আপনি নাস্তিক হবেন কোন সাহসে? আপনার লজ্জা করে না? আর আপনি তো এখনও ঈশ্বরের অধীন!

আপনি, আমি ও অন্যেরা এক সামান্য মানুষ। আমরা এক মহান স্রষ্টার সৃষ্টি। আমরা তাঁর ইচ্ছায় এই পৃথিবীতে এসেছি। আবার তাঁরই ইচ্ছায় মৃত্যুবরণ করে তাঁরই কাছে ফিরে যেতে বাধ্য। আমরা কেউই মহান ঈশ্বরের মৃত্যুকে আজ পর্যন্ত প্রতিরোধ করতে সক্ষম হইনি। যারা ঈশ্বরকে অস্বীকার করছেন, তারা কেউই মহান ঈশ্বরের মৃত্যুকে অস্বীকার করতে পারেনি।

আপনি নাস্তিক হবেন কোন সাহসে? আপনার লজ্জা করবে না? কারণ, আপনি তো এখনও মহান ঈশ্বরের মৃত্যুভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত! আচ্ছা, আপনি তাঁর মৃত্যুভয়ে ভীত নন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুকে একবার অবজ্ঞা করে দেখান তো! জানি, আপনার সে-ই শক্তি ও ক্ষমতা নাই। এখানে, আপনি একজন সম্পূর্ণ অক্ষম।

আপনি, আমি ও অন্যেরা এক সামান্য মানুষ। আমরা এক মহান স্রষ্টার সৃষ্টি। আমরা তাঁর ইচ্ছায় এই পৃথিবীতে এসেছি। আবার তাঁরই ইচ্ছায় মৃত্যুবরণ করে তাঁরই কাছে ফিরে যেতে বাধ্য। আমরা কেউই মহান ঈশ্বরের মৃত্যুকে আজ পর্যন্ত প্রতিরোধ করতে সক্ষম হইনি। যারা ঈশ্বরকে অস্বীকার করছেন, তারা কেউই মহান ঈশ্বরের মৃত্যুকে অস্বীকার করতে পারেনি।

আপনি নাস্তিক হবেন কোন সাহসে? আপনার লজ্জা করবে না? কারণ, আপনি তো এখনও মহান ঈশ্বরের মৃত্যুভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত! আচ্ছা, আপনি তাঁর মৃত্যুভয়ে ভীত নন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুকে একবার অবজ্ঞা করে দেখান তো! জানি, আপনার সে-ই শক্তি ও ক্ষমতা নাই। এখানে, আপনি একজন সম্পূর্ণ অক্ষম।
মানুষকে যুক্তি দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে কথা বলতে হবে। আর মানুষ হতে হবে। তার আগে বলুন: আপনি মানুষ কিনা? আচ্ছা, আপনি মানুষ। আর আমিও একজন মানুষ। আমি ঈশ্বর মানছি, আর আপনি ঈশ্বরকে মানছেন না! কিন্তু কেন?

আপনি কীভাবে এলেন পৃথিবীতে? আপনার জন্ম হয়েছে আকস্মিকভাবে। আর আপনার মৃত্যু হবে আরও আকস্মিকভাবে। আপনি আপনার মৃত্যু ঠেকাবেন কীভাবে? পরিকল্পনা করেছেন কিছু? নাকি এখনই ঘাবড়ে গেছেন! আপনার কোনো পরিকল্পনাই কাজে আসবে না। নাকি পারবেন আপনার মৃত্যু ঠেকাতে?এখন চুপ করে আছেন কেন? নাকি বলবেন এটি প্রাকৃতিক-নিয়ম! আর আপনাদের কাছে তো সবই প্রাকৃতিক নিয়ম! আর এই ‘প্রকৃতি’ কে বানিয়েছে? একবার ভাবুন। তারপরে নাস্তিক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন-কি-নেবেন না সেটা আপনার ব্যাপার। তবে ভুল করবেন না। এই পৃথিবীতে সবই যদি প্রাকৃতিক-নিয়মে চলতো তবে মানুষের কখনও মৃত্যু হতো না। আর মানুষ কখনও জরাব্যাধিগ্রস্ত হতো না। কারণ, মানুষের ক্ষমতা আছে মাঝে-মাঝে প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার। তবে তা যৎসামান্য। এই ধরুন, মানুষ নিজেদের বুদ্ধি খাটিয়ে ইদানীং হাইব্রিড ফল-ফলাদি ও ফসলের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটাচ্ছে। এমনই অনেককিছু করার ক্ষমতা হয়তো মানুষের আছে। কিন্তু মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সে ভূমিকম্পের আগামবার্তা-প্রকাশ করতে পারে না। এই মানুষ কখনও ভূমিকম্পকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। কারণ, এই ভূমিকম্প মহান আল্লাহর অন্যতম শক্তিমত্তার নিদর্শন।
আপনি নাস্তিক হলে এই ভূমিকম্পকে নিয়ন্ত্রণ করুন। কারণ, আপনাদের ভাষায়: এই পৃথিবীতে যাকিছু হচ্ছে ও ঘটছে, তার সবই নাকি প্রাকৃতিক-নিয়মে হচ্ছে। তাই, বিশেষ চেষ্টা করে আপনি একবার এই প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করুন। তাইলে আমরা বুঝতে পারবো: আপনি এই বিশ্বের একটাকিছু!

কতো আর নিজেকে ঠকাবেন? আর কতো মিথ্যা বলে-বলে আপনি এই পৃথিবীর সাধারণ মানুষদের ঠকাবেন? কে আপনাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে? আপনি অহেতুক কেন নিজেকে “নাস্তিক-নাস্তিক” বলে তারস্বরে এতো চিৎকার ও চেঁচামেচি করছেন? আপনি কি নিজের ইচ্ছায় এই পৃথিবীতে জন্মেছেন? আর আপনার মৃত্যুও কি আপনার নিজের ইচ্ছায় হবে? জানি, আপনার কাছে এর কোনো জবাব নাই। কোথায় ছিলেন আর কোথায় যাবেন আপনি, তা-ই জানেন না। আর আপনি হবেন নাস্তিক! বাঃ বাঃ বাঃ আপনার শখ দেখে আর বাঁচি না। আচ্ছা, আপনি নিজেকে কী ভাবেন? আপনি কতো বড় হয়েছেন? আর আপনার শক্তিই বা কতো? আপনার সবকিছু মানে, জারিজুরি সব শেষ হবে মাত্র একটা আঘাতে। আপনার প্রাণপাখি বেরিয়ে যাবে যেকোনো-সময়ে। আর আপনি একবার পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলে আর কি ফিরে আসতে পারবেন? কি পারবেন? আপনি আপনার মৃত্যু ঠেকাতে পারেন না। আপনি আপনার মৃত্যু ঠেকাতে পারবেন না। আর এইব্যাপারে আপনার কোনো ক্ষমতা নাই। আর এক্ষেত্রে আপনি একজন অসহায় শিশু মাত্র। আর আপনি হয়েছেন নাস্তিক! আপনার শখ কতো! আপনি কীসের নাস্তিক? আপনি আসলে এক খোদাদ্রোহী!
আর তা-ই নিয়ে আপনার এতো দম্ভ! কীসের এতো দম্ভ আপনার? আপনার এতো ক্ষমতা থাকে আপনি শুধু আপনার মৃত্যুকে রোধ করুন। তারপর দেখবো আপনি কতো বড় নাস্তিক! গল্পের আর জায়গা পান না। সাতসকালে ঘুম থেকে উঠে পাগলের মতো একটাকিছু লিখে দিলেই হলো! কে আপনাকে এইসব পাগলামি করার পারমিশন দিয়েছে?

গায়ের জোরে আর কতো মিথ্যা বলবেন?
আপনি আপনার ভবিষ্যৎ জানেন না। আপনি আপনার অতীত বলতে পারেন না। আপনি আপনার বর্তমানের খবর রাখেন না। আর আপনি হবেন নাস্তিক! আপনি সারাদিন “নাস্তিক-নাস্তিক” বলে কেন এতো চেঁচামেচি করছেন? কীসের এতো অহংকার আপনার? সবসময় মনে রাখবেন: আপনি, আমি সাধারণ এক মানুষ। আমরা অন্যের সৃষ্টি। কেউ আমাদের সৃষ্টি করেছেন। আচ্ছা, আপনি বলুন তো, এই পৃথিবীতে এমন একটাকিছু, জিনিস বা বস্তু আছে, যা আপনাআপনি সৃষ্টি হয়েছে! কিছুই নাই। এই পৃথিবীতে যা-কিছু সৃষ্টি হয়েছে তার একজন কারিগর রয়েছে। সামান্য একটা সূঁচও আপনাআপনি সৃষ্টি হতে পারে না। একটা মশাও নিজে-নিজে সৃষ্টি হতে পারে না। সবকিছুর পিছনে রয়েছেন একজন কারিগর। আর তিনিই বিশ্বের অধিপতি, জগৎস্রষ্টা। আপনি এখন তাঁকে মানেন না, বোঝেন না, ভালোবাসেন না। কিন্তু তাঁর কাছেই আপনাকে অসহায় অবস্থায় ফিরে যেতে হবে। আরও মনে রাখবেন: আপনার দেহে যে রুহ (আত্মা) আছে, তা ওই মহান আল্লাহরই সৃষ্টি। আর এই রুহ তাঁরই দান। তিনি তাঁর পবিত্র রুহ থেকে আমাদের একটুখানি দিয়েছেন। আর তা-ই নিয়ে আপনি এতো বাড়াবাড়ি করছেন?

আপনি মহান ঈশ্বরের মৃত্যুকে অস্বীকার করবেন কীভাবে? আপনার কী এমন ক্ষমতা আছে যে, আপনি তদ্বারা আপনার মৃত্যুকে রোধ করতে পারবেন? জন্ম-মৃত্যু ঈশ্বরের দান। এটি ঈশ্বরের লীলা মাত্র। এখানে আপনার ও আমার কোনো বাহাদুরি নাই। আপনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না, কিন্তু ঈশ্বরের মৃত্যুকে মানেন কেন! পূর্বেই বলেছি: মৃত্যু মহান ঈশ্বরের বিধান। কারণ, মহান আল্লাহর ধর্মগ্রন্থ তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ও কুরআনে তা-ই লেখা আছে। অন্যান্য ধর্মগ্রন্থেও মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। সেখানে আছে যমদূত বা যমরাজ বা যমদেবতা। আর এরা এই ঈশ্বরেরই অধীনস্থ। আপনি খুব ভালোমানুষ! আর খুব জ্ঞানী! ঈশ্বর মানেন না। কিন্তু ঈশ্বরের কোনো-কোনো বিধান বাধ্য হয়ে মানছেন। আপনি খুব বড় দার্শনিক। তাহলে, আপনি আপনার চিন্তাশক্তির সাহায্যে আপনার বার্ধক্য অবস্থাকে তারুণ্যে-যৌবনে ভরপুর করে তুলুন। পারবেন না। এই জরাব্যাধিও ঈশ্বরের বিধান। আপনি এর কাছেও আত্মসমর্পণ করছেন। তবে আপনার কী শক্তি আছে? শুধু দম্ভ আর মিথ্যা-বাহাদুরি! এখানে, কোথায় আপনার প্রাকৃতিক-নিয়ম? কারণ, প্রাকৃতিক-নিয়ম হলে সবারই মৃত্যু হতো না। কারও-কারও ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারতো।
আপনার চেয়ে অনেক-অনেক গুন বড় ছিলেন বিশ্ববরেণ্য-বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন। তাঁকে বলা হয় বিজ্ঞানীকুলতিলক। কই তিনি তো নাস্তিক হননি। বরং তিনি ছিলেন মহান ঈশ্বরের আস্থাভাজন বান্দা। আর তিনি ছিলেন সবসময় আস্তিক। আর তিনি একজন আস্তিক হয়েই এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। এখানেই তাঁর জীবনের চরম ও পরম সার্থকতা।

আপনার প্রতিভা দেশ-জাতি ও মানবতার কাজে ব্যবহার করুন:
আপনার প্রতিভা আছে বলেই আপনি নিজেকে নাস্তিক ভাববেন না। আপনার এই প্রতিভাকে আপনি দেশ, মানুষ, আর মানবতার কাজে লাগান। তবেই আপনার মঙ্গল ও মুক্তি মিলবে। এই দেশে এখন কতোরকম জ্বালাতন। দেশবিরোধীচক্র নানারকম শয়তানী করে আমাদের বারবার পিছনে টেনে নিয়ে যেতে চায়। একাত্তরের পরাজিত পাকিস্তানীহায়েনাচক্র এখনও আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র-শয়তানীতে লিপ্ত রয়েছে। আর আপনি সবকিছু নিজের চোখে দেখতে পেয়েও পাগলের মতো বলে যাচ্ছেন: আপনি নাস্তিক-নাস্তিক-নাস্তিক। কী দুর্ভাগ্য আমাদের!

নাস্তিক হওয়ার পাগলামি ছেড়ে দিন:
সবরকমের পাগলামি ছেড়ে দিন। আর এখনই ভালো হয়ে যান। আপনার শক্তি-সাহস ও মেধাকে দেশের ও দেশের মানুষের কাজে লাগান। এখনও সময় আছে। আপনাকে বলছি: আপনি এখনই ঘুরে দাঁড়ান। নিজেকে আর নাস্তিক ভাববেন না। আপনি সকল শয়তানের বিরুদ্ধে আপনার লেখনিশক্তিকে ব্যবহার করুন। আর আপনি হয়ে উঠুন একজন দেশ্রপ্রেমিক-প্রতিবাদী-আস্তিক। আর তখন, আপনার শক্তিতে বলীয়ান হবে আরও অনেকে। আপনি আজ থেকে হয়ে উঠুন একজন সত্যসুন্দরের প্রতীক।

আপনি নিজেকে আর নাস্তিক ভাববেন না:
আপনার নাস্তিক হওয়ার কোনো যোগ্যতা নাই। কারণ, আপনি আপনার মৃত্যুকে প্রতিরোধ করতে পারবেন না। মহান ঈশ্বরের ইচ্ছায় আপনার মৃত্যু হবে। আপনার বাঁচার কোনো পথ নাই। আর মহান ঈশ্বরের কাছে আপনি, আমি বড় অসহায়। আপনি যতো যাই করেন না কেন, আর যতোকিছুই বলেন না কেন, আপনি মহান ঈশ্বরের অধীনস্ত মাত্র।

আপনি নাস্তিক না। তাই, আপনি ধর্মের বিরুদ্ধে আর-কিছু লিখবেন না। বলবেন না। করবেন না।
আপনি মহান আল্লাহর মনোনীত নবী-রাসুলদের বিরুদ্ধে কখনও আজেবাজে কিছু লিখবেন না। কিংবা বলবেন না। আর তাঁদের নিয়ে কখনও উপহাস করবেন না।
আপনি কোনো ধর্মগ্রন্থ কিংবা কুরআনের বিরুদ্ধে কিছু লিখবেন না। বলবেন না। কারণ, ধর্মগ্রন্থগুলো মানুষের কাছে খুবই প্রিয়। আর যেকোনো মানুষ তার প্রিয়বস্তুর ওপর আঘাত সইতে পারে না। আপনি কেন গায়ে পড়ে মানুষের সঙ্গে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হবেন? আর এতে আপনার কী স্বার্থ?
আল-কুরআন মহান আল্লাহর বাণী:
আপনি আর কখনও মহান আল্লাহর বিরুদ্ধে একটি কথাও বলবেন না। লিখবেন না।
কারণ, আপনি এখনও তাঁর মৃত্যুকে অস্বীকার করতে পারেননি। আর আপনি আপনার দেহমনের জরাব্যাধিকে এখনও আটকাতে পারেননি। এসব মহান ঈশ্বরের খেলা। আপনি চাইলেই একফুৎকারে ঈশ্বরে নাম-ঠিকানা কখনওই মুছে ফেলতে পারবেন না। আপনার কী এমন ক্ষমতা আছে যে, আপনি ঈশ্বরকে অবজ্ঞা করবেন? আপনাকে বলছি: আপনি মহান ঈশ্বরের মৃত্যুকে অস্বীকার করে একবার পৃথিবীর মানুষকে দেখিয়ে দিন যে, আপনি মহান ঈশ্বরকে মানেন না। আর নয়তো সকল ভণ্ডামি ছেড়ে দিয়ে মহান ঈশ্বরের কাছে সরাসরি আজ-এক্ষুনি আত্মসমর্পণ করুন।

এই পৃথিবী এক ও অভিন্ন ঈশ্বরের সৃষ্টি:
পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন মহান ঈশ্বর। আপনার শক্তি থাকলে আপনি তার পৃথিবীর সীমানা পেরিয়ে অন্য কোথাও চলে যান। কারণ, আপনি তো ঈশ্বরকে মানেন না, তবে কেন তাঁর পৃথিবীতে বসবাস করবেন? জানি, আপনি এর কিছুই করতে পারবেন না। শুধু-শুধু ভাব-দেখায়ে দুই-লাইন ঈশ্বরবিরোধী আজেবাজে লেখা লিখে মোড়লগীরী করছেন, ঈশ্বর নাই, নাই, নাই….। চুপ করুন। একদম চুপ। আপনার কথায় এই পৃথিবীর মহান ঈশ্বর কর্পূরের মতো উবে যাবে না। আর আমাদের মহান ঈশ্বর হিমালয়-পর্বতের চেয়ে কোটি-কোটি গুন বিশাল।

আপনার কী এখনও মনে হয় ঈশ্বর নাই?
অবশ্যই ঈশ্বর আছেন। আর ঈশ্বর আছে বলেই পৃথিবী এখনও সুষ্ঠুভাবে চলছে। আর আপনিও বেঁচে আছেন মহান ঈশ্বরের অপার করুণায় ও দয়ায়। আপনি হয়তো এখন ব্যক্তিগত-ক্ষোভের কারণে মহান ঈশ্বরকে অবজ্ঞা করছেন, কিন্তু ঈশ্বর আপনাকে ভালোবাসেন। তাই, আপনি এখনও বেঁচে আছেন। আপনার সকল শক্তিতে ঈশ্বরের সাহায্য-সহযোগিতা রয়েছে। আপনি ভাবছেন: আপনার লেখা দুই-চার-লাইন ঈশ্বরবিরোধী গদ্যে-পদ্যে মহান ঈশ্বর একমুহূর্তে একেবারে ভ্যানিশ হয়ে যাবে! আমি বলছি: আপনি বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। আপনার মতো হাজার-হাজার ঈশ্বরঅবিশ্বাসী পৃথিবীর শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত ঈশ্বরবিরোধী-অপপ্রচারে লিপ্ত। কিন্তু এতে কোনো কাজ হয়নি। এই পৃথিবীতে এখনও আস্তিকের সংখ্যাটা সর্বাধিক। শুনে আপনি ঘাবড়ে যাবেন না, আপনাদের সমস্ত অপপ্রচার সত্ত্বেও পৃথিবীতে দোর্দণ্ডপ্রতাপে মহান ঈশ্বরের গৌরববৃদ্ধি পাচ্ছে।

আপনি কোন সাহসে এখনও মহান ঈশ্বরকে অবজ্ঞা করছেন?
মহান ঈশ্বর তো আপনাকে ভালোবাসেন। তাইতো আপনি এখনও এই পৃথিবীত বেঁচে আছেন। আপনি শান্ত হন। আপনি ধৈর্যশীল হন। আপনি মহান ঈশ্বরের অনুগত হন। আর আপনি সবসময় ভাবতে থাকুন: আপনি নাস্তিক না। আপনি নাস্তিক না। আপনি নাস্তিক না।

নাস্তিক হয়ে আপনার লাভ কী?
আপনি কীসের আশায়, আর কীসের নেশায় নবউদ্যমে নাস্তিক হওয়ার জন্য এতো-এতো দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছেন! আর আপনি কীসের মোহে মহান ঈশ্বরের অস্তিত্বকে মিথ্যাদলিলে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করছেন? আপনার লাভ কী? আর কীসের লোভে আপনি নাস্তিক হওয়ার বাসনায় লিপ্ত হয়েছেন? বুঝতে পেরেছি, আপনি লেখালেখি করে রাতারাতি বিখ্যাত হতে চাইছেন! আর তাই, সস্তা-জনপ্রিয়তা অর্জনের নেশায় ঈশ্বরবিরোধী-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন! আমি দেখেছি, আমি শুনেছি: আপনার পিতা-পিতামহ-পিতামহী, আর আপনার মাতা-মাতামহ-মাতামহী জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মহান ঈশ্বরের আরাধনায় নিয়োজিত ছিলেন। আর তারা, দিনের-পর-দিন, আর বছরের-পর-বছর, আর জীবনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত ঈশ্বরের করুণাভিক্ষা করেছেন। তারা মহান ঈশ্বরের কাছে চোখের জলে ভেসে বারবার ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন। আর আপনি, আপনার পূর্বপুরুষের চিরায়ত ঈশ্বরভাবনা ও ধর্মবোধকে একনিমিষে দুর্বল-চিন্তা-চেতনার দ্বারা মুছে ফেলতে চাইছেন! ধন্য ছেলে আপনি! মানুষ তার অনন্ত-সাধনার দ্বারা হয় একজন বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, কবি, লেখক, দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী, আর সমাজ-রাষ্ট্রের ভাবুক। আর আপনি হচ্ছেন নাস্তিক! আপনার মনগড়া, কল্পনাপ্রসূত, উদ্ভট, আজেবাজে, আবোলতাবোল, আলতুফালতু চিন্তাভাবনা দিয়ে মহান ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে আবার এর পক্ষে দলিল পেশ করছেন। আপনি মনে রাখবেন: আপনি মহান ঈশ্বরকে বুঝতে পারছেন না, এটি আপনার অজ্ঞতা। মহান ঈশ্বরের অপার রহস্য যারা বুঝতে পারে না, তারাই শুধু নিজেদের নাস্তিক ভাবে।
আপনি শুদ্ধ হন, শান্ত হন, পরিশীলিত হন, আর বিনয়ী হন। এই পৃথিবী শুধু বিনয়ী মানুষের জন্য। আর জগদ্বিখ্যাত সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল, আইনস্টাইন সকলেই ছিলেন আস্তিক। আর আপনি শুধু নাস্তিক!

আসলে, কেউ নাস্তিক নয়। শুধু-শুধু এরা নাস্তিক হওয়ার ভান করে। কারণ, জীবনশেষে এরা মহান ঈশ্বরের মৃত্যুর কাছে আত্মসমর্পণ করে নিজেদের অক্ষমতার পরিচয় দিয়ে থাকে।
পরিশেষে, তুমি যদি নাস্তিক হয়েই থাকো, তাহলে, মহান ঈশ্বরের মৃত্যুকে লংঘন করো।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।

৭ thoughts on “আপনি নাস্তিক হবেন কোন সাহসে? আপনার লজ্জা করে না? আর আপনি তো এখনও ঈশ্বরের অধীন!

  1. ভাই আপনি ব্লগে এসেছেন কেন?
    ভাই আপনি ব্লগে এসেছেন কেন? আপনি মসজিদে যান। আল্লাহ আল্লাহ করেন। আপনাকে ব্লগে মানায় না, মসজিদ হলো আপনার জন্য উত্তম জায়গা। আপনার পোস্ট দেখেই বুঝা যাচ্ছে আপনার দৌড় কতটুকু।

    1. মসজিদ আমি চিনি। আপনাকে চেনাতে
      মসজিদ আমি চিনি। আপনাকে চেনাতে হবে না। আর আপনার দৌড় কতটুকু তা-ই আগে নিশ্চিত করুন।
      আমার দৌড় নিয়ে কথা বলার সময় এখনও আসেনি। আর একটা কথা মনে রাখবেন: ব্লগার মানে নাস্তিকতা নয়। ব্লগার মানে যুক্তিবাদী।

  2. ******বাজদের উপদেশ দিয়ে কোন
    ******বাজদের উপদেশ দিয়ে কোন লাভ নেই ভাই সাইয়িদ রফিকুল হক। এরা মদ আর নারীর নেশায় বুধ হয়ে আছে তাই নিয়ে থাকতে দিন। যেদিন মৃত্তুর ডাক এসে যাবে সেদিন এদের ঘুম ভাঙবে।

  3. এই লোক ব্লগে কী করে?!
    এর তো

    এই লোক ব্লগে কী করে?!
    এর তো মসজিদে গিয়ে পড়ে থাকার কথা। কারণ- মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *