জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা মানুষ, মেশিন নন ……

প্রবাদ প্রবচনঃ
“নিজের বেলায় ষোল আনা, অন্যের বেলায় এক আনাও না।”

আমরা সব সময় নিজেদের সীমাবদ্ধতাটা ভূলে যাই! কেউ মানতে বা মনে রাখতে চাই না যে আমরা মানুষ অতি মানব নই। জাতীয় দলের ক্রিকেটটারও প্রকৃতিতে আমাদের মতই মানুষ। তারা কোন মেশিন নন। তাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। আমাদের যেমন প্রতিদিন সমান যায় না।ঠিক তেমনি তাদেরও সব খেলায় সমান পারফর্মেন্স হয় না। এটা তো কোন একক খেলা না, দলগত খেলা। এখানে সবাইকে সমান ভাবে পারফর্মেন্স করতে হয়। তা ভূলে গেলে চলবে কিভাবে?


প্রবাদ প্রবচনঃ
“নিজের বেলায় ষোল আনা, অন্যের বেলায় এক আনাও না।”

আমরা সব সময় নিজেদের সীমাবদ্ধতাটা ভূলে যাই! কেউ মানতে বা মনে রাখতে চাই না যে আমরা মানুষ অতি মানব নই। জাতীয় দলের ক্রিকেটটারও প্রকৃতিতে আমাদের মতই মানুষ। তারা কোন মেশিন নন। তাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। আমাদের যেমন প্রতিদিন সমান যায় না।ঠিক তেমনি তাদেরও সব খেলায় সমান পারফর্মেন্স হয় না। এটা তো কোন একক খেলা না, দলগত খেলা। এখানে সবাইকে সমান ভাবে পারফর্মেন্স করতে হয়। তা ভূলে গেলে চলবে কিভাবে?

সত্যি বলতে সীমিত ওভার খেলা মানে ওয়ান ডে (৫০ ওভারের খেলায়) তে আমাদের ছেলেদের যতটা উন্নতি হয়েছে তার অর্ধেকও টেস্ট বা T20 তে হয় নি। আর এর জন্য তাদেরকে সময় দিতে হবে। যাতে ওয়ান বাই ওয়ান ডেভেলপমেন্ট হয়। একবারে তো আর গাছের মাথায় উঠা যায় না।

কিন্তু না, আমরা তা মানতে রাজি নই। আমাদেরকে সব সময় জিততেই হবে। নিজেরা ভূল করলে কোন সমস্যা নেই! কিন্তু ঐ বেচারারা একটু ভূল করলেই সেরেছে। তাদের বাপ-মা, ভাই-বোন নিয়ে গালাগালি করতে হবে। আর এটা যেন আস্তে আস্তে আমাদের অভ্যাসে পরিণিত হয়েছে যাচ্ছে! আরে ভাই ওদের খারাপ খেলার সাথে ওদের বাপ-মা, ভাই-বোন কি দোষ করল? আমরা একটি বারের জন্যও ভাবি না ওদেরকে গালি দিয়ে আমি আমার নিজের মন-মানসিকতার পরিচয় তুলে দিচ্ছি।

ভাই বা বোন @ একটা বিষয় মনে রাইখেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জীবন আপনার আমার মত এত মসৃণ না। আজকের এই অবস্থায় আসতে তাদেরকে দিনের পর দিন অমানুষিক পরিশ্রম করতে হয়েছে। কত চড়াই উৎরাই যে পার করতে হয়েছে তা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না (!) যদি আপনি নিজেই কখনো এই প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত না থাকেন।

আমাদের জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের অনেক উন্নতি হয়েছে এবং হচ্ছে। এখন আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েদের ক্রিকেট খেলায় আদর্শ হিসাবে বাহিরের দেশের কোন খেলোয়াড়কে নিতে হয় না। বাংলাদেশের জাতীয় দলেই এমন অনেক খেলোয়াড় আছেন যারা নিজেরাই (বর্তমানে) এক একজন ভাল খেলোয়াড়ের উদাহরণ। এতদিন আমাদের ছেলে বা মেয়েরা জানত না তাদেরকে কতটুকু ভাল খেলতে হবে? কতটুকু ভাল খেললে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া যাবে?

একটু অপ্রাসঙ্গিক কথা বলি। ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল খেলা ইউরোপে অনেক জনপ্রিয়। তা তো আমরা সবাই জানি; তাই না? আমি মনে হয় ভূল করছি; শুধু ইউরোপ হবে কেন? প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল সারা বিশ্বেই জনপ্রিয়। যখন ইংল্যান্ডে আসলাম তখন দেখলাম আসল চিত্র। এরা কত বড় ফুটবল পাগল তা কেউ বাহিরের থেকে কল্পনাও করতে পারবে না। এই খেলা নিয়ে কত প্রকারের ব্যবসা হয় তা অকল্পনীয়। খেলোয়াড়দের ক্লাব টু ক্লাব ট্রান্সফার ফি শুনলেই তো মাথা ঘুরায়।

যাই হোক যেটা বলার জন্য এত বড় ভূমিকা দিলাম সেটা এখন বলি, প্রিমিয়ার লীগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নামে একটি দল আছে। ফুটবল প্রেমি বা যারা ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল খেলা দেখেন তারা সবাই তা জানেন। তবে এটা কি জানেন? কোন এক সময় বলা হত, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাইড বেন্চে যে সব খেলোয়াড় বসিয়ে রাখা হত তা দিয়ে অনায়াসেই প্রিমিয়ার লীগে আরেকটি দল করা যেত এবং সেই দল অন্য যে কোন দলের থেকে কম শক্তিশালী হত না। কিন্তু তারপরও তারা হারত। কারণ, খেলায় হার জিত আছে। আর এটা তারা জানে এবং মানে। আমাদের মত না যে খেলোয়াড়দের সবাইকে মানুষ না ভেবে মেশিন ভাবি!

একটা ছোট্ট গোপন কথা বলি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *