রাজাকারে”র সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও প্রকারভেদ এবং স্বাধীন-বাংলাদেশে অতিসহজেই রাজাকার ও নব্যরাজাকার চেনার ত্বরীকা বা উপায়সমূহ:

রাজাকারে”র সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও প্রকারভেদ এবং স্বাধীন-বাংলাদেশে অতিসহজেই রাজাকার ও নব্যরাজাকার চেনার ত্বরীকা বা উপায়সমূহ:
সাইয়িদ রফিকুল হক

উর্দু শব্দ “রেজাকার” থেকে বাংলায় “রাজাকার” শব্দটির প্রচলন। আর ১৯৭১ সালেই সর্বপ্রথম ভারতীয় উপমহাদেশের “বাংলাদেশে” এই শব্দটির সঙ্গে মানুষের পরিচয় ঘটে।
এর অর্থ “স্বেচ্ছাসেবক” বা “সাহায্যকারী” বা “সহযোগিতাকারী”। মূলত ১৯৭১ সালে “শয়তানরাষ্ট্র” পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে, এবং পাকিস্তানকে সর্বপ্রকার অনৈতিক-সহায়তাদানের জন্য যারা স্বেচ্ছায় “পাকিস্তানী”হানাদার নরপশুদের “সহযোগী” বা “সাহায্যকারী” হয়েছিলো, তারাই রাজাকার।


রাজাকারে”র সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও প্রকারভেদ এবং স্বাধীন-বাংলাদেশে অতিসহজেই রাজাকার ও নব্যরাজাকার চেনার ত্বরীকা বা উপায়সমূহ:
সাইয়িদ রফিকুল হক

উর্দু শব্দ “রেজাকার” থেকে বাংলায় “রাজাকার” শব্দটির প্রচলন। আর ১৯৭১ সালেই সর্বপ্রথম ভারতীয় উপমহাদেশের “বাংলাদেশে” এই শব্দটির সঙ্গে মানুষের পরিচয় ঘটে।
এর অর্থ “স্বেচ্ছাসেবক” বা “সাহায্যকারী” বা “সহযোগিতাকারী”। মূলত ১৯৭১ সালে “শয়তানরাষ্ট্র” পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে, এবং পাকিস্তানকে সর্বপ্রকার অনৈতিক-সহায়তাদানের জন্য যারা স্বেচ্ছায় “পাকিস্তানী”হানাদার নরপশুদের “সহযোগী” বা “সাহায্যকারী” হয়েছিলো, তারাই রাজাকার।

পাকিস্তানীশয়তানগোষ্ঠী রাতের আঁধারে হিংস্র-হায়েনার মতো আমাদের উপর অতর্কিত ঝাঁপিয়ে পড়ে আমাদের “বাংলাদেশকে” ও বাংলাদেশের মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিলো। আর এই শয়তানী কাজে সবকিছু জেনেশুনেও, যারা বাংলাদেশের মানুষ হয়েও ১৯৭১ সালে পাকিস্তানকে “বাপ” ডেকে “পাপ” করেছিলো, এবং তারা তাদের সেই বাপকে বাঁচানোর জন্য তাদের “বাপে”র নির্দেশে “বাঙালি” হয়েও সমগ্র বাঙালি-জাতির বুকে-পিঠে “ছুরি” মেরেছিলো, তারাই আজ রাজাকার। কিন্তু এখনও যে রাজাকারের জন্ম হচ্ছে? দেশের বুকে এখনও যে রাজাকার ও নব্যরাজাকার দেখতে পাচ্ছি!
কিন্তু তা কীভাবে?
আজকের দিনে রাজাকারের সংজ্ঞা তাই নতুনভাবে দিতে হচ্ছে। এখনও দেশে একের-পর-এক রাজাকারের জন্ম হচ্ছে। ১৯৭১ সালের রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তিকমিটি’র পাপের বীজ দেশে এখনও বিদ্যমান। আর তাই, দেশের বুকে এখনও একজন রাজাকার গুয়েশ্বর রায় ও রাজাকার রিজভী আহমেদের জন্ম হচ্ছে। এ-তো মাত্র দুই-একজনের উদাহরণ। এইরকম বর্ণচোরা-শয়তান ও জীবন্তরাজাকার এই দেশে আরও অনেক আছে। এরাই এখন সগৌরবে বংশবিস্তার করছে।

এবার আমরা “রাজাকারে”র আধুনিক সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করবো।
রাজাকারের আধুনিক সংজ্ঞা:
এখনও যারা মনেপ্রাণে পাকিস্তানকে ভালোবাসে, ভিতরে-ভিতরে আবার পাকিস্তান-কায়েমের স্বপ্ন দেখে, কিংবা যারা পাকিস্তান-কায়েম করতে চায় তাদের সমর্থন করে, তারা বাংলাদেশের আধুনিক রাজাকার। এরা ১৯৭১ সালের রাজাকারদের প্রকৃত-উত্তরসূরী।
বাংলাদেশ-রাষ্ট্রকে যারা মনেপ্রাণে ভালোবাসে না, ভিতরে-বাইরে পাকিস্তানী, কিন্তু লোকদেখানোর জন্য বাংলাদেশের কথা বলে তারা একনিষ্ঠ-নব্যরাজাকার।

আধুনিক-রাজাকারদের কতিপয় বৈশিষ্ট্য:
পাপ কখনও গোপন রাখা যায় না। তাই, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও তাদের বংশধররা কখনও তাদের পাপকে ঢেকে রাখতে পারেনি। এই বিষয়ে তারা অনেক ষড়যন্ত্র ও শয়তানী করেছে, কিন্তু সফলকাম হয়নি। মানুষের সম্মুখে তাদের পাপরাশি দিবালোকের ন্যায় পরিস্ফুট হয়ে উন্মোচিত হয়েছে। আর তাদের পাপের ইতিহাস জেনে ও পড়ে এই বাংলার মানুষ শিউরে উঠেছে। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীরা এই পৃথিবীতে এমন কোনো পাপ বাকী রাখেনি। আজও তাদের ও তাদের বংশধরদের কথাবার্তায় সেইসব পাপের চিহ্ন রয়ে গেছে। এদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে কিছু-কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। যাদের কথাবার্তায় নিম্নে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যসমূহ বা এর যেকোনো একটি বৈশিষ্ট্য ধরা পড়বে, আমাদের সঙ্গে-সঙ্গে বুঝে নিতে হবে: এরা একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী কিংবা একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বংশধর। বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে:

১. এরা বলবে: বাংলাদেশের ‘জাতীয় সঙ্গীত’ হিন্দুর লেখা।
২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন হিন্দু! আর কোনো হিন্দুকে বিশ্বকবি বলা ঠিক নয়!
৩. হিন্দুর লেখা ‘জাতীয় সঙ্গীত’ গাওয়া ঠিক নয়।
৪. বাংলাদেশের ‘জাতীয় পতাকা’ ইসলামী-পতাকা নয়! পাকিস্তানের পতাকা ইসলামী-পতাকা!
৫. এরা কথায়-কথায় শুধু ভারত আর রাশিয়াকে আক্রমণ করে কথা বলবে। কিন্তু কখনও এদের গঠনমূলক সমালোচনা করবে না। কারণ, একাত্তরে এই দু্ইটি দেশের সহযোগিতায় বীর-বাঙালি ‘পাকিস্তান’ ধ্বংস করেছে। আর বাংলাদেশ কায়েম করেছে। সেই থেকে ওদের এতো ক্ষোভ।
৬. এরা বলে: “মুক্তিযুদ্ধ তো শেষ! এখন এসব নিয়ে আলোচনা করে লাভ কী?”(ওদের বলতে হবে: তোর জন্ম তো হয়ে গেছে, সব ঝামেলা শেষ! এখন, তুই তোর বাপের নাম দিয়ে আর কী করবি! তাই, আজ থেকে তুই তোর বাপের নাম লিখিস না!)
৭. ওরা একাত্তরের পরাজয় কখনও ভুলতে পারে না। তাই, একাত্তরে আমাদের সাহায্যকারী দুই রাষ্ট্র: ভারত ও রাশিয়াকে সবসময় দোষারোপ করতে থাকে। ওরা কখনও এই দুই রাষ্ট্রের প্রশংসা করবে না। এমনকি রাজাকাররা ‘ইবলিশ শয়তানে’র প্রশংসা করতে রাজী, তবুও ভারত আর রাশিয়ার কোনো প্রশংসা করবে না। কারণ, ওদের বাপ-পাকিস্তান একাত্তরে ভারত আর বাংলাদেশের সেনাপতির কাছেই অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করেছে। সেই লজ্জা ওরা আজও ভুলতে পারে না।
৮. ওরা বলবে: “বামপন্থীরা সব নাস্তিক! কম্যুনিস্টরা নাস্তিক!” আসলে, ওরাই সবচেয়ে বড় শয়তান। আর ওরা বামপন্থীদের ‘মেধা ও মননে’র সঙ্গে এঁটে উঠতে না পেরে এইসব শয়তানী কথাবার্তা বলে থাকে।
৯. ওরা বলবে: “শহীদমিনারে কিংবা স্মৃতিসৌধে যাওয়া নাজায়েজ!” আসলে, এই পৃথিবীতে ওরাই সবচেয়ে বড় নাজায়েজ।
১০. বাংলাদেশের সার্বজনীন-উৎসব: পহেলা বৈশাখ বা বাংলা-নববর্ষকে কটাক্ষ করে ওরা বলবে: “পহেলা বৈশাখ পালন করা জায়েজ নাই। এসব হিন্দুয়ানী! এগুলো অপসংস্কৃতি!”

১৯৭১ সালের পবিত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস পর্যালোচনা সাপেক্ষে বর্তমান বাংলাদেশে প্রধানত দুই ধরনের রাজাকার রয়েছে। যথা:
১. স্থায়ী-রাজাকার: এরা জন্মলগ্ন থেকে পাকিস্তানপন্থী, পাকিস্তানের দালাল ও চিরদিনের জন্য পাকিস্তানের গোলাম। গোলাম-ই-পাকিস্তান। আর এরা জীবনে-মরণে, শয়নে-স্বপনে, ধ্যানে-জ্ঞানে ও চিন্তাভাবনায় সবসময় পাকিস্তানকে ভালোবাসে। এদের জীবনের চালিকাশক্তি পাকিস্তান। এরা এখনও পাকিস্তানের কথায় কানধরে ওঠাবসা করে থাকে। আর একমাত্র পাকিস্তানই এদের ভরসা।
২. অস্থায়ী-রাজাকার: এরা বিভিন্ন সময় স্বার্থগত কারণে রাজাকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। এদের মনোভাবের কখনও-কখনও সামান্য পরিবর্তনও ঘটে। এরা সরাসরি পাকিস্তানপন্থী নয়। তবে এরা নীরব-ঘাতক। এরা নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি দাবি করেও লোভ ও লাভের আশায় রাজাকারদের সঙ্গে হাত মিলাতে বিলম্ব করে না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন বিশ্বাসঘাতক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক পাতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা: ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় লম্পট ড. আসিফ নজরুল, কাজীজাফর মীরজাফর, আইনজীবী-নামধারী জাতীয় শয়তান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের দালাল ব্যারিস্টার সারা হোসেন, জাতীয় বেআদব ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাবিরোধী একজন ড. তুহিন মালিক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ-নামধারী একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের মুখপাত্র: ড. শাহদীন মালিক, ‘সুজনে’র নির্বাহী পরিচালক ড.বদিউল আলম মজুমদার, টিআইবি’র চেয়ারম্যান-পরিচালক ড.ইফতেখারুজ্জামান ইত্যাদি। আর এইজাতীয় রাজাকারগুলো সবসময় কোনো-না-কোনো জোটে ঘাপটিমেরে থাকে। আর এইজাতীয় লোকেরা আমাদের বর্তমান বাংলাদেশের চিহ্নিত সুশীল-রাজাকারশ্রেণী, এবং এইজাতীয় শয়তানরা সবসময় বর্ণচোরা-আমের মতো। এরা এই বাংলার বুকে চিরকাল শুধুই মাকাল-ফল!

স্থায়ী-রাজাকার আবার আটশ্রেণীতে বিভক্ত। মূলত বাংলাদেশে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলেমিশে আটপ্রকার রাজাকার রয়েছে। নিম্নে সংক্ষেপে এদের পরিচয় তুলে ধরা হলো:

১. প্রথমশ্রেণীর রাজাকার: এরা আজন্ম-আমৃত্যু পাকিস্তানের বিশ্বস্ত-গোলাম:
এরা ১৯৭১ সালে সরাসরি রাজাকারি করেছে। আর কায়মনোবাক্যে পাকিস্তানের গোলামি করেছে। এরা সরাসরি “রাজাকারবাহিনী” কিংবা “আলবদরবাহিনী” কিংবা “আলশামসবাহিনী” কিংবা “শান্তিকমিটি”র সক্রিয় কর্মী-নেতা-সদস্য ছিল। এরা এখনও বাংলাদেশ আর আওয়ামীলীগের নাম শুনলে ক্ষেপে যায়। আর গালিগালাজ করে। আর একটু সুযোগ পেলেই রাজনৈতিক ফায়দা-লুটতে এরা আওয়ামীলীগকে সবসময় “ধর্মহীন” ও “নাস্তিক” বলে গালিগালাজ করে থাকে। আর সবসময় পাকিস্তান-ভাঙ্গার জন্য ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’কে দোষারোপ করে তাঁকেও প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে গালিগালাজ করে থাকে। এরা বাংলাদেশের সবচেয়ে ভয়াবহ রাজাকার। এবং এই জাতিরাষ্ট্রের জন্য এখনও হুমকিস্বরূপ। কারণ, এরা ভিতরে-বাইরে এখনও একেকজন “পাকিস্তানী-হানাদার”। এরা এখনও “জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের” অংশীদার। আর নয়তো এখনও তারা পাকিস্তানের দালাল-পার্টি: নেজামে ইসলাম, মুসলিম-লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইত্যাদির সদস্য।
২. দ্বিতীয়শ্রেণীর রাজাকার: এরা এখনও ভিতরে-বাইরে পাকিস্তানী:
এরা ১৯৭১ সালের অবসরপ্রাপ্ত রাজাকারদের পুত্র-কন্যা-স্ত্রীসহ সকলপ্রকার আত্মীয়স্বজন ও বংশধর। এরা এদের পিতা, ভ্রাতা, পিতামহ, মাতামহ, চাচা, মামা, খালু, ফুপা, দুলাভাই, শ্বশুর ও অন্যান্য জ্ঞাতিবর্গের নিকট থেকে পাকিস্তানী“অমৃত-বচন” শ্রবণ করে-করে আজ একজন “সেমি-পাকিস্তানী”। তবে এদের কেউ-কেউ এখন ভিতরে-ভিতরে একেবারে পুরা-পাকিস্তানী। আর এদের “পাকিস্তানী-ঈমান-আকিদাহ” এতোই মজবুত যে, এরা দেশের ইতিহাস চোখের সামনে জাজ্বল্যমান অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও সীমাহীন অন্ধ-আনুগত্যে “পাকিস্তানকে” ভালোবেসে যাচ্ছে। এরা “বঙ্গবন্ধু” ও আওয়ামীলীগকে” একদম সহ্য করতে পারে না। আর দেশের ভিতরে একটা-কিছু হলেই এরা “আওয়ামীলীগ” ও “বঙ্গবন্ধুকে” আক্রমণ করে কথা বলতে ভালোবাসে। এরা কখনও বীর-বাঙালি-জাতির মুক্তিযুদ্ধকে ভালোবাসে না। এবং শ্রদ্ধাও করে না। কিন্তু তারা সবসময় লোকদেখানোভাবে বাংলাদেশের জন্য কতো দরদ দেখায়! আর এরা এখন দেশের জন্য “মায়াকান্না” দেখাতে খুব ব্যস্ত। কারণ, এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে “রাজনৈতিক-ফায়দা-লুটতে” চায়।
৩. তৃতীয়শ্রেণীর রাজাকার: একমাত্র পাকিস্তান এদের জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য:
এরাও ১৯৭১ সালের “পাকিস্তানী-হানাদারবাহিনীর” সক্রিয়-সদস্যদের ভাবাদর্শ দ্বারা এমনভাবে আলোড়িত ও তাড়িত হয়েছে যে, এদের এখন “পাকিস্তান” ছাড়া আর কিছু ভালো লাগে না। এদের কারও-কারও জন্ম মুক্তিযুদ্ধের আগে বা পরে। কিন্তু এরা পাকিস্তানকে এখনও “ইসলামী-রাষ্ট্র” ভেবে তাকেই জীবনের সর্বক্ষেত্রে ঠাঁই দিয়েছে। এরা বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টাও করছে। আর এদের আদর্শের প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে: “পাকিস্তানী-বীজের” ফসল “বিএনপি” ও তার অধীনস্ত দলসমূহ। যেমন—আজকের কথিত “বিশদলীয়-আঠারোদলীয়-জোট, বিগত চারদলীয়-জোট ইত্যাদি”। এরা সবসময় এই রাজাকারদলীয়-জোট ও রাজাকারবৃত্তের মধ্যে বসবাসের চেষ্টা করে থাকে। এরা শয়নে-স্বপ্নে-ধ্যানে-জ্ঞানে দিনরাত শুধু পাকিস্তানকে দেখতে থাকে। আর এদের একমাত্র আশা-ভরসা ও নেশা: পাকিস্তান। এরা পাকিস্তানকে এতো ভালোবাসে। আর তাই, এদের কাছে পাকিস্তানের “মদও” হালাল বলে মনে হয়।
৪. চতুর্থশ্রেণীর রাজাকার: বংশগত-রাজাকার:
এরা স্বাধীনতাপরবর্তী-প্রজন্মের একাংশ। কারণ, দেশের নতুন-প্রজন্মের বেশির ভাগই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে। কিন্তু এই “একাংশ” দেশের ভিতরে “পাকিস্তানী-বীজ-রোপণ” করার জন্য সবসময় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরা “জীন”গতভাবে পাকিস্তানীদের উত্তরসূরী। এদের বেশির ভাগই দেশের রাজাকারদের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন “প্রাইভেট-বিশ্ববিদ্যালয়ে” অধ্যয়নরত। এরা বাংলাদেশের জন্য আগাছা-পরগাছা ছাড়া আর কিছু নয়। আর বাংলাদেশের অন্যতম জাতীয় অভিশাপ হলো: এইসব “প্রাইভেট-বিশ্ববিদ্যালয়”।
৫. পঞ্চমস্তরের রাজাকার: পাকিস্তানই এদের পথিকৃৎ আর পাকিস্তানই এদের একমাত্র কিবলা:
এরাও “জীন”গতভাবে পাকিস্তানের ধারক-বাহক হওয়ার চেষ্টা করছে। আর সেই মোতাবেক জীবনযাপন করে যাচ্ছে। এরা বাইরে “বাংলাদেশ-রাষ্ট্রকে” ভালোবাসার ভান করে থাকে। আসলে, এরা প্রত্যেকে ভিতরে-ভিতরে এক-এক-জন খাঁটি-পাকিস্তানী। এরা সবসময় আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে বলবে, বঙ্গবন্ধুকে গালি দিবে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণাদানকারী ভারত ও রাশিয়াকে আক্রমণ করবে। আর এরা ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলতে-বলতে নিজেদের মুখে একেবারে ফেনা তুলে ফেলবে। ভারতের সমালোচনা করা কখনওই দোষের নয়। আর গঠনমূলক-সমালোচনা আমরা কিছু-স্পর্শকাতর বিষয় ব্যতীত সবকিছুরই করতে পারি। তবে এক্ষেত্রে তারা ১৯৭১ সালের কথা মনে করে আক্রোশবশতঃ ভারতের সমালোচনা করে থাকে। কিন্তু পাকিস্তান এদের পিতৃভূমি। তাই, পাকিস্তানকে “বাপ” ডাকতে এদের কোনো লজ্জাশরম নাই। এরা একেবারে বিশ্ববেহায়া।
৬. ষষ্ঠস্তরের রাজাকার: জনসমক্ষে ধরা পড়ার ভয়ে এরা সবসময় মুখোশধারী:
এরা বলছে “আমরাও বাংলাদেশের উন্নয়ন চাই। তবে তা দুর্নীতিমুক্তভাবে।” এরা আসলে, এসব কথা বলে আওয়ামীলীগকেই ঘায়েল করে দেশের ভিতরে আবার রাজাকারি-শাসন কায়েম করতে চায়। এরা কথায়-কথায় আওয়ামীলীগ, ভারত, রাশিয়া, বঙ্গবন্ধু, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ইত্যাদি নিয়ে মারাত্মক অশালীনভাষায় ও কুরুচিপূর্ণভাবে বক্তব্যপ্রকাশ করে থাকে। এদের মধ্যে অনেক সার্টিফিকেটধারী-পশুও রয়েছে। যেমন, এরা বাংলাদেশে টিকে থাকার স্বার্থে এখন তাদের নামের আগে ব্যারিস্টার, অ্যাডভোকেট, অধ্যাপক, ইঞ্জিনিয়ার, সাবেক ভাইস-চ্যান্সেলর, ডাক্তার, সাংবাদিক, আইনজীবী, অর্থনীতিবিদ, মিডিয়া-ব্যক্তিত্ব, পরিবেশবিদ, কলামনিস্ট, ড. অমুক-তমুক, বিশিষ্ট-শিল্পপতি ইত্যাদি সম্মানজনক খেতাব ও পদবী ব্যবহার করছে। এরা আসলে বর্ণচোরা এবং এই দেশের একনাম্বার শত্রু। আর এইজাতীয় কিছুসংখ্যক রাজাকার “বর্তমান আওয়ামীলীগের” মধ্যেও ঘাপটি-মেরে আছে। এরা খুব শয়তান! এরা পানির মতো। আর তাই, এরা সবজায়গায় যখন-তখন মিশে যেতে পারে।
৭. সপ্তমস্তরের রাজাকার: নব্যশিক্ষিত রাজাকারশ্রেণী:
এরা পাকিস্তানের ধুতুরা-ফুল। এদের দেখতে বাঙালি কিংবা বাংলাদেশীর মতো মনে হলেও আসলে এরা একেকজন সম্পূর্ণ পাকিস্তানী। এরা ভিতরে-ভিতরে পাকিস্তানী। কিন্তু তা সহজে মানুষকে বুঝতে দিতে চায় না। এরা একটু সুযোগ পেলে দেশের মুক্তিযুদ্ধ, আওয়ামীলীগ, বঙ্গবন্ধু, ভারত, রাশিয়া, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ইত্যাদিকে সবসময় আক্রমণ করে থাকে। এছাড়া এদের আর-কোনো বিদ্যাশিক্ষা নাই। এরা জন্মের পর থেকে “বঙ্গবন্ধু, ভারত ও আওয়ামীলীগকে” গালি দিতে শিখেছে। এইস্তরের রাজাকাররা খুবই ঘৃণিত ও ভয়াবহ। এরা ভদ্রবেশীশয়তান। দেশের বহু “ব্যারিস্টার-নামধারী” জানোয়ারও সরাসরি এই শ্রেণীভুক্ত। আর এখন বাংলাদেশ থেকে “এক-ব্রিফকেস” টাকা নিয়ে “পাপের শহর” লন্ডনে একবার যেতে পারলে অল্প-কিছুদিনের মধ্যেই তার নামের আগে ঝুলবে একটা “ব্যারিস্টার”-ডিগ্রী! আর সে তখন সমাজের একজন রেডিমেট বুদ্ধিজীবী হয়ে মাঝে-মাঝে বিভিন্ন “FTV”-তে টকশো-ফকশো করতে পারবে!
৮. অষ্টমস্তরের রাজাকার: আদর্শহীন-লোভী-শঠশ্রেণী:
এরা এখন নব্য-রাজাকার। এরা পতিত-বামপন্থী, পতিত-চীনপন্থী, পতিত-জাসদ, পতিত-বাসদ, পতিত-ন্যাপ(ভাসানী)পতিত-যেকোনো সমাজতান্ত্রিক দলের সদস্য, পতিত-আওয়ামীলীগার, বহিষ্কৃত-আওয়ামীলীগার, আর নষ্ট-পচা-গলা “কমিউনিস্ট” ইত্যাদি। এরা সরাসরি বঙ্গবন্ধুকে গালি না দিলেও তাকে নিয়ে ইনিয়েবিনিয়ে নানারকম শয়তানীকথাবার্তা বলতে ভালোবাসে। আর এদের প্রায় সবাই “পাকিস্তানী-রাজাকারদের” মতো সবসময় “আওয়ামীলীগ, ভারত, রাশিয়া, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ” ইত্যাদির সমালোচনা করতে একপায়ে খাড়া। আর এরাও দেশের জন্য আজ ভয়ানক আপদবিপদ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমাদের একটা কথা সবসময় মনে রাখতে হবে: যে-কেউ চাইলে ভারত, রাশিয়া ও আওয়ামীলীগের গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারবে। কিন্তু সম্পূর্ণ অসৎউদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বা ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটে ‘বাংলাদেশসৃষ্টি’র জন্য ভারত, রাশিয়া ও আওয়ামীলীগকে আক্রমণ করে আক্রোশবশতঃ এদের যারা সমালোচনা করবে তারা রাজাকার। আর আমাদের ‘বঙ্গবন্ধু’কে যারা গালি দেয় তারা ১০০% রাজাকার।

স্বাধীন-বাংলাদেশে অতিসহজেই রাজাকার ও নব্যরাজাকার চেনার ত্বরীকা বা উপায়সমূহ:
আজকাল দেশে অনেকে পশু হওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। আর তাদের ভাবখানা এমন যে, কে কত তাড়াতাড়ি পশু হতে পারে! আর পশু হলেই যেন অনেক লাভ! তাই, জেনেশুনে পশু হওয়ার এমন জোগাড়-যন্ত্র। এরা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শত্রু।

যাক, আর কথা না বাড়িয়ে আজকের প্রধান আলোচনায় ফিরে আসি। দেশে এখন যে-ভাবে নব্যরাজাকারের জন্ম হচ্ছে বা পূর্বের নব্যরাজাকারগুলিই এক নতুনরূপে আমাদের সামনে হাজির হচ্ছে, তাতে আমরা কিছুটা শংকিত না হয়ে পারছি না। আর এদের এখনই প্রতিরোধ করতে হবে।
এখন আপনাদের সামনে রাজাকার ও নব্যরাজাকারের লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরা হলো:

১. যে বা যারা বলবে: “কবে কোন্ মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, তার জন্য এখন আবার একাত্তরের “যুদ্ধাপরাধী-বিচারের” নাটক কেন? এতোকাল পরে “কে রাজাকার” আর কে “মুক্তিযোদ্ধা” তা নিয়ে প্রশ্ন করা ঠিক নয়।” এরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার রাজাকারদের মতোই ভয়ানক দুশ্চরিত্রবান। আর এরা লোকদেখানো দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়ে তাদের শয়তানী-মতবাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়। এরা পাকিস্তানকে তাদের ঈমানের অংশ বলে মনে করে থাকে।

২. যারা বলবে: “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা ঠিক নয়। এতে দেশের ভিতরে সংঘাতসৃষ্টি হবে। এসব এখন বাদ দেওয়াই ভালো। আর এসব বাদ দিয়ে এখন দেশের উন্নতির কথা ভাবা উচিত।”
এরা ১৯৭১ সালের রাজাকারদের চেয়েও ভয়ংকর। এরা বাংলাদেশী নয়। এরা পাকিস্তানী। আর এরা নব্যরাজাকার। এই নব্যরাজাকারশ্রেণী এইসব আবোলতাবোল কথা বলে থাকে।

৩. যারা বলবে: “এতোকাল পরে অহেতুক মুক্তিযুদ্ধের সময়কার রাজাকারদের বিচারের নামে দেশের সম্পদ বিনষ্ট করা হচ্ছে। আর শেখ মুজিবই তো রাজাকারদের ক্ষমা করে দিয়েছে!” এরা অত্যন্ত দক্ষ রাজাকার। এরা বঙ্গবন্ধুর ‘সাধারণ ক্ষমা-ঘোষণা’র আদেশটির ভুলব্যাখ্যা দিয়ে সত্যকে আড়ালে করার অপচেষ্টা করছে। এরাও ঘৃণিত নব্যরাজাকার।

৪. যারা বলে: “আওয়ামীলীগই তো যুদ্ধাপরাধীদের এতোদিন বিচার করে নাই! এখন আবার নতুন করে এই বিচার করার মানে কী?” এরাও সত্যকে পাশ কাটিয়ে চলতে অভ্যস্ত। আর এরা মহাসত্যকে আড়াল করতে চায়। অথচ, ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুই “দালাল-আইন” প্রণয়ন-সহ অধ্যাদেশ-জারী করে একাত্তরের দালালদের বিচারের কাজ শুরু করেছিলেন। আর অনেকের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিও হয়েছিলো। কিন্তু ১৯৭৫ সালের পরে বাংলার মীরজাফর: জিয়াউর রহমান এদের ছেড়ে দিয়েছিলো। আর এই শ্রেণীটি এখন পরিকল্পিতভাবে তা অস্বীকার করছে। এরাও নব্যরাজাকার।

৫. যারা বলবে: “বাংলাদেশে কোনো যুদ্ধাপরাধ হয়নি। এসব বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।” তারাও নব্যরাজাকার। এরা পাকিস্তানের দালাল। এদের বাংলাদেশে বাঁচিয়ে রাখা ঠিক নয়।

৬. যারা বলবে: “মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিব আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানে চলে গিয়েছিল।… পালিয়ে গিয়েছিল।” এরা ভয়ানক রাজাকার ও নব্যরাজাকার। আর এই শ্রেণীটি এখনও ১৯৭১ সালের পবিত্র মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করে না এবং বাংলাদেশকে রাষ্ট্র হিসাবে মানে না। এদের বুকের ভিতরে শুধু পাকিস্তান-আর-পাকিস্তান। আর এরা পাকিস্তানের জারজসন্তান।

৭. যারা বলবে: “বাংলাদেশ ইসলামী রাষ্ট্র নয়, এটা ধর্মহীন-ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের রাষ্ট্র, কিংবা বাংলাদেশ, পাকিস্তানের মতো ইসলামী-রাষ্ট্র নয়!” এরা বংশীয় রাজাকার! আর রাজাকারি করতেই এদের ভালো লাগে। এরা পবিত্র ইসলামধর্মের কোনোকিছুই বোঝে না এবং পালনও করে না। কিন্তু রাজনৈতিক-ফায়দা-লুটতে মুখে-মুখে শুধু ইসলাম-ইসলাম করে থাকে। এরা মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দুশমন। এরা ধর্মের কিছুই বোঝে না। কিন্তু ধর্মভিত্তিক ফায়দা-লোটার জন্য সবসময় একপায়ে খাড়া। এরা মানুষও না, এরা মুসলমানও না।

৮. যারা বলবে: “পাকিস্তান থাকলে এতোদিনে দেশটা কত এগিয়ে যেতো! আর আমরা হতাম পারমাণবিক শক্তির অধিকারী রাষ্ট্র!” এরা ঘৃণিত রাজাকার।

৯. যারা বলবে: “একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ-ট্রাইব্যুনাল’ আন্তর্জাতিকমানের নয়, এটি প্রতিহিংসামূলক!” তারা বাংলাদেশের অভিশপ্ত-রাজাকার।

১০. যারা বলবে: “আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ-ট্রাইব্যুনাল-এর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার কোনো এখতিয়ার নেই। এখানে ন্যায়বিচার নেই!” তারা বংশানুক্রমিক-রাজাকার। আর এরা যতোদিন বাংলাদেশে থাকবে ততোদিন বাংলাদেশের ক্ষতি করবে। এরা আমাদের জাতীয় জীবনে শুধুই আগাছা-পরগাছা-পরজীবী জঞ্জাল মাত্র।

১১. যারা বলবে: “ভারতের চক্রান্তে পাকিস্তান ভাঙ্গা হয়েছে। আর ভারতই চক্রান্ত করে পাকিস্তান ভেঙ্গেছে। পাকিস্তান ভাঙ্গা ঠিক হয় নাই।” তারা এখনও একাত্তরের রাজাকারদের মতো ভয়াবহ আপদ।

১২. যারা বলবে: “ভারত আমাদের শত্রুরাষ্ট্র, আর পাকিস্তান আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র! পাকিস্তান মুসলমানের দেশ!” তারা চিরদিনের ঘৃণিত রাজাকার। এদের, দেশ থেকে বের করে দিতে হবে।

১৩. যারা বলবে: “একজন মুসলমান হিসাবে ক্রিকেট-খেলায় আমাদের পাকিস্তানকে সাপোর্ট করতে হবে। আমরা পাকিস্তানের সাপোর্টার!” তারা সরাসরি একাত্তরের রাজাকার ও তাদের বংশধর।

১৪. যারা বলবে: “পাকিস্তানীরা সৌদি-আরবের সঙ্গে একই দিনে ঈদউৎসবপালন করে থাকে। এটিই ঠিক। আর আমাদের বাংলাদেশেও সৌদি-আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে ঈদ করতে হবে। এরা জন্মগত রাজাকার, আর চরম বেআদব।
১৫. যারা বলবে: “৭২-এর সংবিধান ইসলামবিরোধী!” তারা সত্যিকারভাবে মানুষ ও মানবতার শত্রু। আর তারা পাকিস্তানের দালাল।
১৬. যারা বলবে: “ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ মানে ধর্মহীনতা, নাস্তিকতা।” তারা পাকিস্তানের বংশধর। আর তারাই প্রকৃত ইসলামবিরোধী-অপশক্তি।
১৭. যারা বলবে: “একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতে হবে।” এরা এখনও পাকিস্তানীঘাতক। আর দেশের কুখ্যাত রাজাকার।

দেশে পাগল-ছাগলের সংখ্যা যেভাবে দিনের-পর-দিন বাড়ছে, তাতে আগামীদিনগুলোতে অক্ষতশরীরে ঘরে ফিরা যাবে কিনা, তাই বসে-বসে ভাবছি। আগে শুনতাম: পাগলাকুকুরে কামড়ায়। আর পাগলে দাবড়ায়।
এখন দেখছি সবই উল্টা। এখন রাস্তাঘাটে পাগলাকুকুর তেমন একটা চোখে পড়ে না। আর সত্যিকারের পাগলের সংখ্যাও কমে গেছে। তবে এখন দেশে একশ্রেণীর “নতুন-জাতের” পাগলছাগলের উদ্ভব ঘটেছে। এদের চেহারা মানুষের মতো হলেও এরা আসলে বাইরে মানুষ, আর ভিতরে পশু। আর এদের পশুত্বের শেষ নাই। এরা বাংলাদেশের নতুন জাতের পশু। এরা সবসময় মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনার বিরোধী আজেবাজে, আলতুফালতু ও আবোলতাবোল কথা বলতে ভালোবাসে। এই জানোয়ারদের বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়ান। আর কালবিলম্ব না করে এইজাতীয় পাগল-ছাগলদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে এড়িয়ে চলুন।
জয়-বাংলা।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।

৪ thoughts on “রাজাকারে”র সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও প্রকারভেদ এবং স্বাধীন-বাংলাদেশে অতিসহজেই রাজাকার ও নব্যরাজাকার চেনার ত্বরীকা বা উপায়সমূহ:

    1. বন্ধু, আপনার আনন্দে আমিও
      বন্ধু, আপনার আনন্দে আমিও আনন্দিত হলাম। আমরা সচেতন হলে এই দেশ সম্পূর্ণ রাজাকারমুক্ত হবে, ইনশা আল্লাহ।
      আশা করি আমাদের আবার যোগাযোগ হবে।
      আর আপনাকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

  1. বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রথম কাজ
    বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রথম কাজ হওয়া উচিত ছিলো সমস্ত রাজাকারদের হত্যা করা অথবা পাকিস্তান পাঠিয়ে দেয়া। তাহলে এখন আর এতো ঝামেলা হতো না। ট্রাইব্যুনাল এর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতো না। মনে মনে রাজাকার তৈরি হতো না। নব্য-রাজাকার, সুশীল-রাজাকাররাও তৈরি হতো না। ধর্ম আর জাতীয়তাবাদের অর্থটাই ভিন্ন হতো।

    সাইয়িদ রফিকুল হককে ধন্যবাদ তার রাজাকার-বিরোধী প্রবল আবেগকে লেখায় নিয়ে আশার জন্য।

    1. বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রথম কাজ

      বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রথম কাজ হওয়া উচিত ছিলো সমস্ত রাজাকারদের হত্যা করা অথবা পাকিস্তান পাঠিয়ে দেয়া। তাহলে এখন আর এতো ঝামেলা হতো না। ট্রাইব্যুনাল এর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতো না। মনে মনে রাজাকার তৈরি হতো না। নব্য-রাজাকার, সুশীল-রাজাকাররাও তৈরি হতো না। ধর্ম আর জাতীয়তাবাদের অর্থটাই ভিন্ন হতো।


      সুন্দর বলেছেন আপনি। আর আমার মনের কথাটাই বলেছেন।
      আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আর সঙ্গে রইলো একরাশ শুভেচ্ছা। আশা করি, আবারও আমাদের যোগাযোগ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *