শহিদ মিনারে ফুল দেয়া হারাম কেন ?

ফেসবুকের পাতায় একটা স্ক্রিনশট দেখলাম যেটা অনেকেই শেয়ার করেছেন। সে স্ক্রিনশট নিয়ে দুই এক কথা বলার প্রয়োজন বোধ করছি।
সেখানে বলা হয়েছে

“ধর্ম কে প্রত্যাখান করেছি বহু আগেই, স্রষ্টা বলে কোন কিছুতে বিশ্বাস নেই। শহীদ মিনার বলে ইট পাথরের একটা যায়গার পবিত্রতা আবার কি ? শুধু জুতা পড়ে নয়, সুযোগ থাকলে শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে পেশাব করতাম। দেশ প্রেমিক- ভাষা প্রেমিক- গাঞ্জা প্রেমিক শালারা পারলে ঠেকা”।

প্রথমত বলতে হচ্ছে, উক্ত পোষ্ট দাতা আসলেই নাস্তিক কিনা তার বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে।

ফেসবুকের পাতায় একটা স্ক্রিনশট দেখলাম যেটা অনেকেই শেয়ার করেছেন। সে স্ক্রিনশট নিয়ে দুই এক কথা বলার প্রয়োজন বোধ করছি।
সেখানে বলা হয়েছে

“ধর্ম কে প্রত্যাখান করেছি বহু আগেই, স্রষ্টা বলে কোন কিছুতে বিশ্বাস নেই। শহীদ মিনার বলে ইট পাথরের একটা যায়গার পবিত্রতা আবার কি ? শুধু জুতা পড়ে নয়, সুযোগ থাকলে শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে পেশাব করতাম। দেশ প্রেমিক- ভাষা প্রেমিক- গাঞ্জা প্রেমিক শালারা পারলে ঠেকা”।

প্রথমত বলতে হচ্ছে, উক্ত পোষ্ট দাতা আসলেই নাস্তিক কিনা তার বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ; মসজিদ, মন্দির এ কোন নাস্তিক ব্যক্তি কখনো জুতা পায়ে দিয়ে প্রবেশ আমার জানা নেই। এটা একটা উদাহরন মাত্র । যদিও নাস্তিকের কাছে এসব প্রতিষ্ঠানের কোন মুল্য নেই। তাই বলে এমন কোন কর্মকান্ড করে সমাজে মারামারি – অরাজকতাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করবেন না কেউই এ কথা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।
এও কখনো শোনা যায় না কোন নাস্তিক কর্তৃক ধর্মীয় উপাসনালয় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ।
শহীদ মিনার, মসজিদ কিংবা মন্দির এসবই হচ্ছে জাতীয়তাবাদী সিম্বল। ইছলামী রীতিনীতি র সঙ্গে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ কখনই যায় না। বাংলাদেশের জন্মই হয়েছে ধর্মীয় বড় দাদা পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্নের মাধ্যমে যার খেসারত দিয়েছে এ দেশের ৩০ লাখ মানুষ। আমার ব্যক্তিগত ধারনা এ সংখ্যাটা আরও বেশি।। সংখ্যা নিয়ে দেখেছি কিছু লোক নানা ধরনের প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে যাদের উদ্দেশ্য ছিলো এ দেশ থেকে বাঙলা র নিজস্ব জাতিসত্তাকে উহ্য রেখে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ কে সামনে নিয়ে আসা। যা থেকে বোঝা যায় এটা সেই পাকিস্তানী বড় দাদাদেরই কর্মকান্ডের অংশ। মুখে বাঙলা কথা বললেই বাঙ্গালী নন যে কেউ। বাংলায় কথা বলতো- বলে – বলছে এদেশের রাজাকার-আল বদর ও তাদের রাজনৈতিক নিশানা জামায়তে ইছলামের নেতারা। তারাই শহিদ মিনারে ফুল দেয়া হারাম কিংবা জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু নয় ইব্রাহীম প্রচার করেছিলো। আর এ দেশের ধর্মপ্রান মুছুল্লি গন (মানুষ বলা যায় কিনা সে দায় আপনাদের উপরে রইলো।) শুধুমাত্র ধর্মের জন্যই এসবকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছে। আমি হলফ করে বলতে পারি , শহীদ মিনারে কোন মুছলিম যান না। যারা যায় তারা হয় বাঙলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানে নয়তো কোন শহিদ পরিবারের সদস্য। এ যায়গাটা একটা বাংলাদেশীর বড় আবেগের যায়গা। এ যায়গাটা ত্যাগের যায়গা। এখানে বাঙালির রক্তের দাগ লেগে আছে এখনো……।

যারা নাস্তিকতার চর্চা করেন তারা দেশের ধর্মপ্রান মুছুল্লিদের ব্যাপার বেশ ভালই অবগত আছে বোধকরি । তাদের আচরন সহ প্রায় সব ব্যাপারেই কমবেশি ওয়াকিবহাল।
যে ছেলেটি নিজেকে নাস্তিক বলে প্রচার করে এমন ঘৃনা বাক্য ছড়িয়েছে তার মুলত নৈতিকতার জ্ঞান টুকুই নেই। শহীদ মিনারে ফুল দেয়াটাকে ইছলাম হারাম করে দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার স্বাদ পাবার সাথে সাথেই । এখানে বলতে হচ্ছে ফুল মুলত ভালোবাসার প্রতীক। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা জ্ঞাপন করা হয়। আজকে যে ছেলে শহীদ মিনারে ফুল দেয়া হারাম বলে চেঁচাচ্ছে সে ছেলেই তার বোরখা পরিহিতা প্রেমিকাকে ফুল দিয়ে প্রেম নিবেদন করবে। তখন সে ছেলের হারাম হালাল ভাবনাটা কই থাকে আমার জানতে ইচ্ছে হচ্ছে। শহিদ বেদিতে ফুল দেয়া হারাম কিন্তু আকৃতিতে মানুষ অথচো আচরন ও কর্মকান্ডে হিংস্র পশুর ন্যায় গু আযম কিংবা কাদের মোল্লার কবরে ফুল দেয়াকে সর্বোচ্চ সম্মান জনক কাজ করে মনে করে থাকেন এ দেশের ধর্মপ্রান মুছুল্লিরা।

এখানে যদি দেশ- বর্ডার কনসেপ্টকে বাদও দেই , তবুও বলা যায় শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধারা পৃথিবীর ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তারা শ্রেষ্ঠ মানুষ। অভিজিৎ রায় কিংবা ওয়াশিকুর প্রান দিয়েছেন কারন তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলেছেন, মানুষকে জিম্মি অবস্থা থেকে মুক্ত করার জন্য লেখনীর মাধ্যমে কাজ করেছেন। ঠিক তেমনি ভাবেই দেশের সুর্য সন্তান রা একটা অনিয়ম, অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছেন। পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিলো – অস্ত্র তুলে নিয়েছেন। আরে বলদের!! দল তখন তো অস্ত্রও ছিলোনা। ছিলো একটা মনোবল। যার টার্গেট ছিলো একটা জাতীকে অন্যায়-অবিচারের হাত থেকে রেহাই দেয়া । যা মানবিকতার উৎকৃষ্ট নিদর্শন ইতিহাসের। আর এমন মহতীদের শ্রদ্ধা জানানোকেই মুছুল্লিরা হারাম মনে করে থাকেন। আজকে যে ছেলেটি শহীদ মিনারে পেশাব করতে ইচ্ছা পোষন করেছে সে ছেলেটিও বাংলায় কথা বলছে-লিখছে।
নাস্তিকেরা ধর্মের সমালোচনা করেন । কথিত সর্বকালের মহা মানবদের কর্মকান্ডকে যাচাই করেন বিশ্লেষণ করেন বর্তমান প্রেক্ষাপটের নিরিখে। তৎকালীনে একজন লোকের কর্মকান্ডকে যদি আমি বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে দেখি ,বুঝি তাহলে মুছুল্লিদের সমস্যা টা কোথায়? যিনি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বলে জেনে আসছি তাকে বর্তমানের সময়োপযোগী দৃষ্টিতে দেখলে নিকৃষ্ট মনে হয় । এ দায় কি নাস্তিকের নাকি যিনি সর্বকালের মহা মানব তার? কথিত মহামানবের মানুষ হত্যা, গন ধর্ষন করা , লুটপাট ইত্যাদি অমানবিক কাজের যে কারনে সমালোচনা করা যায় ঠিক সেই একই কারনে বাঙলার শহীদদেরকে মাথা নত করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা যায়। এটাই একজন বাংলাদেশি হিসেবে কর্তব্য।
ধর রে – মার রে- খাঁ রে । এসব তো মুছুল্লিদের প্রিয় কাজ যা তাদের ধর্মেই নির্দেশিত রয়েছে।
যেখানেই অন্যায় অবিচার , অনিয়ম-অত্যাচার সেখানেই সরব-প্রতিবাদি মনোভাব থাকাটাই মানবিক গুনাবলি। যদি সে ধর্মের নামে হয় তবে ধর্মকেও ছাড় দিতে নয়।
পাকিস্তানি জানোয়ার রা মুছলিম এবং যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের উদ্দেশ্য ছিলো অন্য ধর্মের নারীর গর্ভে মুছিলিম আদম পয়দা করা। যেটার মুল কথাও ঐ একই ধর্ম প্রচার ।
অন্য ধর্মের মানুষের অধিকার খর্ব করে অত্যাচার করে ধর্ম প্রচার কারীর বিরুদ্ধে যারা দাড়িয়েছেন তাদের কে সম্মান জানাতে মুছুল্লির তো বাধবেই! কিন্তু শহীদ দের বাধেনি একেবারে গুলি বসিয়েছিলেন বুকে সে সকল জানোয়ারদের।
ইছলামী প্রথার “ইবাদত – খেলাফতের ” হিসেব এখানে । একজন মুছুল্লির ইবাদত যখন খেলাফতের দিকে ধাবিত হয় ঠিক সে সময়ই শহীদ মিনার কে তার শত্রু ভাবা শুরু করে । পেশাব করতে চায়। ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে চায়। কেননা বাঙলার বুকে ইছলামের এটাও একটা শত্রু যে কিনা মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে। কোটি মানুষের শ্রদ্ধা আর সম্মানে ভূষিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। শহীদ মিনার সাক্ষাৎ আল্যার দুশমন।
উক্ত ছেলের পরিচয় , উদ্দেশ্য কি তা ইশারায় কাফী,
আল্যাহ সাফী, মাফি, এইডা , উইডা ব্যাবাক, সব।

১ thought on “শহিদ মিনারে ফুল দেয়া হারাম কেন ?

  1. শহিদ মিনার ত্যগের জায়গা? তা
    শহিদ মিনার ত্যগের জায়গা? তা উনিতো ত্যাগই করতে চাইছে আপনার সমস্যা কি ? সিরিয়াতে ৫ বছর যাবত গৃহযুদ্দ হচ্ছে আধুনিক সব অস্রদিয়ে তারপরও মরছে মাত্র ৪.৫ লক্ষ। আর সেই মানদাতার আমলে দের হাজার কি:মি: দুর থেকে এসে মাত্র ৯ মাসে ৩০ লক্ষ মাইরা ফেল্ল ? গাঞ্জা-প্রেমিক মনে হচ্ছে !!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *