সংখ্যালঘুর রাজনীতি দেশে দেশে

হিন্দুদের দেব – দেবীকে তাচ্ছিল্য করে কেউ বাস্তব জীবনে সমালোচনা করে নি এমন মানুষের সংখ্যা কত হতে পারে?
.
মুসলমানদের নবীদের নিয়ে হিন্দুরা কি কখনো চায়ের আড্ডায় প্রশ্ন তুলেছে সেভাবে এই দেশে?
.
ভারতে আবার উলটো। মুসলমানদের কটাক্ষ করা হয়। দাঙ্গাও হয়েছে বেশ কয়েকটা।
মিয়ানমারে মুসলমানদের অবস্থা ভীষণ করুণ। কীভাবে যে নির্যাতন করা হয়!
চীনে ইউঘুর মুসলিম সম্প্রদায়দের অবস্থাও একই!
ফিলিস্তিনের কথা সবার জানা।

বর্ণবাদ ছিল পশ্চিমা দেশগুলোতে।
ছিল আদিবাসীদের সাথে সেটলারদের নানা ভয়াবহ মর্মান্তিক নির্মম হত্যা কান্ড বিশেষত আমেরিকায়, অস্ট্রেলিয়ায়।
ইহুদি নিধন তো ছিলই।
.

হিন্দুদের দেব – দেবীকে তাচ্ছিল্য করে কেউ বাস্তব জীবনে সমালোচনা করে নি এমন মানুষের সংখ্যা কত হতে পারে?
.
মুসলমানদের নবীদের নিয়ে হিন্দুরা কি কখনো চায়ের আড্ডায় প্রশ্ন তুলেছে সেভাবে এই দেশে?
.
ভারতে আবার উলটো। মুসলমানদের কটাক্ষ করা হয়। দাঙ্গাও হয়েছে বেশ কয়েকটা।
মিয়ানমারে মুসলমানদের অবস্থা ভীষণ করুণ। কীভাবে যে নির্যাতন করা হয়!
চীনে ইউঘুর মুসলিম সম্প্রদায়দের অবস্থাও একই!
ফিলিস্তিনের কথা সবার জানা।

বর্ণবাদ ছিল পশ্চিমা দেশগুলোতে।
ছিল আদিবাসীদের সাথে সেটলারদের নানা ভয়াবহ মর্মান্তিক নির্মম হত্যা কান্ড বিশেষত আমেরিকায়, অস্ট্রেলিয়ায়।
ইহুদি নিধন তো ছিলই।
.
প্রত্যেক অনুন্নত, উন্নয়নশীল দেশের সংখ্যা লঘুদের বিরুদ্ধে যারা অপরাধ করে তারা তাদের ধর্মকে/ জাতকে খাটো করে সংখ্যাগরিষ্ঠর সহজাত সহানুভূতি আদায় করতে চায়। তারা সন্ত্রাসী, তবে সংখ্যা গরিষ্টরা যদি তাদের সহানুভূতি দিয়ে তাদের প্রতি পরোক্ষভাবে সমর্থন জানায় সেটা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তাই সংখ্যাগরিষ্ঠদের সহানুভূতি প্রত্যাহারের পাশাপাশি প্রতিবাদ, সমবেদনা ও তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচার করতে হবে শক্ত হাতে, সেটা আমাদের দেশে, অন্যান্য দেশেও।
.
আমাদের দেশের মানুষ বেশির ভাগ নিজেদের জীবনের জীবিকা নিয়ে ব্যস্ত। তারা শান্তিপ্রিয়। নিজের খেয়ে কারো শান্তি ভঙ্গ করার মানসিকতা কারো নেই। একটি শ্রেণী অতি ইসলামের নাম ভাঙিয়ে অপরাধ করছে, রাজনীতি করছে ধর্ম নিয়ে, এমন অমুক সম্প্রদায়কে বাতিল করতে হবে এই ধরনের ভয়ানক কথা বলে। বলুন, সবাই মানুষ, সবারই ক্ষুধা লাগে, সবারই বাঁচতে ইচ্ছে করে। কিন্তু তাদের যদি এভাবে বাতিল করা হয়, তাদের মসজিদে হামলা করা হয় তাহলে কেমন কথা হয়! আমরা যদি নিজেরা সংখ্যালঘু হতাম, আমাদের সাথে যদি এমন করত কেমন হত! নিশ্চিত আমরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পালিয়ে বেড়াতাম রোহিঙ্গাদের মত। তাহলে তাদেরও সেই রকমই লাগে রে, ভাই।
.
অতি যুক্তিবাদীরা বলবেন যে, অন্যদেশে আমাদের মুসলিম ভাইদের এসব হয় এদেশে হলে সেটা প্রতিশোধ হবে। তাহলে তাদের সাথে আমাদের মাঝে ফারাক থাকল কোথায়?!

বিভিন্ন সভায় ধর্ম ব্যবসায়ীরা আমাদের সরল মনের ধর্ম বিশ্বাসকে উস্কে দেয়। আবার রাজনৈতিক দল্গুলো তাদের অনুকুলে জনমত বা ভোট ব্যাংক সৃষ্টিতে এই সংখ্যালঘু ইস্যু কাজে লাগায়। মধ্য থেকে ধর্মকে মৌলবাদের দূর্নাম আর রাষ্ট্রকে সাম্প্রদায়িক ট্যাগ বয়ে বেড়াতে হয় তাদের অতি বাড়াবাড়ির কারণে।
.
আমরা যতদিন পর্যন্ত অপরের ধর্ম, জাত কে সম্মান দিতে না পারব, তাদের প্রতি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো জোড়ালো করতে না পারব ততদিন সন্ত্রাসীরা বীর দর্পে এসব অপকর্ম উতসাহ পাবে। সেই সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর সুবিধাবাদী নীতি পরিহার করতে হবে, আইন প্রয়োগ করতে কঠোরভাবে।
.
মনে রাখতে হবে, নগরে আগুন লাগলে দেবালয় রক্ষা পায় না, আজ সন্ত্রাস কবলিত রাষ্ট্রগুলোর নিরহ মানুষ থেকে অভিজাত কেউ রক্ষা পাচ্ছে না, আলু পোড়া দিয়ে খাওয়া দেশগুলোও শান্তিতে নেই সেই আতঙ্কে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *