আমাদের দিন বুঝি একেবারেই গেছে

ছেলেবেলায় মনে হতো একেকটা কাপড় কাচা সাবানের আয়ূ যেনো অনন্তকাল। মা কাপড় কাচতে আছেন, ঘষতে আছেন তবু সাবানের গোল সেই গোল্লাটি ফুরিয়ে যায় না। ছোটবেলায় যা ছিলো অনন্তকাল বড় হয়ে জেনেছি সেটি মুহূর্তমাত্র। মানুষ যত বড় হয় সময় তত ছোট হয়ে আসে। ছোট হতে যাওয়া সেই সময়ে কত যে উলট-পালট ঘটে। যে একটা সাবানের মাঝে অনন্তকালের সন্ধান পেয়েছিলাম এরকম কয়েকটা কাপড় কাচা সাবানের ফ্যাক্টরিই উঠে গেছে, কার তাতে কী! কাপড় কাঁচার সাবান গেছে, ডিটারজেন্ট পাউডার এসেছে। হাতে নয় এখন মেশিন কাপড় কাঁচে, তবুও হঠাৎ সাবানের গন্ধ এসে নাকে লাগে। উৎকট সেই গন্ধের জন্য মন কেমন কেমন করে। বুঝি এর নাম স্মৃতি। স্মৃতিগুলো গন্ধ হয়েও বাঁচে আর মানুষগুলো স্মৃতি নিয়ে বাঁচে।

আমরা জন্ম নিয়েছে এমন এক আশ্চর্য সময়ে যখন অতীতের হাত ধরেছে ভবিষ্যৎ, আমরা বেড়ে উঠেছি অতীত-ভবিষৎতের টানাটানিতে থাকা ছোট্ট এক বর্তমানে। সুতরাং আমরা বাপ-দাদার রাক্ষস-খোক্ষস জগতের সঙ্গে সহজে একাত্ম হয়েছি আবার তাদের নাতি-নাতনির স্পাইডারম্যান সুপারম্যানের সঙ্গেও আমাদের চেনাজানা হয়েছে।

যখন আমাদের কৈশোর কিংবা তারুণ্য এসেছিলো তখন প্রযুক্তির দূরন্ত যৌবনকাল। সে যেনো এক ক্ষ্যাপাটে জাদুকর। ছুঁ মন্তর ছুঁ দিয়ে মন্ত্র দিয়ে সে পাল্টে দেয় আমাদের চেনা অভ্যাস, প্রিয় পরিবেশ। প্রতিদিন তাই স্মৃতির পাতায় যুক্ত হয় নতুন নতুন অধ্যায়। আমাদের স্মৃতির ভান্ডার সমৃদ্ধ হয় অথবা সবকিছুই স্মৃতি হয়ে যায়।

কতদিন আগের কথা এসব? এই তো চুল কাঁচা থাকা সময়ের কথা, এখনও তো চুল কাঁচাই আছে, তবু কত কিছু নেই! কত কিছুই নেই।

সদ্যগত হওয়া আমাদের সেই সময়ে বিনোদনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায় ছিলো, এক রাতের জন্য ভিসিআর ভাড়া। সঙ্গে তিনটা থেকে পাঁচটা ক্যাসেট। কান টানলে যেমন মাথা আসে, ভিসিআর ভাড়া করলে তেমন সঙ্গে আসতো ভিডিও দোকানের ছেলে। এর নাম অপারেটর। সিনেমায় বড়দের কোনো ঘনিষ্ঠ দৃশ্য এলে সেটি টেনে দেওয়াই ছিলো তার অন্যতম প্রধান কাজ (এই কারণে ছোটবেলায় কখনো হিন্দি সিনেমার নায়ক নায়িকার চুমুর দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য হয়নি)। অপারেটর একখান চিজ ছিলো বটে। কী তার কড়া নিয়ম। ভিসিআরে হাত দেয়া যাবে না, সকাল দশটা হবার পর আর কোনো সিনেমা দেখা যাবে না।

মনে আছে, ভিসিআরে সিনেমা দেখা চালু হতো মাঝরাতে। দেড় দুইটা ছবি দেখার পর ঘুমে ঢলে পড়ার উপক্রম। চা খেয়ে, মুখ ধুয়ে ঘুম তাড়ানো। ভিসিআরের ভেতরে ছিলো হেড নামের এক যন্ত্র। ত্যাদড় সেই যন্ত্রের ছিলো শূচিবায়ূ রোগ। ময়লা তার সহ্য হয় না। একটু ময়লা লাগলে তাই ভিডিও বন্ধ। তখন শাদা কাগজে থু থু লাগিয়ে হেড পরিস্কার করতে হয়। থু থু দিতে দিতে বেচারা অপারেটরের জান শেষ।
আমার ছাত্রজীবনের অন্যতম লক্ষ্য ছিলো বড় হয়ে একটা ভিডিও সেট কিনবো, সঙ্গে দুই একটা বাড়তি হেড কিনে রাখবো। হায়রে লক্ষ্য! আমি উপার্জন শেখার আগে ভিডিওই হারিয়ে গেলো। এলো ভিসিডি এলো ভিভিডি। এসবও এখন যায় যায়। ইউটিউবের জাদু কত কিছুকেই যে পাঠিয়ে দিলো জাদুঘরে।

এখন এই গুগল-ইয়াহু বেলায় তাই কোনো কিছুর হারিয়ে যাবার সংবাদে বিচলিত হই না, বিস্মিত হই না, ভীত হই না। কেবল বুকের ভেতর একটা কাঁটা খচখচ করে। এই কাঁটার নাম বুঝি স্মৃতি। স্মৃতিগুলো এখন কাঁটা হয়েও বাঁচে।

স্মৃতির কাঁটা মন খুঁচিয়ে ঘড়ির কাঁটায় নিয়ে যায়। আমাদের সেই সময়ে ঘড়ির কাঁটায় সাড়ে এগারোটা ছিলো বেশুমার রাত। ঐ সময়ে সবেধন নীলমনি বিটিভির উপস্থাপক মাসুদ কায়সার কিংবা শামীমা আক্তার বেবী এসে বলে গেছেন, খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। তারপর টিভির পর্দায় ঝিরঝির-তিরতির। এরপর, বাবা ঘুমালেন, মা ঘুমালেন, ঘুমে বুজে এলো নিজের চোখও। আমাদের বিনোদনের শেষ সময়, আমাদের জেগে থাকার শেষ সময় রাত সাড়ে এগারোটা এই আধুনিক বেলায় এসে রীতিমতো সন্ধ্যা। এখনকার ঘড়িগুলো তেমন করে রাত দিনের ফারাক বুঝে না। টিভি চ্যানেলগুলো চলে চব্বিশ ঘণ্টা, বাবা জেগে থাকেন, মা জেগে থাকেন, ঘরে ঘরে জেগে থাকে না ঘুমাবার রোগ।
আমরা আগেভাগে ঘুমাতাম বলে আমাদের ভোরগুলো হতো চমৎকার। সত্যি সত্যি মোরগ ডাকতো। সত্যি সত্যি শিশুরা বই নিয়ে উচ্চস্বরে পড়তে বসতো, দুই একে দুই, দুই দুগুণে চার। ভেসে আসতো মায়ের কোরআন পাঠের এক স্বর্গীয় সুর, ফাবিআইয়্যি আলায়ি রব্বিকুমা-তুকায্যিবান। আমাদের দিনের শুরু হতো এভাবেই সুরেলা, মধুমাখা।

সুরেলা ভোর ঘড়ির কাঁটা ধরে দুপুরে পৌঁছে। আসে ডাকপিওন। আহা ডাকপিওন! আজও কানে বাজে তার সাইকেলের বেল। ডাকপিওন আমাদের সময়ে সবচেয়ে আকাংখিত এক মানুষের নাম। তার ব্যাগভর্তি ‘পরসমাচার’। এই সমাচার জানার জন্য সবার কী যে কাঙালপনা। মায়ের কাছে ছেলে চিঠি লিখে, ছেলের কাছে বাবা, বন্ধুর কাছে বন্ধুর চিঠি, ঘরের সুন্দরী মেয়ের জন্য আসে উড়ো চিঠি। যে লিখেছে তার নাম নেই, পরিচয় নেই। তবুও বাবা সেই চিঠি খুলে পড়েন, মাকে দেখান, বাবা-মা দুজনেই রাগে গজগজ করেন। অজানা-অচেনা ভীতু প্রেমিকের জন্য শুধু শুধু সুন্দরী সেই মেয়েকে বাবা-মায়ের বকা শুনতে হয়।

আবার সেই বকা খাওয়া মেয়েটির বিয়েতে ঘটে আরেক আশ্চর্য ঘটনা। ঐ সময়ে মেয়ের বিয়েতে বাবা-মায়ের কান্নার একটা রেওয়াজ ছিলো। তারা অবশ্য একটা সীমার মধ্যে কাঁদতেন। কিন্তু মেয়ের কান্না, হায় আল্লাহ! তার কোনো সীমা-পরিসীমা ছিলো না। যে কনে যত বেশি শব্দ করে কাঁদতে জানে বিয়ের আসরে সেই কনেই সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত। হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে যদি মেয়েটা অজ্ঞান হয়ে যায় তাহলে তো আরও ভালো। আত্মীয়স্বজনের কাছে মেয়েটির ধন্য ধন্য গুণগান। শ্বশুড় বাড়ির লোকজনও খুশি, ‘বাবা-মায়ের জন্য যদি এতো মায়া মেয়েটির, আমার জন্য না জানি কত মায়া হবে!’ এ ভেবে নয়া জামাইও বড় বেশি রোমঞ্চিত বোধ করেন। আর বিয়ের আসরে মেয়েটি যদি কম কাঁদে কিংবা কাঁদে না তাহলে তাকে নিয়ে শুরু হয় বাঁকা কথা। তার কপালে জুটে নির্লজ্জ বেহায়া উপাধি। এমন বেয়াড়া মেয়েকে কাঁদাবার জন্য নানী, খালা কিংবা বান্ধবীরা চিমটি পর্যন্ত দিতেন। আজকালের মেয়েদের কাছে এই কান্নার গল্পটা বড় বেশি হাস্যকর মনে হবে। তারা তো এখন কাঁদে না। কিংবা যদি কান্না আসেও সেটি তারা প্রাণপনে চেপে রাখে. নতুবা মেকআপ যে নষ্ট হয়ে যাবে!
এখন তো আসলে মেকআপ সময়। সবকিছুর উপরে আলগা জিনিসের আস্তরণ। সবকিছু ভাসা ভাসা, মূল মিলে না কিছুর। তবু মূলে যাবার জন্য মন টনটন করে, মন টান দেয়। এর নাম বুঝি স্মৃতি। আমাদের স্মৃতিগুলো টান হয়েও বাঁচে।

সেই টান রয়ে গেছে বিকেল বেলার মাঠে। পাড়ায় পাড়ায় মাঠ। মাঠে মাঠে ফুটবল। মাঠে মাঠে দৌড়। তখন ক্রিকেটের নামডাক ছিলো না তেমন, সবখানে ফুটবলের জয়জয়কার। আবাহনী আর মোহামেডানে জগৎ বাঁধা। সালাউদ্দিন আর আসলামে মুগ্ধতা। ইলিশ মাছের তিরিশ কাঁটা বোয়াল মাছের দাড়ি, আবাহনী ভিক্ষা করে মোহামেডানের বাড়ি…ফুটবল দলপ্রিয় মানুষগুলোর স্লোগান ছিলো এটি। এই স্লোগানে সহজ একটা অভিব্যক্তি আছে, একদল সাদামাঠা মানুষের ভালো লাগার সোজাসাপ্টা প্রকাশ আছে। আমাদের সময়ে ভালো লাগাগুলো ছিলো এরকম সরল এবং সীমাবদ্ধ। ম্যারাডোনাদের সাথে আমাদের দেখা হতো চার বছরে মাত্র একবার। নতুবা তাদের খবর আর রাখে কে?

খবর পাবার জন্য খবরপত্র ছাড়া আর তো কোনো মাধ্যম ছিলো না। টেলিভিশনে আটটা/দশটা যে খবর হতো তা ছিলো কেবল সাহেব বিবি আর গোলামের। মানুষের খবর জানার জন্য ইত্তেফাক, সংবাদ, বাংলার বাণীই ভরসা। চলচ্চিত্রের খবর জানার জন্য ছিলো চিত্রালী। দুনিয়ার অপ্রয়োজনীয় সব খবর জানার মাধ্যম ছিল চিত্রবাংলা। সাপ্তাহিক বিচিত্রা আর রোববারেও ছিলো যথেষ্ট কাটতি। বাবা যখন বাজারে যেতেন, মায়ের আবদার, একটা বেগম নিয়ে আসবেন। বেগম ছিলো মধ্যবিত্ত নারীর আভিজাত্যের প্রতীক। আর অতি সাধারণ নারীদের জন্য ছিলো একটাই বই। নাম তার মকসুদুল মোমেনিন বা বেহেস্তের পুঞ্জি। এটি ছিলো বড় পুরুষবাদী বই। বইয়ের পাতায় পাতায় ছিলো নারীর প্রতি অবমাননা। আমাদের সময়ে সবচেয়ে বড় দুঃখ, সবচেয়ে বড় কষ্ট, সবচেয়ে বড় অমানবিকতার উদাহরণ হয়েছিলেন আমাদের মায়েরা। আমরা বড় হয়েছি তাদেরকে বারবার পরাজিত হতে দেখে। বাবারা ছিলেন আলালের ঘরের দুলাল। তারা যা চাইতেন তাই হতো, তাই পেতেন। মায়েরা ছিলেন কাজের বেটি রহিমা। সব কাজ তাদের ঘাড়ে। খুব কম সংখ্যক বাবাই ছিলেন যারা নিজের হাতে গ্লাসে পানি ঢালতেন, খাবার শেষে প্লেট ধুতেন, বাচ্চাদের কোলে নিতেন কিংবা রাতে বাচ্চার ঘুম ভাঙলে জেগে উঠতেন। কোনো কাজ না করেই বাবাদের ছিলো সব বাহাদুরি, সব কাজ করেও মায়েদের ছিলো ছেঁড়া শাড়ি। আধুনিক সময়ের অনেক কিছু নিয়েই আমার ক্ষোভ আছে, তবে আধুনিক সময়ের একটা ব্যাপারে বড় বেশি মুগ্ধতা। এই সময়টা অন্তত:পক্ষে নারীকে মানুষ ভাবতে শিখিয়েছে।

আবার মায়ের ছেঁড়া শাড়িতে ফিরে যাই। ওঠা হলো আমাদের অমূল্য সম্পদ। জন্মের আগেই মা তার ছেঁড়াফাটা শাড়ি দিয়ে ছোট ছোট সব কাঁথা বুনেন। আমাদের শরীর জড়িয়ে রাখতো মায়ের সেইসব ছেড়া শাড়ির কাঁথা। রাতে কাঁথা ভিজে যায়, কাঁচা ঘুম ভেঙে মা সেটা পাল্টে দেন। আবার কাঁথা ভিজে, আবার মায়ের কাঁচা ঘুম ভাঙে। আজকাল তো আছে পেম্পার, ডায়পার, রাতে ঘুম ভেঙে কাঁথা পাল্টাবার যন্ত্রণার খবর এখনকার মায়েরা জানে না, আর এখনকার সন্তানের শরীর জড়িয়ে রাখে না মায়ের ছেঁড়া শাড়ির কাঁথা। যে কাঁথাই মায়ের ঘ্রাণ লেগে থাকতো। সেই ঘ্রাণ নাকে লেগে আছে আজো। বুঝি এর নাম স্মৃতি। স্মৃতিগুলো ঘ্রাণ হয়েও বাঁচে।

স্মৃতির ঘ্রাণ, গন্ধ, কাঁটা, টান সব কথা বলেছি। তবু রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু।
এবার মনে পড়লো বিশ কিংবা পঁচিশ বছর আগের একটা ঘটনার কথা। পরিচিত এক বড় ভাই আশ্চর্য একটা জিনিস কিনেছেন, সেটি দেখতে গেলাম দলবেঁধে। প্রথমে আমরা তার বাসায় ড্রইংরুমে গিয়ে বসলাম। তারপর আমাদের জুতা খুলতে বলা হলো। আমরা জুতা খুললাম। আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো ভেতরের আরেকটি রুমে। এটি এমন এক রুম যেখানে খাওয়া-দাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রুমের ভেন্টিলেটর কাগজ সেঁটে বন্ধ করা হয়েছে, বাতাস এসে ঢোকার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। এ রুমে কেউ জুতো নিয়ে ঢুকে না। তাই নেই কোনো ধুলোবালি। অতি পবিত্র সেই রুমে টেবিলের ওপর মহামূল্যবান জিনিসটা রাখা। তবে প্রথম নজরেই সেটি দেখার উপায় নেই। লজ্জাবতী নারীর মতো পুরোটা তার নেকাবে ঢাকা। সাবধানে নেকাব সরিয়ে বড় ভাই দেখালেন আশ্চর্য সেই জিনিসের রূপ মোবারক। এটি ছিলো একটি কম্পিউটার। জানলাম জিনিসটা কেনা হয়েছে মাস তিনেক আগে। তারপর থেকেই রক্ষণশীল পরিবারের নতুন কনের মতো একটা রুমে বন্দি হয়ে আছে সে। বড় ভাই জানালেন, কম্পিউটার কিভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটি তিনি জানেন না। প্রতিদিন একবার সুইচ টিপে কম্পিউটার অন করেন তারপর সুইচ টিপে সেটি অফ করেন। এই অফ-অন করার মাঝেই তার আনন্দ।
সেদিন বড় ভাই বড় যত্ন করে জিনিসটা দেখিয়েছিলেন, আমরা বড় যত্ন নিয়ে জিনিসটা দেখেছিলাম। তখন কি জানতাম, পঁচিশ বছর পর আমাদের সবকিছু কম্পিউটার নামের এই বদমাশের দখলে যাবে। তখন কি জানতাম, সতেরো কিংবা সাতাশ ইঞ্চি স্ক্রিণের জগতে বাঁধা পড়বে মানুষের জীবন। মাঠে আর খেলতে যাবে না শিশু, খেলা হবে কম্পিউটারের পর্দায়। খোকনের চায়ের দোকানে রক্ত-মাংসের মানুষের আড্ডা হবে না, আড্ডা হবে ফেইসবুকে ছবির সাথে ছবির, ছায়ার সাথে ছায়ার। চিঠি নিয়ে আসবে না ডাকপিওন। গুগল মেইল জানাবে, ‘ইউ হেভ ওয়ান আনরিড ইমেল’। এখনকার মানুষের হাতগুলো এখন শুধু মাউস ধরে, এখনকার মানুষের হাতগুলো এখন আর অন্য মানুষের হাত ধরে না।
সেদিন একজন বললেন, আগামীতে কাগুজে সংবাদপত্রও থাকবে না আর, নিউজের জন্য চোখ থাকবে কেবলই অনলাইনে। তার কথায় অবাক হইনি। বরং দিন গুণছি। একদিন কাগজের সংবাদপত্র থাকবে না। আমার আর সংবাদপত্রে কাজ করা হবে না। নিজের একমাত্র জানা বিদ্যা তখন অচল হয়ে যাবে।
সুরমা নদীর খেয়াপারের এক মাঝির কথা মনে পড়লো। হাতের বৈঠায় নৌকা বাইতো সে। তারপর এলো ইঞ্জিন নাও। সেটা সে চালাতে জানে না। বড় দুঃখ করে. দীর্ঘশ্বাস বুকে নিয়ে একদিন সেই মাঝি বলেছিলো, ভাইসাব আমাদের দিন বুঝি একেবারেই গেছে!

সেই মাঝির মতো বড় দুঃখ করে. দীর্ঘশ্বাস বুকে নিয়ে বলি, আমাদের দিন বুঝি একেবারেই গেছে!!!

১ thought on “আমাদের দিন বুঝি একেবারেই গেছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *