২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩: ক্ষমতা-পাগল মুমিনদের বিক্ষোভে ফেটে পড়ার দিন


জুম্মা নামাজের পর বায়তুল মোকারমের হামলার ছবি

আজ মহান ২২শে ফেব্রুয়ারি। ২০১৩ সালের এই দিনে নাস্তিকদের মৃত্যুদণ্ডের দাবীতে বাংলাস্তানের মুসলিম সৈনিকেরা ইসলামী ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে ঢাকায় বায়তুল মোকাররমে, সারাদেশের বেশকিছু গণজাগরণ মঞ্চ ও কয়েকটি শহিদ মিনারের উপর হামলা করেছিল। কোথাও কোথাও পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে মিছিল হয়েছিল। ভাংচুরের সময় কোথাও কোথাও নাস্তিক পুলিশ বাহিনী উন্মত্ত তৌহিদী জনতাকে রুখে দিলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নীরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল।



জুম্মা নামাজের পর বায়তুল মোকারমের হামলার ছবি

আজ মহান ২২শে ফেব্রুয়ারি। ২০১৩ সালের এই দিনে নাস্তিকদের মৃত্যুদণ্ডের দাবীতে বাংলাস্তানের মুসলিম সৈনিকেরা ইসলামী ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে ঢাকায় বায়তুল মোকাররমে, সারাদেশের বেশকিছু গণজাগরণ মঞ্চ ও কয়েকটি শহিদ মিনারের উপর হামলা করেছিল। কোথাও কোথাও পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে মিছিল হয়েছিল। ভাংচুরের সময় কোথাও কোথাও নাস্তিক পুলিশ বাহিনী উন্মত্ত তৌহিদী জনতাকে রুখে দিলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নীরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল।

এই শোডাউনের মূলে ছিল জামায়াতে ইসলামীর বিএনপি শাখার উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান, যে কিনা একটা টয়লেট পেপার পত্রিকা আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে বছরের পর বছর জামায়াত ও জঙ্গিদের ভরণ-পোষণ করেছে। ২০১৩ সাল থেকে তাকে কারাবন্দী থাকতে হচ্ছে বিধায় এই সেদিনও ভাড়ায় খাটা আমেরিকার মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে গড়ে উঠা শাহবাগ আন্দোলনের শুরু থেকেই এই পত্রিকা সেখানে ফ্যাসিবাদের গন্ধ পায় এবং আবিষ্কার করে যে সেখানে নাস্তিকেরা ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড করছে। আমার দেশ ও ইনকিলাব উভয়েই নাস্তিক রাজীবের (থাবা বাবা) খুনকে জায়েজ করার জন্য ভুয়া সাইটে ছাপা হওয়া কিছু ব্লগ পোস্ট ছেপে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

তারই ফলশ্রুতিতে ২২শে ফেব্রুয়ারির বিক্ষোভ। শান্তির ধর্মের রাজনৈতিক শাখার অনুসারীরা আবার শান্তিপূর্ণ কিছু করতে পারে না। তাই তারা লাঠি-রড-পেট্রোল বোমা-গান পাউডার নিয়ে পথে পথে সহিংসতা করে দিনভর।

সেই সহিংসতার পর থেকেই বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক দল ও গোষ্ঠী বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে। মার্চের শুরুতেই সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব নেয় জঙ্গিবাদের উস্কানীদাতা হাঠহাজারী মাদ্রাসার প্রধান আল্লামা শফি, যে কিনা কট্টরপন্থী জঙ্গি নেতা ফজলুল হক আমিনীর গুরু। শাহবাগের আন্দোলনের বিরোধিতা করা ছাড়াও নারীনীতি ও শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আমিনীর আন্দোলন ধরে রাখতে ইসলামী ঐক্যজোট বা হেফাজতকে রাস্তায় নামতেই হতো। উল্লেখ্য যে, চুতিয়া সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানের সাথে জঙ্গি উৎপাদনকারী হাঠহাজারী মাদ্রাসার ধরম-মহরম ছিল।

এইসব দল ও গোষ্ঠী মনে করে জামায়াতের বিরোধিতা করা মানেই ইসলামের বিরোধিতা করা। জামায়াতের নবী তুল্য নেতাদের বিচার চাওয়া মানে রসুলকে অসম্মান করা। একাত্তরে আল্লাহর ঘর পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার্থে হানাদার বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে ভারতের দালালদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাটাই ছিল ইসলাম রক্ষার জন্য জিহাদ।


সিলেটে শহিদ মিনারে হামলার ছবি

৩ thoughts on “২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩: ক্ষমতা-পাগল মুমিনদের বিক্ষোভে ফেটে পড়ার দিন

  1. সাংবাদিককে ধন্যবাদ। এসব নিউজ
    সাংবাদিককে ধন্যবাদ। এসব নিউজ দলিল হয়ে থাকল। মানুষ তো কতো কিছুই ভুলে যায়। এসব বদমাইশিও কেউ মনে রাখে না। তবে ব্লগ হিসেবে হাজির করায় অনেকেই ভবিষ্যতে তাদের লেখা-লেখিতে কাজে লাগাতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *