মাতৃভাষার চর্চা এবং আমাদের উপনিবেশ মানষিকতা

ভাষা হল যোগাযোগের মাধ্যম।মানুষ ভাষার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করে।আদিম মানুষ যখন ভাষা সৃষ্টি করতে পারেনি তখন ঈশারায় ভাব প্রকাশ করতো।ধীরে ধীরে তারা অর্থবোধক ধ্বনি বলতে শিখল যা তার পাশের মানুষ বুঝতে পারতো। এভাবেই ভাষার সৃষ্টি মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য।এজন্য একেক অঞ্চলে একেক ধরনের ভাষা।আবার আদিম মানুষ কোনকিছু বুঝাতে বিভিন্ন ধরনের সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করতো। যার সাথে ধ্বনি যোগ করে হল ভাষার লিখিত রুপ।এভাবেই লিখিত ভাষার শুরু যা মানব সভ্যতার অন্যতম বড় আবিষ্কার। এভাবেই মানুষ নিজের সৃষ্টিকে পুস্তকে রুপ দিয়েছে যার মাধ্যমে জ্ঞানবিজ্ঞান সংরক্ষণ করে রেখেছে।


ভাষা হল যোগাযোগের মাধ্যম।মানুষ ভাষার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করে।আদিম মানুষ যখন ভাষা সৃষ্টি করতে পারেনি তখন ঈশারায় ভাব প্রকাশ করতো।ধীরে ধীরে তারা অর্থবোধক ধ্বনি বলতে শিখল যা তার পাশের মানুষ বুঝতে পারতো। এভাবেই ভাষার সৃষ্টি মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য।এজন্য একেক অঞ্চলে একেক ধরনের ভাষা।আবার আদিম মানুষ কোনকিছু বুঝাতে বিভিন্ন ধরনের সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করতো। যার সাথে ধ্বনি যোগ করে হল ভাষার লিখিত রুপ।এভাবেই লিখিত ভাষার শুরু যা মানব সভ্যতার অন্যতম বড় আবিষ্কার। এভাবেই মানুষ নিজের সৃষ্টিকে পুস্তকে রুপ দিয়েছে যার মাধ্যমে জ্ঞানবিজ্ঞান সংরক্ষণ করে রেখেছে।

মানব শিশু জন্মের পর থেকে যে ভাষার মাধ্যমে উপলব্ধি করতে শিখে তা হল তার মাতৃভাষা। এই ভাষার মাধ্যমে তার মনতাত্ত্বিক বিকাশ ঘঠে।তার অবেগ,উপলব্ধি, ভালোলাগা তৈরি হয় মাতৃভাষায়।তাই মাতৃভাষা হল মানবিক গঠনের অন্যতম উপায়।বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। বাংলার বাইরে আমাদের যে ভাষা প্রধানত শিখতে হয় তা হল ইংরেজি। কিন্তু ইংরেজি শিখতে প্রথমেই তার অর্থ বাংলায় আমাদের মস্তিষ্ক তড়িৎভাবে অনুবাদ করে তারপর আমরা উপলব্ধি করি ইংরেজিরতে কি বলা হয়েছে।আমরা পড়ছি কিন্তু ইংরেজি বা অন্য যে কোন ভাষায় কিন্তু মনস্তাত্ত্বিক উপলব্ধিটা কোথা থেকে আসছে? মাতৃভাষা থেকে।তাই মাতৃভাষার শিক্ষা হল আমাদের ভিত তৈরির অন্যতম উপায়।

বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ সারা দুনিয়ায় কলোনি স্থাপন করে পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটিয়েছে।তাই কলোনি স্থাপনের মধ্য দিয়ে ইংরেজি হয়ে গেছে দুনিয়ার অন্যতম গুরুত্ত্বপূর্ণ ভাষা।তার সাথে দুনিয়া জুড়ে আমেরিকার আধিপত্য ইংরেজীকে করেছে গুরুত্ত্বপূর্ণ।কিন্তু আমাদের ওখানে উপনিবেশ আমলে অফিসিয়াল ভাষা ছিল ইংরেজি। ফলে কেরানির চাকরি করতে অনেকেই বাধ্য হয়ে ইংরেজি শিখতে হয়েছিল।তাই আমাদের মনস্তত্ত্বে ইংরেজি ও এক ধরনের উপনিবেশ স্থাপন করেছে যে ইংরেজিতে না পড়লে মনেকরি আমাদের জ্ঞান পরিপূর্ণ হয় না।বা ইংরেজি না জানলে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা করা যায় না।কিন্তু বড় কথা হল কোন ভাষায় পড়লাম এটা আসল নয়,কোন ভাষায় পড়ে সহজে বুঝতে পারলাম তা বড় কথা।তাই মাতৃভাষায় জ্ঞান চর্চা এবং বিকাশের জন্য মতৃভাষার শিক্ষা গুরুত্ত্বপূর্ণ।ইংরেজিকে আমরা দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহার করতে পারি কিন্তু শিক্ষার সকল স্তরে বাংলাভাষার ব্যবহার করা জরুরী। এর সাথে আদিবাসীদের নিজ মাতৃভাষার চর্চা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে মাতৃভাষার পড়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।জ্ঞান জগতের গুরুত্ত্বপূর্ণ বই অনুবাদের জন্য দক্ষ অনুবাদক তৈরি করতে হবে যারা অন্যভাষার লেখাগুলো বাংলায় অনুবাদ করবে।একসময় হয়তো একটি ভাষায় পৃথিবীর মানুষ কথা বলবে।কিন্তু তার আগ পর্যন্ত মাতৃভাষা হোক জ্ঞান চর্চার অন্যতম হাতিয়ার।

২ thoughts on “মাতৃভাষার চর্চা এবং আমাদের উপনিবেশ মানষিকতা

  1. এই দেশে আজ পর্যন্ত ‘মাতৃভাষা
    এই দেশে আজ পর্যন্ত ‘মাতৃভাষা বাংলা সর্বস্তরে চালু’ করার জন্য একটি পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি।
    শুধু মুখে-মুখে বাংলার প্রতি প্রেম দেখিয়ে শহীদমিনারে ফুল দেওয়া হয়।
    আপনাকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *