ইসলামি ইজম

সুলতান সালাদিন যিনি ক্রিশ্চিয়ান বাহিনীর হাত
থেকে জেরুজালেম অবমুক্ত করেছিলেন তিনি সর্বোচ্চ
সম্মানের সাথে ক্রিশ্চিয়ান দুনিয়াতে আলোচিত হন!
বিষয়টা অনেকের কাছে বেশ তাজ্জব লাগার মত হতে
পারে কারণ ক্রিশ্চিয়ানদের সরিয়ে জেরুজালেম কব্জা
করার পরেও সালাদিন কি করে ক্রিশ্চিয়ানদের কাছে
সম্মানিত?! প্রথম ক্রুসেডের পর জেরুজালেম
ক্রিশ্চিয়ানরা দখল করলে জেরুজালেম শহরে বসবাসরত
মুসলমান এবং ইহুদী ধর্ম মতাবলম্বীদের নির্বিচারে
হত্যা,নির্যাতন, বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়া,সম্পদ দখল
করেছিল। দ্বিতীয় ক্রুসেডের সময় সালাদিন জেরুজালেম
দখলে নিলে ক্রিশ্চিয়ানরা ভেবেছিল শত বছর আগে করা

সুলতান সালাদিন যিনি ক্রিশ্চিয়ান বাহিনীর হাত
থেকে জেরুজালেম অবমুক্ত করেছিলেন তিনি সর্বোচ্চ
সম্মানের সাথে ক্রিশ্চিয়ান দুনিয়াতে আলোচিত হন!
বিষয়টা অনেকের কাছে বেশ তাজ্জব লাগার মত হতে
পারে কারণ ক্রিশ্চিয়ানদের সরিয়ে জেরুজালেম কব্জা
করার পরেও সালাদিন কি করে ক্রিশ্চিয়ানদের কাছে
সম্মানিত?! প্রথম ক্রুসেডের পর জেরুজালেম
ক্রিশ্চিয়ানরা দখল করলে জেরুজালেম শহরে বসবাসরত
মুসলমান এবং ইহুদী ধর্ম মতাবলম্বীদের নির্বিচারে
হত্যা,নির্যাতন, বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়া,সম্পদ দখল
করেছিল। দ্বিতীয় ক্রুসেডের সময় সালাদিন জেরুজালেম
দখলে নিলে ক্রিশ্চিয়ানরা ভেবেছিল শত বছর আগে করা
নির্মমতা সালাদিন বাহিনী ফিরিয়ে দিবে! কিন্তু
সালাদিন তা করেনি। ক্রিশ্চিয়ান কিংবা ইহুদী কারো
উপরেই নূন্যতম কঠোর হয়নি।
তৃতীয় ক্রুসেডের কালে ইংলিশ রাজা রিচার্ড দ্যা লায়ন
হার্টের নেতৃত্বে ইউরোপীয় ক্রিশ্চিয়ান রাজারা
জেরুজালেম পুনঃদখল করতে আসে। এই ক্রুসেড
চলাকালীন রিচার্ড অসুস্থ হলে সালাদিন তার ব্যক্তিগত
চিকিৎসক মুসা বিন মাইমুনকে রিচার্ডের চিকিৎসার জন্য
পাঠান শত্রু শিবিরে! মুসা বিন মামুন নাম শুনে মনে হতে
পারে ভদ্রলোক মুসলমান ছিলেন। কিন্তু তিনি ছিলেন
একজন ইহুদি যার হিব্রু নাম মোসেস বেন মাইমুন। ভদ্রলোক
চিকিৎসক যেমন ছিলেন তেমন ছিলেন একাধারে ইহুদী
ধর্ম যাজক, ইহুদী ধর্ম বিশারদ, ফিলোসফার। সালাদিন
যখন মাইমুনকে শত্রু শিবিরে পাঠিয়েছিল তখন কিন্তু এটা
ভাবেনি যে, ইহুদী মাইমুন তার শত্রুর কাছে রণকৌশল ফাস
করতে পারে কিংবা ভালো চিকিৎসকের সেবা পেয়ে
শত্রু সুস্থভাবে ফিরে এসে তার পরাজয় ঘটাতে পারে।
রিচার্ডকে একজন শত্রু কিংবা ক্রিশ্চিয়ান না ভেবে
মানুষ ভেবেছিল সালাদিন। এটাই হয়ত ইসলামের সবচেয়ে
বড় বার্তা যে মানুষকে মানুষ ভাবা। মানুষের প্রথম পরিচয়
কখনো মুসলমান, ক্রিশ্চিয়ান, ইহুদী না কেবল মানুষ। কারণ
মানুষ বলেই আমার, আপনার, আমাদের ধর্মমত আছে।
তৃতীয় ক্রুসেড চলাকালীন রিচার্ডের ঘোড়া সালাদিন
বাহিনীর আঘাতে মারা যায়। সালাদিন বাহিনী যুদ্ধ
থামিয়ে দেয় সাথে সাথে এবং রিচার্ড বাহিনীকে যুদ্ধ
ক্ষেত্র থেকে শিবিরে নিরাপদে ফেরত যেতে দেয়।
যদিও সেই অবস্থায় যুদ্ধে জয় করা মামুলী ছিল
সালাদিনের জন্য। সালাদিন উপহার হিসাবে রিচার্ডকে
দুটি ঘোড়া পাঠিয়েছিল যাতে শত্রু নিজেকে কমজোর
মনে না করে!
এতটুকু বলার পেছনে আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে,কয়েকদিন আগে
মারা যাওয়া ইন্ডিয়ান জেনারেল জ্যাকবকে নিয়ে
একদল বাংলাদেশীয় গরু খেকো নামেক ওয়াস্তে
মুসলমানের চুলকানিযুক্ত স্ট্যাটাস দেখে। জেনারেল
জ্যাকব ৭১ এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য
ভূমিকা রেখে বাংলাদেশের বিজয় ত্বরান্বিত করেছিল।
এই লোক ক্যালকাটায় জন্ম নেয়ো ইরাকী বংশোদ্ভূত
ইহুদী। হ্যা সব গৌরব ইহুদী পরিচয়ে মুছে দিতে চায় এক
শ্রেণীর দংগল! বিষয় এমন যে, ইয়াহিয়ার মত মাতাল
জানোয়ার শ্রেণীর মুসলমান নামধারীর হাত থেকে
মুসলমান বাঁচাতে এসে এই ইহুদী পরিচয় থাকা জেনারেল
যেন মহাভারত অশুদ্ধ করেছিল?! দেশ কাল ভেদে অনেক
মুসলমান যেমন কোথাও মুসলনমানের সাফল্য দেখলে
উদ্বেলিত হয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমে কয়েকজন হিন্দু
ধর্মের খেলোয়াড়দের সাফল্য যেমন হিন্দু
জাতীয়তাবাদীরা হিন্দু ধর্মের সাফল্য দেখে তেমনি
জায়নিষ্ট ইজরেইল জেনারেল জ্যাকবের সাফল্য ইহুদী
সাফল্য হিসাবে দেখে তার একসেট উর্দি তুলে রেখেছে।
এই উর্দি তুলে রাখলেই কিংবা ইহুদী হলেই কারো বীরত্ব
চাপা পরে না। আসাদ, সাদ্দাম কিংবা ইয়াহিয়ার হাতে
যত মুসলমান মারা গেছে গত ৪৫ বছরে তত মুসলমান
ভিন্নধর্মীদের হাতে কি মারা গেছে?
মানুষকে আমরা মানুষ হিসাবে দেখি। ইসলাম যেমন
বিবেচ্য নয় বোগদাদী হুজুর, আল কায়েদা, আসাদের
কর্মকান্ড দেখে তেমনি ইহুদী বিবেচ্য নয় ইজরেইলের
কর্মকান্ড দেখে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ইহুদী -মুসলমান –
ক্রিশ্চিয়ান এক সাথে আছে। দুনিয়াকে বদলে দিতে
কারো অবদান কম নয়। ইসলাম গ্রহন করতে জানে
আত্মীয়করণ করতে পারে। কোন উগ্রবাদীদের জন্য
মনুষ্যত্ব বিলীন হতে পারে না এবং সেটা যেকোনো পক্ষ
থেকেই হোক।

২ thoughts on “ইসলামি ইজম

  1. ভালো বলেছেন। আমার অভিনন্দন
    ভালো বলেছেন। আমার অভিনন্দন রইলো। আর এদেশের আসাদ. বাশার, সাদ্দাম আর ইয়াহিয়ারা নিপাত যাক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *