পুরুষের দাসী করার মত সব ধরণের উস্কানিকে অপরাধ হিসেবে ধরলেই এই সমস্যা সমাধান হবে অন্যথায় আমাদের মেয়েদের দাসীই থাকতে হবে।


মাধ্যমিকে রেজোয়ানা সর্বচ্চ গ্রেড নিয়ে পাস করেছিল, ব্যাপারটা আমার জন্য খুব আনন্দের সে বড় ভাগনি, আমার ইচ্ছে সে অনেক ভাল করুক। পরে মাধ্যমিক শেষ হতেই বিয়ের তোড় জোড়, অনেক বলাবলির পরে এই ঝামেলা থেকে উদ্ধার হল।

তার ইচ্ছে পূর বিষয়ে প্রকৌশল পড়বে, আর আমাদের শহরে কোন প্রকৌশল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় নেই, আর আমাদের পরিবার তাকে বাইরের জেলায় পাঠাবেও না।


মাধ্যমিকে রেজোয়ানা সর্বচ্চ গ্রেড নিয়ে পাস করেছিল, ব্যাপারটা আমার জন্য খুব আনন্দের সে বড় ভাগনি, আমার ইচ্ছে সে অনেক ভাল করুক। পরে মাধ্যমিক শেষ হতেই বিয়ের তোড় জোড়, অনেক বলাবলির পরে এই ঝামেলা থেকে উদ্ধার হল।

তার ইচ্ছে পূর বিষয়ে প্রকৌশল পড়বে, আর আমাদের শহরে কোন প্রকৌশল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় নেই, আর আমাদের পরিবার তাকে বাইরের জেলায় পাঠাবেও না।
উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত অপেক্ষা করলে বিয়েও দিয়ে দিতে পারে এই ভেবে আমি বললাম তুমি ডিপ্লোমা করার জন্য রংপুর পলিটেকনিকে ভর্তি হয়ে যাও ডিপ্লোমা কমপ্লিট হয়ে গেলে পরে ইঞ্জিনিয়ারস ইনিষ্টিউশন বাংলাদেশ থেকে এএমআইই করে নিও অথবা তখন ব্যাচেলর পড়তে তোমাকে কেউ বাধা দিতে পারবে না ডিপ্লোমা করলে চাকুরী একটা পাবে নিশ্চিত, একটা আর্থিক ভরসা হলে আর তোমার কাজে কেউ বাধাদিতে পারবে না। যেহেতু মেয়েদের আর্থিক নিরাপত্যা না থাকাই গোলামির মুল কারন, সেটা স্বামীর বাড়িতেই হোক বা বাবার বাড়িতেই হোক।

যাইহোক সে সিভিল তথা পূরাকৌশলেই সুযোগ পেলো এবং ভর্তিও হল।
তখন অনেকেই আমায় বলেছে তোর/তোমার/আপনার ভাগনিকে এই সব ইট বালু সিমেন্ট পড়িয়ে কি হবে সে কি এই কাজ করবে নাকি?
সে যাই বলুক “পাছে লোকে কিছু বলে”

কিন্তু স্বয়ং ইনিষ্টিটিউটের ইন্সট্রাকটরদের দ্বারাও যে মেয়ে হিসেবে বৈষম্যের স্বীকার হতে হবে এটা সত্যি মারাত্মক! একটা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষকরাও তাদের দৃষ্টিভঙ্গী রেখেছে পঞ্চম শতকের মত,

ভাগনিকে একদিন জিজ্ঞেস করলাম মা(আমি ভাগনিদের একটু আদর করে মা বলেই ডাকি) তুই কি কি সিখেছিস এই পর্বে আমায় বল দেখি।
আমায় উত্তর দিল হতাশ করার মত।
বলল মামা আমাদের তো ল্যাবে কাজেই করতে দেয় না স্যাররা। তারা বলে তোমরা মেয়ে মানুষ এই সব করে কি করবে?

তোমাদের কাজ করা লাগবে না শুধু দেখ, ছেলেরা করুক।
অথচ ডিপ্লোমা প্রকৌশলে কুড়ি পার্সেন্ট কোটা দিয়ে মেয়েদের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে সরকার। এই অন্তর্ভুক্তি কি শুধুই লোক দেখানোর জন্য না কি মেয়েদের সমান করার জন্য?
ব্যাপারটি সত্যি অবাক করার মত।
একজন উচ্চ শিক্ষিত প্রকৌশলীর মুখে এই সেকেলে কথা কি করে মানায় যে নারী হিসেবে তার শিখতে হবে না বা পারবে না?

একটি মেয়ের মধ্যে নারীত্ব তথা গোলামি, পুরুষের দাসী করার মত সব ধরণের উস্কানিকে অপরাধ হিসেবে ধরলেই এই সমস্যা সমাধান হবে অন্যথায় আমাদের মেয়েদের সারাজীবন নারী বা দাসী হিসেবেই থাকতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *