“জলফড়িং” এর পক্ষ থেকে সবাইকে অভিনন্দন এবং নিমন্ত্রণ

ব্লগে লেখালেখি শুরু করি ২০১০ সালে। আমি লিখতে পছন্দ করতাম এবং ব্লগে ছিল লেখালেখির পূর্ণ স্বাধীনতা। আরও একটা সুবিধা ছিল যেটা হচ্ছে ব্লগে কোন একটা লেখা প্রকাশ করলে সেই লেখার উপর মন্তব্য এবং প্রতিমন্তব্য করবার সুযোগ থাকে। এর ফলে লেখনীর দুর্বলতাগুলো খুব সহজেই চিহ্নিত করা যায়। আমার লেখালেখির পিছনে তাই প্রথমেই বাংলা ব্লগের বিশেষ করে নাগরিক এবং ইষ্টিশন ব্লগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।


ব্লগে লেখালেখি শুরু করি ২০১০ সালে। আমি লিখতে পছন্দ করতাম এবং ব্লগে ছিল লেখালেখির পূর্ণ স্বাধীনতা। আরও একটা সুবিধা ছিল যেটা হচ্ছে ব্লগে কোন একটা লেখা প্রকাশ করলে সেই লেখার উপর মন্তব্য এবং প্রতিমন্তব্য করবার সুযোগ থাকে। এর ফলে লেখনীর দুর্বলতাগুলো খুব সহজেই চিহ্নিত করা যায়। আমার লেখালেখির পিছনে তাই প্রথমেই বাংলা ব্লগের বিশেষ করে নাগরিক এবং ইষ্টিশন ব্লগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

জলফড়িং নাগরিক এবং ইষ্টিশন ব্লগে প্রকাশিত আমার লেখা ৮ টি ছোটগল্পের সংকলন। গল্পগুলো প্রকাশিত হয়েছিল ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে। বেশিরভাগই রোম্যান্টিক ধাঁচের গল্প হলেও কয়েকটি গল্প একদমই ভিন্ন ধাঁচের। নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম বলেই হয়ত রোম্যান্টিক গল্পগুলোর পটভূমিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে।

জলফড়িং গল্পের পটভূমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রেয়সীর দেওয়া এক অদ্ভুত ধাঁধা যার উত্তর দিতে পারলে প্রেমিকা ভালোবাসায় সাড়া দিবে, সেই ধাঁধার উত্তর খোঁজার জন্য প্রেমিকের প্রচেষ্টা নিয়ে গল্পের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে। সময়ই বলে দিবে এই ধাঁধার উত্তর বের করা সম্ভব হবে কি না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন ছাত্র কিংবা ছাত্রীই অনুভব করতে সক্ষম শাটল ট্রেন তাঁদের জীবনের সাথে কেমন অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। ট্রেন টু ইউনিভার্সিটি গল্পটি এই শাটল ট্রেনকে ঘিরেই। তাঁর সাথে যুক্ত হয়েছে কাঁটাপাহাড়ের রাস্তা এবং চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবনের ৬ টি বছর কাটিয়েছিলাম বলেই হয়ত কবিতার মত গল্পের পটভূমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ফার্মেসি বিভাগের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কে কোন কবিতা আবৃত্তি করবে সেই নিয়ে এক জুনিওর ব্যাচের ছাত্রীর সাথে সিনিওর ব্যাচের ছাত্রের দ্বন্দ্ব। মেয়েটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় তাঁর প্রতিটি কথার জবাব দিতে হবে কবিতার পংক্তি ব্যবহার করে। ছেলেটি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে। ক্রমান্বয়ে চ্যালেঞ্জ রূপান্তরিত হয় মুগ্ধতায়, ভালোবাসায়।

স্বপ্নগ্রহণ গল্পের নায়ক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ছুটিতে প্রেমিকার সাথে দেখা করবার উদ্দেশ্যে সিলেটে যাওয়ার পথে তাঁর পরিচয় ঘটে এক ব্যক্তির। সেই ব্যক্তির কাছে সে এমন এক ঘটনা শুনতে পায় যা কি না তাঁর সমস্ত চিন্তা-চেতনাকে উলটপালট করে দেয়। বাস্তবতা তাঁকে দাঁড় করায় ২০ বছর ধরে চেপে রাখা এক কঠিন সত্যের মুখোমুখি।

প্রত্যাখ্যান আর প্রতারণার বিষাক্ত ছোবলে ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক। হতাশার সেই অতল গহ্বর থেকে ফিনিক্স পাখির মত পুনরুত্থান ঘটানো খুবই কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। প্রথম প্রেম, দ্বিতীয় স্বপ্নের আগে গল্পটি এমনই এক ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। অনুপ্রেরণার গল্প।

একটি প্রেম অথবা প্রতিশোধের গল্প যতটা না রোম্যান্টিক, তার থেকেও বেশি থ্রিলারধর্মী। প্রেমিকের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার নেশায় উন্মাতাল এক প্রেমিকা কিভাবে তাঁর জিঘাংসা চরিতার্থ করেছিল সেটিরই চিত্রকল্প এই গল্পে বিধৃত হয়েছে।

টেলিভিশন এবং নো ম্যানস ল্যান্ড সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের গল্প। টেলিভিশন যখন লিখেছিলাম তখন সারাদেশে চলছিল রাজনৈতিক দুর্যোগ। পত্রিকার পৃষ্ঠাগুলো ভরে উঠেছিল পেট্রোল বোমায় আহত আর নিহতদের ছবিতে। স্বাভাবিকভাবেই গল্পে উঠে এসেছে পেট্রোল বোমা হামলা এবং এসব হামলার পিছনে জড়িত চুনোপুটিদের কর্মকাণ্ড। বরাবরের মতই রাঘব বোয়ালেরা পর্দার অন্তরালেই থেকেছে।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর গুলিতে নিহত এক বাংলাদেশীর লাশ পড়ে আছে দুই দেশের সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে। একদিকে নিহতের বাবা লাশের অপেক্ষায় বসে আছেন, অন্যদিকে লাশ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনীতি। কখন এই রাজনীতি শেষ হবে, আর কখনই বা পিতা তাঁর পুত্রের লাশ বুঝে পাবেন জানা নেই। এই গল্প প্রতিনিয়ত বিএসএফ এর গুলিতে সাধারণ বাংলাদেশীদের নিহত হওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের গল্প।

জলফড়িং গ্রন্থাকারে প্রকাশের পিছনে যার অবদান সবথেকে বেশি সে হচ্ছে প্রিয় ছোট ভাই হিমাংশু কর। বিজ্ঞান লেখক হিসাবে সে ইতোমধ্যেই যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বই প্রকাশের ক্ষেত্রে নবীন লেখকদের অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়। ব্যাপারটা যে কোন নবীন লেখকই জানেন। একসময় তো বই প্রকাশের আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। হিমাংশু শেষ পর্যন্ত কিভাবে কিভাবে জানি আমাকে আর প্রকাশক উভয়কেই রাজী করাতে সক্ষম হয়েছে। আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।

শ্রদ্ধেয় ব্লগার নূর নবী দুলাল ভাইয়ের কথা স্মরণ করছি। গল্প লিখতাম শখে, কিন্তু তিনিই প্রতিনিয়ত আমাকে ছোট গল্প লেখার উৎসাহ দিয়ে গেছেন। একবার তিনি বলেছিলেন “সাহিত্যের পাঠক হয়ত কম। কিন্তু আপনাদের নিয়মিত অংশগ্রহন বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করবে। সাহিত্যের কদর প্রবাহমান। এর কোন নির্দ্দিষ্ট ক্ষণ, কাল নাই। দশ বছর পরেও মানুষ পড়বে। নিয়মিত লেখক হয়ে উঠুন।” এই কথাগুলো আমাকে কতটা উৎসাহিত করেছিল সেটা আমিই অনুভব করতে পারি। তাঁর প্রতিও কৃতজ্ঞতা। সবশেষে ব্লগের সেইসব পাঠকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা গঠনমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে লেখালেখির প্রতি আমার উৎসাহকে নেশার পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছেন।

একুশে বইমেলা ২০১৫ তে আমার প্রথম উপন্যাস উত্তরাধিকার প্রকাশ পায়। জলফড়িং আমার লেখা প্রথম গল্পগ্রন্থ। আগামী ২১ শে ফেব্রুয়ারি বইটি দেশ পাবলিকেশন থেকে প্রকাশ পেতে যাচ্ছে। ৫০৭-৫০৮ নম্বর স্টলে সবাইকে নিমন্ত্রণ। সাহিত্যের পথে এই অগ্রযাত্রা যেন দীর্ঘদিন চালু রাখতে পারি সবার কাছে সেই শুভকামনা প্রত্যাশা করছি।

এক নজরে
নামঃ জলফড়িং
লেখকঃ ফাহমিদুল হান্নান রূপক
ধরণঃ গল্পগ্রন্থ
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
প্রকাশকঃ দেশ পাবলিকেশন্স (স্টল নংঃ ৪০৭-৪০৮)
প্রচ্ছদঃ নাজমুল কবির
পৃষ্ঠাঃ ৮০
মূল্যঃ ১৫০ টাকা

৬ thoughts on ““জলফড়িং” এর পক্ষ থেকে সবাইকে অভিনন্দন এবং নিমন্ত্রণ

  1. মেলায় থেকে ঘুরে আসার পর শুনতে
    মেলায় থেকে ঘুরে আসার পর শুনতে পেলাম পরদিন আপনার বই আসছে। আফসোস। মেলা শেষ হওয়ার আগে যদি যেতে পারি তাহলে দেখা হবে ভাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *