নব্য নাস্তিকদের বাকস্বাধীনতা, বর্তমান এবং পিছনের ইতিহাস।


মাঝমাঝে হঠাৎ করে আমি বিশাল চিন্তার ভিতরে বিলীন হয়ে যাই। ভাবতে থাকি আমাদের দেশের রাজনীতি এবং নব্য নাস্তিকদের করুন অবস্থা দেখে। আসলে কখনই কোনকিছু অতি সাধারন ভাবে আসেনা। আজকে যেটা উন্নত বিশ্ব তাদের যে প্রগতিশীল চিন্তাভাবনা সেটাও একদিনে আসেনি। এর জন্য দিতে হয়েছে অনেক প্রচেষ্টা, প্রয়াস তৎসঙ্গে অনেক জীবনও। আমি এখন অনেক ছোট। আসলে পারিপাশ্বিক বিষয়বস্তু ও অনেক কম বুঝি। কিন্তু খুব ছোট ও না যে বুঝতে পারব না কেমন করে মানুষের ফ্রিডম অফ স্পিচ এর অধিকার কেরে নেওয়া হয়। কীরকম মৌলবাদী অধ্যুসিত দেশ হলে একজন সত্তোর্ধ প্রকাশনা সংস্থার মালিককে রিমান্ডে নেওয়া। আর কতটাই বা নিচ হলে একজন লেখকের সব বই জব্দ করা হয়। যদিও তারা(বাংলা একাডেমীর সদস্য) বলেছিল যে বইটা অশ্লীলতায় ভরপুর। কিন্তু আমি আমার ছোট মস্তিষ্কে এরকম কোন অশ্লিলতা খুজে পাইনি বইটি পড়ে। বইটা বিতর্কিত বই। আসলে মৌলবাদীরা কোনকিছুই সহ্য করতে পারেনা। এখন আসি আসল কোথায়। আমার জন্ম একটা ছোট গ্রামের ছোট পাকা করা রাস্তার পাশে। যেখানে আছে একটা ছোট বাজার তারও দুই তিন কিলোমিটার দুরে আছে একটা বড় ধরনের বাজার। কিন্তু বাজার আমার লেখার বিষয়বস্তু না। বিষয়বস্তু তে ফিরে আসি। আমাদের এলাকা টা গ্রাম্য হলেও সেখানে আছে রাজনৈতিক একটা বিশাল প্রভাব। আমাদের ছোট এলাকা থেকেই আছে বাংলাদেশ সরকার এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলেও আমাদের এলাকাটা প্রবল বিএনপি এবং শিবির অধ্যুষিত। সেখানে নিয়মিত রাজনীতির চর্চা হয়। হরতাল হলে রাস্তার পাশের গাছ কেটে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আবার একটা সাইকেল পর্যন্ত সেই রাস্তা দিয়ে এগুতে পারেনা। আবার মাঝে মাঝে রাজনীতি এমন চরম পর্যায়ে এগুয় যে ছোট গ্রামের খবরগুলো টিভি চ্যানেলের শিরোনাম হয়ে দ্বারায়। বুঝতেই পারছেন এরকম একটা অবস্থায় থাকলে সবাইকেই চরম সব সত্যের মুখোমুখি হতে হয়। যার মুখোমুখি হওয়া সবার হয়ে ওঠেনা। এইরকম শিবির অধ্যুসিত এলাকায় যদি আমি বলতে যাই, বাছা আল্লাহ কী আছে। তখন সবাই বলবে এরে ধর আল্লাহ এর নামে নিন্দা করছে। এমনকী আমার জন্য আমার পরিবারসহ একঘরে হয়ে যেতে পারে। তাই বলে কী সব দেখে যাবো। এক কান দিয়ে শুনে আরেককান দিয়ে বের করে দিব। তা কী কখনও হয়। তাই আমি আমার অনেক বন্ধু কে আমার এগ্নোষ্টিক হওয়ার বিষয় টা বললাম। কিছু বন্ধু কথা বলা বিন্ধ করল আর কিছু বন্ধু এই বলে শান্তনা দিল, হে বন্ধু কখনই এই কথা গুলা মানুষের সামনে বলবা না। বললে তোমারে আমরা এত কম বয়সে কবরে রেখে আসতে পারব না। এরকম করে চলার পর এডমিশন নিয়ে আসতে হইল একটা সরকারি কলেজে। নতুন কলেজ নতুন বন্ধু নতুন পরিবেশ। তার সাথে নতুন শহর। কিন্তু এত বড় বড় দালান কোঠা বিল্ডিংয়ের মাঝেও যে লুকিয়ে আছে বাক্স্বাধীনতার চরম বিপর্যয় তা এখানে না আসলে বুঝতাম না। তবুও বাক স্বাধীনতার অভাবে কাটতেছে দিন। কাকে বলব। কাকে শোনাব এই দুঃখের কাহিনী। যেখানে আমার গুরুসম অভিজিৎ রায় বাচতে পারল না। এসব জঙ্গী মৌলবাদীদের হাতে। যেখানে বাচতে পারল না রাজিব হায়দার। যেখানে আমাদের মত মুক্তচিন্তক দের বই বইমেলায় অংশ নিতে পারেনা। সেখানে সত্যিই নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়। অসহায়ত্বের সীম যেদিন ছাড়াতে পারব না সেদিন হয়ত আমারও যায়গা হবে সেসব মৌলবাদীদের বন্দুকের নলের আগায়। তবু বলে যাবো সত্যের সন্ধানে ছিলাম আছি এবং থাকব। :টাইমশ্যাষ: :টাইমশ্যাষ:

২ thoughts on “নব্য নাস্তিকদের বাকস্বাধীনতা, বর্তমান এবং পিছনের ইতিহাস।

  1. আল্লাহ-রাসুল-ইসলাম ও যেকোনো
    আল্লাহ-রাসুল-ইসলাম ও যেকোনো ধর্মকে বাদ দিয়ে আমাদের সমালোচনা করতে হবে। সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য ধর্মকে আঘাত করে কোনো লাভ নাই। আমরা ভণ্ডের বিরুদ্ধে লিখব।
    আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *