রংপুরী/রাজবংশী/কামতাপুরী/কামরুপী ভাষা কি বাঙলা ভাষার ‘উপভাষা’/’অপভ্রংশ’/’আঞ্চলিক রুপ’?

‘টালত ঘর মোর নাহি পরবেসী
হাড়িত ভাত নাই, নিতি আবেশী’


‘টালত ঘর মোর নাহি পরবেসী
হাড়িত ভাত নাই, নিতি আবেশী’

পদটি ঢেণ্ঢনের লেখা। চর্যাপদের ৩৩ তম পদ। এই পদটি নিখাদ রংপুরের ভাষায় লেখা পদ। এইটা প্রমাণ করার জন্যে বিরাট বিরাট গবেষণা করে প্রমাণ করানোর কোনও দরকার নাই, কেননা আজ ১০০০ বছর পরেও আমরা হুবহু একই ভাষায় কথা বলছি। এইখানে কোনও চাঁচাছোলা করে, গায়ের জোরে দাবী করার কোনও বিষয় নাই। রাজবংশী ভাষায় যারা কথা বলি আমরা, আমাদের ভাষার শব্দ, বিভক্তি, ধ্বনি, বাক্যের গঠনে আমরা অন্তত নিরানব্বই ভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারবো এই পদটি আমাদের ভাষার!আজকে আমরা যেই রাজবংশী ভাষায় কথা বলি, সেই ভাষার। বিস্ময়কর ভাবে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে- আজ এতগুলো বছরেও এতটুকু পরিবর্তন আমাদের ভাষার হয়নি! অর্থাৎ, বিকশিত অবস্থায় আমরা যেই ভাষাকে আজকের দিনে মায়ের মুখে শোভা বাড়াতে দেখছি- সেই ভাষাটি চর্যাপদের রচনাকালের আগেই পরিপক্কতা লাভ করে আজকের রুপ লাভ করেছিলো। যেখানে বাঙলা ভাষার ক্ষেত্রে এধরণের দাবী কেউ করতে পারবেনা শতভাগ নিরঙ্কুশতা নিয়ে।

সুনীতিকুমার চ্যাটার্জির গবেষণা সব সময়ই বায়াসড এবং পশ্চিমবঙ্গের, বিশেষত কলকাতার বুদ্ধিজীবিদের বিচার-বিশ্লেষণে সবসমই ব্রাহ্মণ্যবাদী ‘বঙ্গবাদ’ এর প্রবণতা আমরা দেখি। সেই ভদ্রলোকও পর্যন্ত চর্যাগান ও দোহাগুলির ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিশ্লেষণ করে শুধুমাত্র এইগুলিকেই প্রাচীন বাংলার নিদর্শন হিসাবে গ্রহণ করেছেন।অর্থাৎ, বাঙলা ভাষার আদি নিদর্শন বলে যদি কিছু থাকে, সেটা চর্যাপদই হবে- সিদ্ধান্তটি এমনই! তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না যে চর্যাপদ আসলে বাঙলা ভাষারই আদি নিদর্শন। বরং ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলছেন- বাঙলার আদিম নিদর্শন হিসেবে কেবল মাত্র চর্যাগীতিগুলিকেই গ্রহণ করা যায়। এভাবে বললে বিতর্কে সাময়িকভাবে সমালোচনাকে বাঙ্ক মারা যায়।কাজটা একটু বাজে রকমের ধূর্ততা।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে- চর্যাগীতির পদগুলির ভাষাতত্ত্ব মোটেও নিরঙ্কুশভাবে তাকে বাঙলার মালিকানায় ছাড়তে অনুমতি দেয় না। বরং অনেক বিতর্কের জায়গা ফাঁকা রেখে, জোড়াতালি দিয়ে দাবী করা যায়- চর্যাগীতির পদগুলি প্রাচীন বাঙলা ভাষার। এইখানে একটা গোলমাল অনেকেই করছেন- সেটা সুনীতিকুমার চ্যাটার্জি,মহামোহপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ,ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, বসন্তরঞ্জন, রাহুল সাংকৃত্যায়ন- কেউই বাদ রাখেন নাই করতে। সেটা হইলো- এরা সবাই পুরা চর্যাপদকে বাগিয়ে নিয়ে নিজ নিজ ভাষার সম্পদ ভাবতে চেয়েছেন। মহামোহপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবার এক্ষেত্রে আরও এক কাঠি সরেস! তিনি দাবী করেছেন- ‘চর্যাপদের ভাষা আসলে ‘সন্ধ্যা ভাষা’ ! ভাষা খুব দুর্বোধ্য হওয়ায় এবং সহজিয়া বজ্রযানী পদগুলিতে এই সন্ধ্যাভাষা শব্দটির ব্যাপক প্রয়োগ দেখে উনি এই দাবী করে বসেছেন!উনার ভাষায়- ‘সহজিয়া ধর্মের সকল বই-ই সন্ধ্যা ভাষায় লেখা। সন্ধ্যা ভাষার মানে আলো-আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিকটা বুঝা যায় না। অর্থাৎ, এই সকল উঁচু অঙ্গের ধর্মকথার ভিতরে একটা অন্য ভাবের কথাও আছে। সেটা খুলিয়া ব্যাখ্যা করিবার নয়। যাঁহারা সাধনভজন করেন তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।’

কী সাংঘাতিক! সন্ধ্যাভাষা একধরণের সাহিত্যিক রীতি।একধরণের লিটারারি এনক্রিপশন। আবছা আলো, আবছা আঁধার রেখে পাঠক-শ্রোতার জন্যে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার জায়গা রাখতে এই ধরণের ভাষারীতির প্রয়োগ দেখা যায় সহজিয়া সাহিত্যে। যেমন ধরেন ফ্রানৎস কাফকার সুররিয়াল রীতির সাহিত্য। এখন কি আমরা বলবো সুররিয়েল একটি ভাষার নাম? কাফকা এই ভাষায় কথা কইতেন? কী তামাশা! ভাষা এক জিনিস, সাহিত্যের রীতি আরেক জিনিস। এই দুইটাকে গুলিয়ে শাস্ত্রীমহাশয় এক আশ্চর্য গোলা আবিস্কার করে ফেলেছেন। এর ফলে অঘটনটি যা ঘটেছে, তা হলো- এই ‘সন্ধ্যাভাষা’ টিকেই ওপরে উল্লেখিত সকলেই নিজেদের ভাষার পূর্বপুরুষ দাবী করে বসছেন! আদতে সান্ধ্যভাষা বলে লিখিত, কথিত, চলিত কোনও ভাষাই ছিলো না, ভাষা বলতে আমরা যেই অর্থে বুঝি- সেই অর্থে।

চর্যাপদ সংক্রান্ত গবেষণা তাই একধরণের জটের মধ্যে পড়ে গেছে। অবশ্য এই ধরণের সর্বভূক প্রবণতা বাঙলা ভাষার সকল গবেষকের মধ্যেই আমরা দেখি। তাঁরা মামাবাড়ির আবদার করে বসেন- এ অঞ্চলের সকলই বঙ্গের! ধরেন রাঢ়, বরেন্দ্র, কামরুপ, বঙ্গ- ‘বাঙলা ভাষা’র এই চার ‘অপভ্রংশ’র মধ্যে রাঢ়, বরেন্দ্র আর কামরুপ এই তিনের মধ্যে অনেক মিলের জায়গা থাকলেও বঙ্গ ‘অপভ্রংশ’র মধ্যে সেই মিল অনুপস্থিত! তার পরেও এরা বাঙলারই অপভ্রংশ! কী সাংঘাতিক! বাঙলা ভাষারই এরা সবাই ‘অপভ্রংশ’ , অথচ বঙ্গের সাথে এদের মিল নাই! বাকি তিন ‘অপভ্রংশ’র নিজেদের মধ্যে মিল আছে, আবার এরা বাঙলার অপভ্রংশ! বঙ্গের ভাষার সঙ্গে মিল নাই, অথচ এরাই বঙ্গের অপভ্রংশ, বঙ্গ এদের কারোর নয়! বিষয়টা খোলাসা করি- ধরেন চারজন মানুষের মধ্যে তিনজন একজোট, একজন একা। এখন ঐ একজন দাবী করে বসল- তোমরা তিনজনই আমার সম্পত্তি! ইচ্ছে হলো একধরণের মগের মুলুক!

এই সর্বভূক প্রবণতার ফলে, এখানকার চর্যাপদের পদগুলি যে একাধিক ভাষার পদের সংগ্রহ ছিলো- সেটি তারা বারবার উপেক্ষা করে গিয়ে পুরো চর্যাপদের সবকয়টি পদকেই এককভাবে এক ভাষার সম্পদ বলে দাবী করেছেন! আবার, অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন- “চর্যার আচার্যেরা কামরূপ, সোমপুরী, বিক্রমপুর – যেখান থেকেই আসুন না কেন, আশ্চর্যের বিষয়, এঁরা সকলেই রাঢ় অঞ্চলের ভাষানীতি গ্রহণ করেছিলেন!”

– খেয়াল করবেন, রাঢ়ের ভাষারীতি গ্রহণ করার অর্থ কিন্তু কাছাকাছি থাকা বরেন্দ্র এনং কামরুপীর সাথেই সুসম্পর্কিত থাকার কথা, এই তিনের থেকে আলাদা ‘বঙ্গে’র সাথে নয়, আদতে নেইও।

এইক্ষেত্রে আহমদ শরীফ খুবই যুক্তিপূর্ণভাবে দেখিয়েছেন- চর্যাপদ আদতে একটা সংগ্রহ। তাঁর মতানুসারে, শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর নেপাল রাজদরবারে আমন্ত্রিত হলে এ অঞ্চলে প্রচলিত সহজিয়া পদগুলিকে সংগ্রহ করে ও লিপিবদ্ধ করে নিয়ে যান নেপালে। অর্থাৎ- এইখানে সংগ্রহের প্রশ্ন যখন আসছে- তখন বিভিন্ন অঞ্চলের, বিভিন্ন ভাষার পদ আসাটাই স্বাভাবিক। হয়েছেও আদতে তাই। কেউ যদি মুক্ত মস্তিষ্কে চর্যাপদের পদগুলি নিরীক্ষা করেন- তাহলে দেখবেন এর পদগুলির ভাষায় ভিন্নতা রয়েছে। সবগুলি পদ একই ভাষায় রচিত নয়। যেমন এই ৩৩ নম্বর পদটি অন্য সবগুলি পদ হতে আলাদা ভাষায় লেখা। এইটা নিরঙ্কুশভাবে রাজবংশী ভাষার পদ। কেউ চ্যালেঞ্জ করলে আসতে পারেন,ধ্বনি, শব্দ, বাক্য, অর্থ- সবকয়টি উপাদান দিয়ে আমি প্রমাণ করে দিবো এটি রাজবংশি ভাষার পদ। কিন্তু বাকি যেই পদগুলি আছে, সেগুলির কোনওটিতেই (যদি আমার স্মৃতি প্রতারণা না করে থাকে, সেক্ষেত্রে সিংহভাগ পদেই) বাঙলা ভাষা নিরঙ্কুশ উত্তরাধিকার দাবী করতে পারে না। ভাষার বিবর্তনীয় ব্যাখার সুবাদে বড়জোর বলতে পারে- আজকের বাঙলা ভাষা সেই চর্যাগীতির ভাষারই বিবর্তিত রুপ । সেটা হইলে কে কার উপভাষা? এই প্রশ্নের জবাব চাই।

সেক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি- বাঙলা ভাষা রাজবংশী ভাষার সমসাময়িক একটি ভাষার পরের প্রজন্ম। রাজবংশীর বিকশিত রুপ যখন প্রচলিত- তখন তার প্রতিবেশী আরেকটি ভাষা পরবর্তীতে বিকশিত, বিবর্তিত হতে হতে আজকের বাঙলা ভাষার রুপ নিয়েছে। সেটি যদি হয়, সেই বিচারেও রংপুরী তথা রাজবংশী তথা কামতাপুরী তথা কামরুপী ভাষা বাঙলা ভাষার কোনও রুপ, উপভাষা, অপভ্রংশ- কিছুই নয়। বরং রংপুরের ভাষার বয়সের তুলনায় বাঙলা ভাষা দুধের শিশু। এর পরেও যদি কেউ দাবী করে রংপুরের ভাষা বাঙলা ভাষারই ‘উপভাষা’ , ‘আঞ্চলিক ভাষা’ ইত্যাদি ইত্যাদি- তাহলে তাকে লালন শোনাতে হয়- ‘ঝিঁয়ের পেটে মায়ের জন্ম, আমরা তার বুঝি বা কী?’

ভারতের উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ডক্টর হরিপদ চক্রবর্তী ‘বড়োদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি’ বইয়ে দেখিয়েছেন, রাজবংশী ভাষায় বাঙলা ও অসমী’র প্রাধান্য থাকলেও, এই ভাষায় অনেকাংশে তিব্বতী-বর্মন গোত্রের অন্তর্গত আদি বড়োভাষার (বড়ুয়া ভাষার) অনেক শব্দ বর্তমান থাকায় রাজবংশী ভাষাকে বাঙলা বা অসমীয়া- কোনও ভাষারই উপভাষা বা শাখাভাষা হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা ঠিক নয়।

তার ওপর, ডক্টর চক্রবর্তীর বক্তব্যের সুরে যা বোঝা যায়- সেটি হলো- শব্দ দিয়েই ভাষাকে আলাদা করা যায়। আদতে শব্দের সাথে ধ্বনি, বাক্যের গঠনরীতি, অর্থ- এই সব বিষয়ই সমান জরুরী, ভাষাকে আলাদা করার ব্যাপারে, সনাক্ত করার ব্যাপারে। । এইসব বিচার করলে নিশ্চিতভাবেই রংপুরের ভাষা বাঙলা ভাষা থেকে আলাদা। তার ওপর, আমরা দেখেছি, বাঙলার উপভাষা হবার কোনও কারণই নাই রংপুরের ভাষার, কেননা বাঙলা যখন অঙ্কুরিত ও হয়নাই, তখনও রাজবংশী ভাষা ছিলো বহাল তবিয়তে, বলিষ্ঠ, পূর্ণযৌবনা, বিকশিত রুপে। একই কথা অসমীয়ার ক্ষেত্রে আলাদাভাবে প্রমাণ করার কিছু নেই।

সুতরাং, আমরা সুস্পষ্টভাবে দেখতে পাই-রংপুরের ভাষা বা রাজবংশী ভাষা কোনও দিক থেকেই বাঙলা ভাষার উপভাষা, আঞ্চলিক ভাষা কিংবা অপভ্রংশ নয়, বরং বাঙলা থেকে সম্পুর্ণ স্বতন্ত্র, বলিষ্ঠ এবং প্রাচীন একটি ভাষা।

২ thoughts on “রংপুরী/রাজবংশী/কামতাপুরী/কামরুপী ভাষা কি বাঙলা ভাষার ‘উপভাষা’/’অপভ্রংশ’/’আঞ্চলিক রুপ’?

  1. আপনি এই বিষয় টা স্পষ্ট করেলে
    আপনি এই বিষয় টা স্পষ্ট করেলে আরো হয়ত ভাল হত যে, রংপুরী ভাষার অপভ্রুংশ বাংলা, যদিও এটি পরিপুর্ন ভাবে বলা ঠিক হবে না, এখানে রংপুরির পাসাপাসি আরো কিছু ভাষার প্রভাব আছে। তবুও এটাই সত্যি যে রংপুরি/কামতাপুরী/কোচ ভাষাটির একটা উপভাষা হল বাংলা।

  2. রংপুরী ভাষার অপভ্রংশ বাঙলা-
    রংপুরী ভাষার অপভ্রংশ বাঙলা- এইটার কোনও সুনিশ্চিত প্রমাণ নাই। বাঙলার ওপর সংস্কৃতের প্রভাব দেখে আপনি একে সংস্কৃতের অপভ্রংশ বলতে পারেন- কিন্তু সত্যিটা হচ্ছে বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ প্রচণ্ডরকমের সমন্বয়বাদী, ফলে ভাষার বিষয়টিও হয়েছে তাই। সমন্বয় করতে করতে একটা অবস্থা তারা নিজেরাই মিলে দাঁড় করিয়ে ফেলেছে। বাঙলাকে রংপুরী ভাষার উপভাষা বলার চাইতে বরেন্দ্রী-রাঢ়ীর উপভাষা বলাটা আরও সহজ। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বাঙলা বরেন্দ্রী, রাঢ়ী, রাজবংশী- এদের থেকে তো নিয়েছেই, পাশাপাশী সংস্কৃত থেকে নিয়েছে, আরবী, ফারসী থেকে নিয়েছে, গ্রীক, তুর্কি থেকে নিয়েছে! নেয়ার শেষ নাই। একেবারে খাঁটি বাঙলা শব্দ যদি আপনি খুজেন, দেখবেন খুবই কম এবং এগুলি কোল, মুণ্ডারি প্রভৃতি ভাষার শব্দ। যার ফলে, সুস্পষ্টভাবে বলা কঠিন, বাঙলা কার উপভাষা, কার অপভ্রংশ। এখন ভাষার বিশ্লেষণে এরকম অপভ্রংশ/উপভাষা/আঞ্চলিক ভাষা কথাটার মধ্যেই একধরণের কলোনিয়াল রাজনীতি কাজ করে, ভাষাগুলিকে গ্রাস করার একটা হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। ফলে, এটি বর্জন করাটাই শ্রেয়। আপনি আমার লেখা থেকে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন, এই শব্দগুলোকে আমি কোট করে ব্যবহার করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *