মানবতার কোন ধর্ম নেই

ছোট্টকালে আমার এক বন্ধু মিঠু আমাকে জানিয়েছিল সহপাঠীরা তার সাথে খারাপ আচরণ করে। মিঠু সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বী হওয়ার কারণে সহপাঠীরা তাকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখে। সহপাঠীদের কাছে মিঠুর বিষয়ে কথা বলতে গেলে তারা আমাকে জানায় মিঠুর শরীর থেকে বিদঘুটে গন্ধ বের হয়, মিঠুর টিফিনের খাবার তাদের খাবারের সাথে মেলে না, বন্ধু মিঠুর কথা বলার ভঙ্গিও ভিন্ন। রাম সাম খেলার সময় যখন মিঠু সহপাঠীদের হস্তে চড় মারে তখন মুসলমান বন্ধুরা খুব ব্যাথা অনুভব করে। যা মুসলমান বন্ধুরা মারলে ততোটা কষ্ট অনুভব হয় না। মিঠুর জীবনে সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল সে মুসলমান নয়।


ছোট্টকালে আমার এক বন্ধু মিঠু আমাকে জানিয়েছিল সহপাঠীরা তার সাথে খারাপ আচরণ করে। মিঠু সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বী হওয়ার কারণে সহপাঠীরা তাকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখে। সহপাঠীদের কাছে মিঠুর বিষয়ে কথা বলতে গেলে তারা আমাকে জানায় মিঠুর শরীর থেকে বিদঘুটে গন্ধ বের হয়, মিঠুর টিফিনের খাবার তাদের খাবারের সাথে মেলে না, বন্ধু মিঠুর কথা বলার ভঙ্গিও ভিন্ন। রাম সাম খেলার সময় যখন মিঠু সহপাঠীদের হস্তে চড় মারে তখন মুসলমান বন্ধুরা খুব ব্যাথা অনুভব করে। যা মুসলমান বন্ধুরা মারলে ততোটা কষ্ট অনুভব হয় না। মিঠুর জীবনে সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল সে মুসলমান নয়।

সহপাঠীদের কথা গুলো আমার মস্তিষ্কে ও হৃদয়ে কাঁটা দেয়। মন খারাপ করে বাসায় এসে বাবাকে বিস্তারিত জানালে বাবার প্রথম বাক্যটি ছিল, অসভ্য সহপাঠীদের কিছু বোঝানোর সঠিক পন্থা হচ্ছে কষে গালে একটা চড় মারা। বাবা বলেছিলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান এই সব কোন পরিচয় নয়।

বছর তিনেক আগে আমার এক বান্ধবী রোড এক্সিডেন্টের শিকার হয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। অনেক কষ্টে বি নেগেটিভ রক্তের গ্রুপের একজন বন্ধুকে নিয়ে হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছিলাম। সব কিছু ঠিক ঠাক; রক্ত নেবার জন্য একটি ফর্মে নাম লিখতে হয় এবং সেখানে বন্ধুর নামের শেষে সাহা দেখে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করা বান্ধবীর বড় ভাই চিৎকার দিয়ে উঠে।

তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, মালাউনের রক্ত আমার বোনের শরীরে কোন ভাবেই দেয়া যাবে না। বোন মারা যাক, ক্ষতি নেই। কিন্তু মালাউনের রক্ত শরীরে প্রবেশ করার সাথে সাথে বোন নাকি ক্যান্সার, এইচআইভির শিকার হবে, অপবিত্র হবে, গজব পরবে, জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে। এইসব শোনার পর বান্ধবীর বড় ভাইয়ের গালে একটা চড় মেরে স্থান ত্যাগ করেছিলাম।

সম্প্রতি একজন ক্যান্সার রোগীর জন্য AB + রক্ত চেয়ে স্যাট্যাস দিলে ধর্মান্ধ মুসলমানরা একই ধারায় বলে, নাস্তিক মরে গেলে ভালো, কাফের মরলে সমস্যা নেই, হিন্দু হলে রক্ত দেবো না ইত্যাদি।
কী অদ্ভুত মানুষের ধর্মপ্রেমে উদ্বুদ্ধ মানসিকতা! কখনো যদি কোন ধর্মান্ধের রক্তের প্রয়োজন হয় রক্ত সংগ্রহে তাদের পাশে দাঁড়াবো, প্রয়োজনে নিজ রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করব। মানুষ মানুষের জন্য, মানবতাবোধ ধর্মে নেই। যে ধর্ম মানুষের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে, ছোট দৃষ্টিতে দেখে, মানুষের মৃত্যু কামনা করে সে ধর্ম মূলত মানুষের নয়।

৪ thoughts on “মানবতার কোন ধর্ম নেই

  1. পাব্লিক প্লেসে বসে, পাক-ভারত
    পাব্লিক প্লেসে বসে, পাক-ভারত কিংবা বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট ম্যচগুলা দেখতে গিয়ে বুঝতে পারি,ঘরে বসে ল্যপটপে অনলাইনে দেখলে এ কথাগুলো শুনা লাগতো না

  2. পারিবারিক শিক্ষায় সামাজিক
    পারিবারিক শিক্ষায় সামাজিক আচরণ বোধ তৈরি হয় । তুমি যেমন তোমার ছোট বেলা থেকে বাবা বা মা’র কাছ থেকে মানবিক আচরণ পেয়েছো । তাই নিজেকে সেই ভাবে গড়তে পেরেছ ।
    বাংলাদেশ সম্পর্কে আমার অল্প বিছতর অভিজ্ঞতা আছে । বাংলাদেশে মানুষের চে গোড়া ধর্মিক বেশি ।

  3. একমাত্র বোকারা ছাড়া আর কেউ
    একমাত্র বোকারা ছাড়া আর কেউ ধর্ম মানে না, ধর্ম মানলে কিছুই করা যায় না বান্দবির সাথে শুয়া যায়না একটু গলাভিজাতে চাইলে সেখানেও বাধা, আমার যা ইচ্ছা আমি খাব পান করব গরু শুয়ার সব, কে পরে থাকে আজকাল এসব মিথ্যা বিধিনিষেদ নিয়ে?দেখবেন যাদের অনেক বান্দবি নেই মদ কিনার টাকা নেই সেই সব কাঙ্গাল হত দরিদ্র মানুষ গুলিই এসব নিয়ে বেশি মাথা ঘামায়। মহকাশ নিয়ে যেভাবে গবেষনা হচ্ছে একদিন পৃথিবী ছাড়িয়ে যাবে মানুষ এখন শুধু বাকি থাকল মৃত্তু টা ওটা ও একদিন জয় করবে নিশ্চই অলরেডি মানুষ জড় পদার্থে প্রান দিতে সক্ষম হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *