লাইক’ দিয়ে ‘জান্নাত’ টা নিশ্চিত করেন এখন-ই ; প্রিয় ফেসবুক নামাজি’রা

–আসলে কম পানি এর মাছ বেশি পানিতে পরলে যা হয় আর কি, আমাদের ও এই অবস্থা হয়েছে আজ ! আর অই পানি টা
যদি একটু বিশুদ্ধ হয়, তাহলে ত আর কোন কথা-ই নাই !

– ফেসবুক ! বাংলাদেশে এখন এভেইলেবল | এভেইলেবল বলে যে আমরা ফেসবুকটাকে মসজিদ বানিয়ে ইচ্ছা মত নামাজ পড়ব, এটা মুসলমান জাতি এর জন্য বড্ড লজ্জাজনক – ই বটে |


–আসলে কম পানি এর মাছ বেশি পানিতে পরলে যা হয় আর কি, আমাদের ও এই অবস্থা হয়েছে আজ ! আর অই পানি টা
যদি একটু বিশুদ্ধ হয়, তাহলে ত আর কোন কথা-ই নাই !

– ফেসবুক ! বাংলাদেশে এখন এভেইলেবল | এভেইলেবল বলে যে আমরা ফেসবুকটাকে মসজিদ বানিয়ে ইচ্ছা মত নামাজ পড়ব, এটা মুসলমান জাতি এর জন্য বড্ড লজ্জাজনক – ই বটে |

– উল্লেখ্যঃ নিচের দেওয়া ফটোগুলাকে মসজিদ, আর ঐ ফটোতে দেওয়া লাইকার’রা হচ্ছে, নামাজী |

-আসুন যুক্তি’তে

— বাংলাদেশের বেশি পানি’র ফেসবুক ইউজাররা কয়েকটা গ্রুপে এবং পেজে এমন পোষ্ট দেন, যেন সত্যিকারেই, ফেসবুক হচ্ছে মক্কা, আর পোষ্ট/ফটো হচ্ছে মসজিদ, আর লাইকার’রা হচ্ছেন আসল নামাজী !!

— তাদের পোষ্টগুলা হচ্ছে, এরকম টাইপের ↓
* [ কাবা শরীফের ফটো দিয়ে ] ” পবিত্র এই কাবা শরীফে যেতে চান কে কে ? যেতে চাইলে ‘আমিন’ লিখে কম্যান্ট করুন ”

— আশ্চর্য !
— এর মানে কি ?
– উক্ত স্ট্যাটাসের আলোকে ‘আমিন’ লিখে কম্যান্ট করলেই কি কাবা শরীফ এর টিকিট কনফার্ম ?

– আর, যারা কম্যান্টে আমিন লিখতেছে, তাদের সবাই কি কাবা শরীফ যেতে পারতেছে ? আর, যারা কম্যান্ট এ ‘আমিন’ লিখে নাই, তাদের মধ্যে একজনও কি কাবা শরীফ যেতে পারবে না ? !!

— উত্তরঃ কম্যান্ট এ আমিন লিখলেই কাবা শরীফ আর জান্নাত যাওয়া যায় না !
– আর, ভালো কাজ করলে, এই ধরনের আবাল কোয়ালিটির কম্যান্টেও কুল-কিনারা ধরবে না ! জান্নাত ত বহু দূর ই !

–এখানে, সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, আপনি যদি সাধারণ ভাবে, অই ধরনের কম্যান্টে ওদের বুঝাতে থাকেন, যে, ভাই এই বিষয় নিয়া ধর্ম ব্যাবসা করা ঠিক না !
— তাইলেই হলো, সবাই আপনাকে ‘কুত্তার বাচ্ছা’ ‘নাস্তিকের বাচ্ছা’ ‘জারজের বাচ্ছা’ বলে গালাগাল শুরু করবে ! তারা যে ঠিক কি ধরনের কাবা শরীফ এর পথে যেতে ইচ্ছুক যাত্রী, তা আপনি ঠিক তখন-ই বুঝে যাবেন ! উল্লেখ, আর অই ব্যাক্তিটা যদি বিশেষভাবে উল্লেখিত কোন হিন্দু ধর্মীয় নামধারী আইডি হয়, তাহলে ত আর কথা-ই নেই ! মালাউন বলে যে গালাগাল শুরু করবে, একেবারে গুলশানে কাবা শরীফে গিয়েই গালাগাল গুলো থামবে ! নয় কি ?

– কেন ভাই ? হিন্দুরা কি মানুষ না ? হিন্দুরা তাদের ধর্মের মালা পড়লে আপনাদের টুপি তে কি দাগ লেগে যায় ? হিন্দুরা কি আপনাদের ‘তকিউন’ বলে গালি দিতে পারত না ? ওরা দেয় না, কারন, কুকুরে কামড় দিলে কি, কুকুরকেও কামড় দিতে হয় ?

— আর বাংলাদেশের ৮০% মুসলমান, তাদের বিশ্বনবী (শ্রদ্ধেও) হযরত মহানবী সঃ কে অপমান করে !!

— কারন, আমরা সবাই পড়েছি, ‘নিজের ধর্ম নিজে পালন করো, অন্যের ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না ‘ – মহানবী সঃ তিনি তার শেষ ভাষণে এই কথাটি উল্লেখ করে গিয়েছেন |

— বাস্তবতা ?
— উনার অনুসারিরা কি উনাকে অপমান করছে না ?

— হ্যা, অবশ্যই করছে !
— নিজের বিবেক এবং বাস্তবতা মিলিয়ে দেখুন | বাংলাদেশে প্রতি মাসে প্রতিমা ভাংগা হয়, হিন্দু মা-বোনদের শারীরিক নির্যাতন থেকে শুরু করে ধর্মান্তর, খুন যেন চলতেই থাকে !! —

— এতে কি বিশ্বনবী’র অপমান হচ্ছে না ?
— জিজ্ঞেস করুন নিজের বিবেক কে !
— ও হ্যা, আপনার বিবেক আছে ত ?

— প্রিয় পাঠক, কষ্ট করে লেখাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ |

— ফেসবুকের মত ভারচুয়াল এ লাইক কম্যান্টে করে জান্নাত কনফার্ম করা অসম্ভব ! যদিনা, বাস্তবে ঠিক না থাকো !

— আমি লাইক কম্যান্ট এর বিপক্ষে না ! আমি শুধু বুঝাতে চাচ্ছি, বাস্তবে অবশ্যই ভালো মন-মানসিকতা’র থাকতে হবে !
– আর, অন্যের ধর্মের পিছনে না দৌড়ে, নিজের ধর্মের কাজ করলে, জান্নাত যাওয়ার জন্য না হয় আরেকটু বেশি-ই সওয়াব লাভ করবেন !

লেখাঃ এক-সাগর

৪ thoughts on “লাইক’ দিয়ে ‘জান্নাত’ টা নিশ্চিত করেন এখন-ই ; প্রিয় ফেসবুক নামাজি’রা

    1. আমি আবার কোথায় উল্লেখ করলাম,
      আমি আবার কোথায় উল্লেখ করলাম, আমি মুসলিম হয়েছি ? চাক্ষুস প্রমান থাকলে দেন ত ভাইয়া || — মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ অবশ্যই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *