একটি যানজটের গল্প !

কারওয়ান বাজার সকাল থেকে প্রচন্ড যানজট আজ।প্রধানমন্ত্রী অথবা রাস্ট্রপতি কারো মিটীং হবে বাসের ড্রাইভার এক যাত্রীর প্রশ্নে উত্তর দিল। ।সেই যানজটের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কবি কাজী নজরুল ইসলাম।যানজটে অতিষ্ঠ মেরাজ বাসের জানালা দিয়ে তাকিয়ে অবাক হল। মুরুব্বী গোছের এক ব্যাক্তি পানের পিক কাজী নজরুল ইসলামের চেহারা বরাবর ফেলে চলে গেলো। মেরাজ ভাবলো বেচারাকে সম্মান দেখাতে গিয়ে সরকার কি এক অদ্ভুত অপমানের ব্যাবস্থা করে রেখেছে। পানের পিক তো যেন তেন তার এই ছবিওয়ালা ফলকের নিচে পায়খানা-প্রস্রাব হয় না কে বলতে পারবে। কিচ্ছু হবে না এই দেশে।কিচ্ছু হবে না।


কারওয়ান বাজার সকাল থেকে প্রচন্ড যানজট আজ।প্রধানমন্ত্রী অথবা রাস্ট্রপতি কারো মিটীং হবে বাসের ড্রাইভার এক যাত্রীর প্রশ্নে উত্তর দিল। ।সেই যানজটের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কবি কাজী নজরুল ইসলাম।যানজটে অতিষ্ঠ মেরাজ বাসের জানালা দিয়ে তাকিয়ে অবাক হল। মুরুব্বী গোছের এক ব্যাক্তি পানের পিক কাজী নজরুল ইসলামের চেহারা বরাবর ফেলে চলে গেলো। মেরাজ ভাবলো বেচারাকে সম্মান দেখাতে গিয়ে সরকার কি এক অদ্ভুত অপমানের ব্যাবস্থা করে রেখেছে। পানের পিক তো যেন তেন তার এই ছবিওয়ালা ফলকের নিচে পায়খানা-প্রস্রাব হয় না কে বলতে পারবে। কিচ্ছু হবে না এই দেশে।কিচ্ছু হবে না।

মেরাজের আজ চাকরির ইন্টারভিও। তাই সময় হাতে রেখেই বেরিয়েছে। ঢাকার যানজটের কারনে সবাই এখন অঙ্ক কষেই রাস্তায় বের হয়। ত্রিশ মিনিটের পথের জন্য এক ঘন্টা ত্রিশ মিনিট এমনিই বরাদ্ধ থাকে। মেরাজ এখন ভাবছে বরাদ্ধ কম হয়ে গেছে।বরং ফজর নামাজ পড়ে না ঘুমালেই হতো।সকালের দুই ঘন্টা ঘুম একদমই দরকার ছিল না। অন্তত আজ না।

এমনিতে নামাজ কালাম পড়ে না তেমন। চাকরির ইন্টারভিউর দিন ফজরের নামাজটা পড়ে। ভুল ভ্রান্তির জন্য মাফ চায়। আর চাকরির জন্য উপরওয়ালার কাছে দেন দরবার করে। আল্লাহকে কিছু উপঢৌকনের বিশেষ লোভ দেখানো হয় বলা যায়। তবে কখনোই সেই উপহার দেয়া হয় না। কারন চাকরি হয় না। আজকে সম্ভবত ২৩ নম্বর ইন্টারভিউ। ‘চাকরির খোজে জুতোর তলা ক্ষয় হয়ে যাওয়া বলে’ একটা কথা আমাদের দেশে প্রচলিত। মেরাজের এখন সেই অবস্থা চলছে। চাকরির ওয়েব সাইটে খোজ করলে দুনিয়ার জব চোখে পড়ে কিন্তু আবেদন, সিভি জমা, মামা চাচা, ঘুষ ইত্যাদির দৌড়ে টের পাওয়া যায় কাহিনী কি।

বাসে প্রচন্ড গরম। এর মধ্যে ভীর ঠেলাঠেলি একদম যা তা অবস্থা।মেজাজটা ফর্টি নাইন হয়ে গেলো যখন বাসের হেল্পার বল্ল, ‘’বাই বিতরে যান, খালি বাস, বিতরে যান। খালি বাসি’’’।অথচ মেরাজের পায়ের উপর ্তখনো একজন দাড়িয়ে।এক ইঞ্চি জায়গা অবশিষ্ট নেই দাঁড়াবার। যাত্রীদের গায়ের সাথে গা লেগে একাকার। মেরাজের সামনে যে মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে সে কিছুক্ষন পর পরই মিরাজের দিকে ঘুরে তাকাচ্ছে। দৃষ্টিতে বিরক্তি সন্দেহ ক্রোধ সবই আছে। না থাকার কারন নেই। মেরাজের এক হাত বাসের হাতলে ঝুলছে আরেক হাত নিচে ঠিক মহিলার উরুর সামনে। অনিচ্ছাকৃত হলেও বার বার হাত মহিলার উরুতে লাগছে। তাছাড়া আজকে চাকরির ইন্টারভিও বলে কথা। সুযোগ থাকলেও এসব বাজে কিছু মেরাজ করবেনা। অথচ আজই কিনা এমন হচ্ছে। শরীর বেয়ে অঝরে ঘাম ঝরছে। বন্ধুর দামি ক্যাটস আই ব্রেন্ডের শার্ট পড়ে বের হয়েছে। ইন্টারভিউতে ফার্স্ট ইম্প্রেসন বলে একটা কথা আছে। ঘামে শার্ট যেভাবে ভিজেছে সেই সাথে গন্ধ যেভাবে উৎকট হচ্ছে তাতে ফার্স্ট ইম্প্রেশনের খেতাপুরি অবস্থা।

আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেনা বাসে।সেই মিরপুর থেকে ঝুলছে। এখন আরওয়ান বাজার। একটা সিট না হলেই হয় না। মনে হচ্ছে আজকের চাকরির চেয়েও গরুত্বপূর্ন এখন একটা সিট খালি হওয়া। পা টন টন করছে।তার উপর পড়েছে নতুন অক্সফোর্ড সু।ডান পায়ের পিছনের দিকটায় ফোস্কা পড়ে গেছে।যাকে বলে মরার উপর খাড়ার ঘ। বাস একটু সামনে এগিয়ে ব্রেক করলেই ফোস্কায় গিয়ে লাগছে।ব্যাথায় ব্যাথায় গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। আগের জুতাগুলো এমন পুরাতন হয়েছে যে ২২ নম্বর ইন্টারভিওতে কৃতকার্য না হওয়ার দায় সেই জুতা জোড়ার উপর পড়ল। ফলে জুতাগুলোর জায়গা হল তার মেছের সামনে্র ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে।নতুবা আরো কয়েকদিন ব্যবহার করে যেত।

মাথাটা মাথাটা ঝিম ঝিম করছে। সেই ঝিম ঝিমানি তীব্র মাথা ব্যাথায় রুপ নিল এম্বুলন্সের প্রকট হর্নে।বাসের পিছনে সম্ভবত একটি এম্বুলেন্স রুগী ক্যারী করছে। এম্বুলেন্সের ড্রাইভারের ১৪ গোষ্ঠী মনে মনে উদ্ধার করা হয়ে গেল। করবে না কেন। আজকাল রুগী না থাকলেও ড্রাইভার এই এমারজেন্সী হর্ন ব্যবহার করে। আগে যাবার জন্য। মেরাজের শেষ গালিটি ছিল কুত্তারবাচ্চাদের এথিক্স বলে কিছু নেই।

অনেকক্ষন ভীড়ের মধ্যে বাসে দাঁড়িয়ে থাকলে এক ধরনের অনুভুতি মাথায় খেলা করে।আশে পাশে বসে থাকা যে কোন যাত্রীকেই মনে হয় কিছুক্ষনের মধ্যে সে নেমে যাবে। মেরাজের বেলায় এমনটি ঘটল। তার সামনে দাড়ীয়ে থাকা মেয়েটির বাম পাশে বসে থাকা লোকটী একটু আরমোড়া দিতেই মেরাজসহ আরেকজন যাত্রী একই সাথে জিজ্ঞেস করল, ‘ভাই কি নেমে যাবেন?’’। লোকটি হেসে দিয়ে বল্ল না ভাই মতিঝিল যাবো। তবে ভাগ্যপ্রসন্ন। ঠিক সাথে সাথেই মেরাজের পিছনের সিটের লোকটি ওঠে দাড়াল।মেরাজকে অনেকটা ধমকের স্মরে বল্ল- দেখি ভাই সরেন সরেন নাম্বো। বালের দেশে জন্ম লইছি। সব চোর বাটপারের দল। সারাদিন টকশো চোদায়।বালামার’’। লোকটীর ধমকের স্মরের কথা গায়েই লাগলো না মেরাজের। বরং খালি সিটটী পেয়ে বেশ খুশিই হলো। মেরাজ ঠিক বসার সাথে সাথেই আরেকজন বসার ব্যর্থ চেষ্টা করে সরে গেল। ‘ভাই সরি সরি’। আপনিই বসেন বলে লোকটীর তার পূর্বের ঝুলন্ত অবস্থানে চলে গেল। লোকটি কিছুটা লজ্জা পেয়েছে মনে হচ্ছে। মেরাজ সেইদিকে খেয়াল করলো না। যে লোকটি দেশ উদ্ধার করতে করতে বাস থেকে নেমে গেল তার একটি কান্ড মেরাজকে অবাক করল। লোকটি সরেন সরেন বলতে বলতে সামনে দাড়িয়ে থাকা মেয়েটির ঠিক উরুর উপরের মাংশল জায়গাটাতে একটা টিপ দিয়ে চলে গেল।মেরাজ কিছুটা আহত এখন। মেয়েটির প্রতি তার একধরনের মায়া হল।তবে মেয়েটির প্রতিক্রিয়াহীনতা মেরাজকে বেশি অবাক করলো ।বিষয়টা নিয়ে কিছু্ক্ষন চিন্তা করলো।সে এখন মেয়েটিকেই লক্ষ্য করছে। এমন ভাবে তাকাচ্ছে যেন কান্ডটা সে-ই ঘটিয়েছে।মেয়েদের সিক্সথ সেন্স নাকি ছেলেদের থেকে বেশি কাজ করে। তাদের অগোচরে কি হচ্ছে তা তারা বুঝতে পারে। মেয়েটিও বুঝতে পারল। সে এক পলকের জন্য মেরাজের দিকে তাকাল। মেয়েটির এক পলক দৃষ্টি মেরাজকে আরো আহত করল।তার ভেতরটা হাহাকারে ভরে ওঠল। মেয়েটির চোখ লাল।সে নিরবে কাঁদছিল।

ঘড়িতে সময় এখন নয় টা বার। মেরাজের ইন্টারভিউ দশটায়। তার হাতে গুনে গুনে মাত্র ৪৮ মিনিট আছে। কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিল যাবার জন্য এই সময় সকল সিগনাল সহ যথেষ্ট কিনা হিসেব কষছে।যানজট না থাকলে যথেষ্ট। কিন্তু সে তো এখনো যানজটেই আছে এবং কারওয়ান বাজারেই। সুতরাং সময় মতো পৌছাবার সম্ভাবনা ক্ষীন।আবার ভাবছে আল্লাহ চায়তো পৌছাতেও পারি। আল্লাহর উপর ভরসা রাখা জরুরী। এর মধ্যে মাথায় সংকেত দিল বিকল্প ব্যবস্থা সিএনজিতে যাবে কিনা। তাও সম্ভব না। পকেটে যথেষ্ট টাকা নিয়ে বের হয়নি। এম্বুলেন্সটা এখন বাসের পাশাপাশি চলে এসেছে। হর্নের তীব্রতা আরো বেশি। মাথায় প্রচন্ড লাগছে ।মনে মনে আরেকবার শুয়রের বাচ্চা বলে গালি দেয়া হলো।তবে গালিটা দেয়া ঠিক হয়নি। জানালা দিয়ে লক্ষ্য করলো ভিতরে রোগী শুয়ে আছে।পর্দার হালকা ফাকা দিয়ে দেখা যাচ্ছে। তার পাশে একজন মহিলা মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। মুখ নড়ছে নড়ছে। সরকারকে গালি দিচ্ছে না আল্লাহকে ডাকছে স্পষ্ট নয়। আল্লাহকেই ডাকছে। বিপদের সময় গালাগালি মুখে আসে না। মেরাজের পায়ের ব্যাথাটা এখন তেমন করছে না তবে নতুন ঝামেলা শুরু হয়েছে। গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা।এসিডিটি হচ্ছে। মনে হচ্ছে পেট মোচর দিয়ে বমি হবে। পুরো বাস ভাসিয়ে দিবে।

আকাশে মেঘ জমেছে।বৃষ্টী হবে মনে হচ্ছে। এখন এম্বুলেন্সের মহিলা শুধু নয় সবাই আল্লাহ আল্লাহ করছে।ইয়া আল্লাহ এমন বৃষ্টি দাও।পুরো ঢাকা শহর ধুয়ে নিয়ে যাও।ভিতরের গরম এখনো কমেনি।বরং কেমন একটা ভাপসা গরম ক্রমস বাড়ছে।মেরাজ সামনের সিটের উপর মাথা রেখে ব্যাগ দিয়ে পেট চেপে ছিল এতোক্ষন।। মাথা প্রচন্ড ধরেছে। ঝিম ঝিম করছে।মাথা তুলে সামনে তাকাল। তার দৃষ্টি ক্রমশ ঝাপসা হচ্ছে।সকলেই জোড়ে জোড়ে নিশ্বাস নিচ্ছে। গরমের তীব্রতা আরেকটু বাড়লেই মনে হচ্ছে সকলে মারা যাবে। সবার শরীর বেয়ে ঘাম ঝড়ছে।সকলের মেজাজ চড়ে আছে সপ্তমে।গাড়ির ড্রাইভার ময়লা একটা বোতল থেলে পানি খেল। বোতলটা আসলে পুরনো। কিন্তু মেরাজের মনে হল পানিই ময়লা। ড্রেনের পানি।

পকেট থেকে মোবাইল বের করল ঘড়ি দেখার জন্য। যদিও তার হাতে ঘড়ি আছে।কিছুক্ষন আগেই সে হাতের ঘড়ীতেই সময় দেখেছে।মোবাইল পকেটে রাখার মুহুর্তেই একজনের চিতকার শুনতে পেল।পাগল কিসিমের এক লোক বাসে ওঠেছে।গায়ে ময়লা একটা ডেনিম জ্যাকেট।দুই দিক দিয়ে পাটের চট দিয়ে তালি দেওয়া। ঠিক এই পোশাকটা মেটালিকা ব্যান্ডের কেউ পরিষ্কার করে পড়লে এটা তরুনদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠতো নিশ্চিত। এটাই ভাবলো মেরাজ। পয়তাল্লিশ মিনিটের জ্যামে এই মাত্র তার মুখে হাসি দেখা গেল। পাগলের চিতকারে আবার মেজাজটা চড়ে গেল। শুধুমেরাজের না সবার। সবাই চেচামেচি করছে এই পাগলকে বাস থেকে নামাবার জন্য। হেল্পার একবার চেষ্টা করেও সরে গেল। প্রথমেই মেয়েটিকেই ধরল পাগলটি।

-ট্যাকা দে হেলিকপ্টার কিনুম!

মেয়েটি এক লাফে মেরাজের সামনে চলে গেল। পাগলটির হেলিকপ্টার কেনার কথায় অনেই হেসে দিল। একজন পিছন থেকে বল্ল- বাইঞ্চোদের কথা শুনছস। ট্যাকা দিয়া হেলিকপ্টার কিনব।আরেকজন বল্ল- ‘হালায় ভাবের পাগল।’’
পিছন থেকে মুরুব্বী গোছের একজন চিৎকার দিয়ে বল্ল- ঐ ড্রাইভার অরে নামাও না কেন। শরীলে গুয়ের গন্ধ। ওহু!
পাগল এই বার মুরুব্বীর কাছে গিয়ে হাক দিল।’ট্যাকা দে হারামজাদা। নাইলে রাস্তায় মইরা থাক। মুরুব্বী চুপ হয়ে গেল। গালি খেয়ে কি বলবে বুঝে ওঠতে পারল না। পাশের সিটের লোকের দিকে চেয়ে শুখনো একটা হাসি দিয়ে বল্ল- হে হে পাগল !

মেয়েটি এখন মেরাজের কাছে দাঁড়িয়ে। মেরাজ একধরনের অসস্তিতে পড়ে গেছে। ইন্টারভিউর টেনশান, হাতে আছে পয়ত্রিশ মিনিটের মতো।সে এখনো সেই কারওয়ান বাজারে বসা। কাজী নজরুল ইসলামের ফলক থেকে বড় জোড় ৫০ ফুটের মতো বাস সামনে নড়েছে।অন্যদিকে মেয়েটিকে তার সিট ছেড়ে দিবে কিনা বুঝতে পারছেনা।পাগল তার হেলিকপ্টারের টাকা নিয়ে চেচামেচি করেই যাচ্ছে।অন্য যাত্রীরাও চেচাচ্ছে। যেন এক পাগল অন্য সকল পাগলকে জাগাচ্ছে। সকলের হল্লাচিল্লার সাথে এম্বুলেন্সের তীব্র হর্ন অবস্থা আরো বিকট করে তুলছে। শুধু নীরব আছে দুজন, মেয়েটি ও মেরাজ। মেরাজ সম্ভবত ইন্টারভিওর আশা ছেড়ে দিয়েছে। সেই জন্য একটু রিল্যাক্স দেখালেও আফসোসের অনুভূতিটা চেহারায় লক্ষনীয়। মেরাজ মেয়েটিকেই বলেই ফেলল- ‘’ আপু আপনি চাইলে এই সিটে বসতে পারেন’’। মেরাজ কথাটা বলেই ওঠতেই বসে পড়ল। তার চেহারা শুকিয়ে কালো হয়ে গেল। কানগুলো লাল হচ্ছে আস্তে আস্তে। মেয়েটির মুখ থেকে তীব্র কটুক্তি শুনতে পেল। খুব সম্ভবত মেয়েটি সেই সময়কার ঝাল তুলে নিল। বার বার যে তার উরুতে মেরাজের হাত লাগছিল। নেমে যাওয়া ঐ যাত্রীর অপকর্মের প্রতিশোধটাও মেরাজের উপর তুলল। সকলের চেচামেচি বন্ধ হয়ে গেছে। সবার এখন এইদিকে নজর। এর মধ্যে পাগলটা এসে মেরাজকে বল্ল- ওই হারামজাদা ট্যাকা দে হেলিকপ্টার কিনুম। মাইয়ালগে আকাম চুদাও।দেশতো খানকির পুলারা চুইষ্যা খাইয়া লাইতাছে। জামের মইধ্যেই মইরা থাক হারামজাদা।মাইয়াগো লগেই পারবা। লেখাপড়া কইরা বাল ছিড়তাছো। যারা জাম লাগায় পারলে হ্যাগোডা ছিরোগা। দেহি ক্যমুনা সেনা অইছ”

পাগলের ঝাড়িতে অন্য যাত্রীরা একদম নিরব হয়ে গেছে।মেয়েটি এক কোনায় কুকড়ে দাঁড়িয়ে আছে। পাগলটি ‘’মর বাঞ্চদেরা’’ বলে দৌড়ে নেমে গেল।হঠাত কি মনে করে মেরাজও পাগলের পিছন পিছন বাস থেকে নেমে গেল। পাগল যেদিকে যাচ্ছে তার উলটা দিকে মেরাজ যাচ্ছে।পাগল দৌড়ে যাচ্ছে আর মেরাজ যাচ্ছে হেটে হেটে। অন্য বাস থেকে একজন বল্ল-ঐ দেখ হেলিকপ্টার পাগলায়।ওইবিলে ট্যাকা তুইলা প্রাধান্মন্ত্রীরে হেলিকপ্টার কিন্না দিবো। দুইন্নাত কত কিছিমের পাগল আছে।আরেক জন যাত্রী তার কথার পৃষ্ঠে এই পাগলার মা নাকি এম্বুলেন্সে মারা গেছে।জ্যামে পড়োছিল। সময়মতো হাসপাতালে নিতে পারে নাই।

কথাগুলো মেরাজের কানে আসল কিন্তু খেয়াল করলো না ।এতোক্ষনে বৃষ্টী শুরু হল। ভারী বর্ষন।

৫ thoughts on “একটি যানজটের গল্প !

  1. অনেক ভালো লাগলো।
    এদেশের

    অনেক ভালো লাগলো।
    এদেশের মানুষদের এই নৈতিকটা গড়ে উঠা উচিত, বাসে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েদের সিট ছেড়ে দেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *