ ও স্বীয় লজ্জাস্থান হেফাযতকারী নারী এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও অধিক স্মরণকারী নারী–এদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও বিরাট প্রতিদান।” (আল-আহযাব ৩৩:৩৫)

    “সেদিন আপনি দেখতে পাবেন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে যে, তাদের নূর ছুটাছুটি করছে তাদের সামনে ও তাদের ডানে। তাদেরকে বলা হবে: আজ তোমাদের জন্য সুসংবাদ এমন জান্নাতের, যার নিম্নদেশ দিয়ে প্রবাহিত হয় নহরসমূহ, সেখানে তোমরা অনন্তকাল থাকবে। ইহাই মহা সাফল্য।” (আল-হাদীদ ৫৭:১২)

    “পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার প্রাপ্য অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার প্রাপ্য অংশ।” (আন-নিসা ৪:৩২)

    “পুরুষদের জন্য অংশ আছে সে সম্পত্তিতে যা পিতা-মাতা ও নিকট-আত্মীয়রা রেখে যায়; এবং নারীদের জন্যও অংশ আছে সে সম্পত্তিতে যা পিতা-মাতা ও নিকট-আত্মীয়রা রেখে যায়, হোক তা অল্প কিংবা বেশী। তা অকাট্য নির্ধারিত অংশ।” (আন-নিসা ৪:৭)

    “হে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের জন্য বৈধ নয় নারীদের জবরদস্তি উত্তরাধিকার গণ্য করা। আর তাদের আটকে রেখ না তাদের যা দিয়েছ তা থেকে কিছু আত্মসাৎ করতে, কিন্তু যদি তারা কোন প্রকাশ্য ব্যভিচার করে তবে তা ব্যতিক্রম। তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করবে।” (আন-নিসা ৪:১৯)

    “যারা কোন ভাল নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারপর চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। এরাই প্রকৃত দুষ্ট ও মিথ্যাবাদী।” (আন-নূর ২৪:৪)

    “এ কথা সত্য যে, নারীদের উপর পুরুষের যেমন কিছু অধিকার আছে তেমনি পুরুষের উপরও নারীদের কিছু অধিকার আছে।” (মুহাম্মদ সাঃ)

    এগুলো ছাড়াও আরো কিছু আয়াত আছে। তবে বাস্তবতা দেখলেন তো। এই পৃথিবীর দ্বিতীয় কোন গ্রন্থে নারী-পুরুষকে এত বেশীবার পাশাপাশি সম্বোধন করা হয়নি এবং নারীদেরকে এভাবে সরাসরি মর্যাদা ও অধিকারও দেওয়া হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *