কি হচ্ছে এসব?

নাহ! আসলেই বুঝছি না , আমি কই আছি।
দু দিন আগে কথা প্রসঙ্গে একজন বন্ধু কইলো যে, তুমি যে বাংলাদেশের কথা কইতাছো সেইটা বহু আগেই বাংলাস্তান হইয়া আছে। হুদাই ফাল পাড়তাছো মিয়া; ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ কইরা! কথাটার সত্যতা পাওয়া গেল গত পাক-ভারত ক্রিকেট খেলাতেও। দেশের জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আমি অবশ্যই ‘জাতীয়তাবাদ’ খুঁজবো?
Image and video hosting by TinyPic


নাহ! আসলেই বুঝছি না , আমি কই আছি।
দু দিন আগে কথা প্রসঙ্গে একজন বন্ধু কইলো যে, তুমি যে বাংলাদেশের কথা কইতাছো সেইটা বহু আগেই বাংলাস্তান হইয়া আছে। হুদাই ফাল পাড়তাছো মিয়া; ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ কইরা! কথাটার সত্যতা পাওয়া গেল গত পাক-ভারত ক্রিকেট খেলাতেও। দেশের জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আমি অবশ্যই ‘জাতীয়তাবাদ’ খুঁজবো?
Image and video hosting by TinyPic

পাকি প্রেম এ দেশের নতুন কিছু না। যদিও আই সি সি তে ভারতের প্রভাব দেখার মত। তবে এখানে সেটা উল্লেখ্য নয়। খেলা হচ্ছিলো বাংলাদেশে। টিভিতে আমি দেখেছি এ দেশের ছেলে- মেয়েদের পাক- প্রেম। এটাও একেবারে জাতীয় পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের মধ্যেও বিদ্যমান। এমনকি, এ দেশের ক্রিকেট খেলার মোড়লদের মধ্যেও ছাগলের দুগর্ন্ধ পাওয়া যায়।
ছেলে বেলা থেকেই এ ধরনের খেলাতে কখনই আগ্রহ বোধ করিনি। মোটামুটি বুঝ হবার পরে থেকে ভেবেছি, ” এই যে টিভিতে খেলা হচ্ছে তাতে আমার লাভ টা কি? খেলাতে লাভবান হন খেলোয়ার আর দল। বিনোদনের ব্যাপারেও ভেবেছি। কিন্তু উত্তর যা নিজে খুঁজে পেলাম; সেটাও হতাশার, বিনোদনের জন্য খেলাধুলার কি দরকার ? বই পড়া যায় কিংবা আড্ডাও দেয়া যায় বন্ধুদের সাথে। যেখানেও পাওয়া যায় বিনোদন।।
মাধ্যমিক শেষের আগেই আমি শতাধিক বই পড়ে ছিলাম যার, মধ্যে মৌচাকে ঢিল নামে একটা পাক্ষিক ম্যাগাজিন ও ছিলো। যেখানে প্রাপ্ত বয়স্কের নানা গল্প থাকতো । তাছাড়া যে সময়টাতে আমি খেলা দেখে নষ্ট করবো সে সময়ে কাজ টাজ করলে তো কিছু কামাই হবে। কাজ বাদ দিলাম এ সময়ে গান গাইলে বা বই পড়লেও লাভবান হবো। অন্তত খেলা দেখার নামে সময়ের অপচয় না করে। সেই থেকেই খেলা ধুলা আমায় টানেনা। আর শারীরিক কসরতের ব্যাপারেও আমি সহযে অসুস্থ্য হতাম না। কিন্তু খেলোয়ার বন্ধুরা প্রায়ই হাত পা ভেঙ্গে ঘরে বসে থাকতো।
যাইহোক, টিভিতে বারে বারে দেখাচ্ছিলো এদেশের মেয়েদের গালে , বুকে ধারন করা পাকিস্তান নাম ও তাদের চান তারা সংবলিত প্রতীক। আমার অনেক প্রগতিশীল বন্ধুরা আছেন যারা নারি অধিকার , সচেতনতা নিয়ে কাজ করেন, লেখালেখি করেন। তাদের কে আমি অনুরোধ করবো এ ক্ষেত্রে আপনারা আরও সরব হন। খেলা দেখতে যে সকল মেয়েদেরকে দেখা গিয়েছে তারা সবাই শিক্ষিতা, আধুনিক।।
ধারনা করি, অন্তত বাংলার ইতিহাস না জানুক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস টুকু জানে। যে ধর্ষনের শিকার এ দেশের মেয়েরা।
Image and video hosting by TinyPic

সে ধর্ষকদেরকেই বিছানার সঙ্গী কল্পনা করে রাত কাটায় এরা। জাতীয়তাবাদ কি জিনিস আমি বুঝিনা ঠিক। তবে এটা বুঝি; যে নির্যাতনকারী, তাকে আমি সব সময়ই নির্যাতনকারীই বলবো। হোক সে খেলার মাঠে বা যুদ্ধের ময়দানে। বন্ধু মহলে এমনও শুনি, ভারত মালাউন দ্যাশ। এদের কে সাপোর্ট করা ঠিক না। কিন্তু পাকিস্তান তো মুছলিম দেশ। জাত ভাই! বাংলাদেশের পরে এদের সাপোর্ট করাটাই যৌক্তিক। আমি লজ্জিত হই এমন যুক্তিবোধ দেখে। এরা বোধহয় ভুলে গেছে প্রাইমারি স্কুলের বাংলা বইতে “পাক হানাদার বাহিনী” শব্দটি। যে শব্দের সাথে জড়িয়ে আছে দেশের মানুষের রক্ত কনিকা। তবে প্রাথমিক ইছলাম ধর্ম বইতে লেখা “এক মুছলিম অন্য মুছলিমের ভাই” কথাটি তারা ভুলেনি। তাই তাদের জাতভাই প্রীতি হৃদয়ে বিরাজমান। বর্তমান ক্রিকেট খেলা আমার কখনই বিনোদনের মাধ্যমে মনে হয়নি। এটা এক ধরনের জুয়া। এই যে, মুছলিম বিশ্বাসীরা জাত ভাই বলে বলে মুখে লাড্ডুফেনা তুলছে, তারা কি জানেনা, ক্রিকেট খেলাটা ইছলামী দৃষ্টিকোণ থেকে শরিয়ত বিরোধী?
অবশ্যই জানে। কারন, প্রতিটা মহল্লায় পাড়ায় দেদারছে রাতে ওয়াজ চলছে যেখানে এসব খেলাধুলার বিরোধিতা করে যাচ্ছে অগণিত বক্তা তথা ইছলামী আলেম ওলামারা। তাহলে মুছলিমদের এখানে এমন দ্বিচারিতার কারন কি? এছাড়া ইছলাম তো এও প্রকাশ্যেই বলে দিয়েছে , বেগানা নারি পুরুষ প্রেম টেম করা গুনাহের কাজ,। সেখানে পাকিস্তানি প্লেয়ারদেরকে স্বপনের নায়ক ভাবা, কি গুনাহ না? মাঠে খেলাধুলা যারা দেখতে গিয়েছেন , বিশেষ করে যারা পাকিস্তানের সমর্থক ছিলেন নারীদের মধ্যে সবাই ছিলেন মুছলিম এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এখানে আমার বক্তব্য হলোঃ ইছলাম মানেন, আল্যা মানেন, নবি মানেন , নিজেকে শস্যক্ষেত্র মানতেও সমস্যা নেই আপনাদের। বরং আরও বেশি আনন্দিত হন এ ভেবে। সেখানে ময়দানে হাজার পঞ্চাশেক নারি পুরুষের সামনে নাচন কোদন করে নিজের ধর্মকে সুদে দেয়ার কোন মানে হয়?

১ thought on “কি হচ্ছে এসব?

  1. এদেশের ভণ্ডদের কাছে পাকিস্তান
    এদেশের ভণ্ডদের কাছে পাকিস্তান এখনও ধর্মের চেয়ে প্রিয়। এই শয়তানরা কখনও মানুষ হবে না।
    সত্য বলার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *