সংখ্যালঘু রাজনীতি ও বুদ্ধিজীবীদের শঠতা


বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের দুর্ভাগ্য তারা আওয়ামীলীগের বিপরীতে বিএনপির মতন একটি দল পেয়েছে। বিএনপি জামাতে ইসলামের মতন ডানপন্থী কিংবা ইসলামপন্থী দল হিসেবে নিজেকে জাহির না করলেও তারা সংখ্যালঘুদের বিষয়ে সবসময় ছিল উদাসীন। দলে গয়েশ্বরের মতন একটা নেতা রাখলেই দল সেক্যুলার হয় না যেমনি আওয়ামী লীগের বেলাও বলা যায়। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা রাষ্ট্রীয় পদে কিংবা রাজনৈতিক বড় পদ কখনো গ্রহণ করতে পারে নি। শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে প্রাণ যাওয়ার পরও কংগ্রেসের শাসন আমলে মনমোহন সিং ছিলেন দুই মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী, পারস্যের জরথুস্ত্রীয় পরিবার থেকে আসা ফিল্ড মার্শাল শ্যাম মানেকশ ছিলের ভারতীয় সেনা বাহিনীর প্রধান, এছাড়া কংগ্রেসের প্রধান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতির মতন পদগুলো’তে ভিন্ন-ভিন্ন সম্প্রদায় থেকে আসা গুণী ব্যক্তিবর্গ আসন লাভ করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দায়িত্ব নেওয়ার পর মুসলিম দেশে কেন একজন অমুসলিম প্রধান বিচারপতি হলেন এই নিয়ে ওলামা লীগসহ অনেকেই মানববন্ধন করেছে, প্রতিবাদ করেছে। বড় পদে সংখ্যালঘু পরিবার থেকে আসা লোকজন’কে বসালেই যে একটি দেশ সেক্যুলার কিংবা উদার সমাজের পরিচয় দেয় বিষয়টি তাও নয় কিন্তু এর মাধ্যমে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার একটি চিত্র ফুটে উঠে।

২০০১-০৬ বিএনপি’র শাসনামলে সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দুদের উপর যে নির্যাতন ঘটে যায় তা নিয়ে মুনতাসীর মামুন, শাহরিয়ার কবিরসহ অনেকেই সোচ্চার ছিলেন। এসব ঘটনাগুলো কিংবা নির্যাতনগুলো নিয়ে বই করেছেন, কেউবা ডাটা করে সংরক্ষণ করেছেন। ভারতের রাষ্ট্রীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ সাম্প্রদায়িকতার জায়গা থেকে প্রতিবাদ করে। ফলে ভারতে কিছু হলে এর দায় চুকাতে হয় এই দেশের মানুষগুলো’কে। অবশ্যে এটি স্মরণ রাখা প্রয়োজন এই বাংলার মানুষ ৪৭-এ ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সাথেই যুক্ত হয়। এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ পাঞ্জাবের শিখ’দের মতন আলাদা একটি রাষ্ট্র কল্পনা করে নি। তাই ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতার যুদ্ধ সব কিছুতে সাম্প্রদায়িক অবস্থান থেকে বিরোধিতা লক্ষ্য করা যায়। জামাতে ইসলামের মুখপাত্র “সংগ্রাম” পত্রিকাটি প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ’এর নামের আগে ‘শ্রী’ শব্দটি যুক্ত করে সংবাদ ছাপায়। দেশ স্বাধীন কিংবা পূর্ব বাঙলার জনগণের দাবী উত্থাপনের পর জনগণের সামনে আওয়ামী লীগ’কে সবার আগে মুসলমানিত্বের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তাই তো ৭০-এর নির্বাচনের পূর্বে বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে শুনি- “আমি মুসলমান।”

২০০৯-এর আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণের পর অমুসলিমদের উপর অত্যাচার থেমে থাকেনি। পূর্ণিমা রাণীর মামলা ছাড়া বিএনপির আমলে সংঘটিত অপরাধের কোন বিচার হয়নি। যারা বিএনপির আমলের সংগঠিত অপরাধগুলো মানুষকে দেখিয়ে দেখিয়ে প্রমাণ করেছে বিএনপি আমলে সংখ্যালঘুদের অবস্থা তারাও আওয়ামী লীগের আমলে এসব কর্মকাণ্ডের বিচার করেনি। আওয়ামী লীগও বিএনপির আমলের ঘটনা বর্ণনা করে নিজেদের ভোট আদায় করে নিয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে সবচেয়ে বড় হামলাটা হয় কক্সবাজারের রামু’তে। আওয়ামী, বিএনপি, জামাত, রোহিঙ্গাসহ জ্বালিয়ে দেওয়া হয় শত বছরের রামুর বৌদ্ধ বিহার। রামুর হামলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকার থেকে মন্দির করে দেওয়া হলেও এসবের কোন বিচার আওয়ামী লীগ সরকার করেনি। স্বাধীনতার সময় যারা বাংলাদেশে অবস্থান করছে এবং যারা ভারতের শরণার্থী শিবির থেকে ফিরে এসেছিল তারাই আবার স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে রাতের আঁধারে ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। এটাই বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের জীবনে বড় ট্র্যাজেডি!

আওয়ামী লীগের আমলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর দ্বিতীয় বড় হামলাটি আসে রাজাকার সাঈদী’র চাঁদে দেখা যাওয়ার গুজবের পর। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও স্বাধীনতা সংগ্রামের মতন হিন্দুদের চক্রান্ত। আর এই বিচার ব্যবস্থায় যেহেতু সাঈদী’কে মৃত্যুদণ্ড থেকে ক্ষমা করে যাবত-জীবন জেল দেওয়া হয়েছে সেহেতু এই দায় চুকাতে হয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে! সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে এমন গুজব ছড়িয়ে হামলা করা হয় শত-শত বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সংখ্যালঘু হামলা ও জমি দখলের ভিন্ন মাত্রা পায় ৫ জানুয়ারি ২০১৪ নির্বাচনের পর। সংখ্যালঘুরা দেশে থাকলে আওয়ামী লীগ পায় ভোট, গেলে পায় জমি! ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি যেহেতু প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিল সেহেতু আওয়ামী লীগের নেতাদের সদস্যরাও ভোট কেন্দ্রে যায়নি। অথচ তারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ঠিকই ভোট কেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিল। ভোট দিতে না গিয়েও অসহায় মানুষদের কোন উপায় ছিল না। আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় মেয়াদের ভোট-হীন নির্বাচিত নেতারা সংখ্যালঘুদের জমি দখলে মন দিলেন। নেতা থেকে শুরু করে এমপি মন্ত্রী’দের বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংখ্যালঘু নির্যাতন ও জমি দখলের অভিযোগ এসেছে। ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্রে’র সুলতানা কামাল কিছুদিন আগে একই চিত্র তুলে ধরেন। অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে আওয়ামী লীগের আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতন হলে আমাদের মুনতাসীর মামুনরা এর বিরুদ্ধে কোন উচ্চবাচ্য করেন না। বিএনপির আমলে আওয়ামী লীগ ঘেঁষা যেসব লোকজন প্রতিবাদী ছিলেন তারা এখন এই বিষয় এড়িয়ে যাচ্ছেন। সকল মানুষ সকল কিছুতে নজর দিতে পারে না এটি সত্য। কিন্তু যারা সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে প্রতিবাদী ছিলেন, দিস্তার পর দিস্তা বই লিখে বিএনপি’র আমলে প্রতিবাদী ছিলেন তারা যখন আওয়ামী লীগের আমলে বই লেখা, ঘটনাগুলোর রেকর্ড সংরক্ষণ তো রাখেনই না, এমনকি পত্রিকায় এসবের বিরুদ্ধে একটা কলামও লিখতে দেখা যায় না। তখন সন্দেহ জাগে; এটি কী তাদের সুবিধাবাদীতা নাকি রাজনীতি সেই প্রশ্ন সামনে চলে আসে।

অনেকদিন ধরে একটি কথা বলে আসছি; বাংলাদেশের সংসদে যেহেতু সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে কথা হয় না, রাষ্ট্র যেহেতু প্রতিনিয়ত অস্বীকার করে সুতরাং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের জন্যে সংরক্ষিত আসনের দাবী তুলতে হবে। এর ফলে সংসদে এসব সংরক্ষিত আসলের আসনধারীরা বিষয়গুলো সংসদে তুলতে পারবে। বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত সংখ্যালঘুদের উপর হামলা হচ্ছে, হিসেব করলে দেখা যাবে বিএনপির আমলে যতোগুলো হামলা হয়েছে সেই হামলা থেকে বহুগুণ হামলা আওয়ামী সরকারের আমলে হয়েছে। অথচ এই বিষয়ে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের কোন কাজ নেই। বিএনপি, জাতীয় পার্টির দলগুলো এসব বিষয়ে কোন বক্তব্য দেয় না, অবস্থান নেয় না। অথচ আওয়ামী লীগের বুদ্ধিজীবীরা বিএনপি’র আমলের সকল ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে। আওয়ামীপন্থীরা যেহেতু আওয়ামী সরকারের আসলের ঘটনাগুলো লিপিবদ্ধ করবে না সেহেতু বিরোধী দলের বুদ্ধিজীবীদের একটি দায়িত্ব ছিল এগুলো লিপিবদ্ধ করে রাজনৈতিকভাবে তাদের বক্তব্য দেওয়া। দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক দল এই কাজটি করছে না। এরশাদের রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম ঘোষণার পর বাংলাদেশের অমুসলিমদের উপর যে ঝড় বয়ে যায়, বাবরি মসজিদের ইস্যুকে কেন্দ্র করে ১০ দিনে ৩ হাজারের উপর মন্দির ভাঙা আগুন দেওয়া ও ধষর্ণের মতন ঘটনার কোন দলিল বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কাছে নেই। বাবরি মসজিদের ইস্যুতে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের কোন কাজ নেই। একটা মসজিদের বিপরীতে কী হয়েছে বাংলাদেশে তা জানতে চাওয়া বর্তমান বাংলাদেশে রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অত্যাচার নিয়ে যারা বই-পত্র লেখে তারা মূলত অসৎ! যে লেখক প্রতিটি সরকারের আমলে সমানভাবে কাজ করে কিংবা কলম চালান তিনিই তো প্রকৃত কাজের মানুষ। যারা বিভিন্ন সরকারের সুদৃষ্টি পাওয়ায় আশায় কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে কাজ করে তাদের কীভাবে সৎ বলি? যারা বিএনপির আমলের ঘটনাগুলো নিয়ে অসংখ্য বই লিখেছে তারা কেন আজ সংখ্যালঘু প্রশ্নে চুপ তার জবাব আমাদের জানতে হবে।

প্রতিবার সাম্প্রদায়িক হামলার পর বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন কাঁন্নাকাটি করে স্ট্যাটাস দেয়। কিন্তু কেউ একটি বার উচ্চারণ করে না রাষ্ট্র এর বিরুদ্ধে কী অবস্থান নিচ্ছে কিংবা গত ৭ বছর ধরে চলমান হামলাগুলোর কয়টার বিচার সরকার করতে পেরেছে। রাষ্ট্র ও প্রশাসন কে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় না করিয়ে এসব হামলার ঘটনা প্রচার করে কী আদো কোন ফায়দা হচ্ছে? এসব হামলার ঘটনা শেয়ার করে কিছু আহা-উহু পাওয়া গেলেও কেউ তো লাভবান হচ্ছে না। রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রশ্রয়ে এসব ঘটনা হচ্ছে তা এখন স্পষ্ট। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র ঘটনাগুলোর বিচার কখনো করেনি। ফলে যারা হামলা করেছে তারা জানে এসব হামলার কোন বিচার হবে না, উল্টো ভয় ভীতি দেখিয়ে যদি দেশ থেকে বাহির করে দেওয়া যায় তাহলে জমি দখল করা যাবে। আর এই জমি দখলের জন্যে সব দলের নেতা-কর্মীরা এক জোট। পাকিস্তান আমলে শত্রুর সম্পত্তি নামে আইন করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে এই আইনকে দেওয়া হয় দেবোত্তর সম্পত্তি আইন। স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা তো পাকিস্তানীরা চালায় না তাহলে এই আইন রাখার পক্ষে কারা তা নিশ্চয়ই বুঝতে সমস্যা হচ্ছে না। দেবোত্তর সম্পত্তি বাতিলের দাবীতে অনেকবার বিভিন্ন সংগঠন মিছিল ও মানবন্ধন করলেও সরকার তাতে সায় দেয়নি। এর কারণ এই সম্পত্তির দখলদারদের শরীর তো সরকারী দলের লোকজনসহ এই রাষ্ট্র নিজেই। বর্তমানে তো ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখলের নতুন মাত্রা পেয়েছে তাহল; মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে কিংবা সরকারী প্রতিষ্ঠার নামে ভূমি দখল। মুক্তিযুদ্ধ সংসদের নামে চলছে ভূমি দখল। যে যুদ্ধে একসময় সকল ধর্ম-বর্ণের লোক এক হয়ে যুদ্ধ করেছে সেই মুক্তিযোদ্ধা শব্দটি এখন হয়েছে দখলদারের হাতিয়ার।

১০ thoughts on “সংখ্যালঘু রাজনীতি ও বুদ্ধিজীবীদের শঠতা

  1. বাংলাদেশের সংসদে যেহেতু

    বাংলাদেশের সংসদে যেহেতু সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে কথা হয় না, রাষ্ট্র যেহেতু প্রতিনিয়ত অস্বীকার করে সুতরাং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের জন্যে সংরক্ষিত আসনের দাবী তুলতে হবে।

    লাভ নাই ভাই। আপনি এই পোস্টের শুরুতেই বলেছে গয়েশ্বর বাবুর কথা। সংসদের এম্পি হয়ে এরা গেলেও দলীয় তাবেদারীতে ব্যস্ত থাকবে। সংরক্ষিত আসনের কোন ভুমিকা রাখতে পারবে না। আমাদের দেশের রাজনীতি হচ্ছে দলীয় প্রধানকেন্দ্রিক। এই ধরনের রাজনীতিতে আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তি বা প্রতিনিধি তেমন কোন ভুমিকা রাখতে পারেন না। অতীতে আদিবাসীদের পক্ষ থেকে দুই দলেরই অনেক এম্পি ছিল। তারা কোন ভুমিকা রাখতে পারেনি। এসব দলের নেতা কর্মীরা অন্ধ না হলে টিকতে পারে না। দলীয় প্রধান ও তার পরিবারের মানুষরা যা চায় সেটাই হচ্ছে রাজনীতি। এর বাইরে কেউ কোন ভুমিকা রাখতে পারেনা।

    ভাল লিখেছেন। :থাম্বসআপ:

  2. তারপরও যদি সংরক্ষিত আসনের
    তারপরও যদি সংরক্ষিত আসনের এমপি থাকে তাহলে গিয়ে ধরা যাবে। চাপ দিয়ে কিছু হয়তো করা যাবে। এছাড়া কোন উপায় আপাদত দেখছি না। ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগেই এই দেশে অমুসলিমদের সংখ্যা ৬-৭% এ চলে আসবে বলে মনে হচ্ছে।

    1. ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগেই এই

      ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগেই এই দেশে অমুসলিমদের সংখ্যা ৬-৭% এ চলে আসবে বলে মনে হচ্ছে।

      সেই রকম লক্ষ্য নিয়েই আমাদের দেশের রাজনীতি এগুচ্ছে। ভবিষ্যতে শতভাগ মুসলমানের দেশ করার পথেই সরকার হাটছে।

  3. 100% সত্য বাংলাদেশে হিন্দুরা
    100% সত্য বাংলাদেশে হিন্দুরা টিকতে পারবে না ।

    এমন একটা উদাহরণ দাও সমগ্র বিশ্বে মুসলিমদের সাথে সংখ্যালঘুরা শান্তিতে বসবাস করছে ।

  4. ভারতেও সংখ্যালঘু রাজনীতির
    ভারতেও সংখ্যালঘু রাজনীতির হাতিয়ার । তবে একটু পার্থক্য আছে বাংলাদেশের চেয়ে। ভারতে সংখ্যালঘু উপর কোন অত্যাচার হলে সারা দেশের লোক তার প্রতিবাদ জানায় । শুধু মুখে মুখে সে প্রতিবাদ জানায় না , মাঠে ময়দানে নেমে প্রতিবাদ জানায় । কিন্তু বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর অত্যাচার চললে সংখ্যাগুরুদের কোন ভূমিকাই থাকে না ।

  5. সংখ্যালঘুদের যতদিন সংখ্যালঘু
    সংখ্যালঘুদের যতদিন সংখ্যালঘু বলে গন্য করা হবে,ততদিন মুক্তি নাই। এটা মেন্টালিটি চেঞ্জ করা ছাড়া উপায় নাই। কারন যতদিন একটা সামগ্রিক রেশনাল একটা মনোভাব আনয়ন করা যাবে না,ততদিন নানা ফর্মে সংখ্যালঘু নানা ফর্মে আসবে,তাদের উপর অত্যাচার বেশি হবে,সুবিচার কম হবে। কয়েকজন এগিয়ে আসে ত্রানকর্তার হিসাবে,কিন্ত একটা আলাদা দুর্বল প্রজাতি হিসাবে। এই ধারনার চেঞ্জ করুন,সংখ্যালঘু চোখের সামনে থেকে হারিয়ে যাবে।

  6. রাষ্ট্রের মানসিকতা ও সিস্টেম
    রাষ্ট্রের মানসিকতা ও সিস্টেম পরিবর্তন হলে মানুষেরও পরিবর্তন হতো। আঘাতটা করতে হবে রাষ্ট্রের উপর, প্রশ্ন করতে হবে রাষ্ট্রকে। রাষ্ট্র যেখানে সাম্প্রদায়িক সেখানে মানুষ কতোটুকু অসাম্প্রদায়িক হতে পারে।

  7. অনেকদিন ধরে একটি কথা বলে
    অনেকদিন ধরে একটি কথা বলে আসছি; বাংলাদেশের সংসদে যেহেতু সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে কথা হয় না, রাষ্ট্র যেহেতু প্রতিনিয়ত অস্বীকার করে সুতরাং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের জন্যে সংরক্ষিত আসনের দাবী তুলতে হবে। –
    এভাবে সংরক্ষিত আসন দিয়ে মনে হয় লাভ হবে না। কারন পাকিস্তান আমলেও এরকম সংরক্ষিত আসন ছিল, লাভ হয়নি।
    আমার যেটা মনে হয়- জাতিসংঘের উচিৎ সংখ্যালঘু বিষয়ে একটা কনভেনশন করা। এবং পৃথিবীর যাবতীয় সংখ্যালঘুরা Treat হবে এই কনভেনশন দ্বারা। শুধু বাংলাদেশ বা ভারত নয়, যেখানে সংখ্যালঘু আছে সবাই জাতিসংঘের এই কনভেনশনের আওতায় থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *