কোন পথে হাটছে বাঙলাদেশ ? মৌলবাদের পথে নাকি অসাম্প্রদায়িকতার পথে ?

কোন পথে হাটছে বাঙলাদেশ ? মৌলবাদের পথে নাকি অসাম্প্রদায়িকতার পথে ?
এই প্রশ্নটি আজ প্রতিটি বিবেকবান মানুষের কাছেই পাওয়া যাবে । আজ বাঙলাদেশের প্রকৃত বিবেকবানরা উদ্ভিগ্ন এই প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে । দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পরেছে গোটা দেশ এই প্রশ্নে । কেননা , বাঙলাদেশের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর বর্তমান বাঙলাদেশের সাংবিধানিক দ্বিমুখী নীতিই দ্বিধা উত্‍পাদনের মূল কারণ।


কোন পথে হাটছে বাঙলাদেশ ? মৌলবাদের পথে নাকি অসাম্প্রদায়িকতার পথে ?
এই প্রশ্নটি আজ প্রতিটি বিবেকবান মানুষের কাছেই পাওয়া যাবে । আজ বাঙলাদেশের প্রকৃত বিবেকবানরা উদ্ভিগ্ন এই প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে । দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পরেছে গোটা দেশ এই প্রশ্নে । কেননা , বাঙলাদেশের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর বর্তমান বাঙলাদেশের সাংবিধানিক দ্বিমুখী নীতিই দ্বিধা উত্‍পাদনের মূল কারণ।

দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে জন্মলাভ করে ভারত এবং পাকিস্থান নামক দুটি রাষ্ট্র । (এখানে দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে ভারতীয় এবং পাকিস্থানী নয় , বরং হিন্দু ধর্ম ও ইসলাম ধর্মকে বোঝানো হয়েছে) । অর্থাত্‍ ধর্ম বিবেচনায় হিন্দুরা ভারতীয় আর মুসলিমরা পাকিস্থানী । সে হিসেবে বিরাট দূরত্বে অবস্থানরত পূর্ব-বাঙলা অর্থাত্‍ বর্তমান বাঙলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ট জনগণ মুসলিম ধর্মাবলম্বি হওয়ার কারণে পশ্চিম-পাকিস্থানের অংশ হিসেবে গণ্য হয় । কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম জনগোষ্ঠী থাকার পরেও পশ্চিম-পাকিস্থান পূর্ব-পাকিস্থানের বর্তমান বাঙলাদেশের উপর নিপীড়ন শুরু করে এই ভেবে যে , এরা ভারতীয়দের বন্ধু । এরা মুসলিম হলেও পাকিস্থানকে এরা কখনই অখন্ড রাখবে না । ফলে পশ্চিম-পাকিস্থান পূর্ব-পাকিস্থানকে অর্থনৈতিক , রাষ্ট্রীয় সহ বিভিন্ন ভাবে নিপীড়ন করতে থাকে । কিন্তু মূল বিষয় হচ্ছে ধর্ম যা আমরা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িকতা থেকেই স্পষ্ট হতে পারি ।

যাই হোক , অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে মূলত বাঙালীরা একাত্তরে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিল ঐ পশ্চিম-পাকিস্থানীদের সাথে । এই যুদ্ধ অর্থনৈতিক মুক্তি , সায়ত্ত্বশাষন লাভ ও একটি স্বাধীন ভূ-খন্ডের জন্যে হলেও এর মূল লক্ষ্য ছিল একটি মৌলবাদী রাষ্ট্রের কবল থেকে মুক্ত হয়ে সেক্যুলার ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করা । যা যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাস্তবায়নের পথ তৈরিও করেছিলেন । গণপ্রজাতন্ত্রী বাঙলাদেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে জায়গা দিয়ে সেই পথের রচনা করা হয়েওছিল । কিন্তু পঁচাত্তরের পট-পরিক্রমায় সে পথে ভাঙন তৈরি হয়ে । যে ভাঙন এখন অবধি আমরা দেখতে পাচ্ছি ।

বর্তমান আওয়ামী সরকার ২০০৯ সালে যখন সরকার গঠন করেছিল তখন লোক মারফত শুনেছিলাম সংবিধান থেকে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ কর্তন করা হবে । ধর্মীয় গোষ্ঠীরা এ নিয়ে অনেক হাঙামাও করেছিল দেখেছি । অবশ্য সে ভয়েই বোধয় তত্‍কালীন সরকার ‘বিসমিল্লাহ’ কর্তন না করে বহাল রেখেছিলেন । একটা বিষয় বোধগম্য নয় , যে দেশকে অসাম্প্রদায়িক বলে দাঁত কেলান সকলে সে দেশের সংবিধানে একটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বাণী কি থাকে তা কি তারা জানতে চেয়েছেন ?

আমাদের সংবিধানের মূলনীতি চারটি । যার মধ্যে অন্যতম ধর্ম নিরপেক্ষতা । অর্থাত্‍ রাষ্ট্রের কোন ধর্ম নেই । রাষ্ট্র নিরপেক্ষ । কিন্তু সংবিধানের অপর স্থানে উল্লেখ্য রাষ্ট্রের ধর্ম ইসলাম । এছাড়াও সম্প্রতি ইসলামী উগ্রবাদীদের সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ব্লগার , বিজ্ঞান লেখক , মুক্তচিন্তক হত্যায় রাষ্ট্রের ধর্মবাদী বিশেষ করে ইসলামী গোষ্ঠীর পক্ষ নেয়ায় অনেকটা অবাক হচ্ছি এই ভেবে ,
তবে রাষ্ট্র কি তবে সংবিধানকে গণধর্ষন করাচ্ছে ইসলাম ধর্ম দিয়ে ? একদিকে ধর্ম নিরপেক্ষতা অন্যদিকে রাষ্ট্রের ধর্ম ইসলাম এই দুমুখী নীতি কি চপেটাঘাত করে না একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের ?

বইমেলা প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই লেখার ইতি টানব । গত বছর অর্থাত্‍ ২০১৫ সাল । বইমেলা জমজমাটই বলতে গেলে । পাঠক লেখকের সমাবেশ চলছে । পাঠক লেখকের আগমনে ভরে উঠেছে বইমেলা । আমরা সকলেই জানি , ফেব্রুয়ারী মাসে বাঙলা একাডেমী কর্তৃক আয়োজিত এই বইমেলা বাঙালীর চেতনার মেলা , বায়ান্নের শহীদদের সম্মান জানাবার মেলা । কিন্তু সব কিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে , বায়ান্নএকাত্তরের পরাজিত মৌলবাদী গোষ্ঠীর হুমকিতে আলি দস্তির “নবি মুহাম্মদের ২৩ বছর” বই প্রকাশ করায় রোদেলা প্রকাশনীর স্টল বন্ধ করা হয় বইমেলা থেকে । কিন্তু কেন বন্ধ করা হল রোদেলা প্রকাশনী , এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রের জবাব ঐ প্রকাশনি থেকে প্রকাশিত আলি দস্তির বই ইসলামকে , নবি মুহাম্মদকে অবমাননা করেছে তাই রোদেলা প্রকাশনী বইমেলা থেকে বন্ধ করা হয়েছে । তাছাড়া গত বছরের বইমেলায় বিজ্ঞান লেখক অভিজিত্‍ রায়কে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা কুপিয়ে হত্যা করে । ঠিক এক বছর পর যখন বইমেলা আয়োজিত হল তখন আবার মৌলবাদী হামলা আসল মুক্তচিন্তার উপর । এবার হামলাটা বদ্বীপ প্রকাশনীর উপর । বদ্বীপ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত “ইসলাম বিতর্ক” বইটি নাকি ‘নবি মুহাম্মদ’কে অবমাননা করেছে । যার ফলে বইমেলা থেকে বদ্বীপ প্রকাশনী বন্ধ করা হয় এবং বদ্বীপ প্রকাশনীর প্রকাশক সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয় ।
ওহ ! বইমেলা আয়োজন করার পূর্বে বাঙলা একাডেমির মহা-পরিচালক উস্কানিমূলক বই না লেখার পরামর্শ দেন । এই যে মুক্তচিন্তার উপর নানা রকম হামলা কখনও শারীরিক কখনও মানষিক । আর সে হামলায় মদদ দিয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্র নানা ভাবে । তার উপর বক্তব্যের সময় উচ্চ গলায় রাষ্ট্রের হর্তাকর্তারা বাঙলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ দাবি করেন । এই যে একের পর এক মুক্তচিন্তার লেখকের উপর ধর্মবাদী বিশেষ করে ইসলামীদের চাপাতি আক্রমন , উস্কানি আখ্যা দিয়ে বই নিষিদ্ধ , বইমেলা থেকে মুক্তচিন্তার বই প্রকাশনীর স্টল বন্ধ করা এরপর যখন রাষ্ট্রের হর্তাকর্তা বলেন দেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার তখন প্রশ্ন নিয়ে দ্বিধা হতেই পারে ,
‘কোন পথে হাটছে বাঙলাদেশ ? মৌলবাদের পথে নাকি অসাম্প্রদায়িকতার পথে’ ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *