ইসলামী বিশ্ব-পর্ব-২(যারা বলে কোরানে বিগ ব্যাং আছে তারা মুনাফিক)

ইদানিং কালে ভুইফোড় কিছু কথিত ইসলামী বিজ্ঞানী অবিরত কোরান হাদিস বিরোধী কথা বার্তা বলে চলেছে , কিন্তু মুমিনেরা চুপ। বরং তারা সেইসব ভুইফোড় লোকদের ইসলাম বিরোধী কথায় ছাগলের বাচ্চার মত লাফায়। যেমন- ইসলামী বিজ্ঞানীরা দাবী করে কোরানে বিগ ব্যাং আছে। কি ভয়াবহ ইসলাম বিরোধী কথা !

বিগ ব্যাং প্রমান করতে যেয়ে তারা যে আয়াত দেখায় সেটা নিম্মরূপ:

সুরা আম্বিয়া- ২১: ৩০: কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এক সাথে যুক্ত ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?


ইদানিং কালে ভুইফোড় কিছু কথিত ইসলামী বিজ্ঞানী অবিরত কোরান হাদিস বিরোধী কথা বার্তা বলে চলেছে , কিন্তু মুমিনেরা চুপ। বরং তারা সেইসব ভুইফোড় লোকদের ইসলাম বিরোধী কথায় ছাগলের বাচ্চার মত লাফায়। যেমন- ইসলামী বিজ্ঞানীরা দাবী করে কোরানে বিগ ব্যাং আছে। কি ভয়াবহ ইসলাম বিরোধী কথা !

বিগ ব্যাং প্রমান করতে যেয়ে তারা যে আয়াত দেখায় সেটা নিম্মরূপ:

সুরা আম্বিয়া- ২১: ৩০: কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এক সাথে যুক্ত ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?

উক্ত আয়াত বলছে , আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবী এক সাথে যুক্ত ছিল। আর আল্লাহ দয়া করে তাদেরকে পৃথক করে দিয়েছে। তা না হলে আকাশের কারনে আমরা পৃথিবীতে চলাচল করতে পারতাম না। বিষয়টি ভালভাবে জানতে , কোরানে কয়টি আকাশ ও কয়টি পৃথিবীর কথা বলেছে সেটা জানা দরকার।

সুরা তালাক-৬৫: ১২: আল্লাহ সপ্তাকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীও সেই সংখ্যায়, এসবের মধ্যে তাঁর আদেশ অবতীর্ণ হয়, যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং সবকিছু তাঁর গোচরীভূত।

হাদিসেও সাত পৃথিবীর কথা বলা আছে:

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৩ :: অধ্যায় ৪৩ :: হাদিস ৬৩২:
আবুল ইয়ামান (র)….. সাঈদ ইব্‌ন যায়দ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা) কে বলতে শুনেছি যে, ব্যক্তি কারো জমির অংশ জুলুম করে কেড়ে নেয়, কিয়ামতের দিন এর সাতটা পৃথিবী তার গলায় লটকিয়ে দেওয়া হবে।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৩ :: অধ্যায় ৪৩ :: হাদিস ৬৩৩:
আবূ মা’মার (র)…. আবূ সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন যে, তাঁর এবং কয়েকজন লোকের মধ্যে একটি বিবাদ ছিল। আয়িশা (রা) এর কাছে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, হে আবূ সালামা! জমির ব্যাপারে সতর্ক থাক। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি এক বিঘত জমি অন্যায়ভাবে নিয়ে নেয়, কিয়ামতের দিন এর সাতটা পৃথিবী তার গলায় লটকিয়ে দেওয়া হবে।

তার মানে আল্লাহ সৃষ্টি কার্যের প্রারম্ভেই সাতটা আকাশ ও সাতটা পৃথিবী তৈরী করে একসাথে সংযুক্ত রেখেছিল, অর্থাৎ সেই সাত আকাশ ও সাত পৃথিবীই এক সাথে যুক্ত ছিল। আল্লাহ দয়া করে তাদেরকেই খালি পৃথক করে দিয়েছে। পৃথক করতে গিয়ে আল্লাহ তাদেরকে ঠেলা দিয়ে পরস্পরের কাছ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। সেই কারনেই আমাদের পৃথিবী থেকে প্রথম আকাশ বেশ উপরে উঠে গেছে। একই সাথে বাকী ছয়টা আকাশ উপরের দিকে আল্লাহ ঠেলে সরিয়ে দিয়েছে, আর বাকী ছয়টা পৃথিবী আল্লাহ আমাদের পৃথিবীর নিচে সরিয়ে দিয়েছে। সেই কারনেই আমরা বাকী ছয় আকাশ বা ছয় পৃথিবী দেখতে পারি না।

উক্ত বর্ননা থেকে বোঝা যাচ্ছে , আকাশও পৃথিবীর মত কঠিন পদার্থ দ্বারা তৈরী , না হলে তাকে সাত আকাশ সাত পৃথিবীর সাথে একসাথে আবদ্ধ থাকবে কিভাবে ? আর তাছাড়া যখন সাত আকাশকে একটা থেকে আর একটাকে পৃথক করবে , আকাশ গ্যাসীয় পর্দার্থ হলে তো সেটা সম্ভব না। গ্যাসীয় পদার্থের তৈরী একটা স্তুরকে আর একটা স্তর থেকে আলাদা ভাবে পৃথক করা যায় না। আকাশ যে কঠিন পদার্থের তৈরী ও সেটাও যে পৃথিবী পৃষ্টের মত একটা সমতল ভূমির মত, সেটা হাদিসে খুব সুন্দরভাবে বর্ণিত আছে। মিরাজের রাতে আমাদের নবী যখন গাধা সদৃশ ডানা ওয়ালা এক জীব বোরাকের পিঠে সওয়ার হয়ে আল্লাহর সাথে খোশ গল্প করতে যাচ্ছিলেন , তখন তিনি একটার পর একটা আকাশ ভ্রমন করেন , আর প্রতিটি আকাশে বসবাসরত জীব জন্তু , ফেরেস্তা , এমনকি পূর্বেকার সকল নবী রসুলদের সাথে সাক্ষাত করেন ও খোশ গল্প করেন।

এ ছাড়া আকাশ যে আসলেই কঠিন পদার্থ যার রং অনেকটাই নীল, সেটা তো সরাসরি আমরা নিজেরাই প্রতিদিন দেখে থাকি।পরিস্কার আকাশের দিকে তাকালেই যে কেউ সেটা সহজে দেখতে পারে। এই অতি সহজ সত্য বিষয় জানতে আসলে আল্লাহর বানী দরকার পড়ে না। যে কোন মূর্খ ও পাগলেও বলতে পারবে আকাশ দেখতে কেমন। তারপরেও, আকাশ যে কঠিন পদার্থের তৈরী , কোরানই আকাশকে বর্ণনা করতে গিয়ে সেটা প্রকাশ করেছে , যেমন :

সুরা বাকারা- ২: ২২: যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।

সুরা আম্বিয়া- ২১: ৩২: আমি আকাশকে সুরক্ষিত ছাদ করেছি; অথচ তারা আমার আকাশস্থ নিদর্শনাবলী থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।

সুরা আল মুমিন- ৪০: ৬৪: আল্লাহ, পৃথিবীকে করেছেন তোমাদের জন্যে বাসস্থান, আকাশকে করেছেন ছাদ এবং তিনি তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর তোমাদের আকৃতি সুন্দর করেছেন এবং তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন পরিচ্ছন্ন রিযিক। তিনি আল্লাহ, তোমাদের পালনকর্তা। বিশ্বজগতের পালনকর্তা, আল্লাহ বরকতময়।

আকাশকে বার বার দালানের ছাদের সাথে তুলনা করা হয়েছে। তো দুনিয়াতে কোন দালানের ছাদ কি গ্যাসীয় পদার্থের বা শুন্য দ্বারা তৈরী হয় নাকি ? আকাশ কঠিন পদার্থের তৈরী ভূখন্ড আর তা আমাদের পৃথিবীর উপর অবস্থিত বলেই তো আল্লাহ বার বার আকাশকে ছাদ বলে অভিহিত করেছে। কিন্তু খুটি ছাড়া এভাবে কঠিন ছাদ অত উচুতে ধরে রাখা একটা অসম্ভব ব্যপার, কিন্তু আল্লাহর কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই। সেই কারনেই আল্লাহ বলছে:

সুরা লোকমান – ৩১: ১০: তিনি খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন; তোমরা তা দেখছ। তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্বপ্রকার জন্তু। আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি, অতঃপর তাতে উদগত করেছি সর্বপ্রকার কল্যাণকর উদ্ভিদরাজি।

অর্থাৎ আল্লাহ তার অলৌকিক ক্ষমতাবলে কঠিন ছাদ স্বরূপ আকাশকে আমাদের পৃথিবীর উপরে তুলে ধরে রেখেছে আর আমাদেরকে নানা রকম বালা মুসিবত থেকে রক্ষা করছে। এর জন্যে আল্লাহর কাছে আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কিন্তু কাফের মুশরিকরা এর পরেও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে না। আল্লাহর গজব পড়ুক তাদের মাথার ওপর।

আল্লাহ যে ইচ্ছা করলে আকাশের খন্ডকে অবিশ্বাসীদের মাথার ওপর ফেলে তাদেরকে হত্যা করতে পারত , কিন্তু দয়া করে আল্লাহ যে সেটা করে না , সেটাও কিন্তু আল্লাহ কোরানে বলেছে:

সুরা সাবা-৩৪: ৯: তারা কি তাদের সামনের ও পশ্চাতের আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিলক্ষ্য করে না? আমি ইচ্ছা করলে তাদের সহ ভূমি ধসিয়ে দেব অথবা আকাশের কোন খন্ড তাদের উপর পতিত করব। আল্লাহ অভিমুখী প্রত্যেক বান্দার জন্য এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।

এত কিছুর পরে , রাতের আকাশ যাতে নিকষ কাল না হয়, সেটা যাতে দেখতে সুন্দর হয়, সেই জন্যে আল্লাহ সর্ব নিম্ন আকাশের নীচে সিলিং থেকে হাজার হাজার আলোর প্রদীপ ঝুলিয়ে দিয়েছে, যেমনটা আমরা দালানের সিলিং থেকে ঝাড়বাতি ঝুলিয়ে দেই, যেমন :

সুরা আল মুলুক- ৬৭: ৫: আমি সর্বনিম্ন আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুসজ্জত করেছি; সেগুলোকে শয়তানদের জন্যে ক্ষেপণাস্ত্রবৎ করেছি এবং প্রস্তুত করে রেখেছি তাদের জন্যে জলন্ত অগ্নির শাস্তি।

সর্ব নিম্ন আকাশের নিচে কেন প্রদীপ ঝুলালেন আল্লাহ ? কারন সর্ব নিম্ন আকাশের উপরের ২য় বা ৩য় বা ৪র্থ ইত্যাদি আকাশ তো আমাদের জন্যে ছাদ না , আর সেসব আমাদের জন্যে দৃশ্যমানও না। তাই তাদের নিচে প্রদীপ ঝুলানোর কোন দরকারও নেই। আবার শয়তানদের হাত থেকে আমাদেরকে রক্ষার জন্যে দয়াময় আল্লাহ মাঝে মাঝে সেসব প্রদীপকে রাতের বেলায় ক্ষেপনাস্ত্রের মত ছুড়ে মারে। তা না হলে , এত দিনে দুনিয়ার সব মানুষকেই শয়তানে নষ্ট করে ফেলত। কেউ আর দ্বীনের পথে থাকত না। এভাবেই আল্লাহ আমাদেরকে সর্বতোভাবে রক্ষা করে চলেছে। বলুন, সুবাহান আল্লাহ !

উপরোক্ত বর্ননা থেকে যে বিষয়গুলো পরিস্কার তা হলো :

১। আল্লাহ একই সাথে , একই সময়ে সাত আকাশ ও সাত পৃথিবী তৈরী করে তাদেরকে একসাথে আবদ্ধ রেখেছিল। অত:পর তাদেরকে এক সময় পৃথক করে দিয়েছে।
২। পৃথিবীর ওপর যে সাত আকাশ বিদ্যমান , সেসবের প্রতিটাই হলো কঠিন পদার্থের তৈরী , পৃথিবী পৃষ্ঠের মত এক একটা রাজ্যের মত।
৩। উপরের প্রথম আকাশ আমাদের পৃথিবীর ওপর ছাদ হিসাবে বিরাজ করছে , আর খুটি ছাড়াই আল্লাহ তাকে উপরে ঠেকিয়ে রেখেছে।
৪। পৃথিবীর ওপর সর্ব নিম্ন যে আকাশ তার নিচে হাজার হাজার প্রদীপ ঝুলিয়ে দিয়েছে আল্লাহ , যা রাতের বেলায় আমরা দেখতে পাই। রাতের আকাশকে সুন্দর করে সাজানোর জন্যেই আল্লাহ এটা করেছে।
৫। সেই সব প্রদীপের কিছু কিছুকে ক্ষেপনাস্ত্রে মত ছুড়ে দিয়ে আল্লাহ শয়তানকে ধাওয়া করে , এর ফলে আমরা শয়তানের হাত থেকে রক্ষা পাই।

উক্ত পয়েন্ট অনুযায়ী ইসলামী বিশ্বের সম্ভাব্য চিত্র হবে নিম্নরূপ:

Takhleeq e Kainat Islami Nazriya / An Islamic concept of Universal Creation

কোরান ও হাদিসের এত সব বর্ণনার সাথে সাম্প্রতিক কালে ইহুদি নাসারা কাফির বিজ্ঞানীদের আবিস্কৃত বিগ ব্যাং-এর কোন মিল আছে ? অথবা তারা মহাবিশ্বের যে বর্ননা দেয় তারও কোন মিল আছে ? আচ্ছা , সেটাও জানা যেতে পারে , সেই কথিত বিগ ব্যাং জিনিসটা আসলে কি সেটা বিস্তারিত জানতে পারলে।

বিগ ব্যাং অনুযায়ী, সুদুর ১৩৫০ কোটি বছর আগে , শূন্য থেকে মহাবিশ্বের উৎপত্তি। প্রথমে কোন নক্ষত্র বা গ্রহ, ছায়াপথ ইত্যাদি কিছুই ছিল না। প্রথমে তৈরী হয় ইলেক্ট্রন , প্রটোন ও নিউট্রনের মত কনিকা। তারা পরে সৃষ্টি করে হাইড্রোজেন নামক প্রাথমিক সহজ সরল মৌলিক পদার্থ। এই হাইড্রোজেনই পরে ঘনীভূত হয়ে গুচ্ছ গুচ্ছ আকারে কক্ষত্র গঠন করেছে। প্রতিটা গুচ্ছকে বলা হয় ছায়াপথ বা গ্যালাক্সি। প্রাথমিক কালের বা প্রজন্মের নক্ষত্রগুলোতে হাইড্রোজেন ছাড়া অন্য কোন উপাদান ছিল না। কিন্তু এইসব নক্ষত্রের অনেকেই এক পর্যায়ে ধ্বংস হয়ে যায় বা মারা যায়। কিন্তু মারা যাওয়ার কালে তারা কার্বন, অক্সিজেন , নাইট্রোজেন সহ অন্যান্য বহু মৌলিক পদার্থের সৃষ্টি করে তা গ্যাসীয় আকারে মহাকাশে ছড়িয়ে দেয়। আর তাদের কেন্দ্র এক পর্যায়ে ব্লাক হোল বা কাল গহ্বরে পরিনত হয়, যারা এখনও মহাকাশে বিদ্যমান। পরবর্তী প্রজন্মের নক্ষত্রগুলো সৃষ্টি হয়েছে , প্রথম প্রজন্মের নক্ষত্রের অবশিষ্ট হাইড্রোজেন সহ নতুনভাবে তৈরী করা কার্বন, অক্সিজেন , নাইট্রোজেন ইত্যাদি মৌলিক পদার্থের কনিকা দ্বারা। মহাকাশে ছড়িয়ে থাকা এইসব মৌলিক পদার্থের কনিকাসমূহ , মহাকর্ষ বলের আকর্ষনে পুঞ্জিভূত হয়ে এক পর্যায়ে তাদের পুঞ্জিভূত বলের পরিমান এত বেশী হয় যে , তার মধ্যে পারমানবিক ক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। সেই পারমানবিক ক্রিয়ার ফলে সৃষ্টি হয় বিপুল তাপ ও আলো। যা আমরা দেখতে পাই। আর তার ফলেই আস্তে আস্তে সেই পুঞ্জিভূত গ্যাস নক্ষত্রে পরিনত হয়। নক্ষত্র সৃষ্টির এটাই অতি সহজ ও সরল প্রক্রিয়া। আমাদের সূর্যের মধ্যেও ঠিক এই ধরনের পারমানবিক ক্রিয়া ঘটে চলেছে প্রতি নিয়ত , আর সেকারনেই আমরা তা থেকে আলো ও তাপ পাই।

সুতরাং কোন নক্ষত্র মহাবিশ্ব সৃষ্টির আদিতে সৃষ্ট ১ম প্রজন্মের, আর কোন নক্ষত্র ২য় প্রজন্মের তা নির্নয় করা যায় অতি সহজেই। যেসব নক্ষত্রের মধ্যে হাইড্রোজেন কনিকার মাত্রা অত্যাধিক , সেসব প্রথম প্রজন্মের নক্ষত্র। আর যেসব নক্ষত্রের মধ্যে হাইড্রোজেন কনিকা ছাড়াও অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ইত্যাদি মৌলিক পদার্থের কনিকা উল্লেখযোগ্য পরিমানে বিদ্যমান , সেসব হয় ২য় প্রজন্মের নক্ষত্র না হয় আরও পরে ৩য় প্রজন্মের নক্ষত্র। বিজ্ঞানীরা এভাবেই মহাবিশ্বের নক্ষত্রগুলির বয়স বের করেন। বর্তমানেও বিজ্ঞানীরা প্রতি নিয়ত নতুন নতুন নক্ষত্র সৃষ্টির খবর দিচ্ছেন। অর্থাৎ ঠিক এই মুহুর্তেও , মহাবিশ্বের বহু গ্যালাক্সিতে বহু নক্ষত্র সৃষ্টি হচ্ছে।

পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা গেছে , আমাদের সূর্য ২য় প্রজন্মের নক্ষত্র আর এর বয়স মাত্রই ৪৫০ কোটি বছর। পৃথিবীর বয়সও সেই সূর্যের সমানই। কারন যখন কিছু গ্যাস পুঞ্জিভূত হয়ে সূর্যে পরিনত হয়েছে , তখন কিছু গ্যাস পুঞ্জিভূত হয়ে সূর্যের বাকী ৯টা গ্রহে পরিনত হয়েছে। আর তাই সূর্য ও তার গ্রহের বয়স একই। তার অর্থ আমাদের পৃথিবীর বয়স মাত্রই ৪৫০ কোটি বছর। কিন্তু বিগ ব্যাং এর মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া মহাবিশ্বের বয়স কম করে হলেও ১৩৫০ কোটি বছর। তার মানে মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রারম্ভে পৃথিবী তো বটেই , যাকে কেন্দ্র করে আমাদের পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে , সেই সূর্যেরও কোন অস্তিত্ব ছিল না। সেই সূর্যও তৈরী হয়েছে মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রায় ( ১৩৫০–৪৫০) বা ৯০০ কোটি বছর পর।

অথচ কোরান বলছে – সৃষ্টির আদিতেই পৃথিবী সহ বাকি সব আকাশ সৃষ্টি হয়েছে। আর এরও পরে আল্লাহ সর্ব নিম্ন আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সাজিয়েছে। অর্থাৎ পৃথিবী সৃষ্টিরও পরে আল্লাহ প্রদীপমালা বা নক্ষত্রপূঞ্জকে তৈরী করেছে। তাহলে বিগ ব্যাং এর সাথে এই বক্তব্যের মিল কোথায় ? আছে কোন মিল ?

কিন্তু আমরা হলাম বিশ্বাসী মুমিন। আমরা তো আমাদের দুনিয়া শ্রেষ্ট মহাবিজ্ঞানী নবী মুহাম্মদ ও আল্লাহর কিতাব কোরানকে অবিশ্বাস করতে পারি না। আমাদের উচিত কোরানের ও নবীর বানীকে চোখ কান বুজে অন্ধের মত বিনা প্রশ্নে বিশ্বাস করা। তা না করলে ইমান নষ্ট হয়ে যাবে , ইমান নষ্ট হয়ে গেলে বেহেস্তে গিয়ে আকন্ঠ মদ পান করে ৭২ টা কুমারী নারীর সাথে অবাধ যৌন ফুর্তি করা যাবে না। সুতরাং আমরা ৭২ কুমারী হাত ছাড়া করার রিস্ক নিতে পারি না। তাই আমরা ধরে নেব , ইহুদি , নাছারা সহ কাফির বিজ্ঞানীরা যেসব বিজ্ঞানের নামে প্রচার করে , বা করছে , সবই তারা ইসলামের ক্ষতি করার জন্যেই করছে। আমাদের ইমান নষ্ট করার জন্যে করছে। তাদের আবিস্কৃত বিগ ব্যাং-ও সেই অপপ্রচারের একটা বড় হাতিয়ার। তারা বিগ ব্যাং প্রচার করে , আমাদের কোরানকে ভুল প্রমান করতে চায়, আমাদের নবীকে মিথ্যাবাদী ভূয়া নবী প্রমান করতে চায়। তারা দ্বীন ইসলামের সর্বনাশ করতে চায়। তারা আমাদেরকে শয়তানের অনুসারী করে দোজখে নিয়ে যেতে চায়।

কিন্তু কি অদ্ভুদ ব্যাপার , সম্প্রতি কিছু ভুই ফোড় কথিত ইসলামী বিজ্ঞানী ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে আর তারা প্রচার করছে কোরানের মধ্যে নাকি বিগ ব্যাং আছে। কি মুনাফিকি ! তারা কোরানের বানীকে ভুল ভাবে ব্যখ্যা করে ., নিজেদের মনগড়া বক্তব্যকে ইহুদি নাসারাদের ইসলাম বিরোধী তত্বের সাথে মিল করে , মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্যে দিন রাত হাজার হাজার মিডিয়াকে ব্যবহার করে অপপ্রচার করছে। নিশ্চিতভাবেই এরা্ ইহুদি নাসারা কাফেরদের এজেন্ট আর তাই তারা খাটি মুনাফিক। তারা পণ করেছে , যে কোন মূল্যেই ইসলামকে ধ্বংস করবে।

তাই আসুন , যারা ইসলামের নামে ইহুদি নাসারা কাফেরদের কুফুরি জ্ঞান প্রচার করে , তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করি , আর তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই কতল করে ফেলি।

১ thought on “ইসলামী বিশ্ব-পর্ব-২(যারা বলে কোরানে বিগ ব্যাং আছে তারা মুনাফিক)

  1. আয়াতগুলো পড়ে হাসতে হাসতে
    আয়াতগুলো পড়ে হাসতে হাসতে শ্যাষ। পৃথিবীর উৎপত্তি ঘটেছে প্রায় সাড়ে চারশ কোটি বছর আগে। আর বিগব্যাং ঘটেছে পনরশ কোটি বছর আগে। মহাজ্ঞানী আল্লাপাক সবার আগে পৃথিবীর কথা বলে তারপর পানি নিয়ে ধুনফুন শুরু করেন। তারপর জিজ্ঞেস করেন, এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না? আর মুমিন ছাগলেপাকরা এর মধ্যে বিগব্যাং খুঁজে পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *