ভারতের গণতন্ত্র আরও কিছু কথা….

আফজাল গুরুর ফাসি নিয়ে ভারতের ছাত্র আন্দোলন তুঙ্গে।জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্র সংগঠনের শিক্ষার্তীরা আফজাল গুরুর ফাসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী আন্দোলন করায় ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সহসভাপতিকে দেশদ্রোহের অজুহাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।এ নিয়ে ভারতের রাজনীতি এখন অন্যতম আলোচনার বিষয়।ভারতের বাম ছাত্র সংগঠন গুলোর কর্মীরা তাদের নেতাকে মুক্তির দাবিতে বিক্ষুদ্ধ।প্রখ্যাত লেখিকা এবং মানবাধিকার কর্মী অন্ধরুতী রায় বলেছেন,আফজাল গুরুর ফাসি ভারতের গণতন্ত্র ও বিচার ব্যবস্থার কলঙ্ক।আমি তো বলি ভারত কবে?গণতন্ত্র হল।৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর।শুধুমাত্র বুর্জোয়া শাসকদের ক্ষমতা পরিবর্তন ছাড়া ভারতীয় সমাজে কতটুকু গণতান্ত্রিক হয়েছে তা বর্তমান শাসন ব্যবস্থা দেখলে বুঝা যায়।ভারতের সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বললেও প্রতিনিয়ত গড়ে উঠেছে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা এবং তার সহিংস্র রুপ।যারা মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে গলা ঠিপে হত্যা করে গড়ে তুলেছে সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র।

বিশাল জনসংখ্যার ভারত একদিকে যেমন বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির পুঁজির জন্ম দিচ্ছে তার সাথে অভাব,দারিদ্রতা,অশিক্ষা বেশিরভাগ মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। শোষীত শ্রমিকের শ্রমকে শোষন করে গড়ে উঠেছে বড় বড় শিল্প।কিন্তু ভারতের শ্রমিক শ্রেণীর জীবনযাত্রার মান কতটুকু উন্নত হয়েছে তা বিশাল ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের মানুষের জীবন যাত্রার দিকে একটু নজর দিলে বুঝা যায়।পুঁজিবাদী শোষনকে অব্যাহত রাখতে ঝিইয়ে রেখেছে কাশ্মীর, আসামসহ বিভিন্ন প্রদেশে নৈরাজ্য।একটা সুষ্ট আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীরের সমস্যার সমাধান করা যায়,কিন্তু তা না করে শাসকগোষ্ঠী কাশ্মীর করে রেখেছে মৃত্যুপুরী। ভারত তার পুঁজির বিকাশের স্বার্থে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বন্ধুত্ত্বসুলভ আচরনের বদলে কতৃত্ত্ব বজায় রাখতে চায়।ফলে নেপালের সাথে আগ্রাসন এবং বাংলাদেশকে সে তার নিজস্ব বাজারে পরিণত করতে চায়।প্রতিবেশী পাকিস্তানের সাথে বৈরিতা ঝিইয়ে রেখে ভারতের শোষিত জণগনকে দেশপ্রেমের দোহাই দিয়ে পুঁজিপতিদের শোষন নিরঙ্কুশ করতে চায়।ভারতের শ্রমিকশ্রেণীকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য যে বিপ্লবী শক্তির প্রয়োজন ছিল তা কতিপয় কম্যুনিস্ট নামদারী সুবিধাবাদী দলগুলো তা করছে না।ফলে শোষন নির্যাতন আরও তীব্র হচ্ছে।তার সাথে গড়ে উঠছে সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিস্ট শক্তি বিজেপি এবং আর এস এস।তাই ভারতের শ্রমিক শ্রেণীর বিপ্লবী সংগঠন গড়ে উঠা ঐতিহাসিক দায়িত্ত্ব। যারা ভারতের শ্রমিকশ্রেণী এবং নিপিড়িত জণগনকে কম্যুনিস্ট বিপ্লবের জন্য ঐক্যবদ্ধ করে গড়ে তুলবে এবং তার সাথে দুনিয়ার প্রলেতারিয়েত শ্রেণীর সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *