কলঙ্কমুক্ত এবং একটি গতিশীল আধুনিক বাহিনী বিজিবি

বিদ্রোহের মতো আত্মঘাতী সংঘাতের পুনরাবৃত্তি এড়াতে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক বিজিবি। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে। ওই বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৩ জন প্রাণ হারান। রক্তাক্ত ওই বিদ্রোহের পর দায়ীদের শাস্তি দেয়ার পাশাপাশি খোলনলচে বদলে দেয়া হয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর। বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) এর নাম বদলে করা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পোশাকও পরিবর্তিত হয়। বিদ্রোহের ওই ঘটনাটিকে এই বাহিনীর ইতিহাসের একটি ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে আখ্যায়িত।, সে সময় সরকার গঠনের পরপরই বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের মতো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছিল বর্তমান সরকারকেই। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় সেদিনের সেই সংকটময় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে সরকার। বিদ্রোহের সঙ্গে সম্পৃক্ত উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী সদস্যদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মাধ্যমে এই বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে এবং কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। সরকারের যুগোপযোগী পদক্ষেপের জন্য এই বাহিনীর সুনাম ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নবগঠিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা সীমান্ত বাহিনীর সুনাম ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ সততা ও দেশপ্রেম নিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাচ্ছে। একটি আধুনিক ও সময় উপযোগী সীমান্ত রক্ষী বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন, ২০১০ প্রণীত হয়েছে। সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিজিবি এখন কলঙ্কমুক্ত এবং একটি গতিশীল ও আধুনিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। এই বাহিনীর সব সদস্যের কঠোর পরিশ্রমে বাহিনীর সুনাম ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জাতিগঠনমূলক কর্মকাণ্ড এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা প্রদানের ক্ষেত্রে এই বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি সফল ভূমিকা পালন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *