সব প্রচলিত ভাষা হোক মাতৃভাষা। শিশু পাক নিজ ভাষায় শিক্ষার অধিকার।

নেপাল ছোট্ট একটি দেশ। আমাদেরই প্রতিবেশী। এভারেস্টের কল্যাণে আমাদের অতি পরিচিত। দেশটির রাজতন্ত্র পতনের পর গণতন্ত্রের উত্তরণ হলেও রাজনীতির নানান সমস্যার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত করছে। তথাপি, এতোসব ভিড়ে কিছুদিন আগে ( ২০শে সেপ্টম্বর ২০১৫) সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে দেশটি চমৎকার একটি সংবিধান প্রণয়ন করেছে।


নেপাল ছোট্ট একটি দেশ। আমাদেরই প্রতিবেশী। এভারেস্টের কল্যাণে আমাদের অতি পরিচিত। দেশটির রাজতন্ত্র পতনের পর গণতন্ত্রের উত্তরণ হলেও রাজনীতির নানান সমস্যার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত করছে। তথাপি, এতোসব ভিড়ে কিছুদিন আগে ( ২০শে সেপ্টম্বর ২০১৫) সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে দেশটি চমৎকার একটি সংবিধান প্রণয়ন করেছে।

দেশটির সংবিধানের মাধ্যমে সমকামী, উভকামী, তৃতীয় লিঙ্গের সুরক্ষা দিয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষে রাষ্ট্র তো বটেই। যদিও এর আগেই ধর্মনিরপেক্ষ ছিল এবং তা করেছে হিন্দুরাষ্ট্র থেকে। নেপালের মতো দেশ সামনে এগিয়ে যায়, আর বাংলাদেশের মতো দেশ মধ্যযুগের দিকে ধাবিত হয়। বটে। তবে সংবিধানে সবচেয়ে চমৎকার আইনটি হচ্ছে, দেশে উচ্চারিত সকল মাতৃভাষাকে জাতীয় ভাষা হিশাবে স্বীকৃতি দান। যদিও অফিসিয়াল ভাষা নেপালি।

এখানে লক্ষণীয় কিছু বিষয় রয়েছে। দেশে প্রচলিত সকল ভাষাকে মাতৃভাষা হিশাবে সম্বোধন এবং জাতীয় ভাষা হিশাবে স্বীকৃতি। নেপাল ভাষার জন্য রক্ত দেই নি, নামে নি রাজপথে, তবুও সে দেশে প্রচলিত সকল ভাষাকে মাতৃভাষা বলার সাহস দেখিয়ে সম্মান জানিয়েছে। শুধু তাই নি, সকল ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিশাবেও স্বীকৃতি দিয়ে নিজের উদারতা প্রকাশ ঘটিয়েছে।

আর আমাদের বাংলাদেশই সারা বিশ্বের একমাত্র দেশ যে কিনা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে। ৪৮ থেকে ৫২ পর্যন্ত ভাষার ইতিহাস পড়লে, তাঁদের সংগ্রাম আর আন্দোলনের জন্য মাথা নত হয়। পাকিস্তানীদের বাঙালিদের প্রতি কি ঘৃণায় না ছিল। কিন্তু আজ এতোদিন পর সে হিসাব মিলাতে গেলে, আমার হিসাব মিলে না। মিলে না কেনো বলছি।

সংবিধানপ্রণেতারা ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে সংবিধানে বাঙলা কে রাষ্ট্র ভাষা দিতেই পারে। কিন্তু মাতৃভাষা হিশাবে দিলে নিজেদেরই কি তাঁরা অসম্মানিত করছে না? কারণটা এই যে জাতি ভাষার জন্য প্রাণ দিলো, এবং যে রাষ্ট্রে শুধু বাঙলা নয়, অনেক ভাষা প্রচলিত রয়েছে সে রাষ্ট্রে শুধু বাঙলা কে মাতৃভাষা হিশাবে ঘোষণা করলে দেশে প্রচলিত অন্যান্যা ভাষাকে কি অসম্মানিত করছে না? এমনকি নিজেদেরই?

আদিবাসী শিশুদের ইস্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার অত্যাধিক। মূল কারণ ভাষাগত সমস্যা। একটা শিশু যেখানে নিজের ভাষায় ভালোভাবে রপ্ত করতে পারে না, সেখানে তাকে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা পাবার জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটা ভাষা শিখতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়। ফলস্বরূপ সে আর টিকতে পারে না। রাষ্ট্র যদি আদিবাসীদের নিজ ভাষায় শিক্ষার সুযোগ দেই, তাহলে সে কি অসম্মানিত হবে? সে কি পারে না দায়িত্ব নিতে?

ভাষা হোক উন্মুক্ত। সব প্রচলিত ভাষা হোক মাতৃভাষা। শিশু পাক নিজ ভাষার শিক্ষার অধিকার।

১ thought on “সব প্রচলিত ভাষা হোক মাতৃভাষা। শিশু পাক নিজ ভাষায় শিক্ষার অধিকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *