নাস্তিকতা নিয়ে আমার বর্তমান অবস্থান… (১)

মনে করুন, আপনি যুদ্ধ অবস্থায় আছেন। আপনার সুদক্ষ বাহিনী বেশ পরিকল্পনা নিয়ে আগানোর চেষ্টায় আছে। একটু পর পরিকল্পনা মত খুব আঘাত করা হবে বিরোধীপক্ষের ঘাঁটিতে। এমনভাবে আক্রমণ করা হবে পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবে না। সব কিছুই ঠিক মতই চলছে। ঠিক এমন সময় আপনার দলের এক ইঁচড়ে পাকা সদস্য শত্রুপক্ষের ঘাঁটিতে একটি ছোট ইটের টুকরো ছুঁড়ে মারলো। শত্রুরা আপনার অবস্থান টের পেয়ে শুরু করল চরম আক্রমণ। অবস্থা এমন দাঁড়ালো আপনি নিজেই পালানোর জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন না। আপনার আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞানের হাতিয়ার কোনো কাজেই আসছে না। সব পরিকল্পনাই ভেশতে গেলো।


মনে করুন, আপনি যুদ্ধ অবস্থায় আছেন। আপনার সুদক্ষ বাহিনী বেশ পরিকল্পনা নিয়ে আগানোর চেষ্টায় আছে। একটু পর পরিকল্পনা মত খুব আঘাত করা হবে বিরোধীপক্ষের ঘাঁটিতে। এমনভাবে আক্রমণ করা হবে পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবে না। সব কিছুই ঠিক মতই চলছে। ঠিক এমন সময় আপনার দলের এক ইঁচড়ে পাকা সদস্য শত্রুপক্ষের ঘাঁটিতে একটি ছোট ইটের টুকরো ছুঁড়ে মারলো। শত্রুরা আপনার অবস্থান টের পেয়ে শুরু করল চরম আক্রমণ। অবস্থা এমন দাঁড়ালো আপনি নিজেই পালানোর জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন না। আপনার আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞানের হাতিয়ার কোনো কাজেই আসছে না। সব পরিকল্পনাই ভেশতে গেলো।

আমাদের মধ্যে যারা ধর্মের সমালোচনা করে মাঝে মাঝে বই প্রকাশ করে তাদের অনেকের অবস্থা ইঁচড়ে পাকা সৈনিকের মত। অনলাইনে কোনো কিছু লেখা আর বাজারে বই বের করা মাঝে পার্থক্য আছে। পার্থক্য বুঝতে হবে এই দুই শ্রেণীর পাঠকের। অনলাইনে পাঠকের সামনে কোনো কিছু লিখে দায় এড়ানো যায়, দেখেও না দেখার ভান করা যায়; কিন্তু বই প্রকাশের ক্ষেত্রে এসব ফাজলামো চলে না। বিশেষ করে ইতিহাস এবং সমালোচনাধর্মী বইগুলো অনেকটা দলিলপত্রের মত কাজ করে। দলিলে যা ইচ্ছে লেখা যায় না।

দেশে যুক্তিবিদ্যার বীজ প্রতিষ্ঠা করতে একাডেমিক গবেষণাধর্মী বই দরকার। নিজের ইচ্ছেমত কাজ করে বাস্তবে ভালো কাজগুলোকে পিছনে ফেলে দেওয়া হয়। অভিজিৎ রায়কে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। কিন্তু তাঁর অবিশ্বাসের দর্শন বইটি নিষিদ্ধ করতে অনেক বেগ পেতে হবে। কারন তাঁর প্রবন্ধগুলো পুরোপুরি একাডেমিক না হলেও সেমি-একাডেমিকভাবে লেখা। অথচ এই বাংলাদেশেই অনক বই নিষিদ্ধ করার আগে স্ক্রিনশর্ট বের হয়েছে। কিন্তু একই কাজ অভিজিৎ রায় হত্যার পরেও সম্ভব হয় নি।এটাই হচ্ছে দুই শ্রেণির লেখকের পার্থক্য।

বাঙলায় নাস্তিকতা আন্দোলনের প্রথম দিকে ইন্ডেভিজুয়ালিজম কথাগুলো বললে মানাত। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট পুরাই ভিন্ন। অসংগঠিত, নেতা নেই, বাস্তবে সংগঠনের কোনো অস্তিত্ব নেই, তারপরেও বাঙলার যুক্তিবাদী আন্দোলন অবচেতনে এখন সংঘবদ্ধ হয়ে এগুচ্ছে। বর্তমান নাস্তিকতা আন্দোলন একটি সংঘবদ্ধ মুভমেন্ট। একজনের উপর হামলা আমাদের সবার এগিয়ে আসা জানান দেয় একটি কৃত্রিম সংঘবদ্ধ গ্রুপের; নিরাপত্তাহীন ব্লগারদের দেশের বাইরে আনতে একদলের সারাক্ষণ পরিশ্রম জানান দেয় দলের একজনের প্রতি অন্য জনের দায়িত্ববোধের। অবচেতনেই এই দলটি এগুচ্ছে ডায়েলেক্টিকালি। এমন পরিস্থিতিতে বাকস্বাধীনতা চর্চার নামে হঠাৎ করে ডিল ছুঁড়ে একটি মুভমেন্টকে পিছনে দেওয়া হয়। আর তখন নিজেকেই সান্ত্বনা দিতে হয়- থাক না ঘরের মানুষ; বেশি কিছু বললে বাকস্বাধীনতা হরণ হবে।

ধরে নিচ্ছি সমাজের আস্তিক শ্রেণিকে নাস্তিকতায় উৎসাহিত করতে একটি বই লেখা হল। বইটির শুরুর দিকে একটি বাক্য- “যৌনউম্মাদ মুহাম্মদের বর্বর ইসলাম যখন সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠা করছিল…” এখানে ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে জানানোর আগেই বলে দিচ্ছি ইসলাম বর্বর, এবং মুহাম্মদের চরিত্রে সমস্যা আছে। এই ধরণের লেখাগুলো কি নাস্তিকতায় উৎসাহিত করে, নাকি নাস্তিকদের বিরুদ্ধে উস্কে দেয় তা লেখা প্রকাশের আগে না ভাবলে তো চলবে না। নিজের পাঠককে শত্রু বানাতে পারি না। উদাহরণটা আরেকটু পরিষ্কার করতে পারি। ধরে নিচ্ছি কোনো মওলানা নাস্তিকদের সমালোচনা করে বই লিখল। বইয়ের শুরুতেই আছে “মাথা মোটা অভিজিৎ রায়ের সমকামিতা নিয়ে বৈজ্ঞানিক যুক্তি নিয়ে লিখছিল…” এখানে অভিজিৎ দা’র যুক্তি নিয়ে আলোচনার আগেই আক্রমণ হলে আমার তো খারাপ লাগবে। বইটি পড়তে ইচ্ছে হবে না। ঠিক তেমনি ইসলামকে নিয়ে আলোচনার আগে বর্বর বলে দিলে একজন মুসলমান অবশ্যই বিরোধিতা করবে।

ওয়াইজ মাহফিলে দুর্গা-কালী নিয়ে যৌন উত্তেজনাময় মন্তব্য করলে আমরা তাকে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য বলছি। তাহলে কোন ধরণের প্রেক্ষাপট বর্ণনা এবং সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা ছাড়া মুহাম্মদকে লুইচ্চা বলাটা কোন ক্যাটাগরিতে পড়বে তাও তো ভাবা উচিৎ। কোরানকে একবাক্য ফালতু বই বলার থেকে কোরানকে মধ্যযুগীয় সাহিত্য বিবচেনা করলে সমস্যা তো নেই। ভালো একাডেমিক গবেষকরা তো কোরান মধ্যযুগীয় সাহিত্যই ভেবে লেখালেখি করে।

মুহাম্মদের যৌন জীবন নিয়ে গুছানো আর্টিকেল লেখা যায়। মুহাম্মদের সময়ে অনেকগুলো বিয়ে অস্বাভাবিক ছিল না এটাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। আমাদের উদ্দেশ্য যদি হয় অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত ফাটল ধরানো, তাহলে খুবই সূক্ষ্মভাবে একটি প্রশ্ন মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে পারলেই ধর্মীয় বিশ্বাস ধীরে ধীরে ভেঙে যায়। মাথায় রাখতে হবে যাদের বিশ্বাস ভাঙছি তারা আমার ভাই, বন্ধু। লেখায় আলোচনাটা এমনভাবে যেতে হবে যেন লেখা পড়ে ক্ষেপে না গিয়ে জানতে আগ্রহ দেখায়।বারবার মোডারেট শ্রেণির পাঠককে উস্কে দেওয়ার মত আক্রমণ করলে যে শ্রেণিটা অভিজিৎ রায়ের হত্যার বিরোধিতা করেছিল একদিন তারাও আমাদের পাশে থাকবে না।

কিছুদিন আগে আমার পুরানো লেখাগুলো চেক করছিলাম। বিশেষ করে ২০১১-১২ সালের ধর্মকারীর লেখাগুলো। ভাবছিলাম এইসব লেখার জন্যই তো জঙ্গিরা হত্যা করতে চায়। কিন্তু এইসব লেখা যদি আমার বন্ধুদের সামনাসামনি দেখাই তারা আমাকে আদর করবে? মিষ্টি খেতে দিবে? হাঁ,দিবে। হাত পা ভেঙে মেডিক্যালে ভর্তি করে দিবে। অভিজিৎ দাকে সালাফি বলায় অনলাইনে মুক্তমনারা মারামারিতে থাকতে পারে না। ব্লগে একজন ধর্মপ্রচারকে উম্মাদ বলে সিরিজ লিখতাম, এইটার অপরাধে হেফাজতের আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে ওয়াসাতে আমার ফাঁসি দাবী করা প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা হুজুরটার দোষের কিছুই দেখি না।

সমাজ পরিবর্তনের জন্য লিখছি। কিন্তু তাই বলে সমাজকে শত্রু বানাতে পারি না। মিশিনারি কিছু সাইট থেকে কিছু কোরান হাদিসের রেফারেন্স পড়ে নিজেকে পন্ডিত ভাবা যায়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। আমিও নিজেকে পণ্ডিত ভাবতাম। কিন্তু জ্ঞানের এনলাইটমেন্ট বেশ দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এখন নিজেকে শূন্যবাদী ভাবছি। তাই শূন্যমাথায় বড় কিছু করার সাহস পাই না। পাঠককে লক্ষ্য করে নাস্তিক নবী নামে ছদ্মনাম ধারণ করে একশটি শিশুসুলভ বই বের করার থেকে একটি অবিশ্বাসের দর্শনের গুরুত্ব অনেক বেশি। কিন্তু যে সমাজে আলী দস্তির মুহাম্মদের ২৩ বছর বইটির মত চমৎকার বই নিষিদ্ধ হয়, সেখানে আলী সিনাহার আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ অনুবাদ করা হলে সময়টাকে আরও ঘোলাটে করা হবে। অনলাইনে অনুবাদ করে ছড়িয়ে দেওয়ার যায়। কিন্তু বই বের হিসাবে বের করলে সমস্যা হবে। মুহাম্মদের মৃত্যুর পর সাম্রজ্যবাদ কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কোরান কীভাবে সঙ্কলন করা হয়েছে এইসব নিয়ে বাঙলায় ভালো বই নেই। মুহাম্মদকে টাচ না করে এইসব বইতে হাত দিলে একটা ঘরণার পাঠক শ্রেণির মনে এমনিতেই অবিশ্বাস তৈরি হবে।

কখন নাস্তিক হলাম, ফেসবুকার থেকে ব্লগার হলাম, ব্লগার হওয়া বাধ্যহয়ে সর্বমোট তিনবার দেশের বাইরে গেলাম- সব দৃশ্য একসাথে কল্পনা করতেই অদ্ভুদ মনে হয়। আঠারো বছর বয়সে নাস্তিকতা নিয়ে প্রথম স্ট্যাটাস লিখেছিলাম। বোরকা নিয়ে ওই দুই লাইনের স্ট্যাটাসের কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। সারাজীবন উদ্দেশ্য ছিল দেশে ক্যারিয়ার গড়ার, বাবার ব্যবসা দেখার। কিন্তু বর্তমানে আমার দেশটা কতদূরে ভাবতে কষ্ট হয়। কালকে যদি বাবা মা মারা যায়, দেশে ফিরতে পারবো না। কারন আমার হাতে কোনো পাসপোর্ট নেই, আমি একজন এসাইলম সিকার। নাস্তিকতার কারনে নিজের পড়ালেখা জগতের একটি বছর হারাতে হয়েছে। বারবার দেশের বাইরে যেতে বাবার অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এইসবের তো কিছুই চাই নি। ভালোবাসা দিবসে অন্যরা যখন প্রেমিকা নিয়ে গল্প করে, আর আমি আমার প্রেমিকার বিয়ের কার্ড উপহার পাই। একসময় আমার বিশাল ঘর ছিল। এখন নিজের একটা ছোট রুমও নেই। সব কিছু হারিয়ে ফেলেছি।

কখন নাস্তিকতা আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েছি নিজেই বুঝতে পারি নি। ২০১৩ থেকে পালিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম। এখন আর পালানোর আর উপায় নেই। পালাতেও চাই না। সামনে এগুতে অনেক কৌশল মেনেই এগুতে হবে। ছাগলের বাচ্চার মত আমি আমি করলে হবে না। এটা একটি মুভমেন্ট। মুভমেন্টে এগিয়ে চলতে হয় সবাইকে নিয়ে। এসব মুভমেন্টে সারাদিন কাজ করলেও কেউ দুই টাকা দিবে না। পরিচিত না হলে অনেক সময় সাহায্য করতে এগিয়ে আসে না। তারপরেও কাজ করতে হয় দলবদ্ধভাবে; অন্যদের কথা চিন্তা করে। আমার দেশ আমেরিকা না যে উচ্চমার্গীয় স্যাটায়ারের নামে আক্রমণ করে পালাতে পারবো- কিংবা অন্যদের উপর হামলা হলে দায় এড়াতে পারবো। বাংলাদেশ কতটুকু গ্রহণ করতে পারবে- কীভাবে একটা নিদিষ্ট পাঠক শ্রেণী গড়ে উঠবে এবং তাদের মাঝে মুক্তমনা বীজ কীভাবে জন্মাবে, এবং পনের বছর পর বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চাই- ওই পনের বছরে কী লিখবো, কখন কি বইয়ের বাজারে দরকার এসব ভাবাকে কৌশলগত আগানো বলে। বাংলাদেশের মুক্তমনা বীজ প্রতিষ্ঠা করতে কৌশলগত আগানোর বিকল্প দেখি না…

১৮ thoughts on “নাস্তিকতা নিয়ে আমার বর্তমান অবস্থান… (১)

  1. ভাই, হুমায়ুন আজাদের নারী
    ভাই, হুমায়ুন আজাদের নারী নিষিদ্ধ করতে কি অনেক বেগ পেতে হয়েছিলো? আপনি কি জানেন, কিভাবে এবং মোট কতদিন লেগেছিল নারী বইটিকে নিষিদ্ধ করতে? কুরআন কি সাহিত্য? তাহলে অন্তত এটা বলতে হবে, মধ্যযুগের একটি গারবেজ তুল্য সাহিত্য পুস্তক হচ্ছে কুরআন। তবে আমি জাফর ইকবালের মতো বলবনা যে এই গারবেজ টা পড়া যাবেনা। সকলের অধিকার আছে এই গারবেজ টাও হাজার বার পড়ার।

    1. সারওয়ার ভাই, নারী তখনকার দিনে
      সারওয়ার ভাই, নারী তখনকার দিনে নিষিদ্ধ হয়েছিল, কিন্তু এখনও টিকে আছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে নারী নিয়ে গবেষণা করতে নারী বইটি দরকার হবে। কারন বইটি একটি মাস্টারপিস। কিন্তু ইসলাম বিতর্ক বইটি কতটুকু কাজে লাগবে? কিংবা আমি যে পাঠকের জন্য লিখছি তারা কতটুকু পড়ে গ্রহণ করতে পারবে। নারী বইটি অনেক মুসলমানও ভালো বই মনে করে। কিন্তু ইসলাম বিতর্ক বইটি কতপারসেন্ট মানুষ সহজভাবে নিতে পারবে। দিন শেষে লিখছি মুসলমানদের নাস্তিকদের নাস্তিক বানাতে, ধর্মহীন করতে শত্রু বানাতে না। :-SS
      কুরান একটি মধ্যযুগীয় সাহিত্য। আরবের ইতিহাস লিখতে গেলে কোরনকে ফেলতে পারবেন না। আরবের সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কোন কোন একডামিক স্কলার কোরানকে গারভেজ বলেছেন আমার জানতে খুব ইচ্ছে করছে। :মাথাঠুকি:

      1. চিন্তিত সৈকত, আপনাকে বিনীত
        চিন্তিত সৈকত, আপনাকে বিনীত ভাবে অনুরোধ করবো, চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়টা একটু ভালো করে বোঝার জন্যে। আচ্ছা আপনি বলেন তো বন্দে আলী মিয়া বা ফররুখ আহমেদ এর কবিতা কেউ পড়ে আজকের যুগে? সুতরাং কতজন মানুষ পড়ে, বা মানুষ আদৌ পড়বে কিনা এসবের সাথে লিবার্টি বা স্বাধীনতার কোনও সম্পর্ক নেই। আপনারা পড়াশুনা করা মানুষ হইয়াও যদি চিন্তার স্বাধীনতা, প্রকাশের স্বাধীনতার সাথে গ্রহণযোগ্যতা কে গুলায়ে ফেলেন তাইলে তো বিপদ। আপনে আমাকে একটু বলেন তো, ইসলাম বিতর্ক যদি একটা ডাস্টবিনে ফেলে দেবার মতোও পুস্তক হয়, তবুও কি তাঁর প্রকাশের অধিকার আছে? আর আমি কি কুরআন কে ফেলে দেবার কথা বলেছই? আমি বরং বলেছি, এখনো বলছি, কুরআন একটা গারবেজ পুস্তক হওয়া সত্ত্বেও, আমি মনে করি কুরআনেরও আরও হাজার হাজার বছর ধরে পঠিত হবার অধিকার আছে, যদি সেটা কেউ পরতে চায়। আমি কাউকে নাস্তিক বানাতে চাইনা, আমি কাউকে ধর্মহীন বানাতে চাইনা। আমি আমার অধিকার অনুশীলন করতে চাই। কোন স্কলার কুরআন কে গারবেজ বলেছেন সেটা আমাকে কেনও বলতে হবে? আমি কুরআন পড়েছি, অনেক বার, কুরআনের সবচাইতে চমৎকার অনুবাদও আমার কাছে আছে । কিন্তু এটা একটা অর্থহীন পুস্তক, আমার কাছে গারবেজ। আপনি আপনার এই লেখাটিকে আরেক্টু ভালো করে সম্পাদনা করুন। এটা ঠিক আপনার নামের সাথে যাচ্ছেনা, অন্তত আমি যতটুকু শুনেছি আপনার সম্পর্কে। ধন্যবাদ।

        1. ভাইজান, এই লেখাটার একটাই দোষ
          ভাইজান, এই লেখাটার একটাই দোষ দেখছি তা বাকস্বাধীনতার হরণের কথা বলছি। আগামী দশ বছরেও দোষটা আমার চোখে পড়বে। কিছুই করার নেই- পাঠকের কাছে পৌঁছাইতে হবে। তবে আশার বাণী হচ্ছে, নিজেকে স্বতঃসিদ্ধ মনে না করে মনে হচ্ছে আমি একটা মেন্টাল ডেভেলপমেন্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। পড়ছি, জানছি বিশ্লেষণ করছি আর এগুচ্ছি। এইখানে চিন্তার পরিবর্তন আসবেই। সামনে আরও আসবে। হয়তো তখন লেখাটা এডিট করবো। :ফুল: :ফুল: :ফুল:

          1. হ্যাপি রাইটিং ! আপনি এডিট
            হ্যাপি রাইটিং ! আপনি এডিট করবেন কি না সেটা নিশ্চিত ভাবেই আপনার সিদ্ধান্ত। তবে বাংলাদেশের হেভি ওয়েট ব্লগারদের লেখা লেখির যে অবস্থা তাতে কোনও কিছু আশা করাই মুশকিল। আপনার অবস্থানের দায় আপনার, তবে আপনি যেভাবে ইসলাম বিতর্ক বইটির পেছনে লাগছেন, তথাকথিত “একাডেমিক” তকমার নামে … তাতে আমার বেশ ভালোই লাগছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতার “নাস্তিকীয়” ফর্ম দেখতে পারছি। ভালো থাকবেন। বিদায়। বিদায় বললাম এই জন্যে যে মনে হচ্ছে, আমিই আপনার লেখাটির হিট বারইয়ে দিচ্ছি, যেটা আসলে প্রকৃত পাঠ সংখ্যা নয়।

          2. ভাইজান, বইটির পক্ষে তিনবার
            ভাইজান, বইটির পক্ষে তিনবার ফেসবুকে লিখেছি। বিপক্ষে লিখেছি একবার (উপরের লেখাটি)। পক্ষে লেখার কারন বই যেমন হোক সরকার নিষিদ্ধ করতে পারে না। বইটি তো কোনো জিহাদি বই না, কাউকে খুন করতে উৎসাহী করছে না। তবে এইখানে আমার ক্ষেত্রে একটা দ্বৈত চরিত্র লক্ষণীয়, আমিও অন্যকে বলতে পারি না কি কি লেখা উচিৎ। তারপরেও বিপক্ষে লেখার কারন বাঙলার নাস্তিকতা আন্দোলনকে আসলেই একটা মুভমেন্ট মনে করলে এই বইয়ের কোনো দরকার নাই। ইসলাম বিতর্ক বইয়ের লেখকের ম্যাচুরিটি কামনা করছি। আবার আপনি যদি বলেন আপনি বাকস্বাধীনতা চর্চার জন্য বই বের করছেন, তখন আর কিছু বলার থাকে না। শুধু একটু দায়টা ঘাড়ের উপর চলে যায়। :ফুল: :ভালাপাইছি:

          3. আমি লেখকের সাথে সহমত।
            আমি লেখকের সাথে সহমত। মুক্তমনায় যারা নিয়মিত যান, তারা লক্ষ্য করে দেখবেন আদিল মাহমুদ এর লেখা সবচাইতে well-balanced. এরপরে আকাশ মালিক এর কথা বলা যায় । এই লেখকদ্বয় এবং অবশ্যই অভিজিৎ রায় একটা কথা কিন্তু বারবার বলে গিয়েছেন (এইটা মুক্তমনার নীতিমালা তেও আছে) যে আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ মুক্তভাবে চিন্তা করতে শিখা, Islam Bashing নয় । অথবা ইসলাম এর সমালোচনা করে খ্রীস্ট ধর্মের গুণগান করা নয়। গঠনমুলক সমালোচনা করে যেতেই হবে। বিশ্বাস ব্যাপারটা একটা ভাইরাস এর মত (কোন কিছু তথ্যপ্রমাণ ব্যাতীত মেনে নেওয়ার নাম-ই বিশ্বাস – এতো আমরা সবাই-ই জানি)। বাবা-মা ছোট বেলায় যা মাথায় ভরে দিয়েছিল, তাই এখনও আছে। আরও একটা কথা হল – এই জগদ্দল পাথর কয়েকশ বছর এর, এক ধাক্কায় ত যাবে না, তাই না? কিন্তু আশার কথা হল যে – পাথর কিন্তু ইতিমধ্যেই নড়তে শুরু করছে। ঠিক কি না?

            যাই হোক লেখক ভাই, ভাল লিখছেন। যে অবস্থান থেকে লিখছেন, আমি অনুমান করতে পারছি।(বাইরে থাকি, অনুমান করা কঠিন না… এর বেশী কিছু বলা গেলনা)। এইরকম Well-Balanced, গঠন মুলক সমালোচনা চালিয়ে যান ।

  2. ভাই, নাস্তিক হয়ে কোনো লাভ
    ভাই, নাস্তিক হয়ে কোনো লাভ নাই।
    মহান ঈশ্বরের কাছে আমাদের আত্মসমর্পণ করতেই হবে।

    1. একটু নিশ্চিত হয়ে বলেন তো আপনি
      একটু নিশ্চিত হয়ে বলেন তো আপনি কি লেখা পড়ে কমেন্ট করছেন? যুদ্ধ অনেক দূর যাওয়ার পর আর লাভ ক্ষতির হিসাব থাকে না। টিকে থাকাটাই লক্ষ্য হয়ে যায়। :no:

  3. কোরান পড়লেই তো একজন মানুষ
    কোরান পড়লেই তো একজন মানুষ নাস্তিক হবে, যদি না সে ছাগু হয়।
    তবে সৈকত ভাইয়ার সাথে একমত। গালিগালাজ বা অপমানজনক কথাবার্তা বলে কাউকে মুক্তমনা বানানো যাবেনা। শুধু শত্রুই বানানো হবে

  4. সমালোচনা আর গালি এক নয় কথাটি
    সমালোচনা আর গালি এক নয় কথাটি যেমন ঠিক তেমনি বাংলাদেশের বর্তমান যে অবস্থা তাতে ”
    ইসলাম শব্দটি দেখলেই অনেকের অঙ্গ পতঙ্গ হিংস্র হয়ে যায় কোপানর জন্য, আসলে ভাল লিখছে না খারাপ লিখছে দেখার প্রয়োজন বোধ করে না।
    ঠিক যেমন “নারী”। বইটিতে কোন গালি ছিল না , নিখাত সমালোচনা ছিল, তবুও নিষিদ্ধের তাক্মা লেগেছিল। তবে যে উপায়ে এগুতে বলছেন সে উপায়ে গেলেই ভবিষ্যতে কিছু হলেও হতে পারে।

  5. মোল্লাদের মতোই নাস্তিকদের
    মোল্লাদের মতোই নাস্তিকদের চিন্তায়ও মানুষের চেয়ে ধর্ম প্রভুত্ব করেছে বেশি! মোল্লাদের মতো তাদের বিরাট অংশও মানুষটা নয়, আগে তার ধর্ম দেখে! অথচ ত্রা কথা বলছেন সমাজ পরিবর্তন বিষয়ে, যদিও তাদের কোনো দায়িত্ব নেয়ার মানসিকতা নেই। যেকোনো ব্যবস্থাকে আঘাত করতে গেলে তা পুনঃস্থাপনের রূপরেখা ও প্রতিষ্ঠার চেষ্টা থাকাটা জরুরী! সেক্ষেত্রে সমাজ পরিবর্তনের যেকোনো চেষ্টায় দায়িত্বশীলতা খুব বড় বিষয়। আপনি সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করতে চান, আপনাকে দায়িত্বশীল হতে হবে! আমাদের নাস্তিক বন্ধুদের এখন এই জায়গাটাতেই পরিবর্তন দরকার। আপনার উপলব্ধিতে মোটা দাগে বিষয়গুলো এসেছে দেখে ভাল লাগল।

    তবে এই যে যা কিছু দায়িত্বহীনের মতো লেখা, এর রয়েছে দার্শনিক সঙ্কট। আর তা যুক্তিবাদেই নিহিত। নাস্তিকরা এখনও বস্তুবাদ ও যুক্তিবাদের পার্থক্য নিয়ে সচেতন নয়। এমনকি কোন দর্শনটি বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাকে প্রতিফলিত করতে সক্ষম, তাও তারা নির্দিষ্ট করেনি। আমি খুব কম নাস্তিককেই এই দাবি করতে দেখেছি যে, তিনি বস্তুবাদী, বরং তারা অধিকাংশই নিজেকে যুক্তিবাদী দাবি করেন। বস্তুবাদ ও যুক্তিবাদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে। যেখানে কিনা যুক্তিবাদ অনেকখানি সীমিত, বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে।

    যুক্তিবাদের মৌলিক সমস্যা হলো, এটি বর্তমান মূল্যবোধের আলোকে অতীতকে বিচার করে। সুনির্দিষ্ট ঘটনাকে অন্য বাস্তবতা, অন্য সময়, অন্য কালের ওপর আরোপ করে একই সূত্র দিয়ে, যা আদতে যান্ত্রিক। যেহেতু অমুকের চৌদ্দ বিবি, সেহেতু সে কামোন্মাদ, এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তারা ১৪০০ বছর আগের এক বেদুইন সমাজের পুনর্গঠনকালের ভয়ঙ্কর পর্বের ওপর আরোপ করে দেয় আধুনিক মূল্যবোধ। আবার যেহেতু সে তবে, কিন্তু বলে সেহেতু সে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষ শক্তি, এ ধরণের সিদ্ধান্তও বাস্তবতার প্রতিফলনের চেয়ে ‘যেহেতু/সেহেতু’ নির্ভর যান্ত্রিকতা মাত্র! আদতে এভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে বাস্তবে ওই এলাকার সমাজ, ওই যুগের মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও জাতি গঠনকালের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের বিশেষ চেহারা সম্পর্কে জানা হয় না, জ্ঞান হয় ধারণানির্ভর, অপূর্ণাঙ্গ! কারণ তার বস্তুভিত্তির চেয়ে যুক্তিভিত্তিটা বেশি।

    নাস্তিকরা সচেতনভাবে বস্তুবাদ চর্চ্চায় নামলেই এই সঙ্কটের সমাধানের পথ বের হবে।

  6. আসলে আপনাদের এরকম
    আসলে আপনাদের এরকম আত্নজিজ্ঞাসাটা জরুরী। এখন পর্যন্ত আপনারা যে পথে হাটছেন ; তার ফলাফল হচ্ছে দেশান্তরী হয়ে অন্যদেশের আশ্রয়ে থাকা এবং অত্যন্ত নির্লজ্যভাবে টিকে থাকার জন্য সেসব দেশের মুখপাত্র হয়ে লিখালিখি করা।
    এভাবে হয় না।
    আমার চোখে এখন পর্যন্ত সমাজের নানা স্তরে ইসলামের তীব্রতাই চোখে পড়ছে। কলেজ ইউনিভার্সিটি বুয়েটের মত প্রতিষ্ঠাগুলোতে যেভাবে বোরকা; হিজাব আর দাড়ি আলখেল্লার বাড় বাড়ন্ত দেখা যায়; তাতে তো মনে হয় না আপনাদের লিখা লিখি আর চটিসমগ্র সমাজের কেউ আমলে নেয়।

  7. গালাগাল না করে আন্দোলনকে একটি
    গালাগাল না করে আন্দোলনকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করাকে আমি যৌক্তিক মনে করি। পোষ্টটির জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *