গল্পঃ এন্ড দেন আই ডিসাইডেড টু কিক মাইসেলফ আউট অফ হেভেন – পর্ব – ১


আজ আমার বেহেশ্তের প্রথম দিন!!

এখানে অবতরনের সাথে সাথে আমাকে সাদর সম্ভাষন জানানো হইলো। এঞ্জেলদের মধ্যে কেউকেটা গোছের একজন এসে নানা সুযোগ সুবিধার ফিরিস্তি দেয়া শুরু করেন। আমি তাকে ইশারায় থামার নির্দেশ দেই। আসলে ইশারা দেয়ার আগেই থেমে যান উনি। আমার মনের কথা পড়তে পারছিলেন উনি। হোয়াট এন ইন্সাল্ট!! রাগে গা জ্বলা শুরু হইলো। মনের কথাই যদি বুঝতে পারে, তাইলে প্রাইভেসীর তো ফালুদা হইয়া যাবে। কোন সেটিং এ এইটা ফিল্টার করা যাবে ভাবতেছিলাম।

শালার এঞ্জেল এইখানেও বাগড়া দিল। জানতে চাইনাই, তাও কইলো,



আজ আমার বেহেশ্তের প্রথম দিন!!

এখানে অবতরনের সাথে সাথে আমাকে সাদর সম্ভাষন জানানো হইলো। এঞ্জেলদের মধ্যে কেউকেটা গোছের একজন এসে নানা সুযোগ সুবিধার ফিরিস্তি দেয়া শুরু করেন। আমি তাকে ইশারায় থামার নির্দেশ দেই। আসলে ইশারা দেয়ার আগেই থেমে যান উনি। আমার মনের কথা পড়তে পারছিলেন উনি। হোয়াট এন ইন্সাল্ট!! রাগে গা জ্বলা শুরু হইলো। মনের কথাই যদি বুঝতে পারে, তাইলে প্রাইভেসীর তো ফালুদা হইয়া যাবে। কোন সেটিং এ এইটা ফিল্টার করা যাবে ভাবতেছিলাম।

শালার এঞ্জেল এইখানেও বাগড়া দিল। জানতে চাইনাই, তাও কইলো,

– “নো উপায় স্যার। তাইলে বেহেস্ত তো আর বেহেস্তের মত লাগাইতে পারবোনা। এইখানে চাহিবামাত্র সব পাইবেন।”

শুইনাই আমার বেহেস্তের সুখ এনশিওর করার সিস্টেমের প্রতি বিন্দু বিন্দু প্রশ্ন জমা শুরু হইলো। আফটার অল, মাটির সেই দুনিয়ার মানুষ ছিলাম, অনেক স্বভাব এখনো বিদ্যমান।

এরপর জানানো হইলো প্রাসাদ রেডী আছে। সকল বিনোদনের ব্যবস্থা সহ। আমি কইলাম, প্রাসাদের ছাদে নিয়া চল। কইতে না কইতে দেখি আমি হাজির। ভাসতে ভাসতে গেছি, না বোরাকে নিয়া গেসে টেরই পাইলামনা।

চীফ অফ এঞ্জেলস ষ্টাফস আমারে কইলো,

– “স্যার, এইটাই ছাদ। সৌন্দর্য্য কি আরো বাড়াইয়া দিব?”

আমি উপরের দিকে তাকাইলাম। উরি বাপ, এইটা আকাশ!! নাকি বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে বানানো কোন এনিমেশন!!?? আগের জন্মে হাইফাই ডিএসএলআর এ তোলা যেইসব আকাশ দেখছি, ওইগুলা এইটার কাছে যাত্রাবাড়ীর ময়লা ফেলার জায়গার মত। আকাশ কি এইরকম হয় নাকি? শালার সব ফেক ফেক লাগতেছে।

ছাদে যাইতে চাইছিলাম সিগারেট ফুকতে। চীফ এঞ্জেলরে কইলাম,

– “তোমারে এতো সুন্দর সুন্দর লাগে ক্যান? বেশি সুন্দর হইলে পোলাপানরে কইতাম সুন্দরী। মাইয়া মাইয়া ভাব থাকে বেশি সুন্দর হইলে।”

চীফ একটা ফেক হাসি দিয়া কইলো,

– “স্যার, আমি না নারী না পুরুষ। আমাদের লিঙ্গ নাই!”

মেজাজ গেলো বিগড়াইয়া, শালার একটা হিজড়ারেই পার্সোনাল এসিস্টেন্ট বানাইলো??

এই কস্টে সিগারেট খাইতে মন চাইলো। আমি 555 খোর ছিলাম, এরপর যখন মার্কেট আউট হইলো, বেনসনরে মনে হইতো ঘাস পোড়া ধুমা। ওই কস্ট আইজও বুকে কোথাও লুকাইয়া আছে। ওই 555 কিংবা বাংলা ফাইভ খাইতে মন চাইলো। শালার হিজড়া এসিস্টেন্টরে কইলাম,

– “বাংলা ফাইভের ব্যবস্থা কর।”

সে আমারে কয়,

– “স্যার, খাওয়াইয়া দিব, নাকি মনে মনে খালি সিগারট খাওয়ার ফিলিংস দিব?”

আমি কইলাম,

– “ব্যাটা, একটা প্রজাপতি ম্যাচ দে, আর প্যাকেটটা রাইখা যা। তাইলেই হইবো।”

সে যে কি বুঝলো আল্লাহই জানে। তয় ম্যাচ বাক্স আর সিগ্রেট পাইলাম। পাইয়াই নামের সামনে নিয়া গন্ধ শুকলাম। আহ! কি চেনা আর উন্মাতাল নেশার টান টান উত্তেজনা ভরা গন্ধ পাইলস্ম আবার। মাঝে কয় কোটি বছর গেছে কে জানে…

সিগারেট ধরাইয়া দিলাম সুখ টান। কিন্তু, অকি??!! ফ্লেভার টেলেভার ঠিক আছে সব, কিন্তু শইল্যের মধ্যে ওই আরাম আরাম ঝিম ঝিম ভাব কই?? গা ছাইড়া দিলোনা ক্যান??

চীফরে জিগাইলাম,

– ” বার্মিজ বাংলা দিছ নাকি? ফিলিংস কই? গা ছাইড়া দেয়না ক্যান?”

শালারপুত এরপর যা কইলো, মেজাজ গিয়া চাঙ্গে উঠবার উপক্রম হইলো। বেক্কলডা কয়,

– “স্যার, আপনি তো সিগারেট খাইতে চাইছেন। ওইটাই দেয়া হইছে। কিন্তু এইখানে শরীর জরামুক্ত। সামান্য নিকোটিনে কোন ঝিম ঝিম ভাব আসা সম্ভব না। এমনকি বোতল বোতল সায়ানাইড খাইলেও শরীরের কোন প্রকার ক্ষতিই হবেনা। এইখানে সবাই চির যুবা, চির অমর, চির হেন, চির তেন…।”

আমি থুতনীতে হাত দিয়া বইসা থাকলাম কয় লক্ষ্ বছর, কে তার হিসাব রাখে!! এইখানে সময় কোন ব্যাপার না। বেহেস্তের প্রথম দিনে একটা বিড়ি খাইয়া ফেক আকাশের নীচে গা এলাইয়া পইড়া থাকার কোটি বছরের লুক্কায়িত খায়েশ আমার অপূর্ণই রইয়া গেলো।

মাথার উপরের ওই হাই ডেফিনিশন, হাই রেজুল্যুশন, হাই কোয়ালিটির হাইফাই আকাশটারে হঠাত কইরা এতো অসহ্য, আরো বেশিরকম ফেক ফেক লাগতেছে ক্যান??!!



হাইফাই আকাশের দিকে তাকাইয়া হাই তুলার চেস্টা কইরা অনেক সময় গেলো। কিন্তু শরীরও দেখি ম্যাজ ম্যাজ করেনা, আইলসামিও লাগেনা। আবার চান্দি গরম হইয়া গেলো। এইরকম হাইফাই আকাশের নীচে হাই না তুললে ক্যামনে চলে??!!

আমি রাইগা গিয়া বললাম,

– “হোয়াই ভাই?? হোয়াই?”

চীফ তো মনের কথাও বুইঝাযায়, সে কইলো,

_ “ স্যার, এইটা বেহেস্ত। এইখানে কোন ধরনের ম্যাজম্যাজ ফিলিং নাই। সবসময় ফুরফুরা ফিলিং পাইবেন। “

আমি তারে বুঝাইতে পারলামনা, সব খারাপ খারাপ না। ক্যামনে বুঝাইতাম, এদের নাই ঘুম, না ক্লান্তি, না ছুটি। আজব চীজ নিয়োগ দিছেন খোদা, টুয়েন্টি ফোর – সেভেন, নো ছুটি, অনন্তকাল ননস্টপ ডিউটি!! এ ক্যামনে বুঝবে, সকালে কোনোমতে আর এক মিনিট অতিরিক্ত ঘুম, একটু আগের টানা অনেকক্ষন ঘুমের চেয়ে বেশি দামী? অথবা ঘুম ভাঙ্গার পর সব হাত পা চারদিকে ছড়াইয়া টান টান কইরা একটা মোচর দেয়া, আগের জীবনের থাই মেসেজ পার্লারের টানা একঘন্টার মেসেজের চেয়ে বেশি আরামের…

মেজাজ খারাপ থাকলেও স্বভাবসুলভ নকল হাসির রেখা ধইরা রাখলাম অনেক কস্টে। হাজার হোক, নতুন ঢুকছি, আগে ভাও না বুইঝা কোন ঝামেলায় যাইতে চাইতেছিনা। চীফের তো লিঙ্গেরই ঠিক নাই, পরে আবার কোনদিকে মোচর দেয় কে জানে। অতি ভক্তি শুনছিলাম চোরের লক্ষন। অনেক ভাইবা বাইর করতে চেস্টা করলাম কি করা যায় আর। কয় কোটি বছর আগে লাস্ট গোসল করছিলাম কে জানে। মনে হইতেই নদীতে ফাল দিয়া পড়তে ইচ্ছা হইলো।

আবারো টাস্কি খাইলাম। নিজেরে আবিস্কার করলাম এক নদীর সামনে। কোকের নদী!!

চীফ আবার সেই ফেক হাসি বজায় রাইখা কইলো,

– “স্যার, ইউ মে জাম্প।“

আমি হতবুদ্ধি আর বিস্মিতের মাঝামাঝি কিছু হইয়া ফিসফিস কইরা উচ্চারন করলাম,

– “কোকের মধ্যে ঝাঁপ দিব?”

উত্তর পাইলাম,

– “ইচ্ছা হইলে অন্য নদী, পুকুর, সাগর, সব জায়গায় নিয়া যাইতে পারি। ইওর উইল ইজ লাইক এন অর্ডার টু মি। দুধের নদীতেও জাম্প দিতে পারেন। একফোটাও ভেজাল নাই। ক্রীম তুইলা নিয়া এইখানে বাটার বানানো হয়না। “

কোক কিংবা খাঁটি ধুধের মধ্যে ডুব দিয়া উপরে উঠার পর শরীর একটু শুকাইলে গা ক্যামনে চটচট করবে ভাবতেই জাম্প দেয়ার ইচ্ছা উধাও হইলো।

কাচুমাচু কইরা চীফরে বললাম,

– “ভাই, ইহলোকে আমার জীবন কাকুরে অনেক পছন্দ ছিলো। উনি প্রাকৃতিক জীব ছিলেন। নদী নালা, খাল বিল, জল জঙ্গল, আকাশ তারা, পশু পাখি সবকিছু নিজের কইরা ফেলছিলেন। উনারে ফলো করতে গিয়া আমিও হাল্কা জংলী হইছি। একটু জঙ্গলে নিয়া চলো। “

কইতে না কইতেই আমি জঙ্গলে হাজির। হোয়াট এ জঙ্গল রে বাপ!! হোয়াট এ জঙ্গল!! সোনা রুপার ছড়াছড়ি। মনে নানা প্রশ্ন জাইগা উঠলো। সাথে সাথে লোভও। মনে হইলো, কয়টা গাছ কাইটা নিয়া যাইতে পারলেই তো কাম সারছে। আমারে আর কে পাইবো??!!

বাগড়া দিল আবার ওই শালার হিজড়া চীফ। কইলো,

– “ফায়দা নাই স্যার। নো ড্যাম এট্টুখানিও ফায়দা। এইখানে চারপাশেই সোনা রুপা ভর্তি। বিক্রির কোন সিস্টেম নাই। তয় আপনি চাইলেই কোটি কোটি ডলার ছাপাইয়া দিতে পারি মানসিক আনন্দের জন্য, এক্কেবারে রিয়েল। আপনার মস্তিস্ক বলতেছে নতুন টাকার গন্ধ আপনের কাছে কাগজী লেবুর গন্ধের চেয়েও প্রিয়। “

এরপর আর কিই বা ভাবতাম, ভাবতেও লজ্জ্বা লাগতেছে। ইহলোকে থাকতে যখন পিচ্চি আছিলাম, তখন একটা ঘুঘু পাখি ছিল। ঘুঘু নাকি পোষ মানানো কস্ট। বছরের পর বছর থাকার পর পোষও মাইনা গেছিলো। তখন ভাবতাম, এই ঘুঘুটা কি পোলা ঘুঘু নাকি? মাইয়া ঘুঘু হইলে তো ডিম দিতো। ঘুঘুর ডিম দেখার শখ ছিলো গোপনে গোপনে। আমার ঠিক ওইরকম একটা ঘুঘু দেখার ইচ্ছা হইলো। এইবার আর অবাক হইলাম না। দেখলাম, গাছে গাছে ঠিক ওই একই রকম হাজার হাজার ঘুঘু। চীফ পাশে ফেক হাসি ধইরা রাইখা আমার দিকে চাইয়া রইছে। ভাবখানা এমন যে, “কইছিলাম না, ভাবতেই যা দেরী হইবো।“

আমি জিগাইলাম,

– দেখতে চাইলাম একটা, হাজারটা দিলা ক্যান?”

উত্তর পাইলাম,

– “সিম্পল মাল্টিপ্লিকেশন স্যার। হাজার হাজার সেম ঘুঘু, হাজার হাজার গুন বেশি ভালোলাগা। কম কম ভালোলাগা নিবেন ক্যান? এইখানে হিসাবের কিচ্ছু নাই, বেশি কইরাই দিলাম।“

পাথরের মত মুখ কইরা কইলাম,

– “ঘুঘুর বাসা দেখিনাই জীবনে, বাসা দেখাও। কোন বাসায় ডিম পাইড়া রাখলে ওই ডিম অলা বাসা দেখাও।“

চীফ উত্তর দিলো,

– “স্যার, কয়টা বাসা রেডি করবো? ডিমের নাম্বারটাও একটু বইলা দেন। ইউ উইল সি দ্যা হাউজেস অফ ঘুঘু মেড অফ পিওর গোল্ড এন্ড সিলভার খড়কুটা। এন্ড অফকোর্স উইথ এগজ্যাক্ট নাম্বার অফ আন্ডাস ইউ ওয়ান্ট টু সি।“

আমি হতাশ হইয়া হিজড়া এসিস্টেন্টের ফেক হাসিমুখের দিকে তাকাইয়া ভাবতে লাগলাম, আমি কে ছিলাম, কেনই বা এই পুরস্কার পাইলাম? আর পাইছি যখন, তখন আর কি করা যাইতে পারে?

তখনো জানতামনা, আরো কত অবাক বিস্ময় সাগ্রহে অপেক্ষা কইরা রইছে…

To be continued…

৪ thoughts on “গল্পঃ এন্ড দেন আই ডিসাইডেড টু কিক মাইসেলফ আউট অফ হেভেন – পর্ব – ১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *